ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে চায় বাংলাদেশ


তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ঢাকায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক শেষে গত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের আলোচনা একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও ছিল। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা সম্পর্কে অবহিত করেছি এবং তুরস্কের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিভিন্ন বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের প্রতি আমরা আমাদের সমর্থন জানাই।

আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আজ সকালে আমাদের নিজস্ব বৈঠকে আলোচনা করেছি এবং একমত হয়েছি যে বাংলাদেশ তুরস্কের মতো বন্ধুদের সহায়তার জন্য সহযোগিতা, শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ভাগ করে নেওয়া সমৃদ্ধি প্রচারের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং আমাদের দুদেশের মানুষের স্থিতিশীল উন্নয়নের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জোর দিয়ে বলছি, এই সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসেছে এবং সহযোগিতা গভীর এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে উভয়ের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগ নিয়ে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিল্প অংশীদারিত্বের লক্ষ্যে বিনিয়োগ করতে তুরস্কের বিনিয়োগ প্রচার সংস্থার সহযোগিতা সম্প্রসারণের সময় এসেছে। আমরা তুর্কি সহযোগিতা সংস্থার সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য অনুরোধ জানাই। এছাড়া তুরস্কের সম্ভাব্য বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেছি যেমন টেক্সটাইল, অ্যাপারেলস, প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইসিটি, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ। বিশেষ করে, আমরা প্রস্তাব করছি যে তুরস্ক ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট তৈরি করতে পারে। আমরা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি বৃত্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তুরস্কে বসবাস করছেন এবং তাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দুই দেশের মধ্যে ছাত্র বিনিময়সহ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়টি জন্য আমি হাকান ফিদানকে সহযোগিতা, সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ উন্নত করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।

তাছাড়া, রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা সংকট। আমি নিজে পূর্ববর্তী অবস্থানে রোহিঙ্গা বিষয়গুলির জন্য উচ্চ অনুতপ্ত ছিলাম। আমি এই সমস্যার পরিধি এবং গুরুত্ব ভালোভাবে বুঝতে পারি। গত সপ্তাহে জাতিসংঘে আমি আমাদের অগ্রাধিকার রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন বলে জানিয়েছিলাম। ৯ বছর পেরিয়ে গেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সংকট সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক গুরুতর প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই পদক্ষেপগুলো একত্রিত করতে হবে। আমরা কৃতজ্ঞ যে তুরস্ক এই সংকট সমাধানে মানবিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সহায়তা দিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তার মানবাধিকারের লঙ্ঘন: আখতার হোসেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যমে কোনো সংবাদ প্রচারে বাধা দেওয়া হয়নি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ পি.এম


গণমাধ্যমে কোনো সংবাদ প্রচারে বাধা দেওয়া হয়নি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের আমলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারে বাধা দেওয়ার ঘটনা হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় উদ্বোধন ও আলোচনা সভায়।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অতীতের দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল না, তবে বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

এছাড়াও, তিনি এই সময় মিথ্যা তথ্য, ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপতথ্যের মোকাবিলা করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান।

ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপতথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর আরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

এদিকে, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনও সভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে হলে অপরাধীদের বাদে সবার সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

সামাজিকভাবে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে এলাকার সমস্যাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোর সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সব স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সব স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে সংস্কার করে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সব স্মৃতি সংরক্ষণ করার কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

মন্ত্রী শুক্রবার (৫ জুন) সকালে চট্টগ্রামের পুরোনো সার্কিট হাউস ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী এই সময় বলেন, মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষায় যা প্রয়োজন, মন্ত্রণালয় তার সবকিছুই করবে।

এছাড়া, চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার শহীদ জিয়ার স্মৃতি মুছে দিতে এ স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ করেছিল। শহীদ জিয়ার স্মৃতি সংরক্ষণ করে নতুন করে আবার এ কমপ্লেক্স চালু করা হবে।

মন্ত্রী পরিদর্শনের সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। জাদুঘরের বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভূমিকম্পে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ে মেরামত করা হবে। সংস্কারকাজ শেষে এটি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

জাদুঘর পরিদর্শনের পরে, নগরের আলমাস মোড়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘মুক্তি ইনডোর কমপ্লেক্স’ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এরপর তাদের চট্টগ্রামের স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে গরমের দাপট বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


রাজশাহীতে গরমের দাপট বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ কী?

মধ্য মে থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা তাপপ্রবাহ বইছে। এর মধ্যেই রাজশাহীতে গেল কয়েকদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে মাঝারিতে রূপ নিয়েছে। অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে মানুষ, প্রাণী, ফসল ও প্রকৃতি সবকিছু ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আর আগের দিন বুধবার (৩ জুন) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। সোমবার (১ জুন) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। রোববার (৩১ মে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেটিকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলে এবং ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেটিকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সেটি অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

রাজশাহীতে গরম বাড়ানোর কারণ হিসেবে মৌসুমি বায়ুর দেরিতে প্রবেশ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে কংক্রিটের আধিক্য ও গাছপালা কমে যাওয়ার ফলেও গরম বাড়ছে। দিনের ব্যাপ্তি দীর্ঘ থাকার কারণে ভূপৃষ্ঠ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

সাধারণত জুন মাসের শুরুতেই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত বাড়ে এবং তাপমাত্রা কমে যান। তবে মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় মেঘমুক্ত আকাশে সূর্যের আলো সরাসরি ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিত অংশও গরমের তীব্রতা বাড়াচ্ছে।

বর্তমানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। একই সঙ্গে বাতাসের গতি কম থাকায় গরম বাতাস স্থির হয়ে থাকে। এই অবস্থায় শরীর থেকে ঘাম দ্রুত শুকায় না এবং প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হয়।

পরিবেশবিদদের মতে, ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং গাছপালা ও জলাশয় কমে যাওয়ার কারণে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রাজশাহী বেশি উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে। গ্রীষ্মকালে দিনের বেলা বড় হওয়ার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের তাপ ভূমিতে পড়ে এবং পরিবেশে তাপ জমে থাকে।

নগরের কয়েকটি এলাকা যখন ঘুরে দেখা হয়েছে, তখন সেখানে পিচগলা রাস্তায় একটু স্বস্তির খোঁজে পথচারীরা আখের রসের দোকানে ভিড় করছেন। চোখের সামনে কল থেকে বের করা শীতল এক গ্লাস আখের রস পান করছেন তারা। অতিরিক্ত গরমে তৃষ্ণা মেটাতে সাধারণ মানুষ ডাবও খেতে দেখা যাচ্ছে।

আবহাওয়ার সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, রাতের আকাশ প্রধানত পরিষ্কার থাকলেও ভ্যাপসা গরম কাটছে না। রাতের তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শরীরে তা প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে। মধ্যরাতের দিকে তাপমাত্রা সামান্য কমে ২৯ থেকে ২৮ ডিগ্রিতে নামলে আর্দ্রতা প্রায় ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে।

রিকশাচালক রহমত মিয়া জানান, রাস্তার পিচ থেকে মনে হচ্ছে আগুনের ভাপ উঠে৷ রিকশার সিটে বসা যায় না। একটু পর পর গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পেটের দায়ে এই জানমারা গরমেও রিকশা নিয়ে বের হতে হচ্ছে।

ট্রাফিক কনস্টেবল মো. আসাদুজ্জামান জানান, মাথার ওপর চড়া রোদ আর চারপাশের গাড়ির গরম ইঞ্জিনের ধোঁয়ায় দম আটকে এসেছে। ডিউটি তো করতেই হবে, তাই পকেটে স্যালাইনের পানি রেখে একটু পর পর খেয়ে শরীরটা কোনোমতে টিকিয়ে রাখছি।

বিভিন্ন এলাকায় ঘুরলে দেখা যায়, প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বাজার, সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি কম। তবে জীবিকার তাগিদে যাদের বাইরে থাকতে হচ্ছে, তাদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণ শ্রমিক, খেতমজুর ও দিনমজুররা কাজ করছেন খোলা আকাশের নিচে। কয়েকজন জানান, দুপুরের দিকে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, টানা কয়েকদিন তাপদাহ চলছে। তবে তাপমাত্রা কমে আসবে। এর মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেসব নারীরা নিজেদের ভুল কখনোই স্বীকার করেন না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


যেসব নারীরা নিজেদের ভুল কখনোই স্বীকার করেন না

ভুল করা মানুষের জন্য স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু সেই ভুল স্বীকার করা বা ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতা সবার মাঝে থাকে না। মনোবিজ্ঞান এবং জ্যোতিষশাস্ত্র উভয় ধরণের ভাবনায় বলা হয়, কিছু মানুষের মধ্যে অহংকার, জেদ এবং আত্মমর্যাদাবোধ এত বেশি থাকে যে তারা সহজে নিজের ভুল মেনে নিতে সক্ষম হন না।

জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিকোণে, নির্দিষ্ট কয়েকটি রাশির নারীদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। তাদের মধ্যে অনেক সময় ভুল বোঝা হলেও প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতে চান না এবং নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন।

মেষ রাশি,

মেষ রাশির নারীরা স্বাধীনচেতা এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে থাকেন। তারা সম্পর্কের চেয়ে অনেক সময় নিজেদের অবস্থানকেই বেশি গুরুত্ব প্রদান করেন, ফলস্বরূপ সহজে ক্ষমা চান না।

বৃষ রাশি,

বৃষ রাশির নারীরা জেদি স্বভাবের হন এবং নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। ভুল হলে তা মানতে তাদের সময় লাগে বেশ।

সিংহ রাশি,

সিংহ রাশির নারীদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ এবং অহংকার উপস্থিত থাকে অধিক। তাঁদের জন্য ভুল স্বীকার করলে মর্যাদা কমে যাবে—এমন চিন্তা থেকে তারা অনেক সময় ক্ষমা চান না।

কন্যা রাশি,

কন্যা রাশির নারীরা নিজেদের নিখুঁত মনে করেন। সুতরাং, ভুল হওয়া একান্তে মেনে নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

বৃশ্চিক রাশি,

বৃশ্চিক রাশির নারীরা অত্যন্ত জেদি এবং রহস্যময় হয়ে থাকেন। নিজের ভুল ঢাকতে কিংবা এটি এড়িয়ে যেতে তারা অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

মকর রাশি,

মকর রাশির নারীরা বাস্তববাদী এবং কঠোর ব্যক্তিত্বের অধিকারী হন। তারা ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে যুক্তি দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পছন্দ করেন।

কুম্ভ রাশি,

কুম্ভ রাশির নারীরা স্বাধীনচেতা ও উদাসীন স্বভাবের হয়ে থাকেন। তারা সাধারণত ভুল নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এমনকি ক্ষমা চাওয়াও এড়িয়ে যান।

জ্যোতিষের মতে, কিছু রাশির নারীদের মধ্যে জেদ, আত্মসম্মান এবং স্বাধীনচেতা মনোভাব এতটাই প্রবল থাকে যে তারা সহজে “আমি ভুল করেছি” এই কথাটি বলতে চান না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%