ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেসির ব্রাজিলিয়ান যোগসূত্র, গবেষকের অনুসন্ধানে উঠে এলো মেসির বংশ ইতিহাস


মেসির ব্রাজিলিয়ান যোগসূত্র, গবেষকের অনুসন্ধানে উঠে এলো মেসির বংশ ইতিহাস

তর্কসাপেক্ষে লিওনেল মেসি ফুটবলের সর্বকালের সেরা। তার জাদুতেই ঘুচেছে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের দীর্ঘ বিশ্বকাপখরা। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ক্যারিয়ারের একমাত্র অপ্রাপ্তি ঘুচিয়েছেন এই মহাতারকা। পাশাপাশি তিনি দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল।

আর্জেন্টিনাকে সাফল্যের মুকুট এনে দেয়া মেসির এই কাহিনির কিছুটা এদিক এদিক হলে ব্রাজিল উপকৃত হতে পারতো। হয়তো মেসির হাত ধরেই সেলেসাওদের দীর্ঘ শিরোপাখরাও ঘুচত। মেসি আর্জেন্টিনার পরিবর্তে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপালে ফুটবল ইতিহাসটাও সম্ভবত ভিন্নরূপে গড়ে উঠতো।

আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুই তারকার একজন লিওনেল মেসির শেকড় নাকি বিস্তৃত ব্রাজিলেও। আরও সঠিকভাবে বললে সেটি দেশের সাও পাওলো রাজ্যের অন্তর্গত অঞ্চলে। বিষয়টি হয়তো কিছুটা কাকতালীয় মনে হবে, কিন্তু একজন ইতালীয় গবেষকের অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, এই মহাতারকার এক প্রপিতামহ বিশ শতকের শুরুর দশকে রিবেরাও প্রেতোতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

পেশায় ব্যাংকার এবং ইতিহাসবিদ ফিওরেনজো সান্তিনি আর্জেন্টাইন তারকার বংশলতিকা বা ফ্যামিলি ট্রি অনুসন্ধানের কাজটি করেন।

যখন মেসি তরুণ বয়সে বার্সেলোনায় নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন, তখনই সান্তিনির মনে এই ধারনা আসে। ফুটবলপ্রেমী এবং ইন্টার মিলানের কট্টর সমর্থক ফিওরেনজো 'মেসি' পদবিটির উৎস খুঁজতে কৌতুহলী হয়ে ওঠেন।

এতে তিনি এর ইতালীয় সংযোগ আবিষ্কার করেন। মেসির প্রপিতামহ আঞ্জেলো মেসি ইতালির মার্কে অঞ্চলের মাসেরাটা প্রদেশের রেকানাত শহর থেকে এসেছিলেন। ১৮৯৩ সালে তিনি স্ত্রীসহ ইতালি ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোসারিওতে পাড়ি জমান।

গবেষক জানান, 'আমি ২০১৫ সালে তার (মেসির) বাবার সাথে যোগাযোগ করি এবং এই ইতিহাস জানাই। কয়েক বছর পর তার বাবা আবার আমার সাথে যোগাযোগ করেন যেন আমি তার মায়ের দিকের বংশলতিকা খুঁজে বের করি, যাতে তারা ইতালির নাগরিকত্ব পেতে পারেন।'

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

ফিওরেনজো সান্তিনির দাবি, মেসির মাতুলালয়ের অনুসন্ধানের শুরু তার প্রপিতামহ রানিয়েরো কোচেত্তিনির মাধ্যমে হয়েছিল, যিনি মেসির পিতৃপক্ষের পরিবারের মতো একই প্রদেশ অর্থাৎ সান সেভেরিনো মার্কেতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

মেসির পরিবারের পাশাপাশি একই অঞ্চলের আশেপাশের মাত্র কয়েক কিমি দূরে আর্জেন্টিনা ফুটবলের জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি, সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় মানু জিনোবিলি এবং দেশের প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেইয়ের পূর্বপুরুষদের শেকড়ের প্রমাণও মেলে।

সান্তিনি বলেন, 'গ্রামগুলো খুব কাছাকাছি, মাসেরাটা প্রদেশের একই এলাকায় প্রায় ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।'

রানিয়েরো ইতালিতে থাকার সময় রোসা রিকেজাকে বিয়ে করেন এবং তাদের ঘরে জুলিয়া ও ফ্রান্সেসকো নামের দুই সন্তান হয়। সাঁও পাওলোর 'ইমিগ্রেশন মিউজিয়াম অব দ্য স্টেট'-এর ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, এই পরিবারটি 'ওয়াশিংটন' নামের জাহাজে চেপে ব্রাজিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং ১৮৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাও পাওলোর সান্তোস বন্দরে অবতরণ করে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তবে বন্দরে পৌঁছানোর পর রানিয়েরো কোচেত্তিনির নাম পরিবর্তন হয়ে 'রামিয়োরো কনসেন্টিনী' হয়ে যায়। সে সময় মূল ভাষার বানান ও উচ্চারণের জটিলতার কারণে অভিবাসীদের নাম ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়টি সাধারণ ছিল।

জাদুঘরের ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, রানিয়েরো (বর্তমানে রামিয়োরো) পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তিনি রিবেরাও প্রেতো থেকে ৭০ কিমিরও বেশি দূরবর্তী রিনকাও এলাকায় ড. মার্টিনহো প্রাডো জুনিয়রের একটি খামারে কাজের জন্য নিয়োগ লাভ করেন।

পরিবারটি সাও পাওলো রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে চলে আসে। সান সেভেরিনো মার্কে পৌরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিবেরাওতে রামিয়োরো এবং রোসা দম্পতির ঘরে আরও দুটি সন্তানের জন্ম হয়। ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি এরমিনিয়া এবং ১৯০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি আর্দেরিগো জন্মগ্রহণ করে।

এই আর্দেরিগোর মাধ্যমেই লিওনেল মেসির পদবিতে পরিবর্তন আসে। গবেষক বলছেন, রিবেরাও প্রেতোতে নাম নিবন্ধনের সময় এই পরিবর্তনটি ঘটে।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'ব্রাজিলে এসে আর্দেরিগো হয়ে যান ফেদেরিকো। আর কোচেত্তিনি পরিবর্তিত হয়ে হয় কুচিতিনী। এই ফেদেরিকোই হলেন মেসির প্রপিতামহ (নানা)।'

ফেদেরিকোর জন্মের এক বছর পর পুরো পরিবার আর্জেন্টিনায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারা সেখানে পৌঁছান এবং রোসারিও অঞ্চলে চলে যান। এখানেই জন্ম নেন ফুটবলারের মাতামহ আন্তোনিও কুচিতিনী এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচিতিনী। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচিতিনী।

মূলত 'কুচিতিনী' পদবিটিই গবেষককে ব্রাজিলের সাথে সংযোগটি খুঁজে পেতে সহায়তা করেছিল, কারণ ইতালিতে এই পদবির কোনো অস্তিত্ব বা রেকর্ড ছিল না। ফিওরেনজো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মেসির মায়ের দিকের ফ্যামিলি ট্রির অনুসন্ধানে সময় ব্যয় করেন।

তিনি বলেন, 'গবেষণার সময় আমি দেখি যে এখানে 'কুচিতিনী' নামে কেউ নেই। পরে মেসির মায়ের এক খালাতো/মামাতো ভাইয়ের কাছ থেকে কিছু নথি পাওয়ার পর বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হয়, যিনি ব্রাজিলে পৌছানোর পর নাম ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়টি আমাকে জানান।'

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

ফিওরেনজোর এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর মেসিকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে।

আজ রিবেরাও প্রেতোতে মেসির পরিবারের কোনো সদস্যের বসবাসের তথ্য নেই, কারণ তারা সবাই ১৯০৫ সালেই আর্জেন্টিনায় চলে গিয়েছিলেন।

তবে শহরটির সাথে তার ইতিহাসের একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন হয়ে রয়েছে 'ভিলা তিবেরিও' পাড়ার একটি রাস্তা। মজার বিষয় হলো, এই পাড়াতেই শহরের অন্যতম ফুটবল ক্লাব 'বোটাফোগো-এসপি' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

পাড়ার এই রাস্তাটির নাম 'রুয়া মার্টিনিকো প্রাডো', যা রাখা হয়েছে সেই কৃষকের স্মরণে, যিনি এই তারকা খেলোয়াড়ের পূর্বপুরুষদের আশ্রয় দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা

মার্টিনহো প্রাডো জুনিয়র বা 'মার্টিনিকো প্রাডো' নামে পরিচিত এই ব্যক্তি কৃষিকাজের পাশাপাশি ব্রাজিলের একজন রাজনীতিবিদও ছিলেন। তাঁর বাবা-মা লিমিরা এবং পরে আরারাসের একটি খামারে থাকতেন। কিন্তু তিনি তার দাদা-দাদীর সাথে সাও পাওলোতে থাকতেন, যেখান থেকে তিনি আইনে স্নাতক অর্জন করেন, একটি সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং এমনকি প্যারাগুয়ে যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন।

বিয়ের পর তিনি রাজ্যের ভেতরের অঞ্চলে চলে যান এবং তাদের পারিবারিক খামারগুলো পরিচালনা করতে শুরু করেন। তিনি আরারাসের সিটি কাউন্সিলর এবং স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রিবেরাও প্রেতো অঞ্চলটি উন্মোচিত হওয়ার পর তিনি সেখানে জমি কিনে খামার গড়ে তোলেন। এই অঞ্চলটি কফি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়ায় তিনি ও তার ভাই মিলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কফি উৎপাদক হয়ে ওঠেন এবং ইউরোপীয় রাজাদেরও আতিথ্য প্রদান করেন। সান্তোস বন্দরের কাছে প্রাডোর নিজস্ব রপ্তানি প্রতিষ্ঠানও ছিল, যা তার কফি ব্যবসাকে সহজ করে তুলেছিল।

মেসির ইতালীয় পরিবার সাও পাওলো থেকে আর্জেন্টিনায় পাড়ি দেওয়ার এক বছর পর, ১৯০৬ সালে মার্টিনিকো প্রাডো মৃত্যুবরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষা মিস করা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষা মিস করা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি যেসব পরীক্ষার্থী, তাদের জন্য আবার পরীক্ষা নেয়া হবে। এজন্য পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করার নির্দেশ প্রদান করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।

শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ব্যতীত অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের যেসব পরীক্ষার্থী প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র; মাদ্রাসা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি বোর্ডের অফিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, শুধু তারাই আবার অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রগুলোতে বাদ পড়া আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের কাজ ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। এর পর নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের তথ্য ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি ‘অতীব জরুরি’ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু শিক্ষার্থী বিচ্ছিন্নভাবে ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো নতুন তারিখ ও সময়ে অনুষ্ঠিত হবে, যাতে বাদ পড়া শিক্ষার্থীরাও চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে একই সূচিতে ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তবে ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান–এই পাঁচ জেলার পরীক্ষা আগে থেকেই স্থগিত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হট অ্যান্ড কোল্ড’ কৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


ইরানকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হট অ্যান্ড কোল্ড’ কৌশল

ইরানের ওপর বহুমুখী চাপ বৃদ্ধি করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল তথা ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ’ নীতি গ্রহণ করেছে। এই কৌশলটি যৌথভাবে সামরিক আক্রমণ ও অর্থনৈতিক অবরোধের মিশ্রণ। এর মূল লক্ষ্য হলো তেহরানকে চরম কূটনৈতিক চাপে আটকানো এবং জাতীয় অর্থনীতির রশিকে ভেঙে ফেলা।

অস্ট্রিয়ার প্রাক্তন ডিফেন্স অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুশতাই এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নানারকম কূটনীতি, অবরোধের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের চেষ্টা করছে।

কাতারের ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে পুশতাই জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য এই তিনটি মাধ্যমকে একত্রিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে জোরদার করতে এখানে ‘হট অ্যান্ড কোল্ড’ (উত্তপ্ত ও শীতল) পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এক রাতে তাদের ওপরে বোমাবর্ষণ চলছে, আবার অন্য রাতে এই আক্রমণ হচ্ছে না। এটি ইরানিদের ওপর একজোড়া মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে।’

পুশতাই যোগ করেন, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনা খুঁজছেন, তখন ইরানের নেতৃত্বে দুইটি ভিন্ন দল রয়েছে। একটি দল চায় সমঝোতা স্মারক পুনরায় কার্যকর করা হোক, অপরটি ‘প্রথম এবং প্রধানত সামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমার আল্লাহ ছাড়া কাউকে কিছু প্রমাণ করতে চাই না: ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


আমার আল্লাহ ছাড়া কাউকে কিছু প্রমাণ করতে চাই না: ভাবনা

সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা দেশে ফিরে এসেছেন ওমরাহ পালন শেষে। এই পবিত্র সফরের বিভিন্ন মুহূর্ত তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। এর ফলে যেমন প্রশংসা পেয়েছেন, তেমনই কিছু সমালোচনার মুখোমুখিও হয়েছেন। এবার এই সমালোচনার জবাব দিতে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হিজাব পরা একটি ছবি প্রকাশ করেন ভাবনা। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস, যেখানে তিনি ওমরাহ পালনের পেছনের গল্প, নিজের অনুভূতি এবং সমালোচকদের উদ্দেশে বার্তা তুলে ধরেছেন।

ভাবনা জানান, বহু মানুষের কাছে তার ওমরাহ সফরটি হঠাৎ সিদ্ধান্ত হিসেবে মনে হলেও, আসলে এটি ছিল দীর্ঘদিনের ইচ্ছার বাস্তবায়ন। তিনি উল্লেখ করেন, তার বাবা-মা সবসময় আল্লাহর ঘরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনিও গত তিন বছর ধরে ওমরাহ করার পরিকল্পনা করছিলেন, কিন্তু নানা কারণে এটি সম্ভব হয়নি।

তার স্ট্যাটাসে তিনি জানিয়েছেন, ব্যাংকক সফর শেষে তার দেশে ফেরার আগের রাতে আল্লাহর ঘরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় তিনি অনেক কেঁদেছিলেন। বান্ধবী দিয়াকেও সে ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে, ২৫ জুন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি ওমরাহর উদ্দেশে রওনা দেন।

এই অভিনেত্রী আরও বলেন, আল্লাহ তাকে তার ঘরে আসার সুযোগ দিয়েছেন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে তিনি আল্লাহর মেহমান হতে পেরেছেন। ওমরাহ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া নেতিবাচক মন্তব্যের প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, কিছু মানুষ তার ওমরাহ হবে কি না, তা নিয়ে কটূক্তি করেছেন। তবে এসব মন্তব্যে তিনি বিচলিত নন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, "আল্লাহ যদি না চান, আপনি কি তার ঘরে যেতে পারবেন? আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে অনেক ভালোবাসেন। আল্লাহ তার সব বান্দাদের ভালোবাসেন।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জানেন না তার ওমরাহ কবুল হয়েছে কি না, তবে তিনি জানেন আল্লাহ আছেন এবং আল্লাহ সবকিছু দেখেন। "আমার মনে কী আছে, আমার নিয়ত কী-সবই তিনি জানেন। আমার আল্লাহ ছাড়া আমি আর কাউকে কিছু প্রমাণ করতে চাই না।"

ওমরাহর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ভাবনা। তিনি বলেছেন, মক্কা ও মদিনায় কাটানো প্রতিটি অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে যদি তাকে দেখে কেউ আল্লাহর ঘরে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পান, সেটিই হবে তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে লিখেছেন, আজ শুক্রবার। সবাই দোয়া করবেন। ভালো থাকবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেন সংকটের সামরিক সমাধান সম্ভব নয়: আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


ইয়েমেন সংকটের সামরিক সমাধান সম্ভব নয়: আরাগচি

সৌদি আরব এবং ইয়েমেনে তেহরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সৃষ্ট সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই, এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার (২৫ জুলাই) তার দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘ইরান ডেইলি’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্যটি করেন। আরাগচি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ইয়েমেন, বাব আল-মান্দাব এবং অন্যান্য আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে কোনো সামরিক পথ নেই। এ সময় তিনি আলোচনার ওপর জোর দেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এই হুমকির পক্ষে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইরানের সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী। এই পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্যটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আসে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%