ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন ও গুরুত্বপূর্ণ বিলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: চিফ হুইপ


তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন ও গুরুত্বপূর্ণ বিলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম প্রাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে, তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজ বুধবার সংসদ ভবনে গণমাধ্যমের সাথে এক সাক্ষাৎকারে সংসদীয় কমিটি, বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স

চিফ হুইপ জানান, তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল উল্লেখযোগ্য।

সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা অবস্থায় ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার ভিত্তিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তার মানবাধিকারের লঙ্ঘন: আখতার হোসেন

চিফ হুইপ জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে ৭ জন এবং জামায়াত থেকে ৫ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাঁদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের সংবিধান গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল জনগণের সমস্যা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরবে এবং আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করবে।

চিফ হুইপ বলেন, আমরা চাই, বিরোধী দল সংসদে জনগণের কথা বলবে, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের পথ বের করবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত

তিনি উল্লেখ করেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, কোনো সরকারের পক্ষে মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘গভর্নমেন্টের বয়স ছয় মাস। আমি দারুণভাবে চেষ্টা করলাম, আমি কি ছয় মাসে একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে পারব? তিনি বলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলেও একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে দুই বছর লাগে মিনিমাম।’

তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বড় অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে সময় প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে।

বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে করা বিভিন্ন চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দায়মুক্তির ব্যবস্থা রেখে এমন আইন করা হয়েছিল, যার ফলে এসব চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের মধ্যে নিরাপদ সড়ক আইন কার্যকর হবে: সড়কমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছে একাধিক গ্রাম, নিহত ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৪ পি.এম


নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছে একাধিক গ্রাম, নিহত ৭

নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলা রাসুয়ায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার ফলে অন্তত সাতজনের মৃত্যু ঘটেছে। বুধবার ভোরে এই বন্যায় নদীর তীরবর্তী একাধিক গ্রাম এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেসে গেছে।

নেপালি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেছে নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপাল পুলিশ। এই উদ্ধার কার্যক্রমে ১৪টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে।

নেপাল-চীন সীমান্তের নিকটবর্তী তিমুরে মোতায়েন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর নয় সদস্য নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। বন্যার ফলে বাজার এলাকা এবং নিরাপত্তা পোস্টও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি কর্তৃপক্ষের পক্ষে। তবে নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনানুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ভূমিধসের কারণে নদীর পানি সাময়িকভাবে আটকে গিয়ে পরে তা প্রবল স্রোতে নেমে আসতে পারে।

এদিকে, লাসায় নিযুক্ত নেপালের কনসাল জেনারেল জানিয়েছেন, সীমান্তে মোতায়েন নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে চীনা কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

কর্তৃপক্ষ ত্রিশূলী নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের নদীর তীর থেকে দূরে সরে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বন্যার প্রভাব নদীর নিম্নাঞ্চলে ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অসচ্ছলদের আগে ফ্যামিলি কার্ড দিতে হবে: আমিনুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


অসচ্ছলদের আগে ফ্যামিলি কার্ড দিতে হবে: আমিনুল হক

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, পল্লবী-রূপনগরের বেগুনটিলা, চলন্তিকা ও আরামবাগের মতো বস্তি এলাকায় বসবাসকারী অসহায় পরিবারের নারীদের হাতে সবার আগে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর পল্লবীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল পল্লবী থানা আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক জানান, "১০ লাখ পরিবারের কাছে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ।" তিনি আরও বলেন, "এ বছর প্রায় ৪০ লাখের বেশি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো স্বচ্ছল ব্যক্তি অগ্রাধিকার না পান। অসচ্ছল, কষ্টে থাকা এবং যাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের আগে কার্ড বিতরণ করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় দ্রুত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হবে। বেগুনটিলা, চলন্তিকা ও আরামবাগের বস্তি এলাকার অসহায় মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বর্তমানে সত্যিকার অর্থেই আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে রয়েছি।" তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

আমিনুল হক বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল বৃক্ষরোপণ। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "শুধু সরকারের পক্ষে এত গাছ লাগানো সম্ভব নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে।"

শিশুদের গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমিনুল হক বলেন, স্কুল, কলেজ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে গাছ লাগানোর কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই গাছের উপকারিতা ও পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হবে।

এ সময় ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল হয়ে আছে।" সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান বাবু এবং সদস্যসচিব রবিউল করিম বাবু সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, মাহাবুবুল আলম মন্টু। এছাড়া রূপনগর থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাদিউল ইসলাম রাজীব, পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক রিপন হোসেন, মোশারফ হোসেন, ফরিদ আহমেদ চঞ্চল, আব্দুস সালাম, থানা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইমরান, আসাদ, মামুনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে রোডম্যাপ চান আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে রোডম্যাপ চান আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান একটি রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ফ্যাসিবাদ দেশে পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং কেউ যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়।" যারা অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে চোখ বন্ধ করে রয়েছেন, তাদের চোখ খুলতে হবে। দেশ গড়ার কাজে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী দেশের মানুষের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "দেশের অধিকাংশ মানুষের চোখে আলো আছে।" কিন্তু যাদের এই দেশ গঠন করার কথা, মানবিক মূল্যবোধের কথা বলার কথা, তাদের মধ্যে অনেকেই মানুষের অধিকার দেখতে পাচ্ছেন না। তারা আত্মকেন্দ্রিকতায় ভুগছেন।

তিনি আরও বলেন, "অনুষ্ঠানে আসা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যেকের মুখের দিকে তাকালে তাদের মধ্যে সততা ও মানবিকতার ছাপ দেখা যায়।" অথচ সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাদের চোখে আলো আছে, কিন্তু তারা মানুষের অধিকার ও অন্যায় দেখতে পান না।

আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, "জুলাই বিপ্লবের সময় ২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায় হত্যা করা হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৩০০ মানুষ হাত হারিয়েছেন, কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ মাথা হারিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "তার মাথার একটি অংশ নেই।" এসব ঘটনার পরও চোখে আলো থাকা অনেক মানুষ এখনো বলছেন, "কিছুই হয়নি।"

আইনমন্ত্রী বলেন, "মানুষের মতো মুখ আছে, কিন্তু মানুষের মুখোশ পরে রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।" কারও ভাই, কারও বোন, কারও মা, কারও স্বামী এখনো নিখোঁজ। অথচ তাদের চোখে আলো রয়েছে।

ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন যারা, তাদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "আপনারা যে যেখানে থাকুন, চোখ খুলুন।" তিনি বলেন, "আমরা যদি অপরাধ করি, আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন।" নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি আপনাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

আইনমন্ত্রী বলেন, "প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ একদিন আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে উঠবে।" তিনি সবাইকে বিবেকের জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, "দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে। তবে সেই ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।" জন্মভূমির প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, "জননী এবং জন্মভূমির থেকে আপন কিছু নয়।" কখনো কখনো জন্মভূমি জননীর থেকেও বড় হয়ে দাঁড়ায়।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "এমন একটি বাংলাদেশের পথে হাঁটতে হবে, যেখানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে।" ফ্যাসিবাদ যেন আবার পুনর্বাসিত না হয় এবং আমরাও যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি, সে জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, "শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়।" যারা ফ্যাসিস্টদের খুন-খারাপি দেখছেন না, তাদের বলব, "আপনারা চোখ খুলুন। আল্লাহ প্রদত্ত দুটি চোখ খুলুন।" তা যদি না পারেন, অন্তর চক্ষু খুলুন। তাহলে দেখতে পাবেন।

আইনমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আসুন, একসঙ্গে হাঁটি, একসঙ্গে চলি।" দেশ গড়ার কাজে আমরা মনোনিবেশ করি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সিলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল, উদ্ধারকাজে নেমেছে সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল, উদ্ধারকাজে নেমেছে সেনাবাহিনী

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া জেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এতে বহু রাস্তাঘাট এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বানের পানিতে নদীগুলোর উপচে পড়ে পাহাড়ি উপত্যকাগুলো ডুবে গেছে। স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের রক্ষায় ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।

উজান থেকে নেমে আসা কাদামাটি ও পানির তোড়ে নদী তীরবর্তী লোকালয়গুলোর বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানান, বন্যার ভয়াবহতা অত্যন্ত বেশি এবং এর ফলে অনেক বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে উদ্ধারকাজে পুলিশের সব ধরনের সম্পদ নিয়োগ করা হয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তায় মেডিকেল টিম, স্কাউটস এবং রেড ক্রসের সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে নেপাল সেনাবাহিনী আকাশে হেলিকপ্টার এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল নামিয়েছে। সেনাবাহিনী থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এদিকে, দুর্যোগের কারণে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার অবকাঠামো এবং জাতীয় ট্রান্সমিশন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশের এক বিশাল অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এর পাশাপাশি পাহাড়ি ধস ও বানের পানিতে বেশ কয়েকটি প্রধান মহাসড়ক বন্ধ হয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সূত্র: এএফপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%