ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলনায় ব্যবসায়ীর প্রতারণার অভিযোগে ৬ জন আটক


খুলনায় ব্যবসায়ীর প্রতারণার অভিযোগে ৬ জন আটক

খুলনা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : আলতাফ হোসেন নামের একজন রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী খুলনা জেলায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাকে সোনাডাঙ্গা থানার দ্বিতীয় আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় গতকাল সোমবার রাতে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, প্রতারণার শিকার ব্যক্তি ঢাকার বাসিন্দা।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন- রেখা, অমিত হাসান রবিন, শেখ মনির টুটুল, শেখ আকাশ, রাকিবুল হাওলাদার ও আঞ্জুমান আরা বেগম।

স্থানীয়রা এবং পুলিশ জানায়, আলতাফ হোসেনের একটি প্রকল্প খুলনার খালিশপুর এলাকায় চলমান রয়েছে। প্রতারকরা আলতাফ হোসেনকে খালিশপুর এলাকায় একটি জমি বিক্রি করে দেয়ার কথা বলে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার ৩ নং- রোডের ২৭৭ নং- বাড়ির ই-২ ফ্ল্যাটে ডেকে নেয়। এরপর তাকে বিবস্ত্র করে মারধর করতে শুরু করে।

আরও পড়ুন: সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাতের বেলায় ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সোনাডাঙ্গা থানার এসআই আশরাফুল আলম বাসস’কে জানান, "উর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এরপর তাদের আটক করা হয়।" ব্যবসায়ীকে মারধর করে তারা নগদ ১ লক্ষ টাকা ও একটি সই করা চেক উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গলের উপগ্রহে যাচ্ছে জাপানের মহাকাশযান, নমুনা সংগ্রহের অভিযান শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


মঙ্গলের উপগ্রহে যাচ্ছে জাপানের মহাকাশযান, নমুনা সংগ্রহের অভিযান শুরু

ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : সৌরজগতের উৎপত্তি এবং পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভবের রহস্য উন্মোচনের সম্ভাবনা নিয়ে মঙ্গলের একটি উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো অভিযানে নেমেছে জাপানের একটি মহাকাশযান।

মঙ্গলবার, এটি মঙ্গলের উপগ্রহের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জাক্সা) সরাসরি সম্প্রচার অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে তানেগাশিমা মহাকাশকেন্দ্র থেকে এইচ-৩ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

রকেটটি মানববিহীন মহাকাশযান ‘মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন (এমএমএক্স)’ নিয়ে রাতের অন্ধকার আকাশে পাড়ি জমায়।

টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

উৎক্ষেপণের এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর সরাসরি সম্প্রচারে জাক্সা জানায়, মহাকাশযানটি সফলভাবে এইচ-৩ রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

জাক্সার বিজ্ঞানী মারি আইদা বলেন, ‘আমি দিনটির স্বপ্ন দেখেছি। তাই আমি ভীষণ আনন্দিত। এই মুহূর্তে আমি সত্যিই স্বস্তি অনুভব করছি।’

জাক্সা জানায়, মহাকাশযানটি রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর প্রত্যাশা অনুযায়ী এর সংকেত পাওয়া গেছে। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, মহাকাশযানটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

জাপানে তখন ভোরের আগের সময় হলেও হাজারো মানুষ সরাসরি সম্প্রচারটি দেখেন। তারা মহাকাশযানটির সাফল্য কামনা করে বিভিন্ন বার্তা পোস্ট করেন।

আগামী বছরের আগস্টের দিকে মহাকাশযানটির মঙ্গলের কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে এটি মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসকে কেন্দ্র করে কক্ষপথে ঘুরবে।

ফোবোসের পৃষ্ঠে চলাচলকারী প্রথম যান হবে ফরাসি-জার্মান যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি রোভার। এর নাম ‘আইডেফিক্স’। কমিক চরিত্র অ্যাস্টেরিক্সের কুকুরের ফরাসি নাম থেকে এই নাম নেওয়া হয়েছে।

নিরাপদে অবতরণের উপযোগী স্থান নিশ্চিত করতে রোভারটি উপগ্রহটির পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবে।

এমএমএক্স ফোবোসে পৌঁছানোর পর সেখানে তিন বছর অবস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় মহাকাশযানটি উপগ্রহটির পৃষ্ঠ থেকে অন্তত ১০ গ্রাম নমুনা সংগ্রহ করবে।

মঙ্গল অঞ্চলে গিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত এই অভিযানটিকে এ ধরণের প্রথম অভিযান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মহাকাশ সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে।

‘বিজ্ঞানে আমূল পরিবর্তন আনবে’

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই অভিযান ভবিষ্যতে মানুষের মঙ্গল অভিযান পরিচালনার পথ তৈরি করতে সহায়তা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের প্রশাসক নিকি ফক্স জাক্সার সরাসরি সম্প্রচারে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘এমএমএক্স থেকে পাওয়া নমুনা আগামী প্রজন্মগুলোর জন্য মঙ্গল গ্রহব্যবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞানে আমূল পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে, নাসা যখন মঙ্গলে প্রথম মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এর গুরুত্ব আরও বাড়বে।’

জাক্সার আশা, এই অভিযান থেকে জানা যাবে মঙ্গল ও এর দুটি উপগ্রহ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে। সৌরজগতের জন্মের ইতিহাস বুঝতে এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

উপগ্রহ দুটি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে একটি তত্ত্ব হলো ‘বৃহৎ সংঘর্ষ’ বা ‘জায়ান্ট ইমপ্যাক্ট’ তত্ত্ব।

এ তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি মহাজাগতিক বস্তু মঙ্গলে আঘাত হানার পর উপগ্রহ দু’টি সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, ‘ক্যাপচার’ বা মহাকর্ষের টানে আটকে পড়ার তত্ত্ব অনুযায়ী, উপগ্রহ দু’টি মূলত গ্রহাণু।

মঙ্গলের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে এগুলো এর কক্ষপথে আটকে পড়ে।

কোন তত্ত্বটি সঠিক, তা নির্ধারণ করা গেলে পাথুরে গ্রহগুলোতে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে জাক্সা।

সূর্যের সবচেয়ে কাছের চারটি পাথুরে গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের প্রস্তাবে ‘না’ বলায় অভিনেত্রী ম্রুণালকে মানসিক হেনস্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


প্রেমের প্রস্তাবে ‘না’ বলায় অভিনেত্রী ম্রুণালকে মানসিক হেনস্তা

বলিউডের অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুরের অভিনয়জীবনের পাশাপাশি সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা আলোচনায় এসেছে। নতুন সিনেমা ‘পূজা মেরি জান’ মুক্তির পর, অভিনেত্রী একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন, যা একসময় তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিল।

জি ফাইভে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটিতে ভালোবাসা, প্রত্যাখ্যান এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। ম্রুণাল সিনেমার গল্পের সঙ্গে তার জীবনের একটি ঘটনার মিল খুঁজে পেয়েছেন। এই কারণেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতীতের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন।

ম্রুণাল জানান, তার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু একসময় তাকে পছন্দ করতেন। তবে অভিনেত্রী প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হননি। তিনি স্পষ্টভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত সহজে মেনে নিতে পারেননি বন্ধুরা। বরং, এরপর তারা ম্রুণালের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে শুরু করেন।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ২৬ বছর বয়সে তিনি বিষয়টি নিয়ে তাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তখন ওই দুই বন্ধু স্বীকার করেন, তারা বুঝতে পারেননি যে তাদের আচরণ মৃণালকে বুলিং বা মানসিকভাবে হেনস্তা করার শামিল ছিল। প্রায় ১২ বছর পর, তারা অভিনেত্রীর কাছে ক্ষমাও চান।

ম্রুণাল অভিনীত ‘পূজা মেরি জান’ সিনেমায়ও প্রত্যাখ্যানের পরিণতি এবং একজন নারীর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমায়, পূজা ডোগরা নামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্রুণাল। তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক অনিক বিয়ের প্রস্তাব দিলে, পূজা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর অনিকের চরম সিদ্ধান্তের কারণে পূজাকে সামাজিকভাবে নানা অপমান ও কটূক্তির মুখোমুখি হতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে, শেষ পর্যন্ত আইনজীবীর সহায়তা নিতে হয় তাকে।

সিনেমাটিতে ম্রুণালের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন বিক্রম সিং চৌহান ও হুমা কুরেশি। গল্পের মাধ্যমে ভালোবাসার নামে কাউকে নিজের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা কিংবা প্রত্যাখ্যানের কারণে তাকে দোষারোপ করার প্রবণতাও তুলে ধরা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন ব্যালন ডি’অর জিততে পিছিয়ে থাকেন গোলকিপাররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


কেন ব্যালন ডি’অর জিততে পিছিয়ে থাকেন গোলকিপাররা

ফুটবলে গোল করার মাধ্যমে একজন খেলোয়াড় নায়ক হয়ে ওঠেন, আর গোল হজম হলে গোলকিপার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যান। একটি অবিশ্বাস্য সেভ দলকে জয় এনে দিতে পারে, আবার গোলকিপারের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষের আক্রমণকে নস্যাৎ করতে পারে। তবুও, ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরে গোলকিপারদের সাফল্য অত্যন্ত সীমিত।

১৯৬৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কিংবদন্তি লেভ ইয়াশিনের পর থেকে আর কোনো গোলকিপার এই পুরস্কার জিততে পারেননি। এর পেছনে রয়েছে পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা, দর্শকদের গোলের প্রতি আকর্ষণ এবং গোলকিপারদের অবদান পরিমাপের জটিলতা।

১৯৬৩ সালে ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েন লেভ ইয়াশিন। তিনি ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র গোলকিপার, যিনি পুরুষদের ব্যালন ডি’অর অর্জন করেছেন। ছয় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আর কোনো গোলকিপার তাঁর কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি।

কিছু কিংবদন্তি কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। ১৯৭৩ সালে ইতালির দিনো জফ ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ২০০২ সালে জার্মানির অলিভার কান তৃতীয় হন। ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলের গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফন দ্বিতীয় হন। ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের ম্যানুয়েল নয়্যারও ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

এই তালিকাই প্রমাণ করে, গোলকিপারদের পারফরম্যান্স বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পাওয়ার মতো হলেও চূড়ান্ত পুরস্কারটি তাদের অধরাই থেকে গেছে।

২০০২ বিশ্বকাপ ছিল অলিভার কানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেন জার্মান অধিনায়ক। বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারজয়ী একমাত্র গোলকিপারও তিনিই।

তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে রিভালদোর শট তিনি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে গোল করেন রোনালদো। সেই ভুলই যেন আড়াল করে দেয় টুর্নামেন্টজুড়ে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের বড় অংশ।

কান শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালের ব্যালন ডি’অরে তৃতীয় হন। ফাইনালের ফল অন্য রকম হলে তাঁর ব্যক্তিগত স্বীকৃতির হিসাবও ভিন্ন হতে পারত। তবে এমন সম্ভাবনা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বরং ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, গোলকিপারের একটি ভুল কীভাবে দীর্ঘ সময়ের ভালো পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের অবদান পরিমাপের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গোল ও অ্যাসিস্ট। একটি গোল কিংবা শেষ মুহূর্তের জয়সূচক শট মুহূর্তেই একজন ফুটবলারকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

কিন্তু গোলকিপারের কাজ শুধু শট ঠেকানো নয়। কখন সামনে এগিয়ে আসতে হবে, কীভাবে নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে হবে, কখন বল বিপদমুক্ত করতে হবে এবং রক্ষণভাগের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ রাখতে হবে এসব সিদ্ধান্তও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আধুনিক ফুটবলে প্রত্যাশিত গোল বা এক্সপেক্টেড গোলের পাশাপাশি শট-পরবর্তী প্রত্যাশিত গোলের মতো পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়। এসব বিশ্লেষণের মাধ্যমে গোলকিপারের সেভের কার্যকারিতা ও কঠিন শট ঠেকানোর সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

তবে সব অবদান পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। প্রতিপক্ষের থ্রু পাস আগেই বুঝে বলের কাছে পৌঁছে যাওয়া কিংবা বিপজ্জনক আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই সঠিক অবস্থান নেওয়ার কারণে কোনো সেভ নাও করতে হতে পারে। তবুও সেই সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষের গোলের সুযোগ নষ্ট করে দিতে পারে।

এ ধরনের অবদান দর্শকের চোখে সব সময় পড়ে না। গোল বা অ্যাসিস্টের মতো সহজে সংখ্যায় প্রকাশ করাও কঠিন।

গোলকিপারের প্রভাব শুধু গোলপোস্টের সামনে সীমাবদ্ধ নয়। একজন নির্ভরযোগ্য গোলকিপার পুরো রক্ষণভাগকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারেন। ডিফেন্ডাররা জানেন, তাদের পেছনে একজন দক্ষ খেলোয়াড় আছেন, যিনি বিপদ সামাল দিতে পারবেন। ফলে তাঁরা আরও আগ্রাসীভাবে খেলতে পারেন।

একইভাবে, গোলকিপার নিয়মিত কঠিন শট ঠেকাতে পারলে দলের অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতিপক্ষ একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

নটিংহাম ফরেস্টের সাবেক গোলকিপার পিটার শিলটনের গুরুত্ব বুঝেছিলেন কিংবদন্তি কোচ ব্রায়ান ক্লফ। ভালো গোলকিপার একটি মৌসুমে দলকে ১৫ থেকে ২০ পয়েন্ট পর্যন্ত এনে দিতে পারেন এমন ধারণার মাধ্যমে গোলকিপারের প্রভাব বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এটি সর্বজনস্বীকৃত কোনো পরিসংখ্যানগত নিয়ম নয়; বরং একজন গোলকিপার কীভাবে পুরো দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারেন, তার একটি ব্যাখ্যা।

একজন ফরোয়ার্ড ম্যাচের অধিকাংশ সময় নিষ্প্রভ থেকেও শেষ মুহূর্তে গোল করে নায়ক হয়ে উঠতে পারেন। বিপরীতে, একজন গোলকিপার ৮৯ মিনিট অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখানোর পরও শেষ মুহূর্তে একটি ভুল করলে সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।

এর কারণ, গোলকিপারের ভুলের ফল প্রায়ই সরাসরি স্কোরলাইনে দেখা যায়। একটি ভুলে গোল হজম হতে পারে, হারতে পারে দল। অথচ একই ম্যাচে তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভের মূল্যায়ন তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

ব্যালন ডি’অরের মতো পুরস্কারে খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনায় থাকা, স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করা এবং মৌসুমজুড়ে প্রভাব বিস্তার করাও গুরুত্বপূর্ণ। গোলকিপারদের অবদান যেহেতু অনেক সময় প্রতিরোধমূলক ও অদৃশ্য, তাই তাঁদের পক্ষে এমন স্বীকৃতি পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।

গোলকিপারদের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি দিতে ২০১৯ সাল থেকে চালু হয়েছে ইয়াশিন ট্রফি। কিংবদন্তি লেভ ইয়াশিনের নামে দেওয়া এই পুরস্কার গোলকিপারদের জন্য আলাদা স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছে।

তবে আলাদা পুরস্কার থাকলেও মূল ব্যালন ডি’অরের প্রতিযোগিতায় গোলকিপারদের পিছিয়ে পড়ার প্রশ্নটি থেকেই যায়। তাঁদের পারফরম্যান্সকে শুধু ক্লিন শিট বা গোলশূন্য ম্যাচের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যথেষ্ট নয়। বরং কতগুলো কঠিন গোল ঠেকিয়েছেন, বিপজ্জনক পরিস্থিতি কীভাবে সামলেছেন, মাঠের কোন জায়গা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং দলের খেলার ধরনে কতটা প্রভাব রেখেছেন এসব বিষয়ও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।

ফুটবলে গোল করা যেমন দক্ষতার পরিচয়, গোল ঠেকানোও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। কিন্তু গোলের উচ্ছ্বাস যত সহজে মানুষের মনে জায়গা করে নেয়, গোল ঠেকানোর অবদান ততটা আলোচনায় আসে না।

ব্যালন ডি’অরে গোলকিপারদের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি তাই শুধু ব্যক্তিগত পুরস্কারের হিসাব নয়; বরং ফুটবলে পারফরম্যান্স মূল্যায়নের দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন। গোলকিপারদের অবদানকে অন্য পজিশনের খেলোয়াড়দের সমান গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা না গেলে লেভ ইয়াশিনের পর আরেকজন গোলকিপারের হাতে ব্যালন ডি’অর ওঠার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার হুমকিতে ১০ লাখ স্থলমাইন কিনবে ফিনল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


রাশিয়ার হুমকিতে ১০ লাখ স্থলমাইন কিনবে ফিনল্যান্ড

ফিনল্যান্ড ১০ লাখ স্থলমাইন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশটি এসব মাইন ক্রয়ের জন্য ১০ কোটি ইউরো ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। জাতিসংঘের একটি চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করার পর ফিনল্যান্ড এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হেলসিংকির এই পরিকল্পনা ইউক্রেনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে মস্কোর ক্রমাগত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এসেছে। গত বছর ফিনল্যান্ড অটোয়া কনভেনশন থেকে বেরিয়ে আসে, যা সামরিক উসকানির বিরুদ্ধে ছিল।

এছাড়া, ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো যেমন এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডও মস্কোর সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করে এই চুক্তি থেকে সরে এসেছে।

ফিনল্যান্ডের সেনাবাহিনী কমান্ডের কর্নেল রিকু মিক্কোনেন জানিয়েছেন, কর্মকর্তারা বর্তমানে এই চুক্তির বিষয়ে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

হেলসিংকি দেশীয় নির্মাতাদের মাধ্যমে মাইনগুলো সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে।

মিক্কোনেন এসটিটিকে বলেন, যদি ফিনল্যান্ডের কোম্পানিগুলো দেশেই এই অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইনগুলো তৈরি করে, তবে তা বিভিন্ন দিক থেকে লাভজনক হবে। তিনি আরও জানান, ফিনল্যান্ডের প্রায় আধা ডজন কোম্পানির এই কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে।

তবে, বিদেশ থেকে মাইন কেনার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না, বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফিনল্যান্ড ২০১২ সালে অটোয়া কনভেনশনে যোগ দিয়েছিল, যা অ্যান্টি-পার্সোনেল স্থলমাইন নির্মূলের জন্য একটি মানবিক চুক্তি।

ফিনল্যান্ড জানায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে তারা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তারা আর এই চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়।

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতেরি ওরপো প্রতিবেশী রাশিয়াকে একটি দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফিনল্যান্ডের রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ফিনল্যান্ড তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

এছাড়া, পূর্ব দিক থেকে অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফিনল্যান্ডে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রুশ নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখা হয়।

তিনি বলেন, "রাশিয়া যতদিন তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাবে, ততদিন রুশ নাগরিকদের পর্যটক ভিসা দেওয়া উচিত নয়।" ভালতোনেন উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে শেনজেনভুক্ত দেশগুলো রুশ নাগরিকদের প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটক ভিসা দিয়েছে। ফিনল্যান্ড ২০২২ সালেই এ ধরনের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং ইউরোপীয় জোটের বাকি দেশগুলোরও একই পথ অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। সূত্র : আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%