মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৫ পি.এম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারের ভেতরে ‘ধীরে ধীরে হত্যা করা হচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন তার দুই পুত্র। তারা দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে তাদের বাবার প্রতি ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার, অর্থাৎ রাত পোহালে, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ দেওয়ার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে সরকার।
এছাড়া, গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরানের পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের পুত্র সুলাইমান ও কাসিম এসব উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তারা বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সুলাইমান বলেন, "ছোট একটি কক্ষে মানবিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা, নতুন বই না দেওয়া এবং পরিবার বা নিরপেক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়গুলো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শামিল।"
তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় চিকিৎসার অভাবে ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তাকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও, তাকে অল্প সময়ের জন্য সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
কাসিম বলেন, নিরপেক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে বাবার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের আশঙ্কা, চাপ কমে গেলে তার ওপর আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া প্রচারণা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের দাবি, ইমরান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, চিকিৎসা, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, পরিবারের সাক্ষাৎ এবং পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন।
ইমরানের পুত্ররা জানান, তারা রাজনীতিতে জড়াতে চান না এবং বাবার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্ব গ্রহণের ইচ্ছাও নেই। তাদের মতে, ইমরানও মুক্তির বিনিময়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ২৮ বস্তা সার উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৫ নম্বর ছাতইল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মোতালেবের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে এসব সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আব্দুল মোতালেবের বাড়িতে অভিযান চালান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ তানভী শোভন। এ সময় তার বাড়ি থেকে ২৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১০ বস্তা ডিএপি এবং ১৮ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।
অভিযানের সময় সারগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তার জমির পরিমাণ কত—এসব বিষয়ে ইউপি সদস্য সঠিক তথ্য দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে অবৈধভাবে সার মজুদের অপরাধে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ তানভী শোভন মন্তব্য করেন, উদ্ধার করা সারগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া বন্দি নুর আলম মনির (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
সোমবার রাতে, অসুস্থ অবস্থায় নুর আলম মনিরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৬০২ ওয়ার্ল্ডে ভর্তি করেন কারারক্ষীরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি মারা যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি কি মামলায় বন্দি ছিলেন তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রশাসনিক শাখার কম্পিউটার অপারেটর রশিদ হাসান রাজু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
তিনি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার জানাজার নামাজ পরে পঞ্চগড় সুগার মিল হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা স্বাক্ষরিত একটি শোক বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তাকে শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে। জানা যায়, তিনি আগে থেকেই জন্ডিসজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং থ্যালাসেমিয়াজনিত জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন।
রশিদ হাসান রাজু পঞ্চগড় সদরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি বুটেক্সের রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রশাসনিক শাখায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অস্থায়ীভাবে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) সম্প্রতি একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে টাইগারদের ভারতে না পাঠানোর জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে দায়ী করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন বর্তমানে আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সাবেক এই উপদেষ্টা তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে ভারতে দল না পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করেন।
আরটিভির পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি এই বিষয়টি একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে প্রকাশের কারণ আমি বুঝতে পারছি না।
ঘটনার শুরু হয়েছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের কারণে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়ার পর। এরপর আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করি।
আমাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, তা আইসিসির প্রথম রিপোর্টে স্বীকৃত হয়েছিল। সেখানে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল—বিশ্বকাপের দলে মোস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে।
বিবিসি বাংলা ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল। এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে খেলতে যাব কেন?
আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কিছু দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যের কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদেরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয় ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।
সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানা উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল।
আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। একটি ছোট দেশ হিসেবে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নিবো, এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। মাথা নত করে সব মেনে নেয়াতে নয়।
এদিকে তদন্ত কমিটির দাবি, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই এককভাবে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে অন্য কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেননি। এমনকি ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও তিনি শুধু নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছে কমিটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ