ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সেন্টমার্টিনে পর্যটকের ঢল, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছেঁড়াদিয়ায়ও ভিড়


সেন্টমার্টিনে পর্যটকের ঢল, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছেঁড়াদিয়ায়ও ভিড়

দীর্ঘ ১০ মাস পর প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটক পরিবহনে যাত্রী গণনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ট্রাভেল পাসের কিউআর কোড স্ক্যানিং হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পর্যটকরা ছেঁড়াদিয়ায় যাচ্ছেন।

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে এমভি বারো আউলিয়ার পাশাপাশি এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ নামে দুটি জাহাজ চলাচল করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এদিন তিনটি জাহাজে ১ হাজার ৬১২ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ১ হাজার ৫৩০ এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে ১ হাজার ৫৫৪ জন।

শুক্রবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাটে দায়িত্ব পালনকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ জনী সমকালকে জানান, ‘আমাদের হিসাবমতে, শুক্রবার ১ হাজার ৬১২ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্যুরিজম বোর্ডের ট্রাভেল পাসের কিউআর কোড জাহাজে ওঠার সময় স্ক্যান না করায় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পর্যটক গণনা করা কঠিন। তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ট্রাভেল পাসের কিউআর কোড স্ক্যান করার জন্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন হবে।’

আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল এবং যাত্রী যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তদারকি কমিটির আহ্বায়ক কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার সমকালকে জানান, সেন্টমার্টিনের বিষয়ে সরকারের একাধিক নির্দেশনা পরিবর্তন হয়েছে। তবে তদারকি কমিটির বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি।

বিশেষ তদারকি কমিটির পূর্বের সিদ্ধান্ত বর্তমানে বহাল আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘সেন্টমার্টিন বিষয়ে আমরা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছি।’ শুক্রবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।

যাতায়াত-নিষিদ্ধ এলাকায় পর্যটক

সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন আট বর্গকিলোমিটার। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত দ্বীপটির দক্ষিণে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ রয়েছে। সেখানে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে দিনে শত শত পর্যটক ঘুরতে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা

শুক্রবার সকাল ১০টায় ছেঁড়াদিয়ায় গিয়ে দেখা গেছে, পর্যটকরা দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ঘুরছেন। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের স্তূপে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছেন।

দ্বীপে পর্যটকদের যেসব বিধিনিষেধ মানতে হবে

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়– এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।

প্রাণচাঞ্চল্য সেন্টমার্টিন দ্বীপে

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসছেন। প্রথমবার সমুদ্র দেখতে এসে উচ্ছ্বসিত তামান্না রহমান বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার সমুদ্র দেখতে এসেছি। সেন্টমার্টিনের মতো সুন্দর একটি জায়গায় আসতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। এটি আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তার ওপর প্রথমবার দ্বীপে এসে ফুল উপহার পেয়ে আনন্দটা যেন আরও বেড়ে গেছে।’

ফারাহ খানম নামে আরেকজন বলেন, ‘এখানকার নীল সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। এই সুন্দর পরিবেশে অনেক ছবি তোলার ইচ্ছা আছে। বিশেষ করে সেন্টমার্টিনে বেশি বেশি ছবি তুলব, যাতে এই সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে পারি।’

সেন্টমার্টিন দ্বীপের হোটেল-রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কেফায়েত উল্লাহ জানান, পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং নির্বিঘ্নে দ্বীপে চলাফেরা করতে পারেন, সে বিষয়ে তারা নজরদারি করছেন। পর্যটকরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ কর্মী মিছিল বের করার চেষ্টা, গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ কর্মী মিছিল বের করার চেষ্টা, গ্রেফতার

শেরপুরে স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করার সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার গাজীরখামার ইউনিয়ন এলাকায় শেরপুর সদর থানা পুলিশ তাদের আটক করে।

সদর থানা পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোররাতে সদর উপজেলার গাজীরখামার ইউনিয়ন এলাকায় শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের পাশে একটি দল নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করছিলেন। এই সময় সদর থানার নিয়মিত টহল দল অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন গাজীরখামার উত্তরকান্দা গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে মুজাফফর আলী, শিপন মিয়ার ছেলে রমজান, বাচ্চু মিয়ার ছেলে রকিবুল ইসলাম এবং ফকির মাহমুদের ছেলে আব্দুর রহমান। তারা সকলেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, গাজীরখামার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম প্রতিরোধে আমাদের নিয়মিত টহল ছিল। স্লোগান দেওয়ার সাথে সাথে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তদন্ত করে জানা যায়, তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করে শুক্রবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিয়া এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন: এমপি হাফিজ ইব্রাহিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


জিয়া এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন: এমপি হাফিজ ইব্রাহিম

ভোলার দৌলতখানে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম উল্লেখ করেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোলার দৌলতখান মার্কাজ জামে মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি এই কথা বলেন। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে তার বক্তব্যে এমপি হাফিজ ইব্রাহিম আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক এই দিনে বন্দিদশা থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্ত করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, "আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব—এ অধিকার তিনিই আমাদের দিয়ে গেছেন।"

এমপি হাফিজ ইব্রাহিম আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বার নির্বাচন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যাতে বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের রেখে যাওয়া অমীমাংসিত জমিজমাসহ নানা সমস্যার সমাধান হয় এবং মাদকমুক্ত সমাজ ও এলাকার উন্নয়ন সম্ভব হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান, দৌলতখান থানার ওসি ফখরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইকবালসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাম্য ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে মানবিক দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার : ডেপুটি স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ এম


সাম্য ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে মানবিক দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার : ডেপুটি স্পিকার

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, সরকার সকল ধর্মের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করে সাম্য, স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছে।

তিনি শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬- এর প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, আমাদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে পাহাড়, সমতল, জাতি-গোষ্ঠী কিংবা ধর্ম কোনো বিভাজনের কারণ হতে পারে না। আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। সবার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন এবং বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। প্রত্যেক ধর্মই সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের কথা বলে। ধর্মীয় অনুশাসন যথাযথভাবে পালন করলে সমাজব্যবস্থা আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হবে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজা ছিল অত্যন্ত উৎসবমুখর। এত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর দুর্গাপূজা আগে কখনো এই দেশে পালন করা হয়নি। এর অন্যতম কারণ হলো বর্তমানে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা ফিরে পেয়েছি, যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের আইনি অধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সবাই পরিপূর্ণভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা উপভোগ করছে।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রসিদ্ধ ও শাণিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সব শ্রেণিগোষ্ঠীকে একত্রিত করে প্রথম এই দেশে ১০টি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার মধ্যে নেত্রকোণার দুর্গাপুরেও একটি কালচারাল একাডেমি রয়েছে। দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমরা কালচারাল একাডেমির কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করতে চাই।

তিনি ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬- এর আয়োজকদের দাবির প্রেক্ষিতে আশ্বাস দেন যে, বনানী এলাকায় একটি কালচারাল একাডেমি এবং একটি গির্জা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শিগগিরই গ্রহণ করা হবে।

ডেপুটি স্পিকার আরও জানান, আসন্ন বড়দিন-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে খ্রিষ্টীয় ধর্মাবলম্বীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করার জন্য আবেদনের চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি অর্থাৎ ৩ কোটি টাকা অনুদান দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

কায়সার কামাল তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর শাসনব্যবস্থাই দেখতে চায়; যিনি এভাবে সব ধর্মের প্রতি, মানবতার প্রতি এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল থেকে প্রতিটি মানুষের অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করবেন।

তিনি যোগ করেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিজম থেকে মুক্ত হয়ে আমরা একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা অতীতকে ভুলে সকলের অংশগ্রহণে আগামী দিনে এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে প্রত্যেকের মানবিক মর্যাদা থাকবে, সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে।’

গণতন্ত্রকে শাণিত করার জন্য এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য তিনি শ্রেণি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ওয়ানগালা উদযাপন কমিটি ২০২৬- এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬- এর নকমা জন দ্রং।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা ওয়ানগালার প্রাক্তন নকমা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক দীপঙ্কর রিছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আন্দ্রিয় দ্রং, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ডা. মো. আনোয়ারুল কবির, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউর রহমান ফাহিম, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান, ঢাকা কর অঞ্চল-৩-এর যুগ্ম কর কমিশনার কর্ণেলিউস কামা, নয়ানগর ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি রিপন রিচার্ড সরদার, ঢাকার দি ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল গোমেজ এবং গুড নেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড বার্টিন গোমেজ।

মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬- এর স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। আলোচনা পর্ব শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

উৎসবে গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যান্ডোক্রাইনোলজির জন্য জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ এম


অ্যান্ডোক্রাইনোলজির জন্য জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত দেশের ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এবং অন্যান্য হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য অ্যান্ডোক্রাইনোলজির মতো একটি জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি সুপরিকল্পিত অ্যাডভোকেসি শুরু করার পরামর্শও দিয়েছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে নবম আন্তর্জাতিক অ্যান্ডোক্রাইন কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য অনেক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তবে অ্যান্ডোক্রাইনোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো কোনো জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, "ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও স্থূলতাসহ হরমোনজনিত নানা জটিলতায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ভুগছেন।"

ড. এম এ মুহিত বলেন, বারডেম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে অ্যান্ডোক্রাইনোলজি নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে। তিনি বলেন, "এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হবে।" এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর স্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।

স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতীতে বিভক্তি ও মানুষকে অসম্মান করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী সেই সংস্কৃতি ভেঙে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার নিরলস চেষ্টা করছেন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ইতিবাচক চর্চা সমাজ ও স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

তরুণ চিকিৎসকদের গবেষণায় আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. মুহিত বলেন, মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় ও রোগতাত্ত্বিক নানা বিষয়ের সঙ্গে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও স্থূলতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে তরুণ চিকিৎসকদের গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের তরুণ গবেষকেরা আন্তর্জাতিক গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন এবং আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে বাংলাদেশের উপাত্ত ও গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করবেন।

অনুষ্ঠানে সোসাইটির সভাপতি ড. ফারিয়া আফসানার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের চিফ পেট্রোন ফারুক পাঠান, ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং রিসার্চ সেক্রেটারি ডা. নাজমা আক্তার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%