মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৩ পি.এম
কচুরিপানার নিচে আত্মগোপন করেও শেষ রক্ষা হলো না এক মাদককারবারীর। প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে খালের পানিতে কচুরিপানার নিচ থেকে তাকে আটক করেছে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ। এ সময় তার ব্যবহৃত নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল থেকে বিশেষ কায়দায় রাখা ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নাগেশ্বরী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, এক মাদককারবারী মোটরসাইকেলযোগে ফুলবাড়ী থেকে নাগেশ্বরী হয়ে কুড়িগ্রামের দিকে মাদক নিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানার একটি চৌকস দল পৌরসভার ঠুঁটা পাইকর এলাকায় অবস্থান নেয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি ঠুঁটা পাইকর এলাকায় মোটরসাইকেল ফেলে পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে খালের কচুরিপানার নিচে আত্মগোপন করে থাকেন। স্থানীয় জনতা ও পুলিশ প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে কচুরিপানার নিচ থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটক ব্যক্তির নাম মো. মাহবুবুল (৩২)। তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিদ্যাবাগিশ গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
পরে তার ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেল তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় রাখা ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলটিও জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, আটক মাহবুবুল একজন চিহ্নিত মাদককারবারী। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
নাগেশ্বরী থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নাগেশ্বরীকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একযোগে ২৬৬ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করেছে।
বৃহস্পতিবার একটি প্রজ্ঞাপনে র মাধ্যমে এই বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এনবিআরের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন শাখা-৩-এর দ্বিতীয় সচিব মো. জাকির হোসেন কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে ২৬৬ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। এছাড়া, এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিশোর-কিশোরী ও যুবসমাজকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এবং সুস্থ ও সুন্দর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এ কার্যক্রমটি বৃহস্পতিবার বিকেলে আক্কেলপুর মুজিবুর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যা জয়পুরহাট জেলা পরিষদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের হাতে ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধুলার সরঞ্জাম তুলে দেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার রানা, পৌর বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুর ইসলাম পল্টু, সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা আলমগীর চৌধুরী, বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান ইকু, রফিকুল ইসলাম চপল প্রমুখ।
বক্তারা অনুষ্ঠানে তরুণ ও কিশোরদের লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান। বক্তারা উল্লেখ করেন, খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়ক। সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য এমন উদ্যোগকে তারা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও অভিভাবকরা এই উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ২৬ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা এবং দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করেছে। এই অভিযানে মাদক সেবন ও পাচার, চুরি এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামি সহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকাল সাড়ে ৮টার সময় চান্দলা ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া আদর্শ কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে ১৬ কেজি গাঁজা এবং একটি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
এছাড়া, মাদক সেবনের অপরাধে বাহারুল ইসলাম (২৪), দুইজন হাসান (৩৮ ও ২০), লিমন হোসেন (২৩) এবং আল আমিন (২১) সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, জিআর পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামি হেলাল উদ্দিন (৪৫) এবং বিল্লাল হোসেন (৩৭) সহ একটি চুরি মামলার পলাতক আসামি রবিউল হাসান (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামি জালাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তহবিলের সংকোচন ও ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে সহায়তা অনুদানের পরিমাণ কমে আসার পাশাপাশি হাজার হাজার ত্রাণকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মানবিক সাহায্য ও ত্রাণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়নকারী গবেষণা প্রতিবেদনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারগুলো কেবল বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে না, বরং তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্যও ক্রমশ দায়ী হয়ে উঠছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর ৬ কোটি ৪০ লাখ (৬৪ মিলিয়ন) কম মানুষ সহায়তা পেয়েছে। ‘স্টেট অফ দ্য হিউম্যানিটারিয়ান সিস্টেম ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সহায়তা অনুদান ৩০ শতাংশ কমেছে এবং হাজার হাজার ত্রাণকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গঠিত হওয়ার পর থেকে মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাটি তার ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকোচনের মুখে পড়েছে।
২০২৫ সালে কেবল তাৎক্ষণিক জীবন-ঝুঁকির মুখে থাকা মানুষদের সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা মোকাবিলা এবং সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সংকুচিত করা হয়েছে।
ডোহার্টি জানান, ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালে মানবিক সহায়তা খাতে কর্মরত জনবলের ২৩ শতাংশ পর্যন্ত ছাঁটাই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশেষায়িত সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বড় আকারের বাজেট ছাঁটাই করেছে ইউএসএইড, যারা ২০২৫ সালে তাদের সহায়তা তহবিল ৫৫ শতাংশ কমিয়েছে। তবে অন্যান্য শীর্ষ দাতা সংস্থাও সহায়তা কমিয়েছে; শীর্ষ ২০টি দাতা সংস্থার মধ্যে ১৩টিই গত বছর তাদের অনুদান হ্রাস করেছে। প্রতিবেদনে সহায়তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত কর্মসূচিগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দ স্থগিত করার মতো মার্কিন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সহায়তা তহবিল হ্রাসের ফলে যারা সহায়তা পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে মাথাপিছু সহায়তার পরিমাণ ২০২১ সালের ১৭৮ ডলার থেকে কমে ২০২৫ সালে ৯০ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ বাস্তবে মাথাপিছু প্রয়োজনীয় সহায়তার পরিমাণ বেড়ে ২৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছিল। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলার একটি কারণ ছিল, সরকারগুলো কেবল বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার দায়িত্ব পালনেই ব্যর্থ হয়নি, বরং প্রায়শই তারা মানুষকে প্রকৃত অর্থেই বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চালানো আক্রমণের ৬৪ শতাংশের জন্যই রাষ্ট্রগুলো দায়ী ছিল।
এছাড়া বিমান হামলার মাধ্যমে ত্রাণকর্মীদের ওপর যে সহিংসতা চালানো হয়েছে, তার জন্যও অনেকাংশে তারাই দায়ী ছিল। ইয়েমেন ছিল সহায়তা বা ত্রাণ বরাদ্দ হ্রাসের ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেখানে পুষ্টি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত থাকায় ডিপথেরিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়।
ইয়েমেনে ‘অ্যাকশন ফর হিউম্যানিটি’-র কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ বাহাশওয়ান বলেন, সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ায় পরিবারগুলোর সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, সমস্যাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে আসে না। এমন হতে পারে, কোনো পরিবার তাদের আয়ের উৎস হারিয়েছে, খাবারের সংস্থান করতে পারছে না, তাদের কোনো শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। অথচ স্বাস্থ্যসেবা পেতে তাদের অনেক দূর যেতে হচ্ছে কিংবা এমন খরচ বহন করতে হচ্ছে যা তাদের সাধ্যের বাইরে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সবচেয়ে অসহায় মানুষদের সহায়তায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার নজির রয়েছে যার নেতৃত্বে প্রায়শই স্থানীয় সহায়তা সংস্থা ও প্রবাসীদের বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ভূমিকা রেখেছে। তবে এতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এই নেটওয়ার্কগুলোর সাথে যথাযথ সমন্বয় করেনি এবং সহায়তা বরাদ্দ হ্রাসের ফলে স্থানীয় সহায়তা সংস্থা ও কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ভিয়েনাভিত্তিক সংস্থা ‘গ্রাউন্ড ট্রুথ সল্যুশনস’-এর প্রধান নির্বাহী মেগ স্যাটলার সহায়তা প্রয়োজনীয় মানুষের ওপর নিয়মিত জরিপ পরিচালনা করে। তিনি বলেন, স্থানীয়করণের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা পরিস্থিতির সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেনি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া বাজেট সংকোচন ও শর্তাবলির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেয়নি।
তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবেই এমন মানুষের সাথে কথা বলেছি যারা সহায়তার এই সংকোচন বা কাটছাঁটের প্রভাব সরাসরি অনুভব করছেন। এটি বিশেষ করে তাদের জন্য চরম দুর্ভোগ বয়ে আনছে যাদের ক্ষেত্রে সহায়তাকে এখন কেবল ‘জীবন রক্ষাকারী’ হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বা ব্যবসা শুরুর জন্য সঞ্চয় করার মতো কাজগুলো করতে পারছেন না। অথচ এই কাজগুলোই ভবিষ্যতে তাদের সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সাহায্য করত।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ