ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোদি-পুতিন বৈঠকের পর ভারতের জন্য রাশিয়ার বড় প্রতিরক্ষা প্রস্তাব


মোদি-পুতিন বৈঠকের পর ভারতের জন্য রাশিয়ার বড় প্রতিরক্ষা প্রস্তাব

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবারের এই বৈঠকের পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে নয়াদিল্লিতে আবারও দুই নেতার সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

ভারত রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে চায়, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এসইউ-৫৭ ফেলন স্টেলথ যুদ্ধবিমান নিয়ে। বর্তমানে ভারত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা দ্রুত উন্নত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, রুশ অস্ত্রের ওপর দীর্ঘকালীন নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র ক্রয়ের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎস বৃদ্ধি করছে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

রাশিয়ার প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এস-৫০০ প্রোমিথিউস।

 

এটি রাশিয়ার সর্বাধুনিক দূরপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। ভারতে ইতোমধ্যে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ মোতায়েন রয়েছে। এস-৪০০ ব্যবহারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাশিয়া এস-৫০০-কে দুই দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হিসেবে তুলে ধরছে।

গত বছর অপারেশন সিন্ধুর সময় পাকিস্তানের দিক থেকে আসা বিমান হামলার হুমকি মোকাবিলায় ভারত এস-৪০০ ব্যবহার করেছিল।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

 

রাশিয়া এখন সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায়। মোদি-পুতিন বৈঠকের একদিন আগে মস্কো ভারতকে আরো পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন দেওয়ার নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভারতে থাকা বা চুক্তিবদ্ধ এস-৪০০-এর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

তবে এস-৫০০ কেনার বিষয়টি ভারতের জন্য সহজ নয়। কারণ ভারত একই সময়ে ‘প্রজেক্ট কুশা’ নামে নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

এই প্রকল্পের লক্ষ্য ভবিষ্যতে এস-৪০০-এর মতো সক্ষমতার একটি দেশীয় ব্যবস্থা তৈরি করা।

এছাড়া ভারতের নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচিও উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এস-৫০০ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতকে দেখতে হবে, নতুন এই ব্যবস্থা সত্যিই কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করবে কি না। একই সঙ্গে এটি দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সংঘাত তৈরি করবে কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

অন্যদিকে ভারতীয় বিমানবাহিনী যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কমে যাওয়ার সমস্যায় রয়েছে। আগামী কয়েক বছরেও ভারতের নিজস্ব কোনো স্টেলথ যুদ্ধবিমান হাতে আসার সম্ভাবনা কম। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া তাদের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান এসইউ-৫৭ কেনার জন্য ভারতকে আগ্রহী করে তুলছে।

মস্কো ইঙ্গিত দিয়েছে, ভারত এসইউ-৫৭ কিনলে এর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন এবং উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির সুযোগ থাকতে পারে। ভারতীয় বিমানবাহিনী রাশিয়ার প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে। তবে দেশীয় অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) তৈরি ও সরবরাহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত এসইউ-৫৭-কে ‘সাময়িক সমাধান’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিলে এটি অনেকটা স্বীকার করে নেওয়ার মতো হবে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনীকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান দিতে দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলো সফল হয়নি। এদিকে এশিয়ার সামরিক পরিস্থিতিও দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, চীনের কাছে এখন ৫০০টির বেশি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চীনের তৈরি জে-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান পেতে পারে। এ কারণে ভারতীয় বিমানবাহিনী কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে। একদিকে দেশীয় এএমসিএর জন্য অপেক্ষা করলে দীর্ঘ সময় স্টেলথ যুদ্ধবিমানের ঘাটতি থাকতে পারে। অন্যদিকে এখনই এসইউ-৫৭ কিনলে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নতুন একটি যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত করার অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।

ফলে ভারতের সামনে মূল প্রশ্ন এখন দুটি, দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার পরও কতটা বিদেশি ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে এবং চীন-পাকিস্তান পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ব্যবহারের দিকে এগিয়ে গেলে ভারতীয় বিমানবাহিনী আর কতদিন নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমানের অপেক্ষা করতে পারবে।

রাশিয়ার এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান কিনলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে আরও একটি নতুন ধরনের যুদ্ধবিমান যুক্ত হবে। বর্তমানে ভারতের কাছে রাশিয়ার এসইউ-৩০এমকেআই ও মিগ-২৯, ফ্রান্সের রাফাল ও মিরাজ ২০০০, ব্রিটিশ-ফরাসি জাগুয়ার এবং ভারতের নিজস্ব তেজাস যুদ্ধবিমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

নতুন ধরনের যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে এর জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ ও সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করতে হয়। ফলে এসইউ-৫৭ কেনা শুধু একটি নতুন যুদ্ধবিমান কেনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ও অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ব্যয়ের বিষয়ও জড়িত।

এসইউ-৫৭ নিয়ে ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারত-রাশিয়ার এফজিএফএ প্রকল্পের পুরোনো ইতিহাস। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে ভিত্তি করে ভারতের জন্য একটি নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করা। পরে এই যুদ্ধবিমানই এসইউ-৫৭ নামে পরিচিত হয়।

তবে ভারত ও রাশিয়ার সেই যৌথ প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তাই কয়েক বছর পর একই এসইউ-৫৭ এখন ভারতের কাছে বিক্রির প্রস্তাব হিসেবে ফিরে আসায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাশিয়ার নতুন প্রতিরক্ষা উদ্যোগ শুধু এস-৫০০ ও এসইউ-৫৭-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মস্কো ভারতের সঙ্গে আরো বড় পরিসরে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে রাশিয়া ভোরোনেঝ কৌশলগত আগাম সতর্কতা রাডার ব্যবহারের পরিধি বাড়াচ্ছে। এটি একটি দীর্ঘপাল্লার রাডার ব্যবস্থা, যা অনেক দূর থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি শনাক্ত করতে পারে।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

এ ছাড়া ভারতের বড় এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান বহরের আধুনিকায়ন এবং রাশিয়ার তৈরি কিলো-শ্রেণির সাবমেরিনের আধুনিকায়ন নিয়েও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষেত্রে ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এইচএএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা বাজারে রাশিয়া কেন নতুন করে এত সক্রিয় হচ্ছে, তারও একটি কারণ রয়েছে। গত দুই দশকে ভারত বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র কেনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে রাশিয়ার ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমছে।

এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো মার্কিন জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার উদ্যোগ। প্রায় ১৬ বছর ধরে চলা প্রক্রিয়ার পর ভারত সম্প্রতি এই অস্ত্র কেনার দিকে এগিয়েছে। একই সময়ে ফ্রান্সের কাছ থেকে আরো ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার বড় চুক্তিও এগিয়ে চলছে।

ভারত একই সঙ্গে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পেও বড় বিনিয়োগ করছে। ফলে রাশিয়াকে এখন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কম্পানির পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব দ্রুত বিকাশমান সামরিক শিল্পের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।

তবে রাশিয়ার একটি বড় সুবিধা রয়েছে। কয়েক দশকের সামরিক সহযোগিতার কারণে রুশ যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, সাবমেরিন, হেলিকপ্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এসব অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুরোনো অস্ত্রের জায়গায় নতুন ব্যবস্থা আনার প্রয়োজনীয়তা রাশিয়ার জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে। নতুন কোনো সরবরাহকারীর পক্ষে এত দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও বিদ্যমান অবকাঠামোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সহজ নয়।

বড় কোনো অস্ত্র চুক্তি সরাসরি মোদি ও পুতিন ব্যক্তিগতভাবে পরিচালনা করবেন না। তবে দুই নেতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্প এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে বিশকেকে মোদি-পুতিনের বৈঠককে শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর পেছনে আগামী দুই দশকে ভারতের সামরিক বাহিনী কীভাবে গড়ে উঠবে, তা নিয়েও বড় ধরনের প্রতিযোগিতা রয়েছে।

রাশিয়ার প্রস্তাব ভারতকে শেষ পর্যন্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখে ফেলছে। প্রথমত, নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার পথে থাকলে ভবিষ্যতে ভারতের কতটা বিদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে। দ্বিতীয়ত, চীন ও পাকিস্তান যখন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ব্যবহারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ভারতের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমান এএমসিএর জন্য দেশটি আর কতদিন অপেক্ষা করতে পারবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশ ভ্যানে ধাক্কা দিল পাকিস্তানে তৈরি ‘টেসলা’, ভিডিও ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


পুলিশ ভ্যানে ধাক্কা দিল পাকিস্তানে তৈরি ‘টেসলা’, ভিডিও ভাইরাল

‘পাকিস্তানে প্রতিভার কোনো অভাব নেই’—এই বক্তব্যটি দেশটির রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ক্রিকেটারদের মুখে দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক সংকট ও অনগ্রসরতা নিয়ে আলোচনা করার সময় প্রায়ই শোনা যায়। তবে, পাকিস্তানি সাংবাদিক মুহাম্মদ আলিজাহ এই কথাটি বলার সময় চরম বিপদে পড়েছেন।

 

চালকবিহীন গাড়ির একটি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে ক্যামেরার সামনে গাড়িটি সোজা গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের গাড়িতে।

মুহূর্তের মধ্যেই সেই উদ্ভাবনী প্রদর্শনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা এখন বিশ্বজুড়ে নেটনাগরিকদের জন্য হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন-কে আলিজাহ জানান, অ্যাবোটাবাদের প্রযুক্তিপ্রেমী এহসান জাফর তাকে চালকবিহীন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়িটি নিয়ে রিপোর্ট করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

আলিজাহ বলেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।

 

ফলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সোজা গিয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে।’

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, গাড়িটি ইন্টারনেটভিত্তিক রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াই এই বিপত্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘টেসলা’র চালকবিহীন গাড়ির মতো পাকিস্তানের নিজস্ব উদ্ভাবন হিসেবে ভিডিওটি তৈরি করা হলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি নিয়ে এখন চলছে ট্রলের বন্যা।

 

ভিডিওটি ইসলামাবাদের অতি-সংবেদনশীল ডি-চক এলাকায় ধারণ করা হয়েছিল। নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করে আলিজাহ দাবি করেন, ‘গাড়িটি স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু রিমোট অপারেশনের সময় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পুলিশ ভ্যানে ধাক্কা মারে।’

তিনি জানান, নিরাপত্তাবেষ্টিত ও কম যানবাহন থাকা এলাকায় এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। সতর্ক করে বলেন, ‘ব্যস্ত কোনো রাস্তায় এমনটা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানি ঘটতে পারত। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রশংসনীয়, কিন্তু তা মানুষের জীবনের বিনিময়ে নয়।

 

’ এটি কোনো সমালোচনা নয়, বরং সতর্কবার্তা ও সচেতনতা তৈরির একটি দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এই ব্যাখ্যার পরও নেটদুনিয়ায় ট্রল থামেনি। আলিজাহর পোস্টের নিচে হাসির রোল তুলেছেন পাক নেটিজেনরা। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ভাই, প্রতিভার কথাটা একেবারে ভুল সময়ে বলে ফেলেছেন!’ অন্য একজন কৌতুক করে লিখেছেন, ‘পুলিশের মার খাননি তো? ভাগ্য ভালো আপনার!’ আরেক ব্যবহারকারী খোঁচা মেরে লেখেন, ‘কী দারুণ ট্যালেন্ট! দুনিয়ার আর কিছু পেল না, সোজা গিয়ে আঘাত করল পুলিশের গাড়িতেই!’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের চার্জগঠন শুনানি ২৪ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৬ পি.এম


ট্রাকচালক হোসেন হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের চার্জগঠন শুনানি ২৪ সেপ্টেম্বর

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন সংক্রান্ত শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত নির্ধারণ করেছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম শুনানি শেষে এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম. আনিছুর রহমান (আনিছ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ মামলায় ১০ জন আসামি বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। মঙ্গলবার তাদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। এই কারণে তাকে আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

 

পরে আদালত চার্জগঠন সংক্রান্ত শুনানির জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছে। জামিনে থাকা চার আসামিও মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ২০ আসামি শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওই দিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। চাঁদ উদ্যান এলাকায় পৌঁছালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট হোসেনের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল।

আসামিদের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাহজাহান খান কারাগারে আটক রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা চুক্তির বিরোধিতায় মশাল মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৮ পি.এম


মক্কা চুক্তির বিরোধিতায় মশাল মিছিল

রাজধানীতে মক্ক চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা এই দেশ বিরোধী আয়োজনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

 

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুরনো পল্টন এলাকায় ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোরবিরোধী আন্দোলনের’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী হাতে মশাল নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তারা ‘জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘দেশ বিক্রির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’, ‘চট্টগ্রাম বন্দর, বিদেশিদের দেব না’, ‘আমার মাটি আমার মা, মার্কিন ঘাঁটি হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান উচ্চারণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের ঝুঁকির মধ্যে ভারতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩২ পি.এম


চীনের ঝুঁকির মধ্যে ভারতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপান

জাপানের ব্যবসা ও বিনিয়োগের গতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের বাজারে প্রবেশ করছে জাপানি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোও।

 

জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকিং, খুচরা ব্যবসা, গাড়ি, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির মতো বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জাপান সফর করেন, যার লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করা। সফরের সময় তিনি ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতকে জাপানের ব্যবসায়ীদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার সংকুচিত হওয়ার ফলে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য উৎসাহিত করছে।

ভারতের বড় শহরগুলোর বাজারে জাপানি পণ্যের উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। মুম্বাই, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুর প্রধান সড়কে জাপানি ব্র্যান্ডের দোকানগুলো দেখা যাচ্ছে। পোশাকের ব্র্যান্ড ইউনিক্লো এবং মুজি, পাশাপাশি ক্রীড়া জুতার ব্র্যান্ড ওনিতসুকা টাইগার ইতিমধ্যে ভারতে ব্যবসা শুরু করেছে।

 

এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভারতে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। শুধু বড় ব্র্যান্ডগুলোই নয়, জাপানের ছোট ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও ভারতের বাজারে প্রবেশ করছে।

জাপানের আসবাবপত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিতোরি সম্প্রতি ভারতে ব্যবসা শুরু করেছে। একইভাবে, জাপানের জনপ্রিয় সুবিধাজনক পণ্যের দোকানের চেইন লসনও ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লসন ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ১০ হাজার দোকান খোলার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

 

মুম্বাই থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতে জাপানের আগ্রহ শুধু খুচরা ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির ব্যাংকগুলোও ভারতের আর্থিক খাতে বড় বিনিয়োগ করছে। বিদেশি কিছু ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান যখন ভারতের ব্যাংকিং খাত থেকে বিনিয়োগ কমাচ্ছে, তখন জাপানের বড় ব্যাংকগুলো ভারতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে প্রতিযোগিতা করছে।

জাপানের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এমইউএফজি ব্যাংক গত বছর ভারতের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। এই চুক্তির মূল্য ছিল ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। ভারতের আর্থিক খাতে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। একই বছর জাপানের সুমিতোমো মিৎসুই ব্যাংকিং করপোরেশন ভারতের ইয়েস ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শেয়ারধারী হয়ে ওঠে। ব্যাংকটির হাতে ইয়েস ব্যাংকের ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ভারতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি পণ্য বিক্রি বা ব্যাংকিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কাজও এখন ভারত থেকে পরিচালনা করছে অনেক জাপানি প্রতিষ্ঠান। ডেলয়েটের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে ১০০টির বেশি জাপানি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র পরিচালনা করছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর এসব কেন্দ্র সাধারণত গবেষণা ও উন্নয়ন, ব্যবসার কৌশল, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্রের খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে।

জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে ব্যবসা বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ হলো দেশটির নিজস্ব বাজার। সুজুকি মোটর করপোরেশনের সহায়তায় পরিচালিত বিনিয়োগ তহবিল নেক্সট ভারত ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা বিপুল নাথ জিন্দাল বিবিসিকে বলেন, "জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রবৃদ্ধির জন্য ভারতের দিকে তাকাচ্ছে।" তার মতে, জাপানের জনসংখ্যা গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে কমছে। এর ফলে শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমছে না, দেশটির বাজারের আকারও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। এই কারণে জাপানি কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য বিদেশি বাজারের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সুজুকি মোটর করপোরেশন ভারতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীন দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে ব্যবসা করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। জিন্দালের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীনে জাপানের বিনিয়োগ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারও এখন আগের তুলনায় বেশি কঠিন। শুল্ক এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতা সেখানে ব্যবসার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু এসব দেশের বাজার ভারতের তুলনায় ছোট।

এই পরিস্থিতিতে, বড় জনসংখ্যা ও দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির কারণে ভারত জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠেছে। ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন নয়। প্রায় দেড় দশক আগে দুই দেশ বাণিজ্য উদারীকরণ নিয়ে একটি চুক্তি করে। এরপর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বে’ উন্নীত করা হয়। এরপর দুই দেশের সহযোগিতায় বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প শুরু হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প, যেখানে জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে এবার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন পর্যায়ে সরকারি নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ে দিল্লিতে ভারত ও জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রথম সরকারি দিল্লি সফরের সময় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১২০টি চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। সেমিকন্ডাক্টর, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং অন্যান্য খাতে এসব বিনিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেছেন, ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, জাপান তা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করতে পারে।

ভারতে শুধু জাপানের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি পায়নি, বরং ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোও নতুন বাজার খুঁজছে। জাপানের হামামাতসু শহর এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ। সুজুকি, হোন্ডা ও ইয়ামাহার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই শহরের সম্পর্ক রয়েছে। উৎপাদন খাতের ছোট ও মাঝারি কোম্পানির সংখ্যা এখানে বেশি। ভারতের বাজারে এসব কোম্পানির প্রবেশ সহজ করতে সম্প্রতি হামামাতসু শহর ‘হামামাতসু ইন্ডিয়া কমিটি’ গঠন করেছে। এই কমিটির লক্ষ্য হলো শহরের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ভারতে ব্যবসা বৃদ্ধি করতে পারে, তা খুঁজে বের করা।

ভারতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ার সঙ্গে চীনে জাপানের নিট বিনিয়োগ কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে চীন ছেড়ে ভারতে চলে আসছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের তোশিরো নিশিজায়েওয়া লিখেছেন, এর পেছনে মূলত জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল কাজ করছে। অর্থাৎ নতুন বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে ব্যবসার ঝুঁকি কমাতে। সিডনিভিত্তিক লোয়ি ইনস্টিটিউটের ভারতবিষয়ক চেয়ার শ্রুতি পান্ডালাই বলেন, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পর জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি কমাতে চাইছে। তার মতে, চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ভারত একটি বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার লক্ষ্য এবং ভারতের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও একে অপরের সঙ্গে মিলছে।

জাপানে রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব কমেনি। বরং দুই দেশের সহযোগিতা আরো বেড়েছে। পান্ডালাই বলেন, "জাপানে নতুন সরকার এলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের লক্ষ্য কমেনি, বরং বেড়েছে।" তার মতে, এর অর্থ হলো ভারত-জাপান সম্পর্ক এখন শুধু দুই দেশের নেতাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী মহল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যেও এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে চাপের মধ্যে জাপানের নতুন বিনিয়োগ দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। ফলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের জন্য জাপানের মতো দেশের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শ্রুতি পান্ডালাইয়ের মতে, ভারত ও জাপানের সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির মতো খাতে চীনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই সম্পর্কের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সহজ হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে কর নিয়ে অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জমি ও পরিবেশের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয় রয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীরাও এসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভারতের বুলেট ট্রেন প্রকল্পও এর একটি উদাহরণ। সম্প্রতি জাপানের সাবেক এক মন্ত্রী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেরির জন্য ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বারবার নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে। ভারত সরকার অবশ্য ওই অভিযোগ দ্রুত প্রত্যাখ্যান করে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও এই বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে। ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যার উদাহরণ হিসেবে তারা ঘটনাটি ব্যবহার করে।

ভারত ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এই গতি ধরে রাখতে ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভারতকে চীনের বিকল্প বাজার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখছে। জাপানের নিজস্ব বাজার সংকুচিত হওয়া, চীনে ব্যবসার ঝুঁকি বাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা- সব মিলিয়ে ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে জাপানের এই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে ভারতে ব্যবসার পরিবেশ আরো সহজ করতে হবে। করব্যবস্থা, আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, জমি ও পরিবেশের অনুমোদন এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরির মতো সমস্যাগুলো কমাতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%