বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২২ পি.এম
বাংলাদেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, যিনি ‘পঞ্চপাণ্ডব’ হিসেবে পরিচিত, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক এড়িয়ে চলা এই ক্রিকেটার সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জমজম ব্রাদার্সের অফিসে একটি মিটিংয়ে অংশগ্রহণের কারণে সমালোচনার সম্মুখীন হন।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জমজম ব্রাদার্সের অফিসে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এবং বিতর্কের জন্ম দেওয়া পোস্টটিও ইতোমধ্যে মুছে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন।
এই সমালোচনার শুরু হয়েছিল সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টের পর মাহমুদউল্লাহর জমজম ব্রাদার্সের অফিসে যাওয়া এবং সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হলেও, এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম পরিচিত মুখ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও সাধারণত বিতর্কের বাইরে থাকা এই ক্রিকেটারের ওপর সাম্প্রতিক ঘটনাটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
সায়েরের পোস্টে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের জাতীয় দলের এক সাবেক ক্রিকেটার ভানুয়াতুর নাগরিকত্বে বিনিয়োগের বিষয়টি প্রচার করছেন। পোস্টে এ ধরনের বিনিয়োগের অর্থ বিদেশে পাঠানোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। একইসঙ্গে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো পরিচিত একজন ক্রিকেটারের এমন প্রচারে যুক্ত থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
যখন সায়েরের পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুঙ্গে ওঠার উপক্রম, তখনই বিষয়টি স্পষ্ট করেন রিয়াদ। তিনি বুঝতে পারেন যে, বিনা স্বার্থে তিনি যে ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন সেখানে দেশের স্বার্থের প্রশ্ন জড়িত। তাই জমজম ব্রাদার্সকে বলে পোস্টগুলো মুছে ফেলেন। এরপর নিজেই ভেরিফাইড ফেসবুকে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে মাহমুদউল্লাহ লেখেন, ‘সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।’
তিনি লেখেন, ‘কিছুদিন আগে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমজম ব্রাদার্সের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তাদের আমন্ত্রণে একদিন তাদের অফিসে গেলে, তারা তাদের একটি নতুন ব্যবসায়িক প্রকল্পের বিষয়ে ভিডিও করার অনুরোধ জানান। তবে প্রকল্পটি সম্পর্কে আমার আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না এবং এর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের ব্যাবসায়িক এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাও নেই।’
রিয়াদ আরও লেখেন, ‘আমার অনুরোধে তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেন।’
তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আমার পুরো ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সব সময় বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে কিংবা কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়ে থাকলে, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’ পোস্টের শেষে সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকবেন এবং সবার প্রতি ভালোবাসা, সমর্থন ও বোঝাপড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো. আলম শেখ (৪১) নামের একজন ব্যক্তিকে শিশু চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি ঘটে বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে।
শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন মিয়া বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে আলম শেখ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনেরা তাঁকে শিশু চোর মনে করে। তাঁরা তাঁর হাসপাতালে আসার কারণ জানতে চান। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে আলম শেখকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নামিয়ে মারধর করেন। এক পর্যায়ে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
এসআই রিমন মিয়া বলেন, ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়া হয়। পরে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলম শেখের মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, আঙুলের ছাপের মাধ্যমে আলম শেখের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি রাজধানীর রূপনগরের টিনশেড এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
পুলিশের বরাত অনুযায়ী, আলম শেখ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং তিনি মস্তিষ্কে স্ট্রোকের শিকার হয়েছিলেন। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর তাঁর মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ বুঝে নিতে তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক তাজমহল প্যালেস হোটেলে নিয়ে যান। এ সময় জয়শঙ্কর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হোটেলটির নিরাপত্তা প্রধান সুনিল কুদিয়াদির পরিচয় করিয়ে দেন। উল্লেখ্য, সুনিল ২০০৮ সালের ভয়াবহ ‘তাজ হোটেল’ সন্ত্রাসী হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা এটিকে ‘পাকিস্তানের মদদপুষ্ট’ সন্ত্রাসবাদের বাস্তব রূপ তুলে ধরার এবং ওয়াশিংটনকে এক ধরনের ‘আয়না দেখানোর’ শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে একটি ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগের পটভূমিতে ঘটেছে।
সফরকালে রুবিও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পাকিস্তান নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে মন্তব্য করেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে তাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ বা আচরণ থেকে পাকিস্তানকে নিবৃত্ত করা সহজ হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রুবিও বলেন, ‘তাজমহল প্যালেস হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ছয়জন মার্কিন নাগরিকসহ নিহতদের সম্মান জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছি। আমরা নিহতদের স্মরণ করি, যারা এর মোকাবেলা করেছিলেন তাদের সাহসিকতাকে সম্মান জানাই। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত-মার্কিন যৌথ প্রতিশ্রুতি ও আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারিকে পুনর্ব্যক্ত করছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেছেন।
বৃহস্পতিবার বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : নাইজারে অপহরণ করা দুই নারীকে মুক্ত করা হয়েছে, যারা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন সুইজারল্যান্ডের নাগরিক এবং অন্যজন অস্ট্রিয়ার নাগরিক।
বৃহস্পতিবার লিবিয়ার গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তির পর তারা বেনগাজি শহরে পৌঁছেছেন।
মুক্তি পাওয়া নারীদের মধ্যে ৭৬ বছর বয়সী ইভা গ্রেৎসমাখার সুইজারল্যান্ডের এবং ৬৯ বছর বয়সী ক্লাউদিয়া আব্বট অস্ট্রিয়ার নাগরিক। ২০২৫ সালে নাইজার থেকে তাদের অপহরণ করা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা এএফপি ত্রিপোলি থেকে এই তথ্য জানিয়েছে। আল-মাসার টেলিভিশনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তি পাওয়া দুই নারী অত্যন্ত শীর্ণকায় অবস্থায় রয়েছেন। তারা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার এবং তার ছেলে সাদ্দামকে মুক্তির জন্য ধন্যবাদ জানান।
আল-মাসার জানায়, ‘দেড় বছর বন্দি থাকার পর দুই জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন অস্ট্রিয়ার এবং অন্যজন সুইজারল্যান্ডের নাগরিক।’
ভিডিওতে ফরাসি ভাষায় ইভা বলেন, ‘আমার নাম ইভা গ্রেৎসমাখার। আমার বয়স ৭৬ বছর। আমাদের মুক্তির জন্য আমি মার্শাল হাফতার এবং তার ছেলে সাদ্দামকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এক বছর নয় মাস ধরে জিম্মি ছিলাম।’ অন্যদিকে, আব্বটও মুক্তি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং হাফতারকে ধন্যবাদ জানান।
লিবিয়ান নিউজ অবজারভেটরিও তাদের মুক্তির খবর প্রকাশ করেছে। ২০১১ সালে ন্যাটোর সমর্থনে পরিচালিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা কাটিয়ে উঠতে দেশটি এখনো সংগ্রাম করছে।
বর্তমানে লিবিয়ায় ক্ষমতার জন্য দু’টি সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর একটি রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবাহ। অন্যটি পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং খলিফা হাফতারের সমর্থন লাভ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ