০৮:৫৫ এম
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে আছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমনটি জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা বা সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, পাইক জীবিত আছেন।
পাইক, যিনি ৫০ বছর বয়সী, ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। গত বুধবার টেনেসির কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়।
আরও পড়ুন: কৃষ্ণসাগরে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও মিসরের ব্যর্থতার পর ভারত সফল হবে?
আইনজীবীদের দাবি, পাইককে পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়ার পরও তিনি মারা যাননি। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আইনজীবী স্পাইভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের শরীরে আইভি লাইন স্থাপনের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার বাম হাতে অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহৃত হয়, এর মধ্যে একটি সূঁচ বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিট পরেও পাইক শ্বাস নিচ্ছিলেন, এমনটি জানান স্পাইভি। তার ভাষ্য, এই সময় পর্যবেক্ষকদের একটি বন্ধ পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছিল। পর্দার পেছনে চিকিৎসা সহায়তা কখন শুরু হয়েছিল, তা তারা জানতে পারেননি।
ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আরও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: তাঁবুতে আগুন দিল ইসরাইল, খোলা আকাশের নিচে ৮০০ ফিলিস্তিনি গৃহহীন
এদিকে, টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তদন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ হবে এবং এতে সময় লাগবে।
গভর্নর একই সঙ্গে চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য রাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। এই স্থগিতাদেশের আওতায় ৩ ডিসেম্বর গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও পড়ছে।
তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় রাজ্যের আইনসম্মত ও অনুমোদিত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়াও ওই প্রোটোকলের অংশ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
টেনেসি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও ঘটনার তদন্তের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, "কী ঘটেছিল তা জানা প্রয়োজন।"
আরও পড়ুন: ইরানে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
এটি ২০২৬ সালে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। তার শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের জন্য শিরা খুঁজে না পাওয়ায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে এক বছরের জন্য মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন