বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৫২ পি.এম
ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে... চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে আলোচনার সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
শামা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত এ চুক্তির গুরুত্ব এবং উভয় দেশের জন্য গঙ্গার পানির তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠিত দল ও কমিটি এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এ বিষয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, চলমান আলোচনা সম্পর্কে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী।’
তিনি আরও বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের উপর নির্ভর করছে।
শামা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আশা করি ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
চুক্তিটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।
অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন নদী-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে। এই কমিশন যৌথ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হওয়ার যে শহর, সেই মাশহাদে যুক্তরাষ্ট্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে তেহরানের সঙ্গে শহরটির ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণবাধিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআরবি জানায়, মার্কিন হামলায় মাশহাদগামী রেলপথটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। অপর দিকে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের মধ্যে এই রেলপথটি ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ততম রুট হিসেবে পরিচিত। সর্বোচ্চ নেতার দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মাশহাদ শহরে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে, ঠিক তখনই এই কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা পুরো প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে।
এই ঘটনা ঘটনার ঠিক আগের দিন বুধবার (৮ জুলাই) ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'গত রাতে আমরা ইরানে খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছি, খুবই কঠোরভাবে। সম্ভবত আজ রাতেও তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।'
ট্রাম্পের এই হুমকির পরে, ইরানের মাশহাদসহ বিভিন্ন বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। ট্রাম্পের দাবি, এর আগে ইরানকে সামান্য সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা নিজেদের সংশোধন করেনি, যার ফলে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা যানজট, সড়ক বিশৃঙ্খলা এবং ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৪৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, তবে নতুন পরিকল্পনার অধীনে নিবন্ধনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার অটোরিকশাকে বৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সাথে নিবন্ধিত প্রতিটি অটোরিকশায় উন্নত প্রযুক্তির নিরাপত্তা ফিচার সমৃদ্ধ বিশেষ লাইসেন্স প্লেট সংযুক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন কুসিকের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
সভায় তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। নিবন্ধিত যানবাহনে চীন থেকে আমদানি করা বিশেষ লাইসেন্স প্লেট লাগানো হবে। এসব প্লেটে অন্তত আট ধরনের নিরাপত্তা (সিকিউরিটি ফিচার) থাকবে, যা জালিয়াতি বা নকল প্লেট ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।
তিনি বলেন, নিবন্ধনবিহীন কোনো অটোরিকশা কিংবা ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহারকারী যানবাহন নগরীতে চলতে পারবে না। যদি কেউ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নকল প্লেট ব্যবহার করে, তবে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউসুফ মোল্লা টিপু আরও বলেন, বর্তমানে নগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর ফলে প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। অনেক চালক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হচ্ছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন এবং এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
তিনি আরো বলেন, নগরবাসীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট কমানো এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিবন্ধনভিত্তিক অটোরিকশা পরিচালনার মাধ্যমে চালক ও যানবাহনের তথ্য সংরক্ষণ সহজ হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিও আরও কার্যকর হবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে কুসিক প্রশাসক বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। তিনি বলেন, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে নগরবাসীর মধ্যে স্বল্প দূরত্বে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনবিহীন অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরীতে শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যানজট কমানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কুসিক।
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী সীমানা খালের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসীরা। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতি কারণে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান অত্যন্ত জরুরি।
জানা যায়, টেংরাখালী সীমানা খালের ওপর নির্মিত পাকা সেতুটি মাস খানেক আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি। ফলে, প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু এলাকাবাসীদের কোনো কাজে আসছে না।
সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিদিন নানা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চীসহ ছয়টি গ্রামের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে সেতুর উপর দিয়ে খাল পারাপার হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, পাশাপাশি সংযোগ সড়কের মাটি বিক্রি ও অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৬ নম্বর রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানা খালের ওপর প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি, ফলে সেতুটি কার্যত পানিবেষ্টিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা, বই-খাতা হাতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে, সড়কের দুই পাশ গভীর খাদে পরিণত হয়েছে এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য এখন প্রয়োজনীয় মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে এবং কয়েকটি বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী বলেন, সেতু নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু ওঠানামার কোনো রাস্তা নেই। কবে সংযোগ সড়ক হবে, তা কেউ বলতে পারছে না। আবার সেতুর জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে গিয়ে আমার বসতঘর খালে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি ঠিকাদার ও পিআইও অফিসকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।
রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পিআইওকে জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনারুল ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণের সময় দুই পাশের মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এতে রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়েই কাজ করা হয়েছে। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তিনি রাস্তার দুই পাশে পাইলিং দিয়ে টেকসই সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও সংযোগ সড়কের মাটি বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন বলেন, ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলায় বন্যা প্রস্তুতির মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আগাম পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সংগঠিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য মৌসুমি বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর ১০ দিন আগে থেকেই প্রাণ, জীবিকা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে ধাপে ধাপে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়। এতে বন্যাকালে নৌদুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার প্রক্রিয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।
আজ দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর তীরে বালিয়াপাড়া এলাকায় এই মহড়া হয়, যা স্টার্ট নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় এবং মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস)’র বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) মো. সেলিম মিঞা। মো. সেলিম মিঞা বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা ও অনিশ্চয়তার ঝুঁকি ক্রমশই বাড়ছে। তাই দুর্যোগ মোকাবীলার জন্য আমাদের শুধুমাত্র ত্রাণের উপর নির্ভর থাকা চলবে না, বরং আগাম প্রস্তুতি, স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগকে সজাগ এবং কার্যকরী করতে হবে। দুর্যোগের সময়ে সচেতনতা ও প্রস্তুতি এক আতঙ্ক নয়, বরং এটি হচ্ছে জনগণের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি আরো যোগ করলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ যত বেশি হবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ততই কম হবে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি দুর্যোগ-সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শেখ আব্দুস। বক্তব্য রাখেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান, টাঙ্গাইল সদরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরামুল হক, মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস)’র সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ