০৮:০৯ পি.এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গঠিত কমিটি যখন শিক্ষকদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নিচ্ছিল, তখন অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ওই কর্মকর্তাকেই তদন্তকক্ষে ঘুরে বেড়াতে ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা তাদের লিখিত অভিযোগপত্র অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজের কাছে নিয়ে রাখেন। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও সাক্ষীদের স্বাধীনভাবে বক্তব্য দেওয়ার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে এসব অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তে উপস্থিত একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি ও তৎপরতার কারণে অনেকেই খোলামেলা বক্তব্য দিতে পারেননি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তার চলাফেরা, শিক্ষকদের সঙ্গে কথোপকথন এবং কাগজপত্র গ্রহণের দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, যার বিরুদ্ধে তদন্ত, তিনি যদি তদন্ত চলাকালেই সাক্ষীদের সামনে অবস্থান করেন, তাহলে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভয় ও সংকোচের কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারের বিরুদ্ধে স্লিপ ফান্ডের অর্থ ছাড়ে অনিয়ম, ঘুষ দাবির অভিযোগ, ভোটকেন্দ্র সংস্কারের বিল আটকে রাখা, পেনশন ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ ওঠে এবং এসব নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। সেই অভিযোগগুলোর তদন্ত চলাকালেই নতুন করে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠায় শিক্ষক সমাজে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন