মোঃ লোকমান হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)
বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৬ পি.এম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ওই কক্ষ থেকে ভদকা, গলিত ইয়াবার অবশিষ্টাংশসহ ফয়েল পেপার, বোতলের সিপি, মাদক সেবনের পাইপ, লাইটার ও একটি পাঁচ টাকার নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দীঘিনালা থানাধীন বোয়ালখালী বাজারের ‘হোটেল একতা ইন’-এর তৃতীয় তলার ৩০৭ নম্বর কক্ষে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে দীঘিনালা থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দীঘিনালার বড় মেরুং এলাকার মো. বাবুল মিয়া ওরফে বাবলু (৩৩), উত্তর মিলনপুর এলাকার আব্দুর রহিম (২৪) এবং বাঁচা মেরুং এলাকার মো. শরীফুল ইসলাম ওরফে শরীফুল আলম (৩৩)।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে ৩৭৫ মিলিলিটারের একটি স্বচ্ছ কাচের বোতলে আনুমানিক ১০ মিলিলিটার ভদকা উদ্ধার করা হয়। বোতলের গায়ে ‘Magic Moment’ লেখা ছিল এবং এতে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ অ্যালকোহল রয়েছে বলে উল্লেখ ছিল।
এ ছাড়া গলিত ইয়াবাসহ চারটি ফয়েল পেপার, গলিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন রঙের ১০টি বোতলের সিপি, মাদক সেবনের তিনটি পাইপ, পাঁচটি লাইটার এবং মাদক সেবনে ব্যবহৃত একটি পাঁচ টাকার নোট উদ্ধার করা হয়।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই কক্ষে ইয়াবা ও অ্যালকোহল সেবনের কথা স্বীকার করেন।
পরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মোবাইল কোর্ট বিবিধ মামলা নম্বর-৮০-এর আদেশের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী দীঘিনালা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৬ ও ২৫ নম্বর টেবিলের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা সমাজকল্যাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. রবিউল হক রিপন এবং সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের আওতায় প্রকৃত অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার চিহ্নিত করা, উপকারভোগীদের তথ্য যাচাই-বাছাই এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে উপজেলা সমাজকল্যাণ কমিটি কাজ করবে।
কমিটির কার্যক্রমে উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সমাজের নিম্নআয়ের ও অসচ্ছল পরিবারগুলো যাতে বাদ না পড়ে এবং প্রকৃত প্রাপ্য ব্যক্তিরাই সুবিধা পান, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসিব বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো যাতে সরকারি সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা হবে। যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে মৎস্যপোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জেলা বিএনপির তত্ত্বাবধানে ও সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের রিভারভিউ এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম নুরুল।
সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মো. বাহারুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রতন সেখ, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহেল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু, যুগ্ম আহ্বায়ক মুমিনুল হক কালারচাঁন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি সুহেল মিয়া, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান সৌরভ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ রাহুল এবং কৃষক দলের সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম পলাশ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা যুবদলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আল-আমিন, জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন, মদরিছ মিয়া, মাহবুব মিয়া, ফারেব মিয়া; পৌর মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রবিউল হক আমিন, সাধারণ সম্পাদক রাজিবুর রহমান জুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন মিয়া; এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সুবের আহমেদ, সহ-সভাপতি ফারহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক খলিল আহমেদ রেনু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলমসহ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সুরমা নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্যপোনা অবমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং জলবায়ু সুরক্ষার অংশ হিসেবে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় পথ কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌরসভা প্রাঙ্গণে এ টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌরসভা প্রশাসক মিলটন চন্দ্র পাল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলাউদ্দিন মাসুদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার আমিনুল ইসলাম, পৌরসভার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন মীর বহরসহ পৌরসভা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলাউদ্দিন মাসুদ জানান, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক প্রাণঘাতী ব্যাধি। মূলত ক্ষিপ্ত পথ কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে এ রোগ মানুষের দেহে ছড়ায়। গণটিকা প্রদানের ফলে কমিউনিটিতে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও প্রাণীর কল্যাণ নিশ্চিত করতেই সরকারি উদ্যোগে এই বিশেষ আয়োজন। আগামী তিন দিনে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে দুই শতাধিক পথ কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনা হবে।
জলাতঙ্কমুক্ত পৌরসভা গঠনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিনের সাধনা, অধ্যবসায় ও কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসার স্বীকৃতি হিসেবে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের ‘রেওয়ায়েতে হাফস আন আসেম’-এর সনদ অর্জন করেছেন রামগতি-কমলনগরের কৃতি সন্তান হাফেজ নাসরুল্লাহ।
মিসরের রাজধানী কায়রোতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাকে এ সনদ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিসরের বিশিষ্ট আলেম ও ক্বারী ড. শোয়াইব আল-আজহারী (হাফি.), যাঁর কাছে হাফেজ নাসরুল্লাহ বিখ্যাত ক্বারী আসিম ইবনে আবি আল-নাজুদ (রহ.)-এর ‘রেওয়ায়াতে হাফস আন আসেম’ অনুসারে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারার পূর্ণ খতম শুনিয়েছেন।
কায়রোর একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আব্দুল লতিফ ওয়াহদান (হাফি.)। এছাড়া আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন অধ্যাপকসহ বিভিন্ন দেশের একঝাঁক আন্তর্জাতিক ক্বারী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রেওয়ায়েতে হাফসের সনদ অর্জন কোরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। দীর্ঘ সময় ধরে নির্ভুল তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট কিরাআতের নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে সাধনার পর এ সনদ অর্জন করেন হাফেজ নাসরুল্লাহ।
সনদ লাভের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, তার স্বপ্ন ‘আকাশছোঁয়া’। সেই স্বপ্ন পূরণের দীর্ঘ পথচলায় প্রিয়জন, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে আল্লাহর রহমত, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং প্রিয় মানুষদের দোয়া রয়েছে। ভবিষ্যতের পথচলায়ও তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
কোরআনের তিলাওয়াত ও ইলমের এই পথচলায় নতুন একটি মাইলফলক স্পর্শ করলেন হাফেজ নাসরুল্লাহ। তার এই অর্জন সামনে আরও বৃহৎ স্বপ্ন পূরণের পথে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে—এমন প্রত্যাশা তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ