০৭:৪০ পি.এম
বর্তমান সময়ে অনেক নারী নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুরুষ বডিগার্ড বা নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করেন। যদিও জীবনের সুরক্ষা ও আত্মরক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, ইসলামি শরিয়তে নিরাপত্তার প্রকৃতি ও সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
বডিগার্ড নিয়োগের উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও, একজন অনাত্মীয় (গাইরে মাহরাম) পুরুষ বডিগার্ডের দ্বারা নারীর শরীর স্পর্শ করা কতটুকু বৈধ, তা সঠিকভাবে জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামে, একজন নারীর জন্য যেকোনো অনাত্মীয় পুরুষকে 'গাইরে মাহরাম' হিসাবে বিবেচনা করা হয়। নিরাপত্তার কারণে কোনো পুরুষকে বডিগার্ড হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অনুমতি থাকলেও, বডিগার্ড হওয়ার কারণে তিনি 'মাহরাম' বা রক্তের সম্পর্কের মধ্যে পড়েন না। শরিয়তের দৃষ্টিতে, তিনি সাধারণ পরপুরুষের মতোই গণ্য হবেন। তাই, পর্দা, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং দৈহিক দূরত্বের সাধারণ বিধানগুলো বডিগার্ডের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
আরও পড়ুন: আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ নভেম্বর ২০২৬
নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে নিযুক্ত হলেও, পুরুষ বডিগার্ডের দ্বারা নারীর শরীর স্পর্শ করা সাধারণ অবস্থায় সম্পূর্ণ হারাম এবং নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে, পরপুরুষের জন্য কোনো পরনারীর শরীর স্পর্শ করা মারাত্মক গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নারীদের কাছ থেকে বাইআত বা শপথ নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেননি। তাই কেবল ‘পাহারা দেওয়া’ বা ‘বডিগার্ড হিসেবে নিয়োজিত থাকা’র অজুহাতে শরীরের স্পর্শকে বৈধ মনে করার সুযোগ ইসলামে নেই।
তবে ইসলাম একটি বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। যদি কখনো এমন চরম জরুরি পরিস্থিতি বা আক্রমণ ঘটে যেখানে নারীর প্রাণনাশের বা অপহৃত হওয়ার প্রত্যক্ষ আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, তখনই জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষার্থে বডিগার্ড তাকে টেনে সরিয়ে নেওয়া বা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ন্যূনতম স্পর্শ করতে পারবেন। ইসলামি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, জরুরি অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়কে সাময়িকভাবে শিথিল করা হয় (الضرورات تبيح المحظورات)। তবে আক্রমণ বা প্রাণনাশের প্রত্যক্ষ ঝুঁকি ছাড়া সাধারণ সময়ে চলাফেরা, গাড়িতে ওঠানামা বা ভিড় ঠেলে পথ চলার সময় পুরুষ বডিগার্ডের শরীর স্পর্শ করা নাজায়েজ।
নারীদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও পর্দার বিধান দুটিকে একসাথে রক্ষা করার জন্য সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা হলো নারী বডিগার্ড নিয়োগ করা। এতে করে যেকোনো শারীরিক সহায়তা বা তল্লাশির প্রয়োজন হলে কোনো ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘিত হবে না। আর যদি পুরুষ বডিগার্ড রাখতেই হয়, তবে তাকে এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন দৈহিক স্পর্শ ছাড়াই এবং পর্দার মার্জিত দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।
একজন নারী নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য পুরুষ বডিগার্ড রাখতে পারেন, তবে বডিগার্ডের জন্য তার শরীর স্পর্শ করা ইসলামি বিধান অনুযায়ী বৈধ নয়। নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার যেমন সত্য, ঠিক তেমনি ধর্মীয় সীমানা ও নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়ম মেনে ও স্পর্শ এড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একজন সচেতন মুসলিম নারীর প্রধান দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন