সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫৩ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, তিনি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনায় ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।
শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে ট্রাম্প নরওয়ে ও রাশিয়ায় নিজের বিশেষ দূতকে পাঠিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েই ফিরেছে। এদিকে, রাশিয়ার প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ফাটল ধরছে কি না।
কিয়েভ ও ট্রাম্পের মধ্যে উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের শুরুতে ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় নতুন সহায়তা প্যাকেজ বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ইউরোপীয় দেশগুলো সহায়তার বড় অংশের দায়িত্ব নেয় এবং ইউক্রেন দ্রুত নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, ইউক্রেন কতটা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল? মার্কিন সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে কি? বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেনকে ছাড় দিতে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করতে পারে—অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক। এই যুদ্ধের সূচনা করেছে রাশিয়া।
অর্থনৈতিক সহায়তা: আগেই কমেছে মার্কিন অনুদান। ২০২৫ সালের শুরুতে ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা প্যাকেজ দেওয়া বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। জার্মানির গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে অন্তত ১৩১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে। ফলে, দেশটি ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় একক সহায়তাদাতা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।
জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় মার্কিন নির্মাতাদের কাছ থেকে কেনা কিছু অস্ত্র এখনও ইউক্রেনে যাচ্ছে। তবে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের অনেক চুক্তি ইতিমধ্যে শেষ হয়ে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি সহায়তা দিয়েছে। কিয়েল ইনস্টিটিউটের হিসাবে, ২০২২ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে অন্তত ২২৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য ও নরওয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামরিক সহায়তা দিয়েছে।
এই সহায়তার বড় অংশের ক্ষেত্রে ন্যাটোর মিত্রদেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্র কিনে সেগুলো ইউক্রেনকে সরবরাহ করছে। তবে এসব অস্ত্র ইউক্রেনে পাঠানোর ক্ষেত্রেও পেন্টাগনের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে, ইউরোপের দেশগুলো অর্থায়ন করলেও অস্ত্র সরবরাহের ওপর প্রভাব রাখার সুযোগ রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে।
শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ইউক্রেনকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে এখনো বিলম্ব হচ্ছে।" আগে সরবরাহের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হলেও সেগুলো এখনো পৌঁছায়নি।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম এমন অল্প কয়েকটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি হলো প্যাট্রিয়ট। ফলে, রাশিয়ার হামলার মুখে ইউক্রেন আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে কিয়েভে আঘাত হানা কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা যায়নি। এতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে গেছে, অথবা তা অত্যন্ত কমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা পর জেলেনস্কি বলেন, "এই সংকটময় মুহূর্তে মিত্রদের কাছ থেকে ইউক্রেনের প্রধানত দুটি জিনিস প্রয়োজন—পুতিনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেওয়া এবং আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা।"
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অস্ত্র কেনার আদেশে গতি কমানো বা তা আটকে রাখার সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন বহাল থাকার সম্ভাবনা কম। কারণ, এসব চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর জন্যও বড় ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করে।
সামরিক সহায়তা: গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা কমে গেলেও দেশটির গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির ওপর ইউক্রেনের নির্ভরতা এখনো অনেক বেশি। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা, ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ড এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ প্রযুক্তির মতো ব্যবস্থার কোনো কার্যকর বিকল্প ইউক্রেনের হাতে নেই।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের রাশিয়া কর্মসূচির পরিচালক ম্যাক্স বার্গম্যান বলেন, "ইউরোপের হাতে এ ধরনের সক্ষমতা নেই।" গত ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় দেশগুলোকে এসব ব্যবস্থা নিজেরা গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই বলে আশ্বস্ত করেছে, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে পারবে।
বার্গম্যানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ইউরোপকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তিনি বলেন, "এর ফলে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি হতে পারে, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়তে পারে এবং বহু মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে হতে পারে।" তবে এতে ইউক্রেনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে বলে তিনি মনে করেন না।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে জেলেনস্কি জানান, একাধিকবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পায়নি ইউক্রেন। এর ফলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এমন সময় আঘাত হেনেছে, যখন সাধারণত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয় না। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রাম্প নিজে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সীমিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার রাতের মধ্যে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় আবার "চালু হয়েছে"।
এদিকে শনিবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, স্টারশিল্ড ব্যবস্থায় পূর্ণ প্রবেশাধিকার আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দেশজুড়ে এর গতি বা কার্যকারিতা স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা তখনো স্পষ্ট ছিল না। ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে থাকা এক ব্যক্তি শনিবার সকালে জানান, তাদের এলাকায় সেবাটির গতি তখনো সীমিত ছিল। ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই বিধিনিষেধের কারণে উচ্চগতিতে চলাচলকারী সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। রুশ হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের কার্যকারিতাও কমেছে এবং সম্মুখযুদ্ধের অনেক এলাকায় সামরিক অভিযান ব্যাহত হয়েছে।
ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা স্টারশিল্ড ব্যবহারে গতি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেন, এ বিষয়ে তিনি জড়িত ছিলেন না।
ইলন মাস্কও এককভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, সেবাটির গতি বা ব্যবহারসংক্রান্ত যেকোনো সীমা নির্ধারণ করে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট।
শনিবারের এক পোস্টে মাস্ক ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে স্টারলিংকের শর্ত ভঙ্গ করে মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলায় বাণিজ্যিক সেবাটি ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ওই ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, স্টারশিল্ড আলাদা একটি ব্যবস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিয়ন্ত্রণ করে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভ মাস্কের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বক্তব্য, গতি সীমিত করা এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে সেবা না পাওয়ার কারণে মাঝারি ও দূরপাল্লার হামলায় বাণিজ্যিক স্টারলিংক ব্যবহার করা ইউক্রেনের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসব ব্যবস্থায় নতুন করে কোনো বিঘ্ন বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে ইউক্রেন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। দীর্ঘ মেয়াদে ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের প্রযুক্তি ও সামরিক ব্যবস্থা তৈরিতে আরও অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে।
বার্গম্যান বলেন, স্টারশিল্ড ব্যবহারের জন্য ইউক্রেন অর্থ ব্যয় করছে, একইভাবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রও কিনছে। ফলে এসব সহায়তাকে নিছক দাতব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বর্তমান পদক্ষেপ প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী হিসেবে দেশটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।
রাজনৈতিক চাপ: পুতিনের জন্য বাড়তি সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কে টানাপোড়েনের প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টার জন্যও সুবিধা তৈরি করতে পারে।
চলতি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন করে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে তা স্থগিত করা এবং রাশিয়াকে ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দিতে একটি চুক্তি করা। অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে ক্রেমলিন এখনো তার সর্বোচ্চ দাবিগুলো থেকে সরে আসেনি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) রাশিয়া ও ইউরেশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক নাতিয়া সেস্কুরিয়ার মতে, ইউক্রেনের ওপর ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন চাপ মস্কোকে এই আশা দিচ্ছে যে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে একসময় ইউরোপের সমর্থনও দুর্বল হয়ে পড়বে।
নিউ ইউরেশিয়ান স্ট্র্যাটেজিস সেন্টারের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ববিষয়ক প্রধান জন লাফও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইউরোপের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প ইউক্রেনকে চাপ দিচ্ছেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে এবং মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রস্তাবিত বিল বাস্তবায়িত হয়নি। এসব ঘটনা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট করছে।
ট্রাম্প রাশিয়ার হাতে আটক মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডের মুক্তির সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত করেছেন। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, হাবার্ডের মুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোকে "কিছুই দেয়নি"।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশেষ করে ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেনের বিরোধের কিছুটা অবসান ঘটতে পারে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর। ট্রাম্প রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন; যদিও ইরান যুদ্ধও জ্বালানির বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
জন লাফের মতে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি পরিস্থিতির দায় অন্যদিকে সরাতে চাইলে ইউক্রেনকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া যুদ্ধ চালাতে পারবে ইউক্রেন? প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন ইতিমধ্যে মার্কিন আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ার পর ইউরোপের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলছে। কিন্তু উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্য, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প তৈরি করা এখনো কঠিন।
স্বল্প মেয়াদে মার্কিন সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বন্ধ বা সীমিত হলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক নিরাপত্তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে ইউরোপ নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক সহায়তার সংকট ইউক্রেনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দেবে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো যায় না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে মতপার্থক্য রাশিয়াকে দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইউক্রেনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা শুধু অর্থ বা অস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে না; বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি, ইউরোপীয় মিত্রদের ঐক্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও তা গভীরভাবে নির্ভরশীল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হয়ে কে লড়বেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার নিজের উত্তরসূরি হিসেবে পছন্দের দুই প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছেন।
রোববার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, রিপাবলিকানদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর ‘বেঞ্চ’ অত্যন্ত শক্তিশালী। অর্থাৎ, শক্তিশালী প্রার্থীরাই লড়াইয়ে আছেন। তাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে তার দলের জন্য বড় একটি সমস্যা তৈরি হবে না।
ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির নিজের উত্তরসূরি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার যা মনে হয় আমি তা বলতেই পারি। কিন্তু এত আগে কিছু বলার মানে হয় না। আমাদের হাতে দারুণ দারুণ কিছু নাম আছে। জেডি ভান্স, মার্কো রুবিও এবং আরও অনেকে রয়েছেন। আমাদের বেঞ্চ খুব ভাল। ওদের (প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট) বেঞ্চই নেই।’
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি কঠোর হয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হয়েছে যুদ্ধের পরিস্থিতি। এর ফলে সারা বিশ্বে জ্বালানির দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম ঊর্ধ্বমুখী।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ইয়াসিন মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিশুটির মায়ের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছে যে, ঘটনার পর অভিযুক্তের পক্ষের লোকজনের হুমকির কারণে তারা মামলা করতে দেরি করেছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কসবা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে থানায় আনা হলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে পুলিশ ও তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে যায় শিশুটি। বাজার থেকে তেল নিয়ে ফেরার পথে ফার্নিচারের দোকানের মালিক ইয়াসিন মিয়া শিশুটির হাত ও মুখ চেপে ধরে দোকানে নিয়ে যান। সেখানে জোরপূর্বক শিশুটির কাপড় খুলে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় চিৎকার করলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার হাতে ২০ টাকার একটি নোট দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযুক্তের বংশের লোকজনকে জানান। এ কারণে মামলা করতে দুই থেকে তিন দিন দেরি হয় বলে জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।
শিশুটির বাবা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দুই পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ১২ জনের সমন্বয়ে একটি বিচারক প্যানেল গঠন করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
তবে শিশুটির বাবা ওই বিচার মেনে না নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানান। এ সময় অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম, কামাল হোসেন, শহিদ মিয়াসহ প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে পরিবারটি প্রথমে মামলা করতে ভয় পায়। পরে সন্তানের প্রতি নির্যাতনের বিচার চেয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুই বংশের লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বৈঠকে বসেছিলেন। ধর্ষণের বিচার প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা করবেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিশুটির পরিবারকে সহযোগিতা করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। অভিযুক্ত তাঁর আপনজন হলেও তার বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর চিকিৎসক ডা. শায়লা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, হাতুরাবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর, বর্তমানে শুধুমাত্র ওয়ানডে খেলছেন বিরাট কোহলি। তাই প্রতিটি সিরিজের আগে নিজেকে প্রস্তুত করা তার জন্য আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিজের শেষ নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য প্রস্তুতি নিতে কোনো কিছুর অভাব রাখছেন না কোহলি। তিনি নেটে ঘাম ঝরাচ্ছেন, যাতে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুম্বাইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে ব্যাটিং অনুশীলন করছেন কোহলি। নিউজিল্যান্ড-ভারত ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে আগামী ৪ নভেম্বর। তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
যেহেতু এটি কোহলির খেলোয়াড় হিসেবে শেষ নিউজিল্যান্ড সফর, তাই ওয়ানডে সিরিজে তার প্রতি বিশেষ নজর থাকবে। বিশেষ করে আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোহলি ও রোহিত শর্মার খেলা নিয়ে আলোচনা চলছে নিয়মিতভাবে।
এই প্রসঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সহকারী কোচ জেমস প্যামেন্ট সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন। তিনি মাসখানেক আগে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ ছিলেন। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে আট বছর ফিল্ডিং কোচ হিসেবে কাজ করার সময় রোহিতের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
কোহলি ও রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্যামেন্ট বলেন, "আমার মনে হয়, সব বড় খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের শেষ যখন ঘনিয়ে আসে, তখন তাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়। কখন সরে দাঁড়াতে চান, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তারা অর্জন করেছেন।"
তিনি আরো বলেন, "যদি তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ তাদের ক্যারিয়ারের একটি চূড়ান্ত লক্ষ্য, যেখানে তারা খেলতে চান, তাহলে তাদের সেই সুযোগ দেওয়া উচিত। এরপর বিষয়টি হয়ে দাঁড়ায় পারফরম্যান্স ও দলের প্রতি অবদানের।"
কোহলির পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে প্যামেন্ট বলেন, "আমি কখনো বিরাট কোহলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করিনি। তবে নিউজিল্যান্ড দলের সঙ্গে থাকাকালে কিংবা মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে কাজ করার সময় তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমার চোখে, তিনি পেশাদারিত্বের চূড়ান্ত উদাহরণ। এমন একজনকে আমি সব সময় নিজের দলে চাইব। কারণ তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন আদর্শ পেশাদার খেলোয়াড়।"
বর্তমানে ভারত নিউজিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে শ্রেয়াস আইয়ারের দল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসমে আজম
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি বলেছেন, যুবসমাজকে শিক্ষিত, দক্ষ, কর্মমুখী ও রাষ্ট্র গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সংগঠনটিকে একটি শক্তিশালী ও আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা।
তিনি উল্লেখ করেন, যুবদলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামীকাল ২৭ অক্টোবর যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে যুবদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যুবসমাজকে ঘিরে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। বরং যুবসমাজের একটি অংশ অপরাধ ও দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। এ পরিস্থিতি থেকে তরুণদের বের করে এনে রাষ্ট্র গঠনের কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি বলেন, যুবকদের শক্তি, সাহস, মেধা, মনন ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই সভ্যতার বিকাশ ঘটে। তাই কোনো দেশকে উন্নত করতে হলে যুবসমাজকে বাদ দিয়ে তা সম্ভব নয়। যুবসমাজের প্রতি নেতিবাচক ধারণা দূর করে তাদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে যুবদল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
যুবসমাজকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে যুবদল।
যুবদলের দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলার মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনটির বিস্তৃত কর্মী বাহিনী রয়েছে। গত ১৬-১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামেও যুবদলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে যুবসমাজকে রাষ্ট্র গঠনের কাজে প্রত্যাশিত মাত্রায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে জায়গায় আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করি।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। গত ১৬-১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদলের নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে যুবদল।
দেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশ বেকারত্বের চ্যালেঞ্জে রয়েছে উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, যুবসমাজকে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই গুরুত্ব পেয়েছিল। বর্তমানেও তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, স্টার্টআপের সুযোগ তৈরি, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার তরুণদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগী হলে যুবদলও তাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে চায়।
তিনি বলেন, যেসব যুবকের বিদেশ যাওয়ার আগ্রহ রয়েছে, তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিদেশে কাজের সুযোগ পেতে সহায়তা করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। পাশাপাশি যাদের চাকরিতে প্রবেশের বয়স রয়েছে, তারা যেন নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পেতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বর্তমান প্রজন্মকে যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুবদলে শিক্ষিত তরুণদের অংশগ্রহণকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান। তবে পেশা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে কাউকে সংগঠনের বাইরে রাখার প্রশ্ন নেই। একজন উচ্চশিক্ষিত তরুণ যেমন যুবদল করতে পারেন, তেমনি একজন যানবাহনচালক কিংবা দোকানদারও সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
তার মতে, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে তরুণদের শিক্ষিত ও দক্ষ হতে হবে। সে কারণে যুবদল তরুণদের শিক্ষা, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কাজে পারদর্শী করে তোলার বিষয়ে উদ্যোগী হতে চায়।
তিনি বলেন, যুবকরা যেন যুবদলকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন এবং সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার বহুমুখী পথ খুঁজে পান, সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করতে চান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে যুবদল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুবদলের নেতাকর্মীদের হতাহত হওয়া এবং গত ১৬-১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে হামলা, মামলা ও হত্যার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, সব পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে কোনো পরিবার অসহায় অবস্থায় রয়েছে বলে খবর পেলে তারা সহযোগিতার উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অসুস্থ ও আহত নেতাকর্মীদেরও সহায়তা করা হয়েছে। যুবদলের অনেক ক্যান্সার আক্রান্ত নেতাকর্মীকে চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হয়েছে।
কোনো পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলে অন্তত মাসিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংগঠনের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সবার জন্য সমানভাবে সহযোগিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
তবে ভবিষ্যতে সরকারের মাধ্যমে এসব পরিবারকে আরও সহযোগিতা করা যায় কি না, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরকারি কার্যক্রমে যুক্ত করা কিংবা তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংগঠনের কোনো দাবি রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি তাদের রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন তারা।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সব সময় সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়নি। বিএনপি সরকারে দায়িত্বে থাকায় বিষয়গুলোকে সংবাদ তৈরির উপাদান হিসেবে না দেখে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিতে চান তারা। এ জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
উদ্দেশ্যপ্রনোদিত হয়ে যুবদলের বিরুদ্ধে 'চাঁদাবাজির' ন্যারেটিভ ছড়ানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও নেতিবাচক আলোচনার বিষয়ে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, যুবদল একটি শক্তিশালী সংগঠন। এ সংগঠন থেকে উঠে আসা অনেক নেতা বর্তমানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, যুবদলের কোনো কোনো জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরবর্তী সময়ে বিএনপির একই পর্যায়ের দায়িত্বে গেছেন। তার বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে যুবদলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী মনোনয়ন চাইবেন এবং তাদের অনেকে মনোনয়নও পেতে পারেন।
সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুবদলের নেতাকর্মীদেরও পরিবার রয়েছে এবং তাদের চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। কোনো নেতা কোনো পরিস্থিতিতে জুলুমের শিকার হলে বা কোনো বিরোধ মোকাবিলা করতে গেলে পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় ঢালাওভাবে অভিযোগ করা হয়।
তার দাবি, কখনো কখনো সংগঠনের সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদেরও যুবদলের পরিচয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতির কারণে আবার কিছু ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুবদলের নাম জড়ানোর প্রবণতা আমরা দেখতে পেয়েছি।
তিনি বলেন, এসব আলোচনা নিয়ে তারা অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন নন। বরং সততা, মেধা, যোগ্যতা ও সাহসের ভিত্তিতে যুবদলকে একটি শক্তিশালী আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংগঠনের এক হাজার নেতাকর্মীর ভালো কাজ যেন একজন বিপথগামী নেতার কারণে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে তারা আন্তরিক। এ কারণেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে যুবদলের পরিচয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তাদের সবাই যে বর্তমানে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এমন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে যুবদলের কোনো কিছু নেতাকর্মীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা অফিস দখল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরে কেউ নিজের ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে বিরোধ ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এসব ঘটনায় অভিযোগের যথার্থতা যাচাই না করেই অনেক সময় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নে নতুন প্রক্রিয়া।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের জন্য জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রার্থীদের সাংগঠনিক পথচলা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা যাচাই করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রার্থীদের সিভিতে তাদের পদ-পদবি, আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান এবং মামলার সংখ্যা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এসব তথ্যের পাশাপাশি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রার্থীদের সাংগঠনিক নিষ্ঠা ও ত্যাগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শুধু ঘরে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটি গঠন করতে চান না তারা। বরং যাচাই-বাছাইয়ের একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চান, যাতে ত্যাগী নেতাকর্মীরা বঞ্চিত না হন।
তার মতে, সিভি সংগ্রহ ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। সংগঠনের জন্য যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই এ প্রক্রিয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নতুন মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মী ও দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশে এসে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বলেছিলেন এবং নির্বাচনের আগে তার পরিকল্পনা ইশতেহারে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। সেই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা এবং একটি মানবিক রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তারা, যেখানে প্রতিহিংসাপরায়ণতার স্থান থাকবে না। বিএনপির সঙ্গে যারা রয়েছেন, তাদের কাছে যেমন দেশ নিরাপদ থাকবে, তেমনি বিএনপির সঙ্গে যারা নেই, তাদের কাছেও বাংলাদেশ সমানভাবে নিরাপদ থাকবে।
তিনি বলেন, নতুন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বর্তমান বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় যুবদল। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংগঠনটির যুবশক্তিকে কাজে লাগানো হবে.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ