০৫:০৯ পি.এম
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছেন ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা। রোববার চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে মিডশিপম্যান ২০২৩-বি এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৬-এ ব্যাচের গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। কমিশনপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৪ জন মিডশিপম্যান এবং ৭ জন সরাসরি কমিশন্ড অফিসার রয়েছেন। এছাড়া নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে ৫ জন নারী ও ২ জন বিদেশি কর্মকর্তা রয়েছেন।
কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যের জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পদক তুলে দেন নৌবাহিনী প্রধান। সব বিষয়ে সেরা চৌকশ মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করা মিডশিপম্যান মো. ইনতিসার ইসলাম ইনান। প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ পান মিডশিপম্যান সাদমান সাকিব পান্থ। অন্যদিকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন অ্যাক্টিং সাব-লেফটেন্যান্ট মো. আবিদ শাহরিয়ার অনু। বিদেশি প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সেরা চৌকশ মিডশিপম্যান হিসেবে ‘বিএনএ আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন জেহাদ এ. এম. সালাহ।
আরও পড়ুন: পাঁচবিবির গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, সরকারি সহযোগিতার দাবি
পরে নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শপথ গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ শেষে নৌবাহিনী প্রধান, অতিথিবৃন্দ ও অভিভাবকরা নবীন কর্মকর্তাদের এপুলেট পরিয়ে দেন।
ভাষণে নৌবাহিনী প্রধান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সরকারের ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড ও সিএনআরডি দেশীয় প্রযুক্তিতে সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম ও অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করছে। পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার, আনম্যানড এয়ারক্রাফটসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, উপকূলীয় এলাকায় শোর-বেইজড সারফেস সার্ভেইলেন্স সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সেন্টার, অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ও জ্যামার স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে।
নৌবাহিনী প্রধান বলেন, সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদের নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে অপরাধ দমন, দুর্যোগে মানবিক সহায়তা এবং সংকটকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের প্রয়োজনে সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গাইবান্ধার স্মৃতি খাতুনের সাফল্য
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সংসদ সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন