ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিউরোচেক প্রো’র প্রতিষ্ঠাতা সিইও তানহা তাবাসসুম হেলথ এশিয়া কনফারেন্স ২০২৬ যোগদান


নিউরোচেক প্রো’র প্রতিষ্ঠাতা সিইও তানহা তাবাসসুম হেলথ এশিয়া কনফারেন্স ২০২৬ যোগদান
 পাকিস্তানের করাচিতে ৩ দিনব‌্যা‌পি ২৩তম হেলথ এশিয়া কনফারেন্স ২০২৬ সম্প্রতি ১০ হ‌তে ১২ সে‌প্টেম্বর পাকিস্তানের বৃহত্তম বার্ষিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিল্প বিষয়ক সভায় বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক ও গবেষকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হ‌য়ে‌ছে।
 
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সর্ব প্রথম স্বাস্থ্য প্রযুক্তি অ্যাপ প্রতিষ্ঠান নিউরোচেক প্রো-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী (সিইও) ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চট্টগ্রা‌মের কৃ‌তি সন্তান তানহা তাবাসসুম "ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার রূপান্তর" এই বছরের প্রতিপাদ্যের অধীনে, পাকিস্তান সেন্টার ফর ডিজিটাল হেলথ এবং পাকিস্তানের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রবিধান ও সমন্বয় মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত চতুর্থ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য সম্মেলনে একজন আন্তর্জাতিক বক্তা হিসেবে যোগদান করেন।
 
তানহা তাবাসসুম ব‌লেন, পাকিস্তানের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী, সৈয়দ মুস্তফা কামালের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং দেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি শোনাও আমার জন্য একটি বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয় ছিল।
যুক্তরাজ্যের এডিএইচডি এবং অটিজম মূল্যায়নের প্রথম অ্যাপ নিউরোচেক প্রো-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও হিসেবে, আমি উপস্থিত সকলের সামনে একটি সমস্যা তুলে ধরি: রোগ নির্ণয়ের জন্য অপেক্ষার কারণ কোনো অসুবিধা নয়, বরং এমন একটি ব্যবস্থা যা আজকের চাহিদার বিশালতার জন্য কখনোই তৈরি হয়নি এবং নিউরোচেক প্রো এই শূন্যস্থানটিই পূরণ করে। এটি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে একটি রেকর্ডে রাখে, যার ফলে রোগীরা স্বাধীনভাবে শুরু করতে পারেন এবং চিকিৎসকরা সরাসরি রোগ নির্ণয়ে যেতে পারেন।
 
 
একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও এবং স্বাস্থ্যসেবা নেতাদের সাথে একটি গোলটেবিল বৈঠক, যা পাকিস্তানের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাননীয় মুহাম্মদ আরশাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমি পাকিস্তানে স্নায়ুবিকাশজনিত রোগ নির্ণয়ের অগ্রগতি সাধনের বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছিলাম।
এত বড় ব্যবধান কোনো একটি প্ল্যাটফর্ম একা পূরণ করতে পারে না; প্রযুক্তি সুযোগের পরিধি বাড়ায়, কিন্তু কেবল তারাই এটিকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নিয়ে যায়, যারা একসাথে কাজ করতে ইচ্ছুক। পাকিস্তানের চিকিৎসক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আমি যে আন্তরিকতা পেয়েছি যা বিচারবুদ্ধির সাথে আপোস না করে প্রযুক্তিকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে, প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না তার উপর নয়—তা এই অঞ্চলকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রেখেছে।
 
উল্লেক্ষ‌্য তানহা তাবাসসুম বাংলাদেশী বি‌শিষ্ট কূটনীতিক এবং যুক্তরাজ্যে, মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সফল সা‌বেক রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের পুত্রবধূ।
প‌রি‌শে‌ষে তানহা তাবাসসুম, আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এবং করাচিতে পুরো সময়টা উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ড. জাকিউদ্দিন আহমেদকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। এটি পাকিস্তানে আমার প্রথম সফরও ছিল, এবং করাচি আমার মনে এক গভীর ছাপ রেখে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৯ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ পি.এম


শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৯ লাখ টাকা

হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্সের গণনা চতুর্থবারের মতো সম্পন্ন হয়েছে। ৩৪ দিন পর দানবাক্সটি খুলে পাওয়া গেছে প্রায় ৮৯ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে স্বর্ণ এবং ১৫টি দেশের মুদ্রাও। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক (সিসিক) আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বাক্সে পাওয়া দানের হিসাব ঘোষণা করেন।

 

এর আগে সকাল ১০টা থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর দরগাহে বসানো ৩টি দানবাক্স ও ৩টি ডেগ থেকে টাকা সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দানবাক্স ও ডেগের সিলগালা খুলে টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে প্রায় অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী মিলে দিনভর সেগুলো গণনা করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম প্রাপ্ত দানের হিসাব ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, এবার দান হিসেবে মিলেছে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ, ব্রিটিশ ৫ পাউন্ড, ভারতীয় রূপি ৩ হাজার ৯৫৪, থাইল্যান্ডের ৫ বাথ, সৌদি আরবের ৯৯.২৫ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, ৮ মার্কিন ডলার, ওমানের ৯০৩ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৫৭.২৫ দেহরাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১.৫০ রিয়াল, ৩০.১০ ইউরো, বাহরাইনের দশমিক ২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ টিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রূপিয়াহ পাওয়া গেছে। এছাড়া দান হিসেবে ৬টি গরু ও ১১টি ছাগলও পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে লঙ্গরখানায় খাবারের জন্য জবাই করা হয়েছে ৫টি গরু ও ৬টি ছাগল। ৪টি ছাগল বিক্রি করে লঙ্গরখানার স্টাফদের মজুরি প্রদান করা হয়েছে এবং একটি করে গরু ও ছাগল গরিব দুই মেয়ের বিয়েতে দান করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৫ আগস্ট ৩৪ দিন পর তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওই সময় পাওয়া গিয়েছিল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শাল্লায় পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধন অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


ডেঙ্গু প্রতিরোধে শাল্লায় পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধন অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের শাল্লায় পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধন অভিযান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শাল্লা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াসচন্দ্র দাসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে শাল্লা সদর ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের কাঁচাবাজার, মধ্যবাজার, থানা রোড, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি মশা নিধনের মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ওষুধ ছিটানো হয়।

এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডেঙ্গু রোগের বিস্তার, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

অভিযানে শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায়, শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল, বাজার কমিটির সভাপতি ব্রজেশ রঞ্জন চৌধুরী, বাজারের ব্যবসায়ী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রান্তের মৃত্যুর ১১ দিন পর বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৮ পি.এম


প্রান্তের মৃত্যুর ১১ দিন পর বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটে তরুণ চিকিৎসক পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্তের (৩১) মৃত্যুর ১১ দিন পর তার বাবা পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কে অবস্থিত ‘ভটের ফার্মেসি’র দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তী ওই ফার্মেসির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতেন। ‘ভটের ফার্মেসি’ তাদের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তাঁদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সাবিয়া গ্রামে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে তাঁদের পরিবার ‘ভটের বাড়ি’ (ব্রাহ্মণ বাড়ি) নামে পরিচিত। প্রায় দুই বছর আগে পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর স্ত্রী মারা যান।

শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা দরজা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।

মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক মনোজ কুমার সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার রাতেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর একমাত্র ছেলে চিকিৎসক পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্তের মৃত্যু ঘটে। ছেলের মৃত্যুর পর তিনি বিমর্ষ ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছেলেকে হারানোর শোক থেকে পূর্ণেন্দ্র আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ডা. পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্তের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ছিলেন।

জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে প্রান্তের বিয়ে হয়েছিল। তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনেই চিকিৎসক। নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে তখন নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘একটি ছেলে ফোন করে ১ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৯ পি.এম


‘একটি ছেলে ফোন করে ১ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে’

মাত্র ১০ দিন আগে খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন আজমুল হোসেন, যিনি আযম নামেও পরিচিত (২৩)। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলামনগর রোডের চারতলা একটি মেসে বসবাস করতেন। সেখানে ভাত চুরি করার অভিযোগে তাকে সহপাঠী ও বহিরাগতদের দ্বারা মারপিট করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা ঘটে গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে।

নিহত আজমুল চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিন ও আসমা বেগমের বড় ছেলে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আজমুলকে মারপিট করে চারতলা ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলামনগর রোডের চারতলা ভবনটি ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই মেসে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী বসবাস করেন। আজমুল ডি-৮ কক্ষের ভাড়াটিয়া ছিলেন। মেসের বর্তমান ম্যানেজার মেহেদী, যিনি গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, ডি-২ কক্ষে থাকেন।

তারা জানান, শুক্রবার রাতে আজমুলের বিরুদ্ধে মেসের ভাত খেয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় মেস ম্যানেজার মেহেদীসহ অন্যান্য ছাত্র এবং বহিরাগতরা তাকে ছাদে নিয়ে গিয়ে মারপিট করে। একপর্যায়ে তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে ওই মেসের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে আজমুলকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আজমুলকে নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আজমুলের বাবা ও পরিবারের সদস্য খুলনায় আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাড়ির মালিক জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তিনি বাইরে বের হন। এ সময় পাশের ভবনের চতুর্থ তলায় একজনকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখেন। পরে তাকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে, অর্থাৎ খাজা হলের গেটের বাইরে একটি বাড়িতে ঘটেছে। বাড়িটি ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।

নিহত আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন জানান, মাত্র ১০ দিন আগে আজমুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। তার দুই ছেলের মধ্যে আজমুল বড়। তিনি জানান, আজমুল লেখাপড়ার জন্য খুলনায় এসেছিল। গত বছর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি। এবার ভর্তি হওয়ায় তিনি খুব খুশি ছিলেন, কিন্তু এখন সব শেষ হয়ে গেছে।

তিনি জানান, আজমুল শুক্রবার বাড়ি থেকে খুলনায় এসেছিল এবং রাত ৯টার দিকে ফোন করে জানিয়েছিল যে সে ভালো আছে। কিন্তু অনেক রাতে একটি ছেলে আজমুলের ফোন নম্বর দিয়ে কল করে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে। আজমুল নাকি ঝামেলা করেছে! ‘গরীব মানুষ, কোথায় টাকা পাবো’ বললেও সেই ছেলে দ্রুত আসার জন্য বলে। আর সকালে শুনছেন, সেই ছেলে নাই হয়ে গেছে।

কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘যে ছেলে রাতে আমাকে চিন্তা করতে বারণ করল, সেই ছেলেকে অন্য ছাত্ররা পিটিয়ে মারল। আমি কারও কাছে বিচার দেব না। আমরা গরিব মানুষ। বাড়ি অনেক দূরে। আমরা বিচার পাব না। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম। আল্লাহই বিচার করবেন।’

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মেসের অধিকাংশ সদস্যরাই পালিয়েছে। নিহত আজমুলের বাবা মামলা না করলে পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করবে। অপরাধীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি জানান, নিহতের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে দেওয়া হচ্ছে।

খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কানাই লাল সরকার বলেন, ছেলেটি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। আমরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%