০৭:৫৯ পি.এম
রাজধানীতে আজ এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বলেছেন- জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদের কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের এক্সিবিশন হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে বিজিএমইএ-এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘অর্থনৈতিক রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ (অ্যাসেট)’ প্রকল্পের আওতায় বিজিএমইএ পোশাক শিল্পে সফলভাবে এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিল্প-নেতৃত্বাধীন চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
এ পর্যন্ত তিনটি সাইকেলে ১৯৩টি ব্যাচের মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ৬৩২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাইকেলের ৯৭টি ব্যাচের ২ হাজার ৩২৮ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। বর্তমানে চতুর্থ সাইকেলের ৯৬টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রধান অতিথি বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএ ও অ্যাসেট প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগ পোশাক শিল্পে দক্ষ কর্মী তৈরির পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগে বিজিএমইএর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তার মানবাধিকারের লঙ্ঘন: আখতার হোসেন
সচিব আরও বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী তৈরি পোশাক খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কর্মীদের দক্ষতাকে জাতীয় দক্ষতা কাঠামোর লেভেল-৩ ও লেভেল-৪-এ উন্নীত করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পোশাক শিল্পকে আরও দক্ষ ও আধুনিক হতে হবে। এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং মডেল কারখানাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অ্যাসেটসহ বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি সহায়তা পোশাক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিজিএমইএ পর্ষদ শুধু রপ্তানি বাড়ানোর ওপর নয়, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং পণ্যে মূল্য সংযোজনের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা অব্যাহত থাকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সামসুর রহমান খান, অ্যাসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মীর জাহিদ হাসান এবং বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী আইয়ুব নবী খান।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত
এ সময় বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, স্কিল ডেভেলপমেন্টবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভূঁইয়াসহ বিজিএমইএ, অ্যাসেট প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন- বিজিএমইএর স্কিল ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন