বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:১৩ পি.এম
বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের মন মাতাতে আবারও ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক আতিফ আসলাম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে তিনি একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। এ সময়, তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে এক সংবাদকর্মী আতিফ আসলামের কাছে জানতে চান, বাংলাদেশের খাবার তার কেমন লাগে? কোন খাবারটা তার বেশি প্রিয়? জবাবে, গায়ক বলেন, 'খিচুড়ি। আর আপনাদের একটা চা আছে, সেটা খুবই মজা। এছাড়া আপনাদের বিরিয়ানিরও তুলনা হয় না।' আতিফ আসলাম আরও বলেন, 'আমি পৃথিবীর যেখানেই যাই, বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করি। যখনই আমাকে মানুষ জিজ্ঞেস করে, চাইনিজ, থাই এসব খাবার প্রিয় কিনা? আমি সোজা বলে দিই, একবার আপনারা বাংলাদেশ গিয়ে সেখানকার খাবার খেয়ে দেখুন। তারপর আমাকে বলুন।' বহু বছর আগে, একটি সংগীত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার সঙ্গে অংশ নেন আতিফ। সে প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রুনা লায়লা ম্যামের সঙ্গে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। আমরা দুজনেই বিচারকের আসনে ছিলাম। প্রসঙ্গক্রমে তিনি গান ধরেন ‘ও লাল মেরি’, খুবই জনপ্রিয় গান। অবশ্যই তিনি অসাধারণ শিল্পী, একজন কিংবদন্তি। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে দারুণ লেগেছে। পাকিস্তানের মানুষ আতিফের বাংলাদেশে কোনো আত্মীয় রয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আপনারা সবাই আমার আত্মীয়। আমার কাছে পরিবারের মতোই। তবে হ্যাঁ, আক্ষরিক অর্থে বলতে গেলে এখানে কাজের সুবাদেই টুকটাক পরিচয়। এর বেশি কিছু নেই।' শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মাদানি এভিনিউর কোর্টসাইডে হবে আতিফ আসলামের কনসার্ট। এতে তিনি ছাড়াও গান পরিবেশন করবে বাংলাদেশের ব্যান্ড ‘মেঘদল’ ও ‘লেভেল ফাইভ’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে ক্যান্টিন বয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি বুধবার রাতে নজরে আসার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। ফলে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের তথ্যমতে, অভিযুক্তের ফোনে ৯ শতাধিক ভিডিও রয়েছে। তিনি ৬ মাসের বেশি সময় ধরে ঘৃণ্য এই কাজ করে আসছেন। তাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন তারা। প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন পকেট গেটও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যৌন হয়রানির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসীন থাকছে। যার ফলে ধারাবাহিকভাবে ঘটছে এমন ঘটনা। তারা জানান, জড়িতদের বিচার এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বরাবরের মতো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানকে বুধবার রাতে আটক করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট ড. সেলিনা আহমেদ বলেছেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং উপযুক্ত বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করবে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা প্রতিপক্ষ হিসেবে দুর্দান্ত লড়াই করেছিলেন। তবে মাঠের সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি অবশ্য মানবিক আচরণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জানা গেছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের উপলক্ষে ভোজিনহার পরিবারকে বিশেষ ভিআইপি টিকিট উপহার দিয়েছেন মেসি। শুধু টিকিট নয়, কেপ ভার্দে থেকে এসে যেন তারা নির্বিঘ্নে ফাইনাল উপভোগ করতে পারেন, সেই জন্য ভ্রমণের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
গোল ডট কম-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো বিষয়টি ফাইনালের আগে গোপন রাখা হয়েছিল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের পর ভোজিনহার পরিবারের এক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই মেসির এই মানবিক উদ্যোগ ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন ভোজিনহা। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলেছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে মেসি তার পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে ভোজিনহা বলেন, "খেলা শেষে আমি মেসির কাছে গিয়েছিলাম। সে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, তুমি খুব ভালো খেলেছ। তোমার দেশ তোমাকে নিয়ে গর্ব করবে।" মেসির মতো কিংবদন্তির কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের।
মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও মানবিকতার এই নজির আবারও প্রমাণ করল, লিওনেল মেসি শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলারই নন, তিনি একজন অসাধারণ মানুষও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি মাছ বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে ১৫৫ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির সামুদ্রিক কোরাল মাছ। বিরল আকারের এই মাছটি দেখতে অসংখ্য ক্রেতা ও কৌতূহলী দর্শনার্থীরা বাজারে ভিড় করছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন যে, সুন্দরবন-সংলগ্ন উপকূলীয় সমুদ্র এলাকা থেকে ধরা পড়া মাছটির খবর তিনি দুই দিন আগে একটি মাছ ধরার ঘাট থেকে পেয়েছেন। পরে তিনি মাছটি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় কেনেন। মাছ পরিবহনে আরও প্রায় ১০ হাজার টাকার ব্যয় হয়নি।
তিনি জানান, মাছটির বিক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ কেজি মাছ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত বুকিং নেওয়া হবে। এরপর বুকিং অনুযায়ী মাছটি কেটে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হবে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, এত বড় আকারের কোরাল মাছ বাজারে খুব কমই আসে। ফলে মাছটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। উন্নত মানের সামুদ্রিক মাছ হওয়ায় অনেক ক্রেতাই আগেভাগে বুকিং দিয়ে রেখেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোরাল মাছ সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ হিসেবে পরিচিত। সাধারণত বঙ্গোপসাগরসহ উষ্ণমণ্ডলীয় উপকূলীয় সমুদ্র এলাকায় এ মাছের দেখা পাওয়া যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে বাবাকে করাত দিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনা ঘটেছে। মিরাজ আলী (২৪) নামে এক যুবককে পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালত একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
এই ঘটনার ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিশমনি গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম তার ছেলে মিরাজ আলীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং চুরি, মারামারি, অশান্তিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। একাধিকবার তাকে মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পাঠানো হলেও সে ফিরে এসে পুনরায় মাদক সেবন করে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাদক কেনার টাকা না পেলে অভিযুক্ত ছেলে বাড়ির মালামাল বিক্রি করে দেয়, গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করে এবং বাধা দিলে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এর আগে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সে দুইবার কারাভোগও করেছে। তার অত্যাচারে তার স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে যান।
সর্বশেষ গত ২২ জুলাই বাড়িতে অশান্তির একপর্যায়ে বাবা জাহিদুল ইসলাম কারণ জানতে চাইলে, মিরাজ আলী ঘর থেকে একটি করাত এনে বাবার গলায় ধরে জবাই করার চেষ্টা করে। এ সময় তার মা এগিয়ে এলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে। পরে তারা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে শুনানির সময় মিরাজ আলী সবার সামনে স্বীকার করেন তিনি মাদক সেবন করেন। পরে তার বসতঘরে তল্লাশি করে মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত উদ্ধার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি, অভিযোগের বিবরণ এবং ঘটনাপ্রবাহের বিশ্লেষণ করে আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদক, পারিবারিক সহিংসতা ও জনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ