ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আসামে শিল্প পার্কের জন্য ৬৪০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ


আসামে শিল্প পার্কের জন্য ৬৪০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ

আসামের ধুবড়ি জেলায় গত রবিবার এক উচ্ছেদ অভিযানে ৬৪০টিরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘স্ক্রোল’কে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন জানিয়েছে, এতে চার হাজারের বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এই উচ্ছেদ অভিযান আলমগঞ্জ পার্ট-৯ গ্রামে সরকারি মালিকানাধীন দাবি করা ৬৫০ বিঘা জমির ওপর পরিচালিত হয়।

ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ ‘স্ক্রোল’কে জানিয়েছেন, মোট ৮০০ বিঘা জমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু জমিতে আদালতের মামলা বিচারাধীন থাকায় বাকি ১৫০ বিঘায় আপাতত অভিযান চালানো হয়নি।

আরও পড়ুন: সৌদীতে ৪৫ কেজি খাতসহ দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

দিবাকর নাথ বলেন, ‘এই জমি শিল্প বিভাগকে হস্তান্তর করা হবে, যারা গত দুই বছর ধরে একটি শিল্প পার্ক তৈরির জন্য জমির সন্ধান করছিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।’

তিনি দাবি করেন যে, বাসিন্দারা বিভিন্ন দফায় এই সরকারি জমিতে বসতি গড়ে তুলেছিলেন—কেউ পাঁচ বছর আগে, আবার কেউ দশ বছর আগে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘তাদের অধিকাংশেরই অন্য জায়গায় জমি রয়েছে।’

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের আগেই বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: বিশেষ দূত ইরান, সউদী ও ওমানে যাচ্ছেন: মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনীতি

গ্রামের ৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা আলী চাঁদ ফকির ‘স্ক্রোল’কে বলেন, উচ্ছেদের আগেই তিনি তাঁর ঘরের কিছু অংশ নিজে থেকেই ভেঙে ফেলেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আজ বুলডোজার দিয়ে তিনটি বাড়ি, গাছপালা, শৌচাগার সবকিছু গুঁড়িয়ে সমতল করে দেওয়া হয়েছে।’

আলী চাঁদ জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ও বন্যার কারণে পার্শ্ববর্তী গোয়ালপাড়া জেলা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তিনি ১৯৬২ সাল থেকে এই গ্রামে বসবাস করছেন।

তিনি আরও জানান, ১৯৭২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এখানকার বহু বাসিন্দা ‘তৌজি’ ব্যবস্থার অধীনে রাজস্ব বা ভূ-কর প্রদান করেছেন। ‘তৌজি’ রসিদ হলো সরকারি জমিতে বসবাসকারীদের কর পরিশোধের এক ধরনের প্রমাণপত্র।

আরও পড়ুন: ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনে ৫৫৭ আরোহীর যাত্রা, সুবিধা থাকছে বিভিন্ন

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিকল্প কোনো জমি না থাকায় বাস্তুচ্যুতদের অধিকাংশই এখন আত্নীয়দের বাড়িতে, রাস্তার পাশে ত্রিপল খাটিয়ে তৈরি অস্থায়ী কুঁড়েঘরে অথবা নিচু চরাঞ্চলে বসবাস করছেন।’

আসামে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও মুসলিম-বিদ্বেষী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করেছে, যা তারই অংশ। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এক দ্বিমুখী অভিযানে নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলাজুড়ে ১,১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।

রাজ্য রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘স্ক্রোল’-এর তৈরি হিসাব অনুযায়ী, আসামে বিজেপি শাসনের গত দশ বছরে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯,০০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশ পরিবারই মুসলিম।

আরও পড়ুন: উগান্ডা সোমালিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগে ইতিহাস পরিবহনের ১২ বাস আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


জাবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগে ইতিহাস পরিবহনের ১২ বাস আটক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে বাসে হেনস্তা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইতিহাস পরিবহনের ১২টি বাস আটক করেছেন। অভিযুক্ত বাসকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে বাসগুলো আটক করে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা হয়।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, গতকাল রবিবার (১ নভেম্বর) ক্যাম্পাস থেকে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি একটি বাসে ওঠেন। তবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাসা থেকে ফোন করে তাকে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে বলা হয়। পরে রাস্তা পার হয়ে তিনি ইতিহাস পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন।

ওই ছাত্রী জানান, হেমায়েতপুর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত বাসভাড়া ১০ টাকা হলেও বাসের কন্ডাক্টর তার কাছ থেকে ২০ টাকা আদায় করেন। পরে নির্ধারিত স্থানে বাস না থামিয়ে তাকে চলন্ত বাস থেকে নামতে বলা হয়।

এ সময় বাস থামানোর পর নামবেন বলে জানালে কন্ডাক্টর তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

তিনি আরো জানান, এ সময় তিনি চিৎকার করলে অভিযুক্ত বাসকর্মী আর এগোননি। বাস থেকে নামার পর তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা আরেকজনকে উদ্দেশ করে গালাগালা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ তার।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, বাসভাড়া নিয়ে রবিবার ইতিহাস পরিবহনের এক বাসচালকের সহকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এর প্রতিবাদে সোমবার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কয়েকটি বাস আটক করে অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

তিনি আরো বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা অভিযুক্তকে শনাক্ত করে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চাওয়া অনুযায়ী কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়; বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুশোচনা প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার সুষ্ঠু মীমাংসার জন্য সহকারী প্রক্টর জয় ও সহকারী প্রক্টর শায়লা শারমিন সেতুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাফনের কাপড় পরে সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


কাফনের কাপড় পরে সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মানববন্ধন

 কাফনের কাপড় পরে দাঁড়িয়েছেন সাংবাদিকরা। হাতে হত্যার বিচারের দাবি, চোখেমুখে ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ভাষা। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার বিচারের দাবিতে এমনই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন দুই শতাধিক সাংবাদিক।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিটের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির, পরিচালক (বিচার ও সালিশ) জামাল উদ্দিন খান এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন মানিক।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মো. ইয়াহিয়া আরিফ, কার্যকরী সভাপতি সজীব রাজভর বিপিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনূর ইসলাম রাব্বিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ও শ্যামগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক যেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার না হন, সে জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা সংগঠনের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

কর্মসূচি শেষে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার তরীকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান আয়োজকেরা।

আয়োজকেরা বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার বিচার শুধু তাঁর পরিবারের একার দাবি নয়, এটি সমগ্র সাংবাদিক সমাজের ন্যায়বিচার, পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দাবি। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেশবপুরে আমন ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণ, ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


কেশবপুরে আমন ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণ, ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

কেশবপুরের আমন ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণের ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। কেশবপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে উপজেলায় ৭ হাজার ৭১ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও বেসরকারি হিসাবে আবাদের পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ৫০ শতাংশ জমির আমন ক্ষেতের ধানে পাক ধরেছে। এসব জমির প্রায় সবখানে ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইটের কারণে ধানের শিষ শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। তবে জমিতে গান্ধি পোকার আক্রমণও থাকতে পারে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গান্ধি পোকার আক্রমণ থাকলে ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত।

তিনি আরও জানান, Burkholderia glumae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে এ রোগের সৃষ্টি হয়। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট ব্যাকটেরিয়া জনিত দানা পঁচা রোগ বা দানা ঝলসানো রোগ নামেও পরিচিত। এই ব্যাকটেরিয়া হলুদ পিগমেন্টেড বিষাক্ত টক্সোফ্লাভিন উপাদান নিঃসৃত করে, ফলে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের আর্দ্রতা ৮০ শতাংশের ওপরে, খুব ঘন আকারে চারা রোপণ এবং অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে দেয়। ধানের শিষ বের হওয়ার সময় ও দানা গঠনের সময় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

শিষের ছোট ছোট ধানগুলো সঠিকভাবে দানা বাঁধতে পারে না এবং চিটা হয়ে যায়; তবে শিষের সব দানা চিটা হয় না। আক্রান্ত ধানের দানাগুলো ধূসর, কালো বা গোলাপি বর্ণ ধারণ করে। শিষে চিটা হওয়ার ফলে ওজন না থাকায় শিষগুলো খাড়া হয়ে থাকে। সংক্রমিত শিষের নিচের অংশ সবুজ থাকে। মাঝে মাঝে খোলপচা বা চারা ঝলসানো রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ব্যাকটেরিয়াগুলো ধানগাছের পাতা এবং খোলে অবস্থান করে এবং তারা প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। ধানগাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে ব্যাকটেরিয়াগুলো গাছের ওপরের দিকে উঠতে থাকে। ব্যাকটেরিয়াটি ধানের শিষ বের হওয়ার সাথে সাথে সেখানে আক্রমণ করে ফুলের রেণুগুলো নষ্ট করে, ফলে ধানের দানাগুলো চিটায় পরিণত হয়। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট সাধারণত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। যখন দিনের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে এবং রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকে, তখন এই ধরনের আবহাওয়া রোগটির ছড়ানোর জন্য উপযুক্ত। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহারও রোগটির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট একটি বীজবাহিত রোগ। রোগাক্রান্ত বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে আবাদের ফলে নিয়ন্ত্রণের বাস্তবসম্মত কোনো উপায় নেই।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি যেমন বীজ বপনের পূর্বে তা শোধন করা, আদর্শ বীজতলায় বীজ বপন, সঠিক বয়সের চারা রোপণ, রোপণের সময় লাইন ও লোগো পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করা প্রয়োজন। থিরাম ৩৫এসসি দিয়ে বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে। জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার (যেমন—ভার্মি কম্পোস্ট, ট্রাইকো কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট, খামারজাত সার, মুরগির লিটার ইত্যাদি) ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার না করা উচিত। আক্রমণপ্রবণ এলাকায় থোর অবস্থায় একবার ডিএপি দ্রবণ স্প্রে করা এবং থোর অবস্থায় জমিতে পানি ধরে রেখে ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ সার, ৩০ গ্রাম সালফার ৮০% এবং ৩ গ্রাম চিলেটেড জিংক একত্রে মিশিয়ে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। কৃষকদের এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এদিকে, মাঠপর্যায়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কৃষকদের যোগাযোগ নেই বলে একাধিক কৃষক অভিযোগ করেছেন। তাঁরা জানান, বিভিন্ন পেস্টিসাইড কোম্পানির প্রতিনিধিরাই কৃষকের শেষ ভরসা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধ বিরতিতে ‘আশার আলো’, নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪১ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধ বিরতিতে ‘আশার আলো’, নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত

চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আপসের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রকাশ পাচ্ছে, যা একটি সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রে 'আশার আলো' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন গবেষণা সংস্থা 'কোয়িন্সি ইনস্টিটিউট'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে দুই দেশই পূর্বের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারসি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

পারসি ব্যাখ্যা করেন, "পূর্বে দুই দেশ যেসব কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, তা এখন আর আগের মতো দেখা যাচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প প্রশাসন আগে জানিয়েছিল যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা হলেও তারা তাদের অবরোধ (Blockade) তুলে নেবে না। সরকারের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির পথ কার্যত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।"

বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "এখন মনে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সেই অনমনীয় অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছে এবং একটি বাস্তবসম্মত অবস্থানে এসেছে।" যদিও এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে চুক্তি একদম নিশ্চিত হয়ে গেছে, তবে এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি আলোচনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পারসির মতে, নতুন কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলে বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতি আলোচনা প্রক্রিয়া বা সম্ভাব্য চুক্তিকে ভণ্ডুল করতে পারবে না। সূত্র: আল জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%