০৮:৩৩ পি.এম
চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে, এই পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ নেমে আসেনি কোথাও কোমরসমান, কোথাও হাঁটুপানি রয়েছে। যেসব এলাকায় পানি কমেছে, সেগুলোতে প্রকাশ্যে আসছে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ধসে পড়া দেয়াল ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের দৃশ্য।
ফলে, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেকেই বাড়ি-ঘরে ফিরে এসেছে, কিন্তু তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছেন না। ভারী বৃষ্টিতে নতুন করে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা নিয়ে হাজারো মানুষ উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস বলেছেন, গতকাল সারা দিন বৃষ্টি পড়েনি, এজন্য পানি ধীরে ধীরে নামতে পারে। তবে, রাতে যদি আবারও বৃষ্টি হয়, তখন পরিস্থিতি অবনতি হবে। বর্তমানে গ্রামীণ সড়কগুলোতে হাটু পানি রয়েছে এবং ঘরে বসবাসের মতো পরিস্থিতি নেই। এদিকে, পর্যাপ্ত ত্রাণও আসছে না। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণগুলো বিভিন্ন নির্দিষ্ট এলাকায় চলে যাচ্ছে। বিশেষভাবে ছনুয়া, খানখানাবাদ ও শীলকূপসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ত্রাণের প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের মধ্যম মানিকপাঠান গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চিত্রও ভেসে উঠছে। মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে গেছে, ঘরের গোড়া নরম হয়ে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বীজাগারের সেন্দাদ পেরিয়ে গেছে। পানি গেলেও সেখানে জীবন স্বাভাবিক হতে মৌলিক দেরি হবে।
গ্রাম্য উলা মিয়া (৪৮) বলেন, বন্যার সময় ছেলেমেয়েদের নিয়ে তিন কিলোমিটার দূরে বৈলছড়ি ইউনিয়নে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন পানি কমার খবর শুনে বাড়ি দেখার জন্য এসেছেন, কিন্তু ঘরের মাটির দেওয়ালের গোড়া এতটাই নরম হয়ে গেছে যে, তা যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে। সেখানে ঢোকার সাহস পাচ্ছে না কেউ। একই অবস্থা পারভিন আক্তারের। তার টিন ও মাটির তৈরি ছোট্ট ঘরে বন্যার পানি ঢুকে দেওয়াল ধসিয়ে দিয়েছে। পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি পাঁচদিন বড় ভাইয়ের পাকা বাড়িতে ছিলেন। পানি কমলেও নিজ ভিটায় ফেরার পরিস্থিতি নেই।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ৫ জুলাই শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হয়েছে। বিশেষ করে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, খানখানাবাদ, কাথরিয়া, বৈলছড়ি ও ছনুয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর, বারশত, পরৈকোড়া ও হাইলধরের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া, কেওচিয়া, ধর্মপুর, বাজালিয়াসহ ১৮টি ইউনিয়ন।
এদিকে, বেসরকারি ও সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গত দুইদিনে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। আনোয়ারা উপজেলার বারখানই এলাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা উপজেলাগুলোতে ত্রাণ বিতরণে সক্রিয় রয়েছে।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদের শুভ উদ্বোধন, একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন ৯০০ মুসল্লি
বিশেষ করে নানা সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম দেওয়া হচ্ছে। বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নে ট্রাকভর্তি সহায়তা সামগ্রী নিয়ে এসেছেন আনোয়ারা উপজেলার হেটিখাইন ইয়াং স্টার ক্লাবের সদস্যরা। তাদের মধ্যে রয়েছে চাল-ডাল, শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি। তারা বলেন, ‘আমরা সাহায্য করতে আসিনি, ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। এগুলো ত্রাণ নয়, আমাদের ভাইবোনদের জন্য উপহার সামগ্রী।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন