মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৭ পি.এম
একসময় সন্ধ্যার পর বরগুনার গ্রামাঞ্চলে লোকজ বিনোদনের আয়োজন করা হতো। কোথাও পালাগান, কোথাও কবিগানের ছন্দময় বাক্যযুদ্ধ, আবার কোথাও জারি-সারি ও যাত্রাপালা ঘিরে রাতভর চলত মানুষের মিলনমেলা। ঢোল, করতাল, দোতারা আর একতারার সুরে মুখর হয়ে উঠত গ্রামীণ জনপদ।
হাটবাজার, মেলা, ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠান ছিল এসব আয়োজনের প্রধান ক্ষেত্র। শিল্পীদের কণ্ঠে ফুটে উঠত মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, জীবনসংগ্রাম ও প্রতিবাদের কথা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চির পরিচিত দৃশ্য ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। মোবাইল ফোননির্ভর বিনোদন, বিদেশি সংস্কৃতির অনুকরণ, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও শিল্পীদের আর্থিক অনিশ্চয়তায় বরগুনার নিজস্ব লোকজ ঐতিহ্য এখন অস্তিত্বের সংকটে।
বরগুনার লোকসংস্কৃতি নদী, সাগর, কৃষি ও মৎস্য আহরণনির্ভর জীবনযাত্রার মধ্যদিয়ে গড়ে উঠেছে। এটি এ অঞ্চলের মানুষের ইতিহাস, বিশ্বাস, ভাষা ও সামাজিক সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লোকগান, পালাগান, কবিগান, জারিগান, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা, লাঠিখেলা, গ্রামীণ মেলা, আঞ্চলিক ছড়া ও লোককথা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করেছে এই জনপদের নিজস্ব পরিচয়। তবে বর্তমানে এসব শিল্পের অনেক ক্ষেত্রেই চর্চা সংকুচিত হচ্ছে।
প্রবীণ শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও পরিবেশনা সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল্যবান অধ্যায়গুলোতে।
এই সংকটের অন্যতম আলোচিত দিক মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বিনোদনের বিস্তার। একসময় যে তরুণেরা গ্রামের মাঠে বসে পালাগান শুনতেন, কবিগানের আসরে ভিড় করতেন কিংবা যাত্রাপালার মঞ্চে রাত কাটাতেন, তাঁদের একটি অংশ এখন অবসর কাটান মোবাইলের পর্দায়। বিদেশি গান, নাচ, নাটক ও অনলাইন বিনোদনের বিপুল প্রবাহে পশ্চিমা সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ তরুণদের জীবনযাপনে প্রভাব ফেলছে। এর বিপরীতে নিজস্ব লোকসংগীত, আঞ্চলিক ভাষা ও ঐতিহ্যবাহী বিনোদনের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তি ও বিদেশি সংস্কৃতির আদান-প্রদান নিজে নেতিবাচক নয়। সংকট তৈরি হয় তখনই, যখন অন্য সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ বাড়লেও নিজের ঐতিহ্য জানার, চর্চা করার ও সংরক্ষণের আগ্রহ কমে যায়। মোবাইলনির্ভর বিনোদনের অতিরিক্ত ব্যবহার তরুণদের সময় ব্যবস্থাপনা, পড়াশোনা, পারিবারিক যোগাযোগ ও সামাজিক অংশগ্রহণেও প্রভাব ফেলছে। নিজস্ব সাংস্কৃতিক শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে একটি প্রজন্ম হারাতে পারে নিজের ইতিহাস ও পরিচয়ের সঙ্গে সংযোগ। তাই তরুণদের দোষারোপ নয়, বরং তাদের সামনে লোকজ সংস্কৃতিকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব চিত্তরঞ্জন শীল। তিনি প্রবীণ সাংবাদিক, নাট্যকার, লেখক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সংগঠনটির নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেছেন। খেলাঘর কেন্দ্রীয় আসরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তাঁর লেখা ‘পরিণতি’, ‘টিপসই’, ‘ঠকবাজ’ ও ‘পায়রাপাড়ের মাহিনুর’ নাটকের নাম উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও তিনি লিখেছেন। তাঁর দীর্ঘ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বরগুনার ঐতিহ্য সংরক্ষণে ধারাবাহিক চর্চা ও সাংগঠনিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
বরগুনা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে সুখরঞ্জন শীল স্থানীয় নাট্যচর্চার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নাম। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘সুখা দা’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি নাট্যচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবা ও ভূমিহীন মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৮১ সালে বরগুনা মহকুমা শহরের শিমুলতলায় বৈশাখী মেলা আয়োজনের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ডা. এআর বিশ্বাস, চাঁদশী ডাক্তারসহ অনেকের ভূমিকার কথাও প্রচলিত থাকবে যুগ যুগান্তর। অন্যদিকে, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রাথমিক সাংগঠনিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সংগীত ও নাট্যশিল্পী শঙ্কর শাওজল।
বরগুনার লোকজ সংস্কৃতির ইতিহাসে হোসেন আলী বয়াতি, আব্দুল গনি বয়াতি ও কালু সরকারের নামও উল্লেখযোগ্য। হোসেন আলী বয়াতি ও আব্দুল গনি বয়াতি লোকশিল্পী হিসেবে পরিচিত; জেলা শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননাপ্রাপ্ত। কালু সরকারের সাংস্কৃতিক অবদান সম্পর্কেও আরও তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন।
নাট্যশিল্পী মো. আব্দুল হালিম বাচ্চু, যন্ত্রসংগীতশিল্পী কাশিশ্বর চন্দ্র রায়, যাত্রাশিল্পী নিত্যানন্দ হাওলাদার ও নিরঞ্জন কর্মকার বরগুনার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণযোগ্য নাম। কণ্ঠশিল্পী প্রিয় বল্লভ কর্মকার ও মাধবী দেবনাথ, যন্ত্রসংগীতশিল্পী নিখিল চন্দ্র ঋষিদাস, চারুশিল্পী মনিন্দ্র নাথ মণ্ডল এবং নাট্যশিল্পী জাকিয়া সুলতানা নার্গিসও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদানে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছেন। উদীচীর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, প্রয়াত অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুর রহমান, সংগীতশিল্পী হোসনে আরা লাভলী, অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার, চিত্রশিল্পী মোশাররফ হোসেন কনু ও আলোকচিত্রশিল্পী জহিরুজ্জামানের নাম উল্লেখযোগ্য। বরগুনায় নাট্যচর্চার মধ্যদিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করে মীর সাব্বির পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ে অভিনেতা ও নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
বরগুনার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধু গান, নাটক বা যাত্রাপালায় সীমাবদ্ধ নয়। তালতলী ও বালিয়াতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী রাখাইন সম্প্রদায়ের ভাষা, তাঁতশিল্প, পোশাক, উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুশীলনও এ অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামীণ মেলা, লোককথা, প্রবাদ-প্রবচন, আঞ্চলিক ভাষা ও খেলাধুলাও এই সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
লোকজ সংস্কৃতির সংকটের পেছনে আর্থিক বাস্তবতাও বড় কারণ। অনেক শিল্পীর নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা নেই। পরিবেশনার জন্য মঞ্চ, বাদ্যযন্ত্র, যাতায়াত ব্যয় ও সম্মানী নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে লোকশিল্প পেশা হিসেবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে না। প্রবীণ শিল্পীদের কাছ থেকে নতুনদের শেখার সুযোগ কমে গেলে প্রজন্মান্তরে ঐতিহ্য হস্তান্তরের ধারাও দুর্বল হয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও স্থানীয় সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রবীণ শিল্পীদের জীবনকথা, গান ও পরিবেশনা লিখিতভাবে এবং অডিও-ভিডিওতে সংরক্ষণ, নিয়মিত লোকজ সাংস্কৃতিক আয়োজন, শিল্পীদের সম্মানী ও প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লোকসংস্কৃতিভিত্তিক অনুষ্ঠান বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে লোকগান, পালাগান, কবিগান ও যাত্রাপালার মানসম্মত ভিডিও তরুণদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিজস্ব সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করার কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
বরগুনার লোকজ সংস্কৃতি এ জনপদের সম্মিলিত সম্পদ। চিত্তরঞ্জন শীল, সুখরঞ্জন শীল, হোসেন আলী বয়াতি, আব্দুল গনি বয়াতি, কালু সরকার, অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান মুনীর, মনির হোসেন কামাল, রতন সাহা, সিরাজুল ইসলাম কিসলু, প্রয়াত উজ্জ্বলসহ বিভিন্ন ধারার শিল্পী ও সংগঠকদের অবদান সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। যে পালাগান একসময় মানুষকে রাতভর জাগিয়ে রাখত, যে কবিগানের আসর মাতিয়ে রাখত গ্রামবাংলা, যে যাত্রাপালার কাহিনি নিয়ে পরদিনও চলত আলোচনা, সেসব যদি কেবল প্রবীণদের স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে তা হবে একটি জনপদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হারানোর বেদনাদায়ক পরিণতি। নিজস্ব ঐতিহ্য থেকে তরুণ প্রজন্মের দূরত্ব কমাতে হলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে বরগুনার পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো মোবাইলের পর্দায় বিশ্বকে চিনবে, কিন্তু নিজের জনপদের সংস্কৃতি ও শিকড়কে চিনতে পারবে না।
প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চিত্তরঞ্জন শীল আক্ষেপ করে বলেন, 'একসময় বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গন দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। নাটক, সংগীত, যাত্রাপালা, লোকসংস্কৃতি ও নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুখর থাকত পুরো জনপদ। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান আজ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। সাংস্কৃতিক চর্চা যেন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অথচ এই বরগুনাতেই একসময় সংস্কৃতিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ছিল প্রবল আগ্রহ, শিল্পীদের প্রতি ছিল সম্মান, আর সাংস্কৃতিক আয়োজন মানেই ছিল সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।'
তিনি বলেন, 'বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে প্রাণবন্ত করে রাখতে অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি বরগুনা প্রেসক্লাবের ভূমিকাও ছিল অনন্য। সাংবাদিক, নাট্যকর্মী, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠকদের সম্মিলিত উদ্যোগে একসময় এখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনা অসম্ভব নয়। প্রয়োজন আন্তরিক উদ্যোগ, নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং শিল্পীদের প্রতি যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা।'
চিত্তরঞ্জন শীলের মতে, বরগুনা প্রেসক্লাব, স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জেলা প্রশাসন সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, “শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে হবে, নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নিয়মিত নাট্যোৎসব, লোকসংগীত, যাত্রাপালা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা গেলে তরুণদের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়বে।'
তিনি এ ব্যাপারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'বরগুনার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সুপরিকল্পিত কর্মসূচি প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে একসময় দেশব্যাপী পরিচিত বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আবারও তার গৌরবের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সংযোগস্থলে কালিগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় একটি শিশুর মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার ১৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও শিশুটির মা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। জানা গেছে, অতিরিক্ত যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল বহনের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর দুর্ঘটনাস্থল নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাঠী খেয়াঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন।
সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী খেয়াঘাট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল নিয়ে কালিগঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় ট্রলারটি একপাশে কাত হয়ে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান। পরে তারা সাঁতরে ও স্থানীয়দের সাহায্যে নদীর পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। কিন্তু মা ও মেয়ে দুজনই নিখোঁজ হয়ে যান।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে মঙ্গলবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার মায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী উদ্ধারকাজের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি নিখোঁজ নারীকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রাব্বানী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা এবং নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে কর্মী নিয়োগের প্রেক্ষাপটে অস্থায়ী কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের নিচতলায় আয়া, সুইপার, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য পদে কর্মরত নিয়োগবঞ্চিত কর্মচারীরা এ কর্মসূচি পরিচালনা করেন। এ সময় তারা ওয়ার্ড মাস্টারের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
কর্মচারীদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া আশ্বাসে তারা মাসে মাত্র দুই হাজার টাকা বেতনে অস্থায়ীভাবে কাজ করে আসছিলেন। তাদের বলা হয়েছিল, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই আশায় অনেকেই বছরের পর বছর ধরে নামমাত্র বেতনে সেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু তাদের কাউকে কিছু না জানিয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আয়া, সুইপার, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য পদে ২৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা কর্মস্থলে যোগ দিতে এলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অস্থায়ী কর্মচারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে তারা হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
হাসপাতালে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আয়ার কাজ করা লাকি বেগম বলেন, "আমি এই হাসপাতালে মাত্র দুই হাজার টাকা বেতনে ১৫ বছর ধরে আয়ার কাজ করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। উল্টো আমাদের কাজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। আমরা এই অবিচার মেনে নেব না। আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে।"
হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনারের কাজ করা নোমান বলেন, "মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নামমাত্র বেতনে কাজ করিয়েছে। অথচ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন করে ২৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ আমাদের প্রাপ্য ছিল। আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া হলে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করে নেব।"
এ বিষয়ে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, "আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন যে ২৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা সবাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই।"
তিনি আরো বলেন, "সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জনবল নিয়োগের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে। পরে ওই প্রতিষ্ঠান নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া বা কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কিছু করার সুযোগ ছিল না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিয়োজিত টহল পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ২৮ মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রতন ব্যাপারী নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার দত্তবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার হওয়া রতন ব্যাপারী বগুড়া সদর উপজেলার উত্তর চেলোপাড়া এলাকার বাদল ব্যাপারীর ছেলে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রতনের বিরুদ্ধে চুরি, মাদক এবং ডাকাতির প্রস্তুতি সহ দেশের বিভিন্ন থানায় ২৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া সদর থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) পেন্ডিং রয়েছে। আহত এএসআই উজ্জ্বল বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
জানা গেছে, সারা দেশের মতো বগুড়াতেও দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাস্তাঘাটের যানজট নিরসন, দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ টহল পুলিশের ব্যবস্থা করে। যাতে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে এবং পকেটমারদের খপ্পরে না পড়ে। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের টহল দল দত্তবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ডে অবস্থান করার সময় চার-পাঁচজন পকেটমার অপরাধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ তাদের মধ্যে থেকে রতনকে ধরে ফেললে তার সঙ্গে থাকা লোকজন ও আশপাশের আত্মীয়-স্বজনরা পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশ সদস্য উজ্জ্বল আহত হন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, "পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং থাকবে। চলতি ও গত মাস মিলিয়ে আমরা ৩০-৩৫ জন পকেটমারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি, যারা এখনো কারাগারে আছেন। পকেটমারদের বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভাতিজার বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে মোকসেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। স্থানীয়দের মতে, তার নাতি তাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জ থানার নব্ধিগঞ্জ কলাবাড়ী এলাকার মৃত সজর উদ্দিন সরকারের ছেলে।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগর থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি তার ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে মঙ্গলবার রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে হত্যাকাণ্ডের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে উলিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বড় বোন মাজেদা বেগম মরদেহটি শনাক্ত করেন।
পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী জানান, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা দায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ