০৬:০৩ পি.এম
তামিলনাড়ু বিজেপির সবচেয়ে পরিচিত মুখ, কে অন্নামালাই, পদত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলটি জানিয়েছে, ‘বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন তামিলনাড়ুর সাবেক রাজ্য সভাপতি কে অন্নামালাইয়ের দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।’
গত মঙ্গলবার (২ জুন) নীতিন নবীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহে’ দলত্যাগ করার কথা জানান আন্নামালাই। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দলের শীর্ষনেতারা তাকে অপেক্ষা করতে বলেছিল।
এরপর পর্দার আড়ালে কয়েক দফা আলোচনা হয়। অন্নামালাইয়ের উত্তরসূরি ও বর্তমান তামিলনাড়ু বিজেপি সভাপতি নৈনার নাগেন্দ্রনকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিল্লিতে ডাকা হয়। সেখানে আরও এক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব বৈঠকে কোনও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের এই প্রভাবশালী নেতা।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ
তামিলনাড়ু বিজেপির বর্তমান সভাপতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, অন্নামালাইয়ের পদত্যাগে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, ‘বিজেপির কোনও ক্ষতি হয়নি। বিজেপি বিশ্বের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল।’ অন্নামালাইয়ের পদত্যাগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এ মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের পদত্যাগপত্রে অন্নামালাই লিখেছেন, ‘জাতীয় سیاسی দলগুলো কখনোই তামিলনাড়ুর মানুষের ভাষায় কথা বলেনি। আমি এই ধারণা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি এবং ভেতর ও বাইরের নানা বাধা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যও পেয়েছি।’
বিদায়ী এই নেতা জানান, গত ১৮ মাস ধরে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের ‘মতপার্থক্য’ তুলে ধরেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।
সাবেক ইন্ডিয়া পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তা অন্নামালাই নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কট্টর অনুরাগী হিসেবে পরিচিত অন্নামালাই ২০২০ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে রাজ্য সহ-সভাপতি করা হয়। এক বছর পর তিনি রাজ্য ইউনিটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩৭ বছর।
ক্রমেই তার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়তে থাকে। এমনকি ২০২৩ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। যদিও সেই নির্বাচনে বিজেপি পরাজিত হয়। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি পুনরায় এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকেই দলীয় মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে জানা যায়।
সূত্রগুলোর দাবি, অন্নামালাই চেয়েছিলেন বিজেপি এককভাবে নির্বাচনে লড়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি সম্প্রসারণ করুক। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। আর তাতেই শেষ পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হাঁটলেন আন্নামালাই।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: ভ্যান্সকে গালিবাফের খোঁচা: বসকে এসব বলছেন না কেন?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন