ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিজ সন্তানকে নিজ প্রতিষ্ঠানে পড়ান: শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান


নিজ সন্তানকে নিজ প্রতিষ্ঠানে পড়ান: শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যদি আপনি নিজ সন্তানকে নিজ প্রতিষ্ঠানে পড়াতে না পারেন, তবে অন্যরা কেন তাদের সন্তানকে আপনার প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করবে?

তিনি জেলা স্কুলগুলোর অতীত ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এক সময় নিজেদের সন্তানও সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াতেন। সেই মান ও আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (২৪শে জুলাই) চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবই নির্ভর নয়, বরং বিতর্কচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় মূল্যবোধ, খেলাধুলা এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে এবং ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে বই সরবরাহ করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন কারিকুলামে নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের সঠিক, নির্মোহ এবং তথ্যভিত্তিক ইতিহাস স্থান পাবে। ইতিহাসে কোনো ধরনের রাজনৈতিকীকরণ, প্রোপাগান্ডা বা বিকৃতি থাকবে না। তিনি বলেন, "যে ইতিহাস সত্য, সেই ইতিহাসই শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।"

আরো জানান, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ একটি ঐতিহাসিক সত্য। দুর্ভিক্ষে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে—সেই ঘটনাও পাঠ্যবইয়ে থাকবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর দায় চাপিয়ে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সংযুক্ত করা হবে না। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতেই উপস্থাপিত হবে।

মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম মান্নানের সভাপতিত্বে ও সাচার ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ নওশির আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, কুমিল্লা মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আহসান পারভেজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান রাসেল, এসিল্যান্ড আবু নাসির, পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ খায়রুল আবেদীন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুভাষ, ওসি মোঃ আজিজুল ইসলামসহ স্থানীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই শিক্ষক সমাবেশে কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ছবিঃ কচুয়ায় শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম চারা উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে কাউখালী, মৌসুমে জমজমাট কোটি টাকার বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম চারা উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে কাউখালী, মৌসুমে জমজমাট কোটি টাকার বাণিজ্য

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা, দক্ষিণাঞ্চলে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের অন্যতম বৃহত্তম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত চারা বিক্রির মৌসুম চালু থাকলেও আষাঢ় থেকে আশ্বিন—এই চার মাসে বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন নার্সারি ও ঐতিহ্যবাহী কাউখালী হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার কাউখালী হাটে বসে বিশাল চারা বাজার। এছাড়া পাইকাররা সরাসরি স্থানীয় নার্সারিগুলোতে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চারা সংগ্রহ করেন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকার কারণে নৌকা, ট্রলার, লঞ্চ ও ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজেই চারা সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলার নার্সারিগুলোতে রেইনট্রি, মেহগনি, চাম্বল, গামার, সেগুন, আকাশমণিসহ ৩০ থেকে ৪০ প্রজাতির বনজ এবং আমড়া, আমলকী, জলপাই, নারকেল, সুপারি, আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা ও লিচুসহ ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির ফলজ চারা উৎপাদন করা হয়। উন্নত মান ও টেকসই হওয়ায় এসব চারার চাহিদা রয়েছে মাদারীপুর, বাগেরহাট, খুলনা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়।

ঝালকাঠি থেকে চারা কিনতে আসা ক্রেতা তানভীর আহমেদ জানান, "আমি প্রতি মৌসুমেই কাউখালী থেকে কয়েক হাজার টাকার চারা কিনে থাকি। এখানকার চারার মান ভালো হওয়ায় আমাদের এলাকায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।"

স্থানীয় নার্সারি ব্যবসায়ী মোঃ হানিফ বলেন, "আমি দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করি। প্রতি মৌসুমে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় হয়।"

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, কাউখালী উপজেলা চারা উৎপাদন ও বিপণন এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষকরা যাতে উন্নত জাতের ও মানসম্মত চারা উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য কৃষি বিভাগ নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। মাটির টালির স্বল্পতাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "কাউখালীর নার্সারি শিল্প এখন শুধু স্থানীয় চাহিদাই নয়, জাতীয় পর্যায়েও চারা সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা যেতে পারে, তাহলে কাউখালী দেশের অন্যতম বৃহত্তম চারা উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নার্সারি ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।"

স্থানীয়দের মতে, চারা উৎপাদন ও বিপণনের সাথে সম্পর্কিত কাউখালীতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এ শিল্প আরও সম্প্রসারিত হলে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কল্লোল সংঘকে হারিয়ে দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের দাপুটে জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


কল্লোল সংঘকে হারিয়ে দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের দাপুটে জয়

অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল লিগ ২০২৫-২৬ মৌসুমের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে জয় অর্জন করেছে দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব। তারা প্রতিপক্ষ কল্লোল সংঘকে ২-০ গোলে পরাজিত করে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) শুরু হতে যাওয়া ম্যাচের প্রথম থেকেই দুই দলের মধ্যে আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে খেলা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথমার্ধে উভয় দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় কোনো দলই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব খেলার আক্রমণের ধার আরও বাড়াতে সক্ষম হয়। খেলার ৫৫তম মিনিটে, তাজদুল হাসান তাশরিফ দারুণ একটি ফিল্ড গোল করে তাদের দলকে লিড এনে দেন।

পিছিয়ে পড়া কল্লোল সংঘ গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাতে থাকে, কিন্তু দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, যখন কল্লোল সংঘ সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই ডানা বাঁধে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দিলকুশার তরুণ খেলোয়াড় রোহান ইসলাম মিরাজ। ৯০+২ মিনিটের এই গুরুত্বপূর্ণ গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ পি.এম


গাইবান্ধায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের

 

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের গজিয়াপাড়া এলাকায় গাছ থেকে পেয়ারা পেরে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে মাহাদী হাসান জিহাদ (১৪) নামের একজন কিশোরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটির পর গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।

অভিযুক্ত মাহাদী হাসান জিহাদ গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের গজিয়াপাড়া এলাকার অধিবাসী। জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা গজিয়াপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তার বৃদ্ধা মা ও মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন। অভিযুক্ত কিশোরের পরিবার প্রতিবেশী হওয়ার কারণে দুই বাড়ির লোকজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে, ঘরের ভেতরে বসে শিশুটি তার দাদীর সাথে ভাত খাচ্ছিল, তখন জিহাদ বাড়ির সামনে এসে শিশুটিকে পেয়ারা পেরে দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। পরে শিশুটির দাদি পেয়ারা গাছের নিচে তাদের দেখতে না পেয়ে আশেপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে, পার্শ্ববর্তী এক বাড়ি থেকে শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে দাদী সেই ঘরে ঢুকতে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে দরজা আটকে রয়েছে। কিছুক্ষণ পরে, জিহাদ ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসলে শিশুটি তার দাদীকে সমস্ত ঘটনার কথা খুলে বলে। ঘটনার পর জিহাদ পলিয়ে যায়।

অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়া কারণে, ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনে বিষয়টি নজরে আসলে তিনি থানা পুলিশকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, মামলাটি হয়েছে এবং শুক্রবার সকালে শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করতে এনিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের মতই গড়াচ্ছে ভারতের বিক্ষোভ, পরিণতিও কি একই হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের মতই গড়াচ্ছে ভারতের বিক্ষোভ, পরিণতিও কি একই হবে?
 
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সীমাহীন দুর্নীতি ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ভারতের বর্তমান রাজনীতিকে ব্যঙ্গ করে তৈরি হওয়া ও উত্তাল ছাত্র বিক্ষোভের রাজনৈতিক অনলাইন প্লাটফর্ম ভারতীয় ককরোচ পার্টির দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া ছোট্ট আন্দোলন এখন খুব দ্রুতই গোটা ভারতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

এতে এখন শুধু ছাত্র-ছাত্রীরাই নয়, বরং পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তথা দক্ষিণ ভারতের তামিল সিনেমা ও ভারতের বলিউডের অভিনেতা অভিনেত্রীগণ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, সোস্যাল এক্টিভিস্ট এবং এলিট ক্লাসের লোকজন থেকে শুরু করে পুলিশের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সাবেক সামরিক বাহিনীর সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষের সাথে লক্ষ লক্ষ সাধারণ নাগরিকও অংশগ্রহণ করছেন এবং আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা ও সরকারের অবস্থান ঠিক যেন বাংলাদেশের ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের মতোই একই পথে গড়াচ্ছে।

ছাত্রদের অনড় দাবির মুখে ভারত সরকার নমনীয় মনোভাব না দেখিয়ে শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমন করতে চাচ্ছে। এতে করে ছাত্রদের উপর পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, জল কামান এমনকি গুলি করতেও দেখা গেছে। এতে করে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী আহত হচ্ছে। একারণে এই বিক্ষোভ দুর্বল না হয়ে যেন আগ্নেয়গিরির লাভার মত আজ গোটা ভারতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রদের আন্দোলনের সুশৃংখল পদ্ধতি, একটার পর একটা নতুন দাবি কিংবা অনেক দাবির পর অল্প দাবি, তারপর অবশেষে কি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের মতো এক দফা সরকার পতনের আন্দোলনের মতোই পরিণত হবে? নরেন্দ্র মোদির পরিণতিও কি শেখ হাসিনার মত সেদিকেই যাচ্ছে?

রাজনীতির ইতিহাসে ছাত্রসমাজ বহুবার এমন এক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যারা ক্ষমতার অলিন্দে বসে থাকা শাসকদের মনে প্রথম অস্বস্তির সঞ্চার করেছে। তাদের হাতে অস্ত্র থাকে না, কিন্তু থাকে প্রশ্ন; থাকে প্রতিবাদের ভাষা; থাকে ভবিষ্যৎকে নতুন করে কল্পনা করার সাহস।

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন দেখিয়েছিল, একটি ছাত্রনির্ভর আন্দোলন কীভাবে ধাপে ধাপে নিজেদের দাবি সংগঠিত করতে পারে। প্রথমে নির্দিষ্ট ইস্যু, তারপর জনসম্পৃক্ততা, এরপর বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্ন—এভাবেই আন্দোলনের পরিধি বিস্তৃত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন ছাত্রবিক্ষোভ ও তরুণদের সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টাকে ঘিরেও এখন তুলনামূলক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংগঠন, দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য, সমন্বিত কর্মসূচি এবং ধাপে ধাপে আন্দোলন বিস্তারের কৌশল—এসব কারণে অনেকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজছেন। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংবিধানিক কাঠামো, দলীয় শক্তির ভারসাম্য এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট এক নয়; তাই সরল সমীকরণ টানা সহজ নয়।

তবু একটি বিষয় স্পষ্ট—যখন কোনো রাষ্ট্রে তরুণদের বড় একটি অংশ মনে করে যে তাদের কণ্ঠ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না, তখন আন্দোলন কেবল একটি দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা ধীরে ধীরে আস্থা, জবাবদিহি এবং শাসনব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্নে রূপ নিতে পারে।

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে দেশটিকে। ছাত্রদের অসন্তোষ কত দূর যাবে, তাদের দাবি কীভাবে রূপান্তরিত হবে, কিংবা তা শেষ পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে—এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

ইতিহাস অবশ্য একটি শিক্ষা বারবার দেয়: কোনো সরকার শুধু প্রশাসনিক শক্তির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন জনমতের সংকট মোকাবিলা করতে পারে না। আবার এটিও সত্য যে প্রতিটি আন্দোলনের গতিপথ ভিন্ন, এবং কোনো দেশের অভিজ্ঞতা হুবহু আরেক দেশে পুনরাবৃত্তি হয় এমন টা বলা যাবে না, তবে ভারতের ছাত্র জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের চেয়েও দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে।

তাই আজকের বড় প্রশ্নটি হয়তো এটি নয় যে, ইতিহাস নিজেকে অবিকল পুনরাবৃত্তি করবে কি না; বরং প্রশ্ন হলো, ভারতের ছাত্রসমাজ যে নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করছে, সেটি কি দেশটির গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে? উত্তর ভবিষ্যতের হাতে, কিন্তু সেই ভবিষ্যতের বীজ যে বর্তমানের প্রতিবাদে রোপিত হচ্ছে—তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই,-ভারতের বর্তমান আন্দোলনের উত্তাল ও বিষ্ফোরণ্মুখ পরিস্থিতি দেখে এমন কথা বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%