১১:১৪ পি.এম
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ফোনালাপে অবৈধ নজরদারির অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ লিসতিও সিগিত প্রাবোও এবং পুলিশের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ও তার চিফ অব স্টাফের নামের শেষাংশে মিল থাকলেও তাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আড়িপাতার ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বিরোধের নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, যিনি জোকোই নামেও পরিচিত, তার সরাসরি সমর্থনেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন প্রাবোও।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ভ্রমণেচ্ছুদের জন্য নতুন পর্যটন ভিসার সুখবর
সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের গবেষক মেদে সুপ্রিয়াতমা বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে বলেন, ‘লিসতিও সাবেক প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই গ্রেপ্তার প্রমাণ করে তাদের দুজনের পথ এখন কার্যত আলাদা হয়ে গেছে।’
গত মঙ্গলবার চিফ অব স্টাফ লিসতিও এবং পুলিশের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাত্র এক মাস আগে লিসতিওকে চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। তবে গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, এক পুলিশ কর্মকর্তার তথ্যের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে এই অবৈধ নজরদারির বিষয়টি ফাঁস হয়।
অভিযোগ উঠেছে, কোনো পরোয়ানা বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই পুলিশের বিশেষ নজরদারি সিস্টেমে প্রেসিডেন্টের ফোন নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল। লিসতিও যখন জাতীয় পুলিশ প্রধান ছিলেন, অর্থাৎ ২০২৫ সাল থেকেই এই আড়িপাতা চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতে কিংবদন্তি ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাড়ির একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ
বুধবার প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র জানান, এই ঘটনায় এমন স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ফলে এটি ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ পর্যায়ে পড়ে।
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড। যদিও দেশটিতে গত এক দশকে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।
মুখপাত্র আরো জানান, এই আড়িপাতার মূল উদ্দেশ্য বা কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
শুধু প্রেসিডেন্ট নন; রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীদের ফোনেও নজরদারি চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: নতুন নির্বাচন নাকি সরকার গঠন? রাজনৈতিক জটিলতায় ইসরাইল
বৃহস্পতিবার রাতে এই মামলায় অপরাধ তদন্ত ইউনিটের কর্মকর্তা সালামেত উলিয়ান্দিকে চতুর্থ সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাকে আটক করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন