রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১২ পি.এম
পদ্মায় পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চর এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিপদ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির স্তর ১৩ দশমিক ০৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নতুন করে পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে উজানের ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে পদ্মায় পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর এবং নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, গবাদি পশুর খাদ্য সংকটের কারণে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধির ফলে চরের প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩৫ হেক্টর আখক্ষেত, সাত হেক্টর সবজি এবং ৬০ হেক্টর ফলের বাগান। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
শনিবার সরজমিনে পদ্মার চর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফসলি জমিগুলো সম্পূর্ণরূপে পানিতে ডুবে গেছে। বাঁশের মাচা বা খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা সবজি ক্ষেতগুলোর শুধু ওপরের অংশ পানির ওপর জেগে আছে। অনেক স্থানে নতুন রোপণ করা মূলা ও বেগুন গাছও পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা নৌকা বা ভেলায় করে তাদের ডুবে যাওয়া ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন, তবে পানির তীব্রতায় এটি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পানির বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীভাঙনও তীব্র হয়েছে। উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুরে পদ্মার চরের প্রায় ৫০টি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘হঠাৎ অস্বাভাবিক পানিবৃদ্ধিতে আমার দুই বিঘা জমির মূলা ও বেগুন পুরোপুরি পানির নিচে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমার আরো চার বিঘার মূলা ও বেগুন ক্ষেত তলিয়ে যাবে।’
ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপদে আছি। বন্যার পানিতে চরের জমি ডুবে গেছে, কোথাও ঘাস নেই। মহিষকে এখন শুধু শুকনো খড় আর পানি খাওয়াচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, ‘চর এলাকা পরিদর্শন করেছি। পদ্মায় পানিবৃদ্ধির কারণে চর এলাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।’
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবীর হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মার পানিবৃদ্ধি এবং চরের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবি বর্তমানে সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই দাবিগুলো নিয়ে তারা আবারও লংমার্চের আয়োজন করছে; তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জোটের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এসব তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জমায়েত হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর লংমার্চ শুরু হবে। পথে পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হবে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। দেশে দুর্নীতি প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে চলছে এবং দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই কারণে নতুন করে এ দাবি যুক্ত করা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক আরও বলেন, সরকার বিভিন্ন সংকটের ক্ষেত্রে যেভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, তা জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছয় মাস সরকারের জন্য খুব বেশি সময় নয়, কিন্তু বিকল্প পরিকল্পনা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে অপেক্ষা করার সুযোগও বেশি নেই।
তিনি আরও জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যে ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে জনগণের দাবি, জনস্বার্থ, জনগণের অধিকার, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ১১ দলীয় ঐক্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ছিল গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। জুলাই আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি ও চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের যে দাবি উঠেছিল, সংসদে ১১ দলের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই সে বিষয়ে ভূমিকা রেখে আসছেন। সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোট হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। জনগণের এই রায় সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ১২০০ বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। বিজিএমইএ সভাপতির সঙ্গেও তারা দেখা করেছেন। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানা চালানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও এর প্রভাবের মধ্যে পড়ছে। অর্ডার বাতিল হয়ে গেলে তা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নেজামে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জাগপার প্রধান মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, এবি পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিডিপির মহাসচিব নাঈম নিজামুদ্দিন নাঈম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ইউসুফ আলীসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়নপত্র ফর্ম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, যা নয়াপল্টনে অবস্থিত, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই ফর্ম সংগ্রহের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ফর্ম পূরণ করে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় দপ্তর শাখায় জমা দিতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মু. মুনির হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কার্যক্রম ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ ৮ অক্টোবর। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর।
বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর গত ২০ আগস্ট আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং সদ্য স্নাতক করা গ্র্যাজুয়েটদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ এসেছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ ২০২৬ সালের জন্য একটি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। এই ইন্টার্নশিপের সুযোগ বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং দেশের ভিত্তিতে উপলব্ধ। কিছু পদে ইন্টার্নদের মাসিক স্টাইপেন্ড এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হতে পারে।
ইউনিসেফের ইন্টার্নশিপ সাধারণত ৬ থেকে ২৬ সপ্তাহের মধ্যে হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এই ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের যোগ্যতা
ইউনিসেফের ইন্টার্নশিপে আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।
প্রার্থীদের স্নাতক, স্নাতকোত্তর অথবা পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়নরত হতে হবে অথবা গত দুই বছরের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে। প্রার্থীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের বেশি হতে হবে।
ইউনিসেফের অফিসে কাজ করার জন্য ইংরেজি, স্প্যানিশ বা ফরাসি ভাষার অন্তত একটি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। যে অফিসে আবেদন করা হবে, সেখানে প্রয়োজনে সেই অফিসের ভাষাতেও দক্ষতা থাকতে হতে পারে।
সুবিধাসমূহ
ইন্টার্নশিপের ধরন এবং কর্মস্থল অনুযায়ী সুবিধাগুলি ভিন্ন হতে পারে। এসব ইন্টার্নশিপে মাসিক স্টাইপেন্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ এবং ভিসা ও যাতায়াতের জন্য এককালীন সহায়তাও প্রদান করা হতে পারে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য জীবনবৃত্তান্ত, কভার লেটার, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এবং পাসপোর্টের মতো নথিপত্র প্রয়োজন হবে। নির্দিষ্ট পদের জন্য অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে।
আবেদনের নিয়ম
আবেদন করতে হবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ।
আবেদনের শেষ তারিখ
পদভেদে ইন্টার্নশিপের আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা হতে পারে। তাই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদভিত্তিক নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলা আবশ্যক।
বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায় ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাইকোর্ট আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে বাস মালিক সমিতি কিংবা পরিবহন শ্রমিকদের কোনো সংগঠনের ডাকা হরতাল বা ধর্মঘটকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
একই সঙ্গে আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট ডাকার ক্ষেত্রে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচির ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষ ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন।
আদালতে রিটকারী হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মোহাম্মদ আহসান হাবীব। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পক্ষে অ্যাডভোকেট আসিবুল হক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. রাফিউল ইসলাম শুনানি করেন।
যেভাবে রিটের সূত্রপাত
২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিচার শেষে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত বাসচালককে সাজা প্রদান করেন।
সাজার পর বাস মালিকদের পক্ষ থেকে পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল ডাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করেন। রুলে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে পরিবহন ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট ও হরতাল প্রত্যাহার এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের ওই নির্দেশের পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার আদালত রুলটি অ্যাবসোলিউট (চূড়ান্তভাবে গ্রহণ) করে রায় দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের রায় ও আদেশ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বাধ্যতামূলক। আদালতের কোনো রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই রায়ের প্রতিবাদে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধানপরিপন্থি।
আদালত স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনকে (বিআরটিসি) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে আরও বলা হয়, আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে কোনো বাস মালিক সমিতি বা পরিবহন শ্রমিক সংগঠন হরতাল-ধর্মঘট ডাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের যে কোনো রায় ও নির্দেশনা মানতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ বাধ্য। কিন্তু দুর্ঘটনার ঘটনায় চালকের সাজাকে কেন্দ্র করে বাস মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আদালতের আদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন, যা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
এই রিটের আবেদনকারী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম। রিটে বিবাদী করা হয় সেতু বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান, ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি এবং সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিসহ মোট ১৭ জনকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ