০৫:০৫ পি.এম
জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার উদ্যোগ সরকার নিয়েছে। ক্যানসার, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, লিভার ডিজিজ, থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ক্ষেত্রে এই অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো এখন শুধুমাত্র বিএনপির নয়, এটি পুরো জাতির ম্যানিফেস্টো। তিনি উল্লেখ করেছেন, জনগণ বিএনপিকে দেশের সেবা করার দায়িত্ব দিয়েছে। সেই কারণে সেই ম্যানিফেস্টো এখন জাতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্যে পরিণত হয়েছিল, যা এক ধরনের ‘ম্যাগনা কার্টা’র মতো। প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এ কর্মসূচির পাইলটিংয়ের দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এবং জুন মাসের মধ্যেই তৃতীয় ধাপ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বর্তমানে এই কর্মসূচিটি ৮০ হাজার পরিবারের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে এই সেবা পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমাতে ব্যাংক পর্ষদে নতুন ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে জাহিদ হোসেন বলেন, ”আগে দুস্থ ভাতা, বিধবা ভাতা, এতিমদের জন্য ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট এবং প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হলেও এখন প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।” সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেছেন, সরকার আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সামাজিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সরকারের কার্যক্রম চলছে। প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার সব দিক থেকে কাজ করছে।
এতিম ও প্রতিবন্ধীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করার বিষয়টিও গুরুত্বারোপ করেন ডা. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, “শুধু সেবা প্রদান নয়, বরং অর্থবহ সেবা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।” এতিমদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও দেওয়া হবে। সেলাই বা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিলে তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট উপকরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা আত্মকর্মসংস্থান অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
তিনি আরও বলেন, কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণের সঙ্গে ভাষা শিক্ষা সংযুক্ত করা হচ্ছে, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন। প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো ব্যক্তির সামগ্রিক সক্ষমতাকে নির্ধারণ করে না। কারও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলে তার অন্য দক্ষতাও থাকতে পারে। সরকারের লক্ষ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে সবাই নিজেকে সমাজের অংশ হিসেবে মনে করবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
মন্ত্রী আরও জানান, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সচিব, প্রতিমন্ত্রী এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে তিন দিনব্যাপী ব্রেইনস্টর্মিং কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে একটি চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে আগামী ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও মন্তব্য জানতে পারা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন