সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : মোহাম্মদ নূর
০৪:৩৫ পি.এম
নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সুনামগঞ্জ সার্কেল ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। আলোচনা সভা শেষে চারজন শ্রেষ্ঠ চালককে সনদপত্র ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেল ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে নিসচা নেতৃবৃন্দ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং বিআরটিএ সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসিব ইসলাম হিমেলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রনবীর তালুকদার রক্তিম।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ এবং গাড়ি চালানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একই সঙ্গে যাত্রী ও পথচারীদেরও সড়ক ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি ওবায়দুল হক মিলন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নূর বক্তব্য দেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নিসচা সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি আফতাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ মনি এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম আর সজীব সহ আরও অন্যান্যরা।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া, জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ, সাংবাদিক মুহাম্মদ আমিনুল হক, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি ফয়জুনূর এবং হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু চালকদের সচেতনতা যথেষ্ট নয়; যাত্রী, পথচারী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। চালকের সামান্য অসতর্কতা কিংবা দায়িত্বহীনতায় প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই চালকদের মাদক থেকে দূরে থাকা, গাড়ি চালানোর সময় সম্পূর্ণ মনোযোগী থাকা এবং পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁদের মতে, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে আগাম উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চাইয়ের মতো সামাজিক সংগঠন, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে চারজন শ্রেষ্ঠ চালককে সনদপত্র ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। এ ধরনের সম্মাননা চালকদের পেশাগত দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা ও নিরাপদে যানবাহন পরিচালনায় উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সাতটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং অন্তত ৪০টি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত সদর উপজেলার বাহেরান্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠন করা হয়। এতে স্থানীয়রা মোশাররফ ফকিরকে সভাপতি নির্বাচিত করেন। তবে একই এলাকার বাচ্চু মোড়ল এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নিজেই সভাপতি পদ দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে বুধবার ভোরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শতাধিক লোক বাচ্চু মোড়লের নেতৃত্বে মাতুব্বরবাড়ি, সর্দারবাড়ি ও ফকিরবাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় মিনজাল জমাদ্দার, রবিউল মাতুব্বর, ফারুক মাতুব্বর, বোরহান মাতুব্বর ও এমদাদ মাতুব্বরসহ সাতজনের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনটি বাড়ির প্রায় ৪০টি ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এমদাদ মাতুব্বর বলেন, “বাচ্চু মোড়লের নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক হামলা ও তাণ্ডব চালানো হয়েছে। ৪০ থেকে ৫০টি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে। এতে এলাকার মানুষ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জাহিদ হাওলাদার বলেন, “মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে এত বড় ঘটনা ঘটবে, তা আমাদের ভাবনায় ছিল না।”
ঘটনার পর থেকে বাচ্চু মোড়ল ও তাঁর লোকজন এলাকায় না থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কামাল আজাদ বলেন, “মূলত মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শাওন বল
মাদারীপুর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র পরিবারের জীবিকা উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সাতটি পাহাড়ি পরিবারের মধ্যে ছাগল বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দীঘিনালা জোন কমান্ডারের নির্দেশনায় উপজেলার রাম রতন কারবারিপাড়ার আলমগীর টিলা আর্মি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিটি পরিবারকে দুটি করে মোট ১৪টি ছাগল দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ছাগল পালনের মাধ্যমে পরিবারগুলো ভবিষ্যতে বাড়তি আয়ের সুযোগ পেতে পারে। এ ধরনের সহায়তা দুর্গম এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে দীঘিনালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীসহ আনুমানিক ২৫ জন উপস্থিত ছিলেন।
ছাগল পেয়ে উপকারভোগীরা এ উদ্যোগের জন্য দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।
দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণকে ঘিরে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে এ টাকা নেওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন ওই পরিষদের প্রশাসক, কয়েকজন সদস্য ও ভুক্তভোগী জেলেরা।
পরিষদ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোরশেদ আলম প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন। পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) হিসেবে আছেন সাইফুল ইসলাম। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে ৭১৭ জন জেলের মাঝে চাল বিতরণ শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। চাল বিতরণের শুরুতে প্রত্যেক জেলেকে মাথাপিছু ১০০ টাকা করে জমা দিয়ে চাল নিতে একটা নিয়ম বেঁধে দেয় সাইফুল। তার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলে ১০০ টাকা জমা দিয়ে চাল সংগ্রহ করেন। যদিও ওই টাকা নেওয়ার কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি পরিষদের সভায়। সম্পুর্ন বেআইনীভাবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এ টাকা নিচ্ছেন বলে জানান পরিষদ সংশ্লিষ্টরা। জেলেদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ জানান স্থানীয় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
সুত্র জানায়, ইউনিয়টিতে মোট ৭১৭ জন জেলে রয়েছে। প্রত্যেক জেলে ২৫ কেজি করে চাল পাবে। তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে মোট ৭১ হাজার ৭০০ টাকা সংগ্রহ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
জেলে হুমায়ুন কবির ও নিজাম মাঝি বলেন, ১০০ টাকা না দিলে কোন চাল দেওয়া হবেনা মর্মে নির্দেশ দেয় সচিব। পরে প্রত্যেক জেলে টাকা দিয়ে চাল নিতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিষদের ৩ জন ইউপি সদস্য (মেম্বার) জানান, পরিষদের সভায় ১০০ টাকা করে নেওয়ার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তারা এ বিষয়ে অবগত নন। তবে সচিব তার মতো করে প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে ৭১ হাজার ৭০০ টাকা আদায় করেছে। এটা সম্পুর্ন তার খামখেয়ালি ও একতরফা সিদ্ধান্ত।
টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য পরিষদের প্রশাসক ও মেম্বারদের নির্দেশনা ছিল। তাই হোল্ডিং ট্যাক্স বাবত ১০০ টাকা করে নিয়েছি।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, পরিষদের সভায় জেলেদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেওয়ার কোনো আলোচনা হয়নি। সচিব কেন এমন বেআইনি কাজ করছেন-তা তিনি জানেন না। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, সরকারি চাল বিতরণে কোনো টাকা নেওয়ার বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"হাত ধোয়ার নায়ক হোন" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে নানা আয়োজনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার (বেদনাসিক্ত বা সাধারণ প্রেক্ষাপটে) সকালে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, হাত ধোয়ার সঠিক কৌশল প্রদর্শন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম ও কৌশল প্রদর্শন করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ইউসুফ আলী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হামিদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আলিম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. পারভেজ, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহাতাব উদ্দিন মৃধাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ইউনুছ আলী জানান, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করা, সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ