মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৭ পি.এম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রকাশিত হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায় ঘোষণার পর প্রধান বিচারপতির প্রবেশপথের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তবে ককটেলটি কে বা কারা ছুড়ে ফেলেছে, তা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
মামলাটির যুক্তিতর্ক ১৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয় ট্রাইব্যুনাল। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির প্রবেশপথের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন নোয়াখালী জেলা বিএনপি'র সাবেক সদস্য ও কবিরহাট পৌর বিএনপি'র আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু। ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
দলীয় নেতা-কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজপথের আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকার পাশাপাশি প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা দলের সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
মঞ্জু আরও উল্লেখ করেন, দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন ও বিভিন্ন সংকটাপন্ন সময়ে যেসব নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একাংশের মতামত, কেবল তরুণদের উদ্যম দিয়ে রাজনীতি পরিচালিত হতে পারে না; বরং এর সঙ্গে প্রয়োজন জ্যেষ্ঠ নেতাদের গঠনমূলক পরামর্শ, সংযম ও কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তা।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে সামনের দিকে এগোতে হলে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
তবে অভিজ্ঞতার আলোকে দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ হবে—এমনটাই প্রত্যাশা দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন বছর শুরু হতে তিন মাসেরও বেশি সময় বাকি রয়েছে। তবে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দৃষ্টি ২০২৭ সালের ক্যালেন্ডারের দিকে। পবিত্র রমজান কবে শুরু হবে, তা নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। বর্তমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের রমজান শুরু হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি। এই হিসাব অনুযায়ী, রমজান মাস আসতে আর ১৫০ দিনেরও কম সময় বাকি রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে রমজানের নতুন চাঁদ দেখার ওপর।
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানাচ্ছে, গত শনিবার ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাস শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে রমজান শুরুর অপেক্ষা এখন শেষ পাঁচ চন্দ্রমাসে এসে পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পবিত্র মাসটি শুরু হতে আর ১৪৬ দিন বাকি রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রবিউস সানি মাসের চতুর্থ দিন। বর্তমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের রমজান শুরু হতে পারে সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি)। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজান শুরুর চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে।
গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের একই তারিখে পরপর দুই বছর রমজান শুরু হয় না। কারণ ইসলামি ক্যালেন্ডারে মাসের হিসাব চাঁদ দেখে করা হয়। ইসলামি বছর ৩৫৪ দিনের, যা গ্রেগরিয়ান বছরের চেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন কম। এই কারণে প্রতিবছর রমজান আগের বছরের তুলনায় কিছুটা আগে শুরু হয়।
এভাবে প্রতি বছর রমজানের তারিখ প্রায় ১০-১১ দিন করে এগিয়ে আসে। ফলে প্রায় ৩৩ বছরের মধ্যে বছরের সব ঋতুতেই মুসলমানরা রমজান পালনের সুযোগ পান।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, রোববার সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। ওইদিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে সেদিন রাতেই প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করা হবে এবং পরদিন সকালে মুসলমানরা রোজা রাখা শুরু করবেন।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিন হতে পারে। এরপর শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে ঈদুল ফিতর পালিত হবে। ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ধরা হচ্ছে বুধবার, ১০ মার্চ। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে নতুন চাঁদ দেখার ওপর।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, পবিত্র রমজান ইসলামি ক্যালেন্ডারের নবম মাস। মুসলমানদের কাছে এটি বছরের সবচেয়ে পবিত্র সময় হিসেবে বিবেচিত। এই মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয়েছিল।
রমজান মাসজুড়ে মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন। এ সময় নামাজ, দান-সদকা, আত্মসংযম, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের ওপরও বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লেখা এক চিঠিতে তাঁর দেশের প্রতি রাশিয়ার ‘অটুট সমর্থনের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে ‘পবিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়টি জানায়।
এএফপি সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে উত্তর কোরিয়া ক্রেমলিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার বিনিময়ে পিয়ংইয়ং অর্থনৈতিক সুবিধা ও সামরিক প্রযুক্তি লাভ করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা গত বছর জানিয়েছিল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রায় ২ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা নিহত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, নিহত ও আহত মিলিয়ে উত্তর কোরীয় সেনার সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) মঙ্গলবার কিমের চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, তিনি লিখেছেন, দেশের নিরাপত্তা স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য চলমান ‘পবিত্র যুদ্ধে’ রাশিয়ার বিজয়ের ব্যাপারে তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।
কিম চিঠিতে পুতিনকে তাঁর ‘প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়া এবং রুশ জনগণের প্রতি উত্তর কোরিয়ার অবিচল সমর্থন থাকবে।
তিনি আরও জানান, রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও গভীর করার বিষয়ে তাঁর এবং উত্তর কোরিয়া সরকারের অবস্থান নিঃসন্দেহে দৃঢ়।
এদিকে, কিমের চিঠি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া আরও সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইউক্রেনের দাবি, ‘উত্তর কোরিয়ার আরও ৫০ হাজার সেনা রাশিয়ায় মোতায়েন করা হতে পারে। তবে কিয়েভ এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি। এসব সেনা কবে মোতায়েন হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।’
এ দাবির পাশাপাশি জেলেনস্কি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সিউল এখনো এ অনুরোধের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে" স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর উত্তরার একটি অবৈধ মদেরবার ও জুয়ার ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে র্যাব-১। এই অভিযানে সাড়ে ১৭ লাখ টাকার দেশি-বিদেশি মদ ও বিয়ারসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৭৭৯টি মদের বোতল ও বিয়ার ক্যান (মোট ৪৭০.৮৬ লিটার) জব্দ করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১২ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডের ‘আজিজ স্কয়ার’-এর ৫ম তলায় অবস্থিত ‘উত্তরা লিবার্টি ক্লাবে’ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—উত্তরা লিবার্টি ক্লাবের সহকারী ম্যানেজার মো. রাসেল (২৮) এবং ক্লাবের কম্পিউটার অপারেটর মো. নয়ন মিয়া (৩৮)। মো. রাসেল বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানার উত্তর সুতাল লরী গ্রামের মো. অলি উর রহমানের ছেলে এবং নয়ন মিয়া ঢাকার বাড্ডা এলাকার মো. নবি হোসেনের ছেলে।
র্যাব জানিয়েছে, "চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে" স্লোগানের আওতায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্লাবের সভাপতি ও অন্যান্য কর্মচারীরা পালিয়ে যান।
জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃতদের ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ক্লাবের সভাপতিসহ পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ