ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৫০০ কুমিরের আবাসস্থলেই হবে ২০৩২ অলিম্পিকের ভেন্যু


৫০০ কুমিরের আবাসস্থলেই হবে ২০৩২ অলিম্পিকের ভেন্যু

২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকে রোয়িং আর ক্যানোয়িং প্রতিযোগিতা হবে এমন এক নদীতে, যেখানে বাস করে প্রায় পাঁচশো লোনা জলের কুমির। কুইন্সল্যান্ডের রকহ্যাম্পটনে অবস্থিত ফিটজরয় নদীর কোর্সটি একটি স্বাধীন প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছে।

এই মূল্যায়নে কুমিরের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। বরং দেখা হয়েছে, বিভিন্ন আবহাওয়া, পানির স্তর এবং বন্যার ঝুঁকির মধ্যে গেমসের সময় এবং তার আগের সময়টায় এই কোর্স কেমন কাজ করবে।

গেমস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন অথরিটি এই প্রতিবেদনের দায়িত্ব দিয়েছিল। তারা জানিয়েছে, ফিটজরয় রিভার ফ্ল্যাটওয়াটার ফ্যাসিলিটি ইতিমধ্যে একটি প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে স্কুল পর্যায়ের রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ, স্থানীয় রেগাটা এবং জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ শিবির হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: চড়া মূল্যে ব্লু স্টারে মেহেদী, পাত্তা পেলেন না রিশাদ

স্বীকৃত রোয়িং কেন্দ্র হওয়ায় এখানে আগে থেকেই কুমির দেখা গেলে কী করতে হবে, তার পরিকল্পনা আছে। অলিম্পিক কর্মকর্তারাও আগে রোয়ারদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।

ওয়ার্ল্ড রোয়িং এবং প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইড, যেটি আগে ইন্টারন্যাশনাল ক্যানো ফেডারেশন নামে পরিচিত ছিল, দুটি সংস্থাই এই কোর্সকে অনুমোদন দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড রোয়িংয়ের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্রিস্টফ রোলঁ বলেন, ‘বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর এখন আমরা জানি, গেমসের সময় ফিটজরয় নদী ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ দিতে সক্ষম, যা অলিম্পিক আর প্যারালিম্পিক রোয়িংয়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’।

প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইডের প্রেসিডেন্ট থমাস কনিয়েটজকো বলেন, ‘যে মানের আর গভীরতার প্রযুক্তিগত কাজ হয়েছে, তা আমাদের খেলার মাঠ সম্পর্কে বোঝাপড়া অনেক বাড়িয়েছে। এতে আমরা এবং আমাদের অ্যাথলিটরা আস্থা পাচ্ছি যে, এই কোর্স ক্যানো স্প্রিন্ট অ্যাথলিটদের জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতা দিতে পারবে’।

ব্রিসবেন ২০৩২-এর প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু লিভারিস গত বছর কুমিরের বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘সমুদ্রে হাঙর আছে, তবু আমরা সার্ফিং করি। এটা করা যায় না, এমন মানসিকতা বদলাতে হবে’।

আরও পড়ুন: ডি থ্রি টুর্নামেন্টের নিলাম ২৬ অক্টোবর শেরাটনে

বৃহস্পতিবার এই ভেন্যুর অনুমোদন পাওয়ার পর লিভারিস বলেন, ‘এই অনুমোদন আমাদের অতিরিক্ত নিশ্চয়তা দিচ্ছে, যখন আমরা ভেন্যু পরিকল্পনা আর গেমস আয়োজনের পরের ধাপে যাচ্ছি। এতে ভবিষ্যতের সব নকশা আর পরিচালনার কাজ পুরোপুরি রকহ্যাম্পটনকে কেন্দ্র করেই এগোবে’।

লোনা জলের কুমির, স্থানীয় ভাষায় যাদের বলা হয় ‘স্যালটিজ’, তারা মিঠা পানি আর লোনা পানি দুই জায়গাতেই বাস করে। এদের দৈর্ঘ্য ছয় মিটারেরও বেশি হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনটি অলিম্পিক সোনাজয়ী সাবেক রোয়ার ড্রু গিন এই ভেন্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিবিসি রেডিওকে তিনি বলেন, বন্যার ঝুঁকি আর প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নিয়ে তার সংশয় আছে। ব্রিসবেন থেকে ছয়-সাত ঘণ্টা দূরের এই জায়গায় অ্যাথলিট আর দর্শকদের অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি চিন্তিত।

গিন বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি অস্ট্রেলিয়ার প্রাণীদের ভয় পাই না, তবে কখনো কুমির আমার কাছাকাছি আসেনি’।

আরও পড়ুন: মরিনিওর লক্ষ্য শিরোপা, এল ক্লাসিকোর জয় নয়

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমি আরও জোরে বৈঠা চালাতাম, সব অ্যাথলিটই হয়তো জোরে চালাতেন। এই বিষয়টা উদ্বেগের তালিকায় আছে, তবে আমার মনে হয় না এটা সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, কিন্তু শুরুর দিকেই এটা নিয়ে কথা উঠেছিল। নদী থেকে কুমির সরিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে গেলে মনে প্রশ্ন জাগে, আন্তর্জাতিক রোয়িং সংস্থা কি সত্যিই অ্যাথলিটদের এমন ঝুঁকিতে ফেলতে চায়’।

প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের পর রোলঁ এবং কনিয়েটজকো এই ভেন্যুকে ন্যায্য বলে মনে করলেও গিনের সংশয় এখনো কাটেনি। তিনি বলেন, ‘একটা প্রতিযোগিতার ফল আধা সেকেন্ডে নির্ধারণ হতে পারে, অথচ বিভিন্ন লেনে দুই-তিন সেকেন্ডের পার্থক্য দেখা যেতে পারে, এই ভাবনাটাই আমাকে ভাবায়’।

তিনি যোগ করেন, ‘রকহ্যাম্পটন দারুণ একটা শহর বলে আমি মনে করি, তবে এভাবে ভেন্যুগুলো ছড়িয়ে দিয়ে অলিম্পিক গেমস আয়োজন করা উচিত নয় বলেই আমি মনে করি। এতে অ্যাথলিট আর দর্শকদের অভিজ্ঞতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে’।

আরও পড়ুন: কোহলি নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, জেমস প্যামেন্ট প্রশংসা করেছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল বিভাগে লোডশেডিং, হাসপাতালে গড়ে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


বরিশাল বিভাগে লোডশেডিং, হাসপাতালে গড়ে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না

দক্ষিণে সাগরকূলের শেষ জনপদ বরগুনার পাথরঘাটা। এই উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রয়েছে ৫০ শয্যার একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। গত মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টায় ১৭ বার এই হাসপাতালের বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। প্রতিবারই ১০ থেকে ৩০ মিনিট করে বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে প্রচণ্ড গরমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা বেকায়দায় পড়েন। যেসব রোগী উঠে বসতে পারেন, তারা বিছানা ছেড়ে বাইরে গিয়ে বসে ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান জানান, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি জেনারেটর থাকলেও সেটি সচল নয়।

শুধু পাথরঘাটাই নয়, বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ৩৫ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির একই দশা। কিছু কিছু হাসপাতালে জেনারেটর আছে, কিন্তু তেল সংকট দেখিয়ে চালানো হয় না। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এক বছর ধরে জ্বালানি বরাদ্দ বন্ধ। তবে বেশির ভাগ হাসপাতালে জেনারেটরই নেই। ফলে বিদ্যুতের চলমান সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও স্বজনরা। 

 

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় গড়ে অন্তত ৮ ঘণ্টা হাসপাতালে বিদ্যুৎ থাকে না। বিকল্প ব্যবস্থাও নেই এসব হাসপাতালে। জরুরি অস্ত্রোপচার কার্যক্রমও তখন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লোডশেডিংয়ের সময় রোগী ও স্বজনদের দুঃসহ সময় কাটাতে হয়। 
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর সরবরাহ করা হয়নি। ছয়টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর আছে। এর মধ্যে ১০টি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল। অর্থ বরাদ্দের অভাবে জ্বালানি কিনতে না পারায় এসব জেনারেটর চালানো হয় না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে প্যাথলজি বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ থাকছে; অস্ত্রোপচার কক্ষে ব্যাহত হচ্ছে জরুরি অস্ত্রোপচার। 

পটুয়াখালী শহরে ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, এ হাসপাতালে জেনারেটর আছে। তবে জেনারেটরের বিদ্যুৎ সংযোগ হাসপাতালের বিশেষ কিছু জায়গার জন্য নির্ধারিত। সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর ও ফুয়েল ব্যবহারের ব্যবস্থা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তেনমং জানান, হাসপাতালে জেনারেটর আছে; তেল সরবরাহ না থাকায় চলানো হয় না। বর্তমানে জেনারেটরের ব্যাটারি নষ্ট। লোডশেডিংয়ের সময় আইপিএস দিয়ে আলোর ব্যবস্থা হলেও ফ্যান বন্ধ থাকে। 

 

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান বলেন, লোডশেডিংয়ের জন্য দিনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় রোগীদের বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হয়। তখন অস্ত্রোপচারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমরানুরের ভাষ্য, নিজস্ব অর্থায়নে জেনারেটর কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে সরকারিভাবে জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় ওই সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছি।

বরিশাল নগরীতে ১০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি কবে থেকে বিকল, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, তিনি অনেক বছর আগে এ হাসপাতালে যোগদান করে জেনারেটরটি বিকল অবস্থায় পেয়েছেন। করোনা মহামারির সময়ে সেটি সচল করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৌশলীরা জানিয়ে দিয়েছেন, এটি আর সচল হবে না। 

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার জানিয়েছেন, বিভাগের ছয় জেলা শহরে ছয়টি ও ৩৫টি উপজেলায় হাসপাতাল রয়েছে। বেশির ভাগের জেনারেটর বিকল। তবে এর সঠিক সংখ্যা তিনি তাৎক্ষণিক দিতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য, জ্বালানির জন্য অর্থ বরাদ্দ খুবই সীমিত, যে কারণে কোনো হাসপাতালেই জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হয় না। চলমান লোডশেডিংয়ে হাসপাতালগুলোর অচলাবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কবর খুঁড়তে খুঁড়তেই কেটে গেল ৮২ বছর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৬ পি.এম


কবর খুঁড়তে খুঁড়তেই কেটে গেল ৮২ বছর

কবর খোঁড়ার কাজে প্রথম কোদাল হাতে ওঠে ছয় বছর বয়সে আবদুস সোবহান টুলুর। এরপর থেকে তিনি আর থামেননি। কবর খুঁড়তে খুঁড়তে ৮২ বছর কেটে গেছে। তিনি একে একে ১৫ হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়েছেন। গাইবান্ধা শহরের মমিনপাড়ার বাসিন্দা আবদুস সোবহান টুলু, যিনি স্থানীয়দের কাছে ‘টুলু চাচা’ নামে পরিচিত, অগণিত মানুষের শেষ বিদায়ের সাক্ষী। জীবনের একটি বড় অংশ তিনি মানুষের শেষযাত্রার প্রস্তুতি করে কাটিয়েছেন। কখনও ভোরে, কখনও গভীর রাতে—মৃত্যুর খবর এলেই তিনি কবরস্থানে ছুটে যান। তার লক্ষ্য হলো মানুষের শেষ সম্মান নিশ্চিত করা।

১৯৪৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর আবদুস সোবহান টুলুর জন্ম। ১৯৫০ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে বড় ভাই ও স্থানীয়দের সঙ্গে পৌর গোরস্তানে গিয়ে প্রথম কবর খোঁড়ার কাজে হাতেখড়ি হয় তার। এরপর থেকে নিয়মিত কবর খোঁড়া ও দাফনের কাজে যুক্ত হন। পৌরসভায় অস্থায়ী গোরখোদক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে বিনা পারিশ্রমিকেই কাজ করেছেন। ১৯৮৯ সালে পৌরসভায় অস্থায়ী গোরখোদক হিসেবে নিয়োগ পান। তখন তার মাসিক বেতন ছিল পাঁচ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে নয় হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দিন কিংবা রাত— শহরের কোথাও মৃত্যুর খবর এলেই টুলু চাচার ডাক পড়ে। যখন একটি পরিবার স্বজন হারানোর শোকে মুহ্যমান, তখন তিনি নীরবে কবর খুঁড়ে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

টুলু মিয়া বলেন, "কখনও ভোর হওয়ার আগেই ছুটতে হয়েছে। কখনও গভীর রাতে। নির্জন কবরস্থানে কাজ করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। দেখেছি ক্ষত-বিক্ষত লাশ। কবর থেকে আগুন বের হতে দেখেছি। জিন দেখার গল্পও শুনেছি। তবে এসবের কোনো প্রমাণ পাইনি।"

এত অল্প বেতনে এত দীর্ঘ সময় এই কাজ করে কোনো আক্ষেপ আছে কিনা— জানতে চাইলে টুলু মিয়া জানান, "তেমন আক্ষেপ নেই। মানুষের শেষ বিদায়ের কাজে থাকতে পারাটাকেই সৌভাগ্য মনে করি।" তার ভাষায়, "আল্লাহকে খুশি রাখতে পারাটাই আমার একমাত্র আরাধনা।" অভাব ছিল, এখনও আছে। কিন্তু কাজ কখনও ছাড়েননি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজটি করে যেতে চান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে শাহিনুর বেগম চৌধুরীর সঙ্গে টুলু মিয়ার বিয়ে হয়। অভাবের কারণে লেখাপড়া বেশি দূর এগোয়নি। ১৯৬০ সালে জেলা শহরের পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

তাদের সংসারে সাত মেয়ে সন্তান রয়েছে। বর্তমানে চার মেয়ে জীবিত।

স্বামীর কবর খোঁড়ার কাজকে গর্বের সঙ্গে দেখেন স্ত্রী শাহিনুর বেগম। তবে বিয়ের পর বিষয়টি তার কাছে সহজ ছিল না। তিনি বলেন, "মাঝরাতে কারও মৃত্যুর খবর এলেই ঘুম থেকে উঠে চলে যেতেন। এমনও হয়েছে, ভাত খেতে বসেছি— হঠাৎ ডাক এসেছে। ভাত রেখেই চলে গেছেন। প্রথম দিকে খুব বিরক্ত লাগত। পরে বুঝেছি, এটা শুধু তার কাজ নয়, দায়িত্ব।"

স্থানীয়দের ভাষ্য, টুলু মিয়ার কাজ কেবল কবর খোঁড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় তিনি নিজ উদ্যোগে কাফনের কাপড়, বাঁশসহ দাফনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে দেন।

৫৫ বছর বয়সী রেজাউন্নবী রাজু বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই টুলু এই কাজ করেন। তার মতো মানুষ সমাজের গর্ব।

মুনশিপাড়ার বাসিন্দা জাভেদ হোসেন বলেন, এলাকায় কেউ মারা গেলে মসজিদে ঘোষণা হলেই তাকে খবর দেওয়া হয়। তিনি কবর খোঁড়ার পাশাপাশি কাফনের কাপড়, বাঁশসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সংগ্রহ করে দেন। এমন নির্লোভ মানুষ এখন খুবই কম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’, যেখানে মেলে দেশের স্বাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’, যেখানে মেলে দেশের স্বাদ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রধান কেন্দ্র নিউইয়র্ক। তবে নিউইয়র্কের বাইরে দেশের বিভিন্ন শহর ও মেট্রোপলিটন এলাকায় শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। কিছু স্থানে দেশি খাবারের রেস্তোরাঁ ও বাজার রয়েছে, আবার কিছু স্থানে মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যবসা ও পেশাজীবীদের নেটওয়ার্কও রয়েছে, যা বাংলাদেশিদের একটি স্বতন্ত্র পরিবেশ তৈরি করেছে।

এই এলাকাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ছোট বাংলাদেশ’ বলা না হলেও, বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের উপস্থিতির জন্য অনেকেই এসব স্থানকে কথ্যভাবে ‘ছোট বাংলাদেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের আমেরিকান কমিউনিটি জরিপ অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পর বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টন উল্লেখযোগ্য।

ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান

নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক। বিশেষ করে কন্যান্ট অ্যাভিনিউ এবং আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, হালাল খাবারের দোকান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কন্যান্ট স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মসলা, সবজি, মাছ, মাংসসহ নানা পণ্য পাওয়া যায়।

হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টারের পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক ২০২১–২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, ডেট্রয়েট মেট্রো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাংলাদেশি জনসংখ্যার কেন্দ্রগুলোর একটি। ওই সময়ে সেখানে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার ছিল।

লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া

লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত এলাকা। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা এই এলাকা ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।

এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, সৌন্দর্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মুঠোফোনের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্যও এখানে পাওয়া যায়।

পিউ রিসার্চের ২০১৭–১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোতে প্রায় ৯ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

ওয়াশিংটন ও আশপাশের এলাকা

ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির আরেকটি বড় কেন্দ্র। শুধুমাত্র ওয়াশিংটন শহর নয়, বরং ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে রয়েছে।

এখানে সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, মসজিদ ও সামাজিক সংগঠনও গড়ে উঠেছে।

২০২১–২৩ সালের পিউ রিসার্চের হিসাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকায় বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার।

ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া

ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাতেও দীর্ঘদিনের বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। ২০১৭–১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, এখানে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

শহর ও আশপাশে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, হালাল খাবারের ব্যবসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আটলান্টা, জর্জিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি পরিচিত কেন্দ্র হলো আটলান্টা। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস ও বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান ও হালাল মাংসের দোকান রয়েছে। ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০১৭–১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, আটলান্টা মেট্রোতে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।

ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস

টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায়ও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের হিসাব অনুযায়ী, এই মেট্রো এলাকায় প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

ব্যবসা, পেশাজীবী নেটওয়ার্ক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এখানে বাংলাদেশি খাবার ও দেশি পণ্যের ব্যবসাও গড়ে উঠেছে।

হিউস্টন, টেক্সাস

হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বিশেষত্ব হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ও মুদিদোকানে মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ নানা পণ্য পাওয়া যায়।

২০১৭–১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, হিউস্টন মেট্রো এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।

মিয়ামি, ফ্লোরিডা

দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের হিসাব অনুযায়ী, এখানে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, হালাল খাবারের দোকান, মুদিদোকান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের কমিউনিটি ধরে রেখেছেন।

বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস

নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র বোস্টন। ২০১৭–১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, বোস্টন মেট্রো এলাকায় প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

জনসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও এখানে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবার ও সংগঠনগুলো বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি

নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত একটি কেন্দ্র। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় এখানে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল।

এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে ঘিরে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।

শুধু জনসংখ্যার দিক থেকে নয়, কমিউনিটির শক্তি বোঝার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তার বোঝার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জনসংখ্যার হিসাবই যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশি ব্যবসা, মুদিদোকান, রেস্তোরাঁ, মসজিদ, ইসলামি শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবীদের নেটওয়ার্ক কোথায় গড়ে উঠেছে, সেটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পিউ রিসার্চের ২০২১–২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিও বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় কেন্দ্র।

অর্থাৎ নিউইয়র্ক সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশিরা নিজেদের খাবার, ভাষা, ধর্ম, ব্যবসা ও সামাজিক জীবনকে ঘিরে আলাদা আলাদা কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এসব এলাকায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিচিত খাবার, দেশি বাজার ও বাংলায় আড্ডার পরিবেশ খুঁজে পান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধরলা সেতুতে বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


ধরলা সেতুতে বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

কুড়িগ্রামে ধরলা সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়কের ধরলা সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাচিচর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে খালিদ (২১) এবং একই এলাকার আফছারের ছেলে ফারুক (২৫)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খালিদ ও ফারুক মোটরসাইকেলে করে শহর থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। তারা ধরলা সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি নৈশকোচ মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তারা সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়। বাসটি শনাক্ত ও চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%