০৪:২৯ পি.এম
নরসিংদীর রায়পুরায় ওয়ালিদ হাসান (১৮) নামে একজন শিক্ষার্থীকে হত্যা করার পর কাপড়ে মোড়ানো লাশ গুম করার অভিযোগ উঠেছে ওয়ালিদের প্রেমিকা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার ফলস্বরূপ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে কথিত প্রেমিকা প্রাণা আক্তার, তার মা ফরিদা বেগম, ছোট বোন মিন্নি আক্তারসহ মোট চারজন।
শনিবার (২০ জুন) রাত ১১টা নাগাদ উপজেলা চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় প্রেমিকার বাসা থেকে ওয়ালিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ওয়ালিদ হাসান রায়পুরা পৌর এলাকার কান্দাপাড়ার আব্দুল হাইয়ের পুত্র। তিনি চলতি বছর একটি স্থানীয় স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ওয়ালিদ মা রাশেদা বেগম এবং এক ভাইয়ের সাথে নানাবাড়ি বাহেরচরে বসবাস করতেন, তাদের বাবা মা-বাবার বিচ্ছেদের পর।
প্রতিবেশী জাকির মিয়ার মেয়ে প্রাণা আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্কের কারণে ওয়ালিদ প্রাণায় জড়িয়ে পড়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেমিকার বাবা ছিলেন ওয়ালিদের ওপর ক্ষিপ্ত। কিছুদিন আগে প্রাণার বিয়ে হয় এক প্রবাসী যুবকের সাথে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত থেকে ওয়ালিদ নিখোঁজ ছিল। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সব স্থানে তার খোঁজ করেছেন।
আরও পড়ুন: চুরির বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা
এদিকে শুরুতেই প্রাণার বাড়িটি সন্দেহের তালিকায় ছিল। শনিবার রাতে ওয়ালিদের ছোট ভাই রোমানসহ কয়েকজন গোপনে ওই বাড়িতে নজর রাখছিলেন। রাত ১১টার দিকে তারা দেখতে পান, বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে কাপড়ে মোড়ানো একটি বস্তু বের হচ্ছে। এই সময় présence ছিলেন প্রাণা, তার বোন মিন্নি ও মা ফরিদা বেগম। তাদের দেখে বস্তুটি ফেলে তারা পালিয়ে যান। কাপড় সরানোর পর দেখা যায়, সেটি ওয়ালিদ হাসানের মরদেহ।
যখন এ বিষয়টি জানাজানি হয়, তখন স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জমায়েত হন। পুলিশের সদস্যরা এসে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং প্রেমিকা প্রাণা, তার মা এবং বোনকে গ্রেপ্তার করেন। ঘটনার পর থেকে প্রেমিকার বাবা জাকির মিয়া পলাতক রয়েছেন। রবিবার দুপুরে প্রতিবাদে উত্তেজিত স্থানীয়রা প্রাণার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
প্রাথমিক সুরতহালে দেখা যায়, নিহত ওয়ালিদের গলায় কালো দাগের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের বিশ্বাস, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে। নিহতের ভাই রোমান বলেন, রাতে তারা ভাইকে খুঁজছিলেন। ওই বাড়ির পেছন থেকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে সেখানেই গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন যে ফরিদা এবং তার দুই মেয়ে ওয়ালিদের মরদেহ কাপড়ে পেঁচিয়ে বের করে আনার চেষ্টা করছিল। প্রথমে তাকে ভিতরে যেতে দেওয়া হয়নি, কিন্তু লোকজন আসার সময় তারা পালিয়ে যায়।
নিহতের ফুফাতো ভাই আব্দুল্লাহ জানান, প্রাণা, তার বোন এবং মা মিলে ওয়ালিদের লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেছিল। তারা হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করতে চান। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, প্রেমিকার বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং মরদেহের গলায় কালো দাগ রয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী ওয়ালিদ হাসানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাজৈরে পরকীয়ায় বাধা, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন