ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত


ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকালে, ইরানের রাষ্ট্রদূত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং আজ বিকেলে এই তথ্য প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ, জালাল উদ্দিন রুমির মতো প্রখ্যাত পার্সি কবি ও মনীষীদের সৃষ্টিশীল কর্ম ও সাহিত্য এই অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

রাষ্ট্রপতি এসময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে ইরানের মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কথা উল্লেখ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো ব্যাপক জ্বালানি সংকটে পড়েছে।"

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

তিনি বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংলাপ, সমঝোতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে ইরানের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এসময় রাষ্ট্রপতি বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একযোগে কাজ করবে।

রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তার দায়িত্বকাল বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইরান দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকল্প নেই : রুহুল কবির রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকল্প নেই : রুহুল কবির রিজভী

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও শক্তিশালীকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ‘যদি গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে, তাহলে সমাজে সন্ত্রাস এবং ঘুষের পরিমাণ কমে যাবে এবং সমাজ অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।’

আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই বক্তব্য দেন।

রুহুল কবির রিজভী আরও জানান, ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সঙ্গে আমার দীর্ঘকালীন নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যখন আশ্রয়ের অভাব ছিল, তখন ডিআরইউকে আমি আশ্রয়ের স্থান হিসেবে দেখেছি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘গত ১৭ বছরে অনেক টেলিভিশন এবং পত্রিকা থাকলেও কথা বলার এবং মত প্রকাশের সুযোগ ছিল শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি এবং একটি রাজনৈতিক দলের। যারা এর বাইরে চেষ্টা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।’

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান না হলে পরিস্থিতি কেমন হতে পারত, তা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মিডিয়া, টকশো, টকশো হোস্ট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। তবুও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমকে সত্য প্রচার করতে হবে, কিন্তু অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর। সত্য প্রচার করতে গিয়ে যদি জীবনের ঝুঁকি আসে, তবে সেই ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং আদালতকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয়, ঠিক তেমনি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে গণমাধ্যমকেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং কেউ কেউ পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে সাংবাদিকতার এই মহান পেশাকে আরও মহিমান্বিত করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘গণমাধ্যম রাষ্ট্র এবং জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা, সাফল্য এবং সম্ভাবনার কথা নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছাতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতা।’

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদ দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এছাড়া গুজব, অপতথ্য এবং যাচাই-বাছাইহীন সংবাদের মতো নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হয়েছে। তাই দ্রুত সংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক এবং যাচাইকৃত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া পেশাদার সাংবাদিকদের বড় দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন, রেল যোগাযোগ এবং জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উন্নয়ন এবং সংস্কার কাজ এগিয়ে চলছে। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন এবং বাস্তবভিত্তিক মতামত সরকার এবং নীতি-নির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।’

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ডিআরইউয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি এবং সকল সদস্যের কল্যাণ কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলা উপকূলে সতর্ক সংকেত তিন নম্বর: কোস্ট গার্ডের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


ভোলা উপকূলে সতর্ক সংকেত তিন নম্বর: কোস্ট গার্ডের সতর্কতা

ভোলা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন ভোলা উপকূলের সমুদ্রপথে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে। সাগরে লঘুচাপের কারণে সমুদ্রের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তাল এবং আবহাওয়া বিরূপ হয়ে উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সাধারণ জনগণের মধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কোস্ট গার্ড বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং শুরু করেছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সমুদ্রে চলাচলের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযানকে মাছ ধরা, বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সমুদ্রে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) লে. কমান্ডার জামিলুর রহমান বাসসকে জানিয়েছেন, আবহাওয়ার এই বিরূপ পরিস্থিতি আগামী ৪-৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

ভোলার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল দুপুর ১ টায় বাসসকে জানিয়েছেন, সমুদ্রে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত কার্যকর রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে নদ-নদী উত্তাল রয়েছে; ফলে নৌযান ও মাছ ধরার নৌকা এবং ট্রলারগুলোকে মূল ভূ-খণ্ডের কাছাকাছি থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোলা উপকূলের নদীপথ উত্তাল থাকবে এবং বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামের প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার লড়াই কি প্রাইমারি স্কুলের পরেই থামবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


চট্টগ্রামের প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার লড়াই কি প্রাইমারি স্কুলের পরেই থামবে?

চট্টগ্রাম, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘যদি স্কুলটি না থাকে, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে প্রতিবন্ধী শিশুদের। তারা সমাজের মূলধারায় আসতে পারবে না। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতে বাধ্য হবে, পারিবারিকভাবে হেনস্তার শিকার হবে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হবে।’ এই ব্যথিত মন্তব্যগুলো করেছেন চট্টগ্রামের ফিজিক্যালি হ্যান্ডিক্যাপড ট্রেনিং (পি.এইচ.টি.) সেন্টারের অধীনে পরিচালিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষক মোহাম্মদ মুখলেসুর রহমান মুকুল।

নিজের দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তিনি এখন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষাগুরু হিসেবে কাজ করছেন।

চট্টগ্রামের মুরাদপুরে অবস্থিত পি.এইচ.টি সেন্টার সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাক-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

এই সেন্টারের অধীনে পরিচালিত বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় দু’টি চট্টগ্রামের প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল।

এখানে শিক্ষার্থীদের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্বল্প খরচে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এর ফলে বাক্-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরা শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাচ্ছে।

বর্তমানে বিদ্যালয় দু’টিতে মোট ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন আবাসিক এবং ৫০ জন অনাবাসিক। প্রতিদিনের রুটিনে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ইশারা ভাষা, ঠোঁট দেখে কথা বোঝার অনুশীলন এবং ব্রেইল পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুই শিফটে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে।

এছাড়া, সেন্টারটিতে ৪৪টি পদের মধ্যে ৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও নেই।

এ বিষয়ে শিক্ষক মোহাম্মদ মুখলেসুর রহমান মুকুল বলেন, এটি একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এক সময় এখানে কাঠ, চর্ম, সেলাই এবং বাঁশ-বেতের আসবাবপত্র তৈরির জন্য বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এসব প্রশিক্ষণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে সহায়ক ছিল। কিন্তু কারিগরি বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, বাক্-শ্রবণ বিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত একমাত্র শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিন সরকার নিজেও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি মূলত সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আবাসিক সুবিধা— এই তিনটি অঙ্গ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের একাডেমিক ভবন নেই, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জনবল সংকট। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক থাকলেও বাক্-শ্রবণ বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন কেবল একজন। এসব প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য প্রশিক্ষিত শিক্ষক প্রয়োজন।’

এক সময় এখানে বাক্-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা দুটি বিদ্যালয়, চারটি প্রশিক্ষণ সেন্টার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন এবং বালক-বালিকাদের জন্য আলাদা হোস্টেল ভবন ছিল। কিন্তু, ২০১৬ সালে সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠানের পুরনো ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হয়। ফলে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে বিদ্যালয় দু’টির কার্যক্রম চলতে থাকে।

শিক্ষক দুজন মনে করেন, সংকট কাটাতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।

তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সেক্টরভিত্তিক জনবল নিয়োগ, কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ, দৃষ্টি ও বাক্-শ্রবণ বিদ্যালয়ের জন্য পৃথক একাডেমিক ভবন, ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা আবাসিক ভবন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য ওয়ার্কশপ নির্মাণ জরুরি।

এছাড়া, পুরো প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন।

এদিকে, নিজের সন্তানকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাটহাজারী থেকে মুরাদপুরে আসেন অভিভাবক ওমর উদ্দিন মাহমুদ। তার দুই ছেলে বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী। বড় ছেলে এই বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে ঢাকার বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট ছেলে পড়ছে এই বিদ্যালয়েরই পঞ্চম শ্রেণিতে।

মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের এখানে পড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমার দুই ছেলেই বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী। বিদ্যালয়টি না থাকলে তাদেরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না।’

তবে পঞ্চম শ্রেণির পর চট্টগ্রামে বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আর কোনো বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় অভিভাবকদের নতুন সংকটে পড়তে হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ঢাকায় যেতে হয়, যা অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী অভিভাবক বলেন, চট্টগ্রামের প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আর কোনো বিশেষায়িত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান নেই। এই স্কুল দু’টি যদি এসএসসি পর্যন্ত করা যেতো, তাহলে অনেক উপকার হতো।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শুধুমাত্র শিক্ষা নয়, প্রতিবন্ধী শিশুদের আত্মনির্ভরশীল করে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হয়।

তাছাড়া ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের সমন্বিত শিক্ষার অধিকার রয়েছে। সুতরাং, জনবল নিয়োগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ চালু, শিক্ষার পরিধি পঞ্চম শ্রেণির পরেও সম্প্রসারণ এবং স্থায়ী ও সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি।

‘সংশপ্তক’ এনজিওর প্রধান নির্বাহী লিটন চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলায় কয়েক হাজার দৃষ্টি ও বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু থাকলেও শিক্ষার আলো পায় মাত্র দুই-তিনশো, তাও প্রাইমারি পর্যন্ত। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য চট্টগ্রামে একটি উচ্চবিদ্যালয়, সম্ভব হলে একটি কলেজও খুব বেশি জরুরি। নয়তো তাদের সমাজের মূলধারায় আনা কখনো সম্ভব হবে না।’

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদেরকে পাঠদান দিতে প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলে অন্তত একজন করে শিক্ষককে ইশারা ভাষায় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের কর্মক্ষম করে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, আমরা চাই প্রতিবন্ধী শিশুরা শিক্ষার্জন করে সমাজের মূলধারায় ফিরে আসুক। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তবে, আমরা চাইলেই শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারি না। ২০১৯ সালের পর থেকে সম্ভবত নতুন করে আর সার্কুলার হয়নি। আশা করি দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগ হবে।

অবকাঠামোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্কুল দু’টি নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। দুটি একাডেমিক ও দুটি আবাসিক ভবনের একটি ডিপিপি সম্ভবত প্লানিং কমিশনে আছে। আরও কিছু সংস্কার কাজও হবে।’

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও এনআইডি সেবা সহজ ও স্বচ্ছ করার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


সরকার প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও এনআইডি সেবা সহজ ও স্বচ্ছ করার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে

সংসদ ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, সরকার প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আজ জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেসব বাংলাদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেখানে অনলাইনে আবেদন, প্রবাসীদের সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট এবং আবেদনের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, দূতাবাস পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করলেও পাসপোর্ট ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়। তাই দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলো নিয়মিত ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে। পাসপোর্ট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হলে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীকে অবহিত করা হয়।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১৭টি দেশে অবস্থিত ২৭টি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন দূতাবাসে গ্রহণ করা হলেও তা নির্বাচন কমিশন থেকে প্রদান করা হয়।

মোট ৪১টি দেশে পর্যায়ক্রমে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের সেবা সম্প্রসারণে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

পাসপোর্ট সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি বিশেষ কর্মসূচি বা ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ঢাকা থেকে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন দল পাঠিয়ে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে কনস্যুলার সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে অনলাইন সত্যায়ন ও ই-অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে সেবাপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে ডিজিটাল সনদ গ্রহণ করতে পারছেন। এতে তাদের সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনায় পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি অনলাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, প্রতিটি বাংলাদেশি মিশনে অনলাইন ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম’ চালু রয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%