০৪:১৮ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ার কারণে স্বামীকে গলা এবং দুই হাতের রগ কেটে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে থাকা সিরিজের কারণে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হিসেবে পরিচিত একটি রক্তমাখা চাপাতি ও একটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টার সময় দেলপাড়ার চানাচুর ফ্যাক্টরি গলির একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া জাহাঙ্গীর আলম জনি (৪১) নামে ওই ব্যক্তির মরদেহ মিলেছে। তিনি ঢাকার কদমতলী থানার ঢালকানগর বৈশাখী হাউজিং এলাকার আব্দুস শাকুরের ছেলে।
ঘটনার সাথে জড়িত নিহতের স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নিকে (৪৫) গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
স্থানীয়দের মতে, ফারজানা আক্তার মুন্নি দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম জনি। একসময় জনি মুন্নির প্রথম স্বামীর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় তাদের মধ্যে প্রেমময় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে মুন্নি প্রথম স্বামীর সংসার ত্যাগ করে জনিকে বিয়ে করেন। এরপর তারা একত্রে দেলপাড়ার চানাচুর ফ্যাক্টরি গলিতে একটি বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতে শুরু করেন। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, জাহাঙ্গীর আলম জনি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলের বারে চাকরি করতেন। এজন্য অন্য নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে, এ সন্দেহ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রবিবার রাতে খাবারের সঙ্গে পাঁচটি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ানো হয়। পরে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চাপাতি দিয়ে তার গলা কেটে এবং দুই হাতের রগ কেটে হত্যার কাজটি সম্পন্ন করা হয়।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে। একইসাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা রক্তমাখা চাপাতি ও ছুরি জব্দ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন