০৫:২৬ পি.এম
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। দেশের স্বার্থে যেখানে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ কাজে লাগানো সম্ভব, সেখানে সরকার তা কাজে লাগাতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যকে আরও প্রসারিত করার জন্য দেশের স্বার্থে যেখানে যে আন্তর্জাতিক দক্ষতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ কাজে লাগানো সম্ভব, আমরা তা কাজে লাগাতে চাই। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে এবং লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।’
রবিবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিতব্য লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বন্দর উন্নয়নে আমরা একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও আধুনিক টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার সর্বাধুনিক যুগে প্রবেশের পথে বাংলাদেশ আজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।’
‘চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্যের চাহিদা পূরণে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেই বাণিজ্যকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার জন্য আধুনিক বন্দর অবকাঠামো অপরিহার্য। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল সেই প্রয়োজন পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
আরও পড়ুন: মনপুরায় কোস্টগার্ডের হাতে ১৩ মণ মা ইলিশ জব্দ
তিনি বলেন, পিপিপি (পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মডেলে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি সম্পূর্ণ বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস-এর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও পরিচালিত হবে। এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সম্পূর্ণ বিদেশি বিনিয়োগে এ ধরনের একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে চায়, বিনিয়োগ করতে চায়। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের যে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন, আজকের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কথা তুলে ধরে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, এখানে আধুনিক কনটেইনার ইয়ার্ড, জেটি, গেট, কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এখানে আধুনিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা থাকবে, থাকবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা। এর ফলে আমাদের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
আরও পড়ুন: বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ বিজিএমইএর উপদেষ্টার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন