ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদকের বিরুদ্ধে বেরোবির ‘জিরো টলারেন্স’, কারবারিদের ধরিয়ে দিলেই ১০ হাজার টাকা পুরস্কার


মাদকের বিরুদ্ধে বেরোবির ‘জিরো টলারেন্স’, কারবারিদের ধরিয়ে দিলেই ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগতের মাদক সেবন ও বিক্রি এবং তাদের সাথে গুটিকয়েক শিক্ষার্থী জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর এই কঠোর অবস্থান নিয়ে মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে সহযোগিতা করলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে প্রক্টর প্রফেসর ফেরদৌস রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সরজমিনে দেখা যায়, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকের পিছনে , কেন্দ্রীয় ফুটবল খেলার মাঠ এবং নবনির্মিত EEE Annex Building এর সামনে বহিরাগত মাদকসেবনকারীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। এসব স্পটে মাদক সেবনের পর ফেলে যাওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিব বলেন, "মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কয়েকদিন আগে রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই নিরাপত্তা হুমকি আমাদের ক্যাম্পাসে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাত দশটার পর প্রতিদিন বহিরাগতদের কয়েকটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে বসে মাদক সেবন করে।যা আমাদের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। "


এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিবো। গত দুই বছরে আমরা মাদকের সাথে জড়িত প্রায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং তাদের মধ্য থেকে ৭ জনকে চালান দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোপ্রকার ছাড় দিবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী যদি মাদকের সাথে জড়িত বা মাদক কেনা-বেচার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সহযোগিতা করে তাকে ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে।”

ক্যাম্পাসে মাদকের এই বিস্তার এবং প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে বেরোবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিফাত হোসেন রাফি বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বর্তমানে মাদকসেবনের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা এবং ক্যাম্পাসে নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি বাড়ানো। একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত পরিবেশই পারে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

উল্লেখ্য, ইদানীং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে মাদক সেবনের পাশাপাশি বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ এবং বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীন–নেপাল সীমান্তে ভূমিধসে ফের নতুন হ্রদের সৃষ্টি, বিপর্যয়ের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


চীন–নেপাল সীমান্তে ভূমিধসে ফের নতুন হ্রদের সৃষ্টি, বিপর্যয়ের শঙ্কা

চীন–নেপাল সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চলে নতুন একটি ভূমিধসের ফলে আরেকটি অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধ হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির সম্ভাব্য বিপদ বিবেচনায় গিরং বন্দরের কাছে অবস্থানরত উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় ভূমিধসের এই ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।

চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানায়, একটি পর্যবেক্ষণ ড্রোন শনিবার সন্ধ্যায় পুরেপু সাংপো নদীর তীরবর্তী একটি পাহাড়ি ঢালে ভূমিধসের ঘটনা চিহ্নিত করে। এই স্থানটি নদীর স্রোতের দিকে পূর্বে তৈরি থাকা একটি বাঁধ হ্রদের প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার (১ দশমিক ৭ মাইল) ভাটিতে অবস্থিত।

কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন ভূমিধসের ফলে নদীর প্রবাহের পথে মাটি ও পাথরের বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নদীর পানি আটকে গিয়ে নতুন আরেকটি বাঁধ হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে।

ভূমিধসের পর নদীর পানিপ্রবাহ এবং নতুন সৃষ্ট হ্রদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় গিরং বন্দরের আশপাশে থাকা উদ্ধার ও জরুরি সেবাকর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

একের পর এক ভূমিধসে বাড়ছে ঝুঁকি

চীন–নেপাল সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম এবং ভূপ্রকৃতিগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢাল ধসে পড়া এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে সেখানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

একটি ভূমিধসের ফলে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে পানি জমে বাঁধ হ্রদ তৈরি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ওই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে গিয়ে আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে ভাটির দিকে থাকা জনবসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

নতুন ভূমিধসটি আগের একটি বাঁধ হ্রদের ভাটিতে ঘটায় পরিস্থিতি আরও সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চীনা কর্তৃপক্ষ ড্রোনের মাধ্যমে এলাকাটি নজরদারিতে রেখেছে এবং নদীর পানিপ্রবাহ ও নতুন সৃষ্ট জলাধারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ও উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকায় উদ্ধার ও জরুরি ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সূত্র:

সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে পৌঁছেছে উদ্ধার সরঞ্জাম ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নিয়ে ভারতের চতুর্থ বিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫০ পি.এম


নেপালে পৌঁছেছে উদ্ধার সরঞ্জাম ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নিয়ে ভারতের চতুর্থ বিমান

ভারতের চতুর্থ ত্রাণবাহী বিমান রবিবার কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে, যা ১১ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে এসেছে নেপালে চলমান উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য।

এই তথ্য জানিয়েছেন নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, ত্রিপল, প্লাস্টিকের শিট এবং স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ।

এছাড়া, বিমানটিতে একটি কারিগরি দলও এসেছে, যা জটিল টানেল অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য বিশেষ সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দলও নেপালে পৌঁছেছে, যারা ভুক্তভোগীদের পরিচয় শনাক্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে ডিএনএ বিশ্লেষণের বিশেষ সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে।

গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ ভুটে কোশি নদীর বন্যার পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে নেপালে। এই পরিস্থিতিতে ভারত স্থল ও আকাশপথে নেপালকে কারিগরি, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা প্রদান করছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, চীন থেকে নেপালে প্রবেশ করে বর্তমানে ১২০ জন ভারতীয় নাগরিক নিরাপদে অবস্থান করছেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ২৩০ ফুট দীর্ঘ সিঙ্গেল লেন মডুলার স্টিল ব্রিজ নির্মাণের সরঞ্জামবোঝাই ১৬টি ট্রাক ইতোমধ্যে নেপালে পৌঁছেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে আরও সাতটি বেইলি ব্রিজের সরঞ্জাম শিগগিরই পাঠানো হবে। সেগুলো দ্রুত স্থাপনের জন্য কারিগরি দলও পাঠানো হবে।

সর্বশেষ এই চালানসহ ভারত এখন পর্যন্ত আকাশপথে মোট ৬৮ দশমিক ৫ টন ত্রাণসামগ্রী কাঠমান্ডুতে পাঠিয়েছে। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ, বহনযোগ্য জেনারেটর, খাদ্য প্যাকেট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং ভারী কারিগরি সরঞ্জাম।

নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ঝুঁকি হ্রাস কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) রোববার ভুটে কোশি নদীর পানির প্রবাহ ও গর্জন হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর জরুরি জননিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

কর্তৃপক্ষ নদীর নিম্নাঞ্চলের বসতি ও ত্রাণকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: নেপাল নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের বন্যায় ভেসে আসা ৬৬৯ মরদেহের ২১১টি খণ্ডিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


নেপালের বন্যায় ভেসে আসা ৬৬৯ মরদেহের ২১১টি খণ্ডিত

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার হওয়া ৬৬৯ মরদেহের মধ্যে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বজনরা মাত্র ২০টি মরদেহ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘ দূরত্বে ভেসে যাওয়ার কারণে এবং অনেক মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় শনাক্তকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের মর্গ ও অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্রগুলোও মরদেহে পূর্ণ হয়ে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার জন্য ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র উপমহাপরিদর্শক অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ৬৬৯ মরদেহের মধ্যে ২১১টি খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। অনেক মরদেহ দুই থেকে তিন দিন কাদা ও পানির নিচে থাকার কারণে চোখে দেখে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানায়, মরদেহগুলো পরিষ্কার করে ছবি তোলা হচ্ছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রুপানদেহী, ভৈরহাওয়া, চিতওয়ান ও পোখারা পর্যন্ত দূরবর্তী এলাকায় মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় শনাক্তকাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

নারায়ণী নদীর অববাহিকার বিভিন্ন মর্গ ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। নাওয়ালপরাসি ইস্টে জায়গা সংকটের কারণে ৪১টি মরদেহ কাস্কির পোখারা এবং আটটি পালপায় পাঠানো হয়েছে। আরও কিছু মরদেহ রুপানদেহী ও কাপিলবস্তুর হাসপাতালেও পাঠানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহের সংরক্ষণক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে জরুরি ব্যবস্থায় দাফন করা হবে। তবে তার আগে নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরকারি বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে তথ্য প্রকাশ করা হবে।

ফরেনসিক দল আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস, দাঁতের নথি, ফরেনসিক ছবি ও ডিএনএর মাধ্যমে মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা করবে। প্রতিটি মরদেহকে একটি স্থায়ী শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হবে। মরদেহের সঙ্গে পাওয়া গয়না, টাকা, পোশাক, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য সামগ্রীও একই নম্বরের অধীনে সংরক্ষণ করা হবে।

যদি পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হয় এবং মরদেহ রাখার জায়গা শেষ হয়ে যায়, তাহলে জেলা পর্যায়ের কমিটির অনুমোদনে দাফন করা যাবে। দাফনের পরও প্রতিটি মরদেহের ছবি, ডিএনএ নমুনা, শনাক্তকরণ নম্বর, শারীরিক বিবরণ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, দাফনের তারিখ ও স্থান সংরক্ষণ করা হবে। পরে যদি কোনো স্বজন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পায়, তাহলে এসব তথ্যের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

চিতওয়ানে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে রাশুয়া থেকে বন্যায় ভেসে আসা ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র চারটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২২৯টি মরদেহ হাসপাতাল ও অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্রে রয়েছে।

চিতওয়ান জেলা নিরাপত্তা কমিটি দাফনের জন্য ভরতপুর মেট্রোপলিটন সিটির দেবঘাট এলাকায় একটি স্থান নির্ধারণ করেছে। সেখানে নেওয়ার আগে মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

একটি অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৮০টি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব মরদেহই দেবঘাটে দাফনের প্রথম ধাপে নেওয়া হবে।

মরদেহ শনাক্তে ৪০ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল কাজ করছে। এই দলে সাতজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও সাতজন ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন। চিতওয়ানের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে একসঙ্গে প্রায় ৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতা রয়েছে। বিপরীতে সেখানে উদ্ধার হয়েছে ২৩৩টি মরদেহ।

এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতেও সম্ভাব্য দাফনস্থল খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি শনিবার কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করেছে। রোববার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র:  দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদুল হারামের গুরুত্বপূর্ণ গেটসমূহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


মসজিদুল হারামের গুরুত্বপূর্ণ গেটসমূহ

মক্কা নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ। কাবাকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হয়েছে মসজিদুল হারাম, যেখানে প্রতিদিন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লি নামাজ, তাওয়াফ ও অন্যান্য ইবাদতে অংশগ্রহণ করেন।

 

এই বিশাল মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য রয়েছে অনেক দরজা ও প্রবেশপথ। মক্কায় প্রথমবার গেলে এসব গেটের নাম ও অবস্থান জানা থাকলে চলাফেরা অনেক সহজ হয়ে যায়।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—কাবা শরিফের নিজস্ব দরজা এবং মসজিদুল হারামের প্রবেশদ্বার এক নয়। কাবা শরিফের দরজা একটি, আর মসজিদুল হারামের বিভিন্ন দিকের প্রবেশপথগুলো আলাদা।

পবিত্র কাবা শরিফের একমাত্র দরজা পূর্ব দেয়ালে অবস্থিত।

 

বর্তমান দরজাটি সৌদি আমলে নির্মিত হয়েছে এবং এতে স্বর্ণের অলংকরণ রয়েছে। কাবার দরজার নিচের অংশ শাযরাওয়ানের ওপর থেকে প্রায় ২২২ সেন্টিমিটার উঁচু। দরজাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৮ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ১৭১ সেন্টিমিটার। এই দরজা সাধারণ মুসল্লিদের জন্য নিয়মিত খোলা থাকে না।

 

মসজিদুল হারামের গুরুত্বপূর্ণ গেট

১. কিং আবদুল আজিজ গেট: মসজিদুল হারামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। এটি হারামের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। সৌদি আরবের প্রথম বৃহৎ সম্প্রসারণের সময় এই গেট বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। হজ ও ওমরাহর সময় এই এলাকার আশপাশে বিপুল মুসল্লির সমাগম ঘটে। তাই গেটটির নাম জানা থাকলে হারামের দক্ষিণ অংশে অবস্থানকারী মুসল্লিদের জন্য পথনির্দেশনা পাওয়া সহজ হয়।

 

২. কিং ফাহদ গেট: এটি মসজিদুল হারামের অন্যতম পরিচিত প্রবেশপথ। এটি হারামের পশ্চিমাংশের সম্প্রসারণ এলাকায় অবস্থিত এবং দ্বিতীয় সৌদি সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান স্থাপত্য উপাদান। এটি মসজিদুল হারামের বড় গেটগুলোর একটি। দ্বিতীয় সৌদি সম্প্রসারণে গেটটির সঙ্গে একাধিক প্রবেশপথ ও চলাচলের ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়।

৩. ওমরাহ গেট: ওমরাহ গেট মসজিদুল হারামের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দরজাগুলোর একটি। এটি হারামের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। সৌদি সম্প্রসারণের ইতিহাসেও এ গেটের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। নাম থেকেই বোঝা যায়, ওমরাহ পালনকারীদের কাছে গেটটির পরিচিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৪. সালাম গেট: বাব সালাম বা শান্তির দরজা মসজিদুল হারামের অন্যতম ঐতিহাসিক গেট। এটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। প্রথম সৌদি সম্প্রসারণের সময় গুরুত্বপূর্ণ গেটগুলোর তালিকায় এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. সাফা গেট: এটি মসজিদুল হারামের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোর একটি। সাফা পাহাড়ের কাছাকাছি হওয়ায় সাঈ সম্পাদনকারী মুসল্লিদের জন্য এ এলাকার অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদুল হারামের মিনারগুলোর ঐতিহাসিক বণ্টনের ক্ষেত্রেও বাব আস-সাফার উল্লেখ পাওয়া যায়।

মসজিদুল হারামের বিস্তৃত প্রাঙ্গণকে বোঝার জন্য কয়েকটি সাধারণ দিক মনে রাখা যেতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী হারামের আশপাশের প্রাঙ্গণগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত; এর মধ্যে উত্তরের সম্প্রসারণ এলাকা, পশ্চিমের শুবাইকা ও দারুত তাওহিদের দিক, বাদশাহ ফাহদ গেটের এলাকা এবং পূর্বদিকে বাব আলি থেকে মারওয়া পর্যন্ত অঞ্চল রয়েছে। অর্থাৎ, সাফা-মারওয়া, কাবা, প্রধান গেট এবং বিভিন্ন সম্প্রসারণ এলাকা—এসবের অবস্থান মাথায় রাখলে হারামে চলাচল অনেক সহজ হয়।

মসজিদুল হারামের প্রতিটি গেট, প্রতিটি প্রাঙ্গণ ও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান মুসলমানদের হৃদয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কোথাও রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, কোথাও নবী-রাসুল ও সাহাবিদের স্মৃতি, আবার কোথাও হজ ও উমরাহর গুরুত্বপূর্ণ আমলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক।

সুতরাং, মক্কায় যাওয়ার আগে শুধু তাওয়াফ ও সাঈর নিয়ম জানাই যথেষ্ট নয়; মসজিদুল হারামের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশপথগুলোর একটি ধারণা থাকলে ইবাদত আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হয়ে ওঠে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%