০৪:৪৭ পি.এম
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে নিখোঁজ থাকার তিনদিন পর গোলাপি খাতুন (২৬) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে।
মরদেহের গলায় একটি ওড়না দিয়ে পেঁচানো একটি ভাঙা কংক্রিটের ব্লকের অংশ বাধা ছিল।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের পুরাতন যাদুরচর এলাকায় একটি ডোবার পানি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
নিহত ওই গৃহবধূ ছিলেন মামলার বাদী স্বামী এবং মামাতো ভাইদের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে।
মামলা প্রত্যাহার করার জন্য আসামিপক্ষের চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে নিহতের স্বামী এবং বাবার বাড়ির লোকজন দাবি করেছেন।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী গণমাধ্যমকে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
নিহত গোলাপি খাতুন সদর ইউনিয়নের বাওয়াইর গ্রামের প্রবাস ফেরত সৈয়দ আলীর স্ত্রী।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
স্বামীর মামাতো ভাইদের সঙ্গে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের কারণে গোলাপিকে হত্যার অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বামী এবং বাবার বাড়ির লোকজন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামী করে রৌমারী থানায় মামলা করেছেন।
নিহতের স্বামী সৈয়দ আলী ও ভাই বেলাল দাবি করেন, সৈয়দ আলীর মামাতো ভাই মতিন, হাসিনুর, মহর, আছমত ও সাহার আলী গংদের সঙ্গে ক্রয়কৃত জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল।
এদিকে সৈয়দ আলী প্রবাসে থাকায় গোলাপি খাতুন মামলার বাদী হয়ে হাসিনুর-মতিন গংদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আরও পড়ুন: দুমকীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালিতে মোঃ কামরুল ইসলাম মুন্না
সৈয়দ আলী দেশে ফেরার পর এ নিয়ে দফায় দফায় সালিশ হয়েছে। স্থানীয় মাতব্বররা গোলাপিকে মামলা প্রত্যাহার করার নির্দেশনা দেন।
সৈয়দ আলী বলেন, মামলা প্রত্যাহারে বিলম্ব হওয়ার কারণে গত কয়েকদিন ধরে হাসিনুর-মতিন গং আমাদের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমাদেরকে নিজ বাড়িতে উঠতে বাধা দেওয়া হয়।
তাদের ভয়ে আমরা বারবান্দা গ্রামে আমার বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।
আরও পড়ুন: বরগুনায় হাউজি-লটারির প্রস্তাব, প্রশ্নের মুখে চেম্বার অব কমার্স ও জেলা প্রশাসন
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তাদের ফোনে গোলাপিকে বাড়িতে ওঠার কথা বলে ডেকে নেয়।
পরে হাসিনুরের বাড়িতে জিম্মি করে রাখে। সন্ধ্যার দিকে আমি স্ত্রীর খোঁজ করতে গেলে হাসিনুর-মতিন গং বলেন, গোলাপি তাদের কাছে নেই।
এরপর বিভিন্ন জায়গা এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খুঁজেও স্ত্রীর সন্ধান পাইনি।
দুইদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে আমি শুনতে পাই যে গোলাপির মরদেহ পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর
নিহতের ভাই বেলাল বলেন, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য পানিতে ফেলা হয়েছিল।
আমি মামলা করেছি। জড়িত সবার দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি চাই।
ওসি কাওছার আলী বলেন, নিহতের ভাই অভিযোগ করে হত্যা মামলা করেছেন।
মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জে দোকানিকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ: দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি বিদ্যুতের
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন