ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাহায্য বন্ধ: নেতানিয়াহুর মতে, এটি অংশীদারত্বের নতুন ধাপ


যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাহায্য বন্ধ: নেতানিয়াহুর মতে, এটি অংশীদারত্বের নতুন ধাপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষের দিকে ইসরায়েলকে প্রদত্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পদক্ষেপকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন না। নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সামরিক সহায়তা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্কের ‘শক্তি ও পরিপক্কতার’ প্রতিফলন।

এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় উল্লেখ করেছে, “ইসরায়েলকে প্রদত্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা সবসময় দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে এসেছে। ইসরায়েল এই সহায়তা ব্যবহার করেছে নিজেদের আত্মরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা শত্রুদের মোকাবেলা করতে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই উদ্যোগ সহায়তানির্ভর সম্পর্ক থেকে পারস্পরিক অংশীদারত্বের দিকে রূপান্তরকে নির্দেশ করে। এটি আমাদের সম্পর্কের শক্তি, পরিপক্কতা এবং সময়ের সাথে টিকে থাকার সক্ষমতা প্রমাণ করে।”

আরও পড়ুন: নির্বাচনে ভরাডুবির পর রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন, হোয়াইট হাউস নাকচ করেছে

তবে, ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তকে ‘মেঘ ছাড়া বজ্রপাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “কয়েক দশক ধরে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান—উভয় মার্কিন প্রশাসনই বুঝেছে যে ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক শত্রুদের মোকাবিলাতেই সাহায্য করে।”

তিনি আরও বলেন, “এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কাজ করছেন যাতে সহায়তা নির্ভরতা থেকে বের হয়ে সঠিক উপায়ে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সম্পর্কে রূপান্তর ঘটানো যায়।” সূত্র: ফক্স নিউজ।

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৬ কোটি ৮০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুরু হলো আন্তর্জাতিক রেসলিং রেফারি’স ট্রেনিং কোর্স-২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


শুরু হলো আন্তর্জাতিক রেসলিং রেফারি’স ট্রেনিং কোর্স-২০২৬

ঢাকা, ৬ নভেম্বর ২০২৬ : বাংলাদেশ এ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে “আন্তর্জাতিক রেসলিং রেফারি’স ট্রেনিং কোর্স-২০২৬”। এই কোর্সের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের রেসলিং রেফারী তৈরি করা।

কোর্সটি পরিচালনা করছেন ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড রেসলিংয়ের স্বীকৃত অস্ট্রেলিয়ান রেফারী এডুকেটর স্টেফান রুদভিকস, যা বাংলাদেশের রেফারীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণে মোট ১৫ জন দেশী রেফারী অংশগ্রহণ করছেন।

এছাড়া, “টেকনিক্যাল কোর্স ফর কোচেস লেভেল-ওয়ান” কোচে’স কার্যক্রমে মোট ১৫ জন দেশী প্রশিক্ষক অংশ নিচ্ছেন। রেসলিং কোচদের মান উন্নয়নের জন্য কোর্সটি পরিচালনা করছেন আফ্রিকা অঞ্চলের এডুকেটর হাসান ইব্রাহিম মাদানি ইব্রাহিম, যিনি বিশ্ব কুস্তির নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদস্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গার্মেন্টস অস্থিরতার পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


গার্মেন্টস অস্থিরতার পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, গার্মেন্টসে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির উপস্থিতি রয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক মাহফিলের সমাপনী দিনে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, সেই জালেম, স্বৈরাচারী ও খুনি আওয়ামী লীগকে দেশের জনগণ আর রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে এবং আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও দ্বিনের পক্ষে, দেশের পক্ষে এবং ফ্যাসিবাদী-ইসলামবিদ্বেষী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে গিয়েছে। এর নেতৃত্বে ছিলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় মুরব্বি হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী এবং তার পূর্বসূরি আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর সময় লেগেছিল, আর ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৬-১৭ বছর সময় প্রয়োজন হয়েছে। আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজ অকাতরে রক্ত দিয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুম হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ মামলা-হামলায় নিপীড়িত হয়েছেন। এত রক্তের সিঁড়ি বেয়ে আমরা মুক্ত হয়েছি, তাই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমনের সুযোগ এ দেশের মানুষ দেবে না।

এছাড়া ধর্মের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করার কিছু গোষ্ঠীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু তাদের দলীয় ম্যানিফেস্টোতে শরিয়াভিত্তিক শাসনের কোনো প্রতিফলন নেই; বরং তারা শরিয়া শাসনের বিপক্ষে। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি, যেখানে বিসমিল্লাহ সংযোজন করা হয়েছে এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় গঠিত হয়েছে।’

হেফাজতে ইসলামের আমির ও বাবুনগর মাদরাসার পরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই মাহফিলের সমাপনী দিনে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন মন্তব্য করেছেন যে, শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব। তরুণদের ইভ টিজিং, কিশোর গ্যাং এবং মাদকের মতো সামাজিক সমস্যা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার চর্চা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় বাগেরহাটের ফকিরহাট কাজি আজহার আলী কলেজ মাঠে আট দলীয় আট্টাকী গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আট্টাকী যুব সংঘ ক্লাবের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ জামান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ তানভীর ইসলাম লিমন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আসাদুজ্জামান, টুর্নামেন্টের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মো. মুশফিকুজ্জামান রিপন এবং শেখ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। টুর্নামেন্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সভাপতি মোল্লা সাইদুর রহমান জয়।

উদ্বোধনী খেলায় ঢাকা লিখন ইলেভেন স্টার ফুটবল এবং নৈহাটী সান স্পোর্টিং ক্লাব মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত খেলা শেষে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জয়ী হয় নৈহাটী সান স্পোর্টিং ক্লাব।

খেলা পরিচালনা করেন মো. মিরাজ সরদার। সহকারী হিসেবে ছিলেন জসিম উদ্দিন ও তানভীর ইসলাম। ধারাভাষ্য দেন আবুল হাসনাত রিপন এবং অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জলিল। খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার ফুটবলপ্রেমী দর্শক মাঠে উপস্থিত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত-এনসিপির দূরত্ব বাড়ার নেপথ্যে নির্বাচনী সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ পি.এম


জামায়াত-এনসিপির দূরত্ব বাড়ার নেপথ্যে নির্বাচনী সিদ্ধান্ত

জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে পথ চলার পরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান দুই শরিক জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমঝোতার পরিবর্তে এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে জোটের ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের বিষয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় নির্বাচনে সমঝোতার প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে এনসিপির অসন্তোষ এই দূরত্বের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক জোটের লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। যদিও উভয়পক্ষই জোটে ভাঙনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটিতে আলোচনা শুরু হলে এনসিপি ও কয়েকটি দল জোটগতভাবে অথবা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু জামায়াতসহ কয়েকটি দল এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আলাদাভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জামায়াতের যুক্তি হলো, অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে জাতীয় নির্বাচন করলেও স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো আলাদাভাবে অংশ নিয়েছে। একই নীতি এবারও অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে এনসিপির মধ্যে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ দেখা দেয়। সমঝোতার আশা ছেড়ে দলটি ঢাকাসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করে। পরে অবশ্য ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করে এনসিপি। তবে এনসিপি দাবি করেছে যে, ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে জামায়াত সংসদে ও রাজপথে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে।

এনসিপির নেতাদের একাংশের ধারণা, বিগত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সাংগঠনিক সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়ে এনসিপির প্রার্থীরা ভালো ফল অর্জন করেছিলেন। আগামী স্থানীয় নির্বাচনেও এ ধরনের সহযোগিতা বা সমর্থন পেলে ভালো ফল করা সম্ভব। এই কারণে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করতে আগ্রহী দলটি। তবে জামায়াতের অনাগ্রহের কারণে স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা হচ্ছে না।

অন্যদিকে জামায়াত নেতাদের বক্তব্য হলো, জাতীয় নির্বাচনে আসন ছাড় দিতে গিয়ে তৃণমূলে দলটির সাংগঠনিক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেক ত্যাগী প্রার্থীকে ছাড় দিতে হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনেও সমঝোতা করলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। তাই তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করতেই এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।

এছাড়া সরকারি বিভিন্ন মহল থেকেও ১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙন বা প্রধান দুটি দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ানোর নানা চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া সরকারের সঙ্গে দল দুটির বর্তমান সম্পর্ক বা বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও পরস্পরবিরোধী অবস্থান বা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের সবশেষ লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির অনুপস্থিতি এবং পরবর্তী বহর ও পথসভা-সমাবেশে শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণ না করার মধ্য দিয়ে তাদের দূরত্বের প্রশ্ন প্রকাশ্যে উঠে এসেছে। তবে বিশেষ কোনো কারণে কর্মসূচিতে অনুপস্থিতি, আলাদাভাবে নির্বাচন বা সরকারের কোনো ষড়যন্ত্র থাকলেও তা ১১ দলীয় ঐক্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে উভয়পক্ষ জানিয়েছে।

জোটে ভাঙন দেখছে না শরিকরা

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়। পরে সংরক্ষিত নারী আসনে আরো ১৩টি আসন যুক্ত হয়। নির্বাচন-পরবর্তী ৭৭টি আসন নিয়ে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটটি। পরে সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের ৯টি, এনসিপির দুটি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাগপার একটি করে মোট ১৩টি আসন যুক্ত হয়। বর্তমানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন।

সংসদে বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে অন্যান্য শরিকদের পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির ঐক্য এবং সুসম্পর্ক প্রকাশ পেয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দল দুটির সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্য ও জামায়াতের বক্তব্য

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আমার দেশকে বলেন, অতীতে জামায়াত যখন বিএনপির সঙ্গে জোট করে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সরকারের অংশীদার বা রাজপথের আন্দোলনে শরিক ছিল, তখনো স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে সবাই আলাদাভাবে অংশ নেয়। দেশের জোটগত রাজনীতির ইতিহাসে এমন রীতিই চলে আসছে। সে অনুযায়ী এবারও স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলোর আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কোনো এলাকায় কোনো দলের প্রার্থী না থাকলে বা স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হলে তাতে বাধা নেই। এতে ১১ দলীয় ঐক্য বা জামায়াত-এনসিপির সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই ঐক্য অটুট থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপি নেতাদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা জামায়াতকে কোনোকিছু জানায়নি। তবে ওই লংমার্চের পরের সমাবেশগুলোতে এনসিপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এ বিষয়ে আমার দেশকে বলেন, লিয়াজোঁ কমিটির আলোচনার পর শীর্ষ নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর অর্থ জোটে ভাঙন নয়। গত ২৭ অক্টোবর ১১ দলের বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও একই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

দূরত্বের নেপথ্যে দুই কারণ এনসিপির

বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা নিয়েও এনসিপির মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। দলটির একাংশের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলে থেকেও সরকারি দল বিএনপির সঙ্গে আপসকামী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। জামায়াতের বক্তব্য-বিবৃতিতে সরকার বা সরকারি দলের জনবিরোধী ইস্যুতে এক ধরনের কুসুম কুসুম বিরোধিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শক্ত ও জোরালো অবস্থান না নিয়ে জামায়াত নমনীয়তা বা শৈথিল্য দেখাচ্ছে। এনসিপি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে আগ্রহী হওয়ায় দুই দলের রাজনৈতিক কৌশলে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

সম্প্রতি দলের কয়েকজন নেতার বক্তব্যেও বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। গত শনিবার যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাবেশে জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যেও এ অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার পরও পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর সৌজন্য বিনিময়ের সমালোচনা করেন তিনি। যদিও ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে গত শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে ও রোববার ঢাকায় বিক্ষোভ করে জামায়াত।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক হিসেবে এনসিপিকে ছাড় না দেওয়ার বিষয়টি। বিশেষ করে ঢাকায় একটিসহ একাধিক সিটিতে সমঝোতা চেয়েছিল এনসিপি। সে লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চেষ্টাও চালায় এনসিপি। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত এনসিপিও এককভাবে স্থানীয় সব নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী বদল করে তাদের পক্ষে শক্তভাবে মাঠে নেমেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে স্থানীয়ভাবে জোটের প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

অবশ্য এনসিপি নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ায় এনসিপির একক শক্তি বোঝা যায়নি। এখন স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তৃণমূলে দলের অবস্থান স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে দলের ভিত্তি আরো মজবুত হবে।

এনসিপি নেতাদের বক্তব্য

জামায়াত-এনসিপির অন্তরালের এই দূরত্ব প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। সবশেষ গত শনিবার ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির কোনো নেতা অংশ নেননি। যদিও এর আগে জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও রংপুরÑদুই লংমার্চেই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতা অংশ নেন। এবারের লংমার্চ ছিল তার ব্যতিক্রম। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উদ্বোধনী সমাবেশে অংশ না নিলেও বহরে যুক্ত হন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আব্দুল হান্নান মাসউদ, যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মুস্তাফিজ ও ফরিদুল হক, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিন ইরাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

তবে এনসিপি জামায়াত জোট ছাড়তে পারে বলে যে গুঞ্জন রটেছে, তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, একাধিক ইস্যুতে দূরত্ব সৃষ্টি হলেও ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ছে না এনসিপি। জামায়াতের দিক থেকেও জোট ভাঙার চেষ্টা নেই বলে বিশ্বাস করেন তারা। বরং বিরোধী জোট ভাঙার জন্য সরকারি মহল চেষ্টা করছে বলে এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন।

দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার আমার দেশকে বলেন, এনসিপি ১১ দলীয় ঐক্যেই আছে। জোট ভাঙার গুঞ্জনের কোনো ভিত্তি নেই। সরকারের পক্ষ থেকে জোট ভাঙার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত রোববার এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের প্রশ্নে জোটে কোনো দূরত্ব নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য একটি সম্প্রসারিত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। দ্রুত এই কমিটি মাঠে কাজ শুরু করবে।

তবে তিনি বলেন, এনসিপির নিজস্ব রাজনীতি ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। জোটে থাকলেও অন্য কোনো দলের নেতাদের সব বিষয়ে সমর্থন দেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি তারা অনুসরণ করবেন না। সরকার কিংবা বিরোধী দলের কেউ ভুল করলে তার জবাবদিহি চাইবেন। তিনি মন্তব্য করেন, আমরা কোনো জোটের রাজনীতি করি না, কোনো বিরোধী দলের রাজনীতিও করি না।

নির্বাচনি প্রস্তুতিতে দুই দল

স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত ও এনসিপি নিজস্ব প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। জামায়াত ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে। গত ৪ অক্টোবর রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ।

অন্যদিকে গত ২৯ মার্চ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তবে পরে ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করে দলটি। গত ৩০ অক্টোবর ঢাকার দুই সিটিতে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এতে উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%