০৬:৪৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দুই বছর পরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের নাম মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটাররা কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্য নির্বাচন করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর এবং স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরাও নির্বাচিত হবেন।
কেন ভোট দিচ্ছেন মার্কিন ভোটাররা?
যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন মনোনয়ন অনুমোদনের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মার্কিন নাগরিকেরা কংগ্রেসে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিতে ভোট প্রদান করবেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ৭ জরুরি প্রশ্নের উত্তর
এবার সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিনেটররা ছয় বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতেই ভোট হবে। এই পরিষদের সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তাঁরা আইন প্রণয়ন, সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। গভর্নররা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচনের মূল ইস্যু কী কী?
আরও পড়ুন: কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের হুমায়ুন কবির
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে অর্থনীতি অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচের কারণে অনেক মার্কিন নাগরিক চাপে রয়েছেন।
মুদ্রাস্ফীতিও ভোটারদের উদ্বেগের একটি বড় কারণ। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে মূল্যস্ফীতির হার। ইরানের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের প্রভাবও অর্থনীতিতে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনীতির পাশাপাশি অভিবাসন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও ভোটারদের আগ্রহ রয়েছে।
ট্রাম্পের জন্য এই নির্বাচনের গুরুত্ব কী?
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে জান্তার বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১৫
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির, নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের।
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের জন্য নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন।
এ নির্বাচনের ফলাফল থেকে ট্রাম্পের প্রতি মার্কিন ভোটারদের সমর্থন ও অসন্তোষের মাত্রা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।
রিপাবলিকান কারা?
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা, ইমরান খানকে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ
রিপাবলিকান পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের একটি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দলের নেতা। দলটির সমর্থকদের রিপাবলিকান বলা হয়।
অর্থনৈতিকভাবে দলটি সাধারণত রক্ষণশীল নীতির পক্ষে। ছোট সরকার, কম কর এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিকে তারা গুরুত্ব দেয়। রিপাবলিকান পার্টির প্রতীকী রং লাল। দলটি ‘জিওপি’ বা গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি নামেও পরিচিত।
ডেমোক্র্যাট কারা?
ডেমোক্র্যাটরা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে এটি রিপাবলিকানদের প্রতিদ্বন্দ্বী।
আরও পড়ুন: ইরানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল রাশিয়া
ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের বড় ভূমিকার পক্ষে। পাশাপাশি গর্ভপাতের অধিকার এবং দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তার মতো সামাজিক ইস্যুতে দলটি গুরুত্ব দেয়।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতীকী রং নীল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন