বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:২২ পি.এম
জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) স্বীকৃতি পাওয়ার পর সুন্দরবনের মধু নিয়ে দেশ-বিদেশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা রফতানি বাজার সম্প্রসারণের স্বপ্ন দেখছিলেন, তবে সেই সম্ভাবনার মাঝে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রবণতা।
জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অনুকূল আবহাওয়ার অভাব, বনাঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ফুলের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে সুন্দরবনের মধু আহরণ গত পাঁচ বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে মৌয়ালের সংখ্যা, বন বিভাগের রাজস্ব এবং মধু আহরণের জন্য দেয়া পাসও কমেছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে সুন্দরবন থেকে সংগ্রহ হয়েছে এক হাজার ৭৪০ দশমিক ৫০ কুইন্টাল বা প্রায় ১৭৪ মেট্রিক টন মধু। আগের মৌসুমে এ পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৫ কুইন্টাল বা প্রায় ২০৭ মেট্রিক টন। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩৩৪ দশমিক ৫০ কুইন্টাল, যা প্রায় ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে বন বিভাগের রাজস্ব ৩৩ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে কমে ২৭ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকায় নেমে এসেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, পাঁচ বছর আগে সুন্দরবন থেকে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টনের বেশি মধু আহরণ হতো। ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন। পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ২৮২ মেট্রিক টনে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে ৩১৮ মেট্রিক টনে পৌঁছালেও এরপর আবার শুরু হয় নিম্নমুখী ধারা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন নেমে আসে ২০৭ মেট্রিক টনে। আর সর্বশেষ মৌসুমে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৭৪ মেট্রিক টন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
মধু উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাতেও।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মধু আহরণের জন্য অনুমতি নিয়েছেন ৫৫২টি দল ও ৩ হাজার ৪৮১ জন মৌয়াল। আগের মৌসুমে এ সংখ্যা ছিল ৬৫৫টি দল এবং ৪ হাজার ১৫৮ জন মৌয়াল। অর্থাৎ এক বছরে ১০৩টি দল ও ৬৭৭ জন মৌয়াল কম বনে গেছে।
মৌয়ালরা বলছেন, বনাঞ্চলে প্রবেশে জলদস্যুদের দাপট, খরচ বৃদ্ধি এবং অনুকূল বৃষ্টিপাতের অভাবের কারণে ফুলের পরিমাণ কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে মধু উৎপাদনেও।
খুলনার দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জের মৌয়াল মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আগে একেকটা চাক থেকে অনেক বেশি মধু পাওয়া যেত। এবার অনেক জায়গায় ঘুরেও তেমন চাক পাইনি। গেওয়া, খলসি ও অন্যান্য গাছে ফুল কম হওয়ায় মৌমাছিও কম এসেছে। নৌকা ভাড়া, জ্বালানি এবং শ্রমিকের খরচ সবই বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ায় সেই খরচই উঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
একই উপজেলার আরেক মৌয়াল মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বনে ঢুকতে এখনও নানা ধরনের ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় নিরাপত্তার চিন্তা নিয়েই কাজ করতে হয়। তার ওপর আগের মতো মধু পাওয়া যায় না। কয়েকদিন বনে থেকে যে পরিমাণ মধু পাওয়া যায়, তা দিয়ে পরিবারের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
মৌয়াল শেখ নুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা বছরের এই মৌসুমটার জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে মধুর পরিমাণ কমতেই আছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ফুল কম ফোটে, ফলে চাকও ছোট হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক মৌয়াল এবার বনে যাওয়ার আগ্রহও হারিয়ে ফেলেছেন।’
উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জিআই স্বীকৃতির কারণে সুন্দরবনের মধুর চাহিদা বাড়লেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানান সুন্দরবন পিওর মার্টের স্বত্বাধিকারী আবু হানিফা সজীব।
তিনি বলেন, ‘জিআই স্বীকৃতির পর দেশ-বিদেশে সুন্দরবনের মধুর চাহিদা অনেক বেড়েছে। অনলাইন ও করপোরেট পর্যায় থেকেও নিয়মিত অর্ডার আসছে। কিন্তু উৎপাদন কম থাকায় সেই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। উৎপাদন বাড়ানো গেলে রফতানির সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং বননির্ভর মানুষের আয়ও বাড়বে।’
সংশ্লিষ্টরা বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, ফুল ফোটার সময়, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের সঙ্গে মধু উৎপাদনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
সুন্দরবন বন বিভাগের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘মধু উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ফুলের উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব দেখা যাচ্ছে মধু আহরণে। বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং মৌয়ালদের নিরাপদে মধু আহরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, মৌমাছির খাদ্য উদ্ভিদ সংরক্ষণ, বনাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী বছরগুলোতে সুন্দরবনের মধু উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে হাজারো বননির্ভর পরিবার, পাশাপাশি থেমে যাবে জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এ পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ব্যাপক যাচাই-বাছাই করার পর প্রণয়ন করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
চিফ হুইপ আরো বলেন, এই ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনেক যাচাই-বাছাই করে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাজেটে ৬৩টি পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে। এটি একটি জনবান্ধব বাজেট এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানিয়েছেন, বাজেটের ওপর আলোচনা করার জন্য বিরোধী দলকে ৩১ শতাংশ সময় দেয়া হয়েছে এবং বিরোধীদলও সরকারের এই বাজেটকে গ্রহণ করেছে। তাই এ বাজেট বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ যাতে কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পান করতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি এটিকে বাংলাদেশের জন্য একটি বাঁচানোর প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাজেটের ওপর কণ্ঠভোট গ্রহণ করে তা পাস করেন, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর হলে তিন দেশের জনগণই উপকৃত হবে, এমন বিশ্বাস পোষণ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করতে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা একসঙ্গে আলোচনায় বসেন। সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে যৌথ স্বার্থ নিয়ে সৌহাদ্যপূর্ণ আলোচনা চালানো হয়। দুই নেতার মধ্যে টু প্লাস টু আলোচনা ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে বিশ্বস্ততা জোরদার করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য জনগণের স্বার্থে নিজেদের মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে চায়না সমর্থন দেয়।
ইয়াও ওয়েন জানান, টেকসই তিস্তা মহাপরিকল্পনা তৈরি করতে বৈজ্ঞানিক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। চায়না এ বিষয়ে জোর দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। অতীতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে চাইনিজ কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা হলেও, এবার দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এ প্রকল্প এবং বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহযোগিতা করার জন্য চীনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রতিশ্রুতি এসেছে।
এ সময় ব্রিকসে বাংলাদেশের সদস্যপদ সমর্থনে চীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—এ কথাও জানান দেশটির রাষ্ট্রদূত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের টিকেট ক্রয়ের পর শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ায় স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে। সেকেন্ডারি মার্কেটপ্লেস বা টিকেট পুনর্বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সমর্থকরা খেলা না দেখেই দেশে ফিরছেন। বিশেষ করে ‘স্টাবহাব’ নামক জনপ্রিয় টিকেট বিক্রয়কারী ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের আগুন লেগেছে। ভুক্তভোগী দর্শকরা এটি টিকেট ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে এবারের বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবং এ নিয়েই শুরু হয়েছে টিকেট নিয়ে চরম অরাজকতা। ডালাসের বাসিন্দা সের্হিও এনরিকে আলভারাদো মোনতালভো, তার বাবাকে নিয়ে লিওনেল মেসির খেলা দেখানোর উদ্দেশ্যে স্টাবহাব থেকে ১৭০০ ডলারে আর্জেন্টিনার ম্যাচের টিকেট কিনেছিলেন। মেক্সিকো থেকে বাবা-মাকে উড়িয়ে আনা, হোটেল ও যাতায়াত বাবদ তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০০০ ডলার। কিন্তু যাত্রার ঠিক আগের দিন স্টাবহাব তাকে জানায় যে, বিক্রেতা টিকেট সরবরাহ করতে পারছে না। টিকেটের উচ্চ মূল্যের অজুহাত তুলে তারা বিকল্প টিকেট দিতেও রাজি হয়নি। ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে বারবার যোগাযোগ করেও শেষমেষ কিছুই করতে পারেননি মোনতালভো।
বোস্টনের ইবেন পিংরের অভিজ্ঞতা একই রকম নির্মম। তার স্ত্রী ২৮০০ ডলার দিয়ে স্কটল্যান্ড বনাম হাইতি ম্যাচের টিকেট কিনেছিলেন ১১ বছর বয়সী ছেলেটিকে চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ম্যাচের দিন সেই টিকেট স্রেফ গায়েব হয়ে যায়, যার ফলস্বরূপ স্টেডিয়ামের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন যে, এই সংকটের মূল কারণ হলো ‘স্পেকুলেটিভ টিকেটিং’ বা ফাটকা ব্যবসা। অনেক অসাধু বিক্রেতা নিজের কাছে টিকেট না থাকা সত্ত্বেও টিকেট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। পরে, যখন টিকেটের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়, তখন তারা সাধারণ ক্রেতাদের টিকিট না দিয়ে, অধিক মুনাফার জন্য অন্য কোথাও তা চড়া দামে বিক্রি করে দেন। এর ফলে, সাধারণ ক্রেতারা টিকেটের মূল টাকা ফেরত পেলেও বিমান ভাড়া বা হোটেলের পিছনে নষ্ট হওয়া মোটা অঙ্কের টাকা আর ফেরত পান না।
এই চরম জালিয়াতির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জুলি রিকার মোগাল এবং রুবেন রেনতেরিয়া নামের দুই ফুটবল অনুরাগী স্টাবহাবের বিরুদ্ধে গণমামলা দায়ের করেছেন। আদালতে জমা দাখিল নথিতে তারা অভিযোগ করেছেন যে, টিকেট প্রদানের নাম করে হাজার হাজার দর্শকের কাছ থেকে দেদারলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রতারণার শিকার করেছেন। স্টাবহাবের এ কর্মকাণ্ডকে গ্রাহক সুরক্ষার ইতিহাসে ‘নতুন এক চরম বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়।
বিবদমান পরিস্থিতিতে দেখি এখন দায় চাপানোর খেলা শুরু হয়েছে। ফিফা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের বৈধ টিকেট তাদের অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় এবং তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে কেনা টিকেটের দায় তারা নেবে না। অন্যদিকে, স্টাবহাব দাবি করেছে যে, ফিফার নতুন টিকেট ট্রান্সফার অ্যাপটিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে টিকেট বাজারের বিশেষজ্ঞরা স্টাবহাবের এই অজুহাত সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। টিকেট টক নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্কট ফ্রিডম্যান জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে ৬০০-র বেশি লিখিত অভিযোগ সংগ্রহ করেছেন এবং এর জন্য সম্পূর্ণভাবে স্টাবহাবের ব্যর্থ কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন।
আইনজীবীরা বলছেন, স্টাবহাবের জটিল রিফান্ড বা ক্ষতিপূরণ নীতি সাধারণ মানুষকে ক্লান্ত ও নিরুৎসাহিত করার জন্য তৈরি করেছে, যাতে মানুষ একপর্যায়ে টাকা দাবি করা থেকে বিরত হয়। স্টাবহাবের পক্ষ থেকে তাদের ‘ফ্যানপ্রটেক্ট গ্যারান্টি’র কথা বলা হলেও হাজার হাজার ডলারের অ-ফেরতযোগ্য ভ্রমণ খরচ হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ফুটবল ভক্তদের ক্ষোভ কোনোভাবেই কমছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজকের মুদ্রা বিনিময় হার সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্কের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ০২ জুলাই, ২০২৬ তারিখে সকাল ১২:১৫ মিনিটে।
বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগতভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। এই বিস্তৃত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করছে।
দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আজকের (০২ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—
মুদ্রার নাম: বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার: ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
ইউরো: ১৩৯ টাকা ৭৫ পয়সা
পাউন্ড: ১৬৩ টাকা ০৩ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার: ৮৬ টাকা ৪০ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৮৪ টাকা ৬৫ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন: ১৮ টাকা ০৮ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার: ৯৪ টাকা ৭৪ পয়সা
ভারতীয় রুপি: ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ৩০ টাকা ১৭ পয়সা
সৌদি রিয়াল: ৩২ টাকা ৮৩ পয়সা
কাতারি রিয়াল: ৩৩ টাকা ৮১ পয়সা
কুয়েতি দিনার: ৩৯৮ টাকা ৪৮ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম: ৩৩ টাকা ৫৬ পয়সা
মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলা বাজার ও অফিসিয়াল রেটের মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই কমেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই পরিস্থিতি আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ