ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আদালতে সোহেলকে দেখিয়ে রামিসার মা বললেন ‘হত্যা ও করছে, ধর্ষণও করছে’


আদালতে সোহেলকে দেখিয়ে রামিসার মা বললেন ‘হত্যা ও করছে, ধর্ষণও করছে’

আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি সোহেল রানা কে দেখিয়ে রাজধানীর মিরপুরে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু রামিসার মা পারভীন আক্তার বলেন, ‘হত্যা ও করছে, ধর্ষণও করছে।’

রামিসার হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় এভাবেই বলেন তিনি।

সাক্ষ্যগ্রহণে রামিসার মা পারভিন বেগম বলেন, ‘আনুমানিক ১০টা, আমি তখন রান্না করছিলাম। দুই মেয়ের পার্শ্ববর্তী চাচার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। আমি বুঝতে পারিনি, গিয়েছে কি না। এরপর রান্নাঘর থেকে আমি চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। আমি মনে করি, পাশের ফ্ল্যাটে (আসামিদের) কোনো বাচ্চা হয়তো চিৎকার দিচ্ছে। এদিকে, আমি এখনও অপেক্ষা করছি রামিসা এখনো আসছে না কেন। কখন আসবে। কিছুক্ষণ পর বড় মেয়ে একাই বাসায় ফিরে। আমি ওকে রামিসার কথা জিজ্ঞেস করলে সে বলে, রামিসা আমার সঙ্গে যায়নি।’

আরও পড়ুন: পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড

তিনি আরও বলেন, ‘আশপাশ খোঁজ করেও পাচ্ছিলাম না রামিসাকে। সবাইকে রামিসার কথা জিজ্ঞেস করি। কিন্তু সবাই বলে, দেখিনি। নিচে একটা অফিসের কাজ চলছিল। সেখানে ঢুকে আমি দেখি, মেয়ে আছে কি না। এরপর দোতলায় খুঁজি। সেখানেও নেই। আমি পাশের ফ্ল্যাটে দরজায় কড়া নাড়ি। কিন্তু কেউ সাড়া দিচ্ছিল না। হঠাৎ আমার চোখ পড়ে দরজার সামনে মেয়ের একটা স্যান্ডেল। তখন আমার ভাবনায় আসে, মেয়েকে কি এখানে আটকে রেখেছে। আমার শব্দ শুনে পাঁচতলা থেকে আসমা নামের এক নারী নেমে আসেন। ধীরে ধীরে আশপাশের লোকজনও চলে আসে। তাদেরকে জানাই যে, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি তখন আমার স্বামীকেও ফোন দিই। অনেকে চেয়ার নিয়ে ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছে কিন্তু তারা দেখতে পাচ্ছে না।’

পারভিন বেগম বলেন, ‘পরে দরজা ভেঙে সবাই ভেতরে ঢুকি। তখন রাজু নামের একটি ছেলে ভিডিও করছিল। স্বপ্না হাটাহাটি করছিল। বেডরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে বাথরুমে অসংখ্য রক্ত দেখতেই পাই। এরপর রামিসার বিচ্ছিন্ন মাথাও খুঁজে পাই। পরে পুলিশ এসে রামিসার জামা ও মরদেহ উদ্ধার করে।’

এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো থাকা স্বপ্নাকে দেখিয়ে রামিসার মা বলেন, ‘তারে আমি অনেকবার বলেছি, বোন দরজাটা খুইলা দে, খুইলা দে। কিন্তু ও খোলে নাই। আমি ওকে কোনো প্রশ্ন করতে পারিনি। উপস্থিত লোকজনই ওকে প্রশ্ন করেছে। পরে আমি তাদের কাছ থেকে শুনতে পাই, সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালাইছে।’

এরপর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সোহেল রানাকে দেখিয়ে পারভীন বেগম বলেন, ‘হত্যা ও করছে, ধর্ষণও করছে।’

আরও পড়ুন: আ.লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

এদিকে পারভীন বেগম ছাড়াও শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও বোন রাইসা আক্তারসহ ১০ জন সাক্ষী।

এদিন সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতে তোলা হয়।

এর আগে সোমবার দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

গত ১৯ মে সকালে পাশের ফ্ল্যাটে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের ভেতরে থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০ মে সোহেল আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক মেহেদী হাসান বাবুর পিতা নেওয়াজ আলী সর্দারের ইন্তেকাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেন্ডারগাস্টের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উইন্ডিজকে প্রথমবার হারাল আয়ারল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


প্রেন্ডারগাস্টের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উইন্ডিজকে প্রথমবার হারাল আয়ারল্যান্ড

নারীদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করল আয়ারল্যান্ড। আইরিশদের এই জয়ের নায়ক হলেন ওরলা প্রেন্ডারগাস্ট, যিনি ব্যাটে-বলে অসাধারন পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেছেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের এই ম্যাচে, আইরিশ অধিনায়ক প্রেন্ডারগাস্ট প্রথমে বল হাতে চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়ে শিকার করেন ২টি উইকেট। এরপর তিনি রান তাড়ায় নেমে অপরাজিত ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। তার অসাধারণ করে তোলা এই নৈপুণ্যে, আয়ারল্যান্ড ডিএলএস পদ্ধতিতে মাত্র ১ রানে জয় লাভ করে, যা তাদের ফাইনালে ওঠার পথে বেশ এগিয়ে দিয়েছে।

এদিন ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শীঘ্রই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। পাওয়ারপ্লেতেই অ্যাভা ক্যানিংয়ের করা তোপে তারা দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে। শীর্ষ সারির ব্যাটাররা মাত্র পাঁচ ওভারের মধ্যেই ফিরে যাওয়ার কারণে দলটি বড় চাপের মধ্যে পড়ে। স্টেফানি টেইলর হালকা ইনজুরিতে মাঠ ছাড়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। ইনিংসের অর্ধেক সময়ের আগে স্কোর দাঁড়ায় ৫৩/৪ (কার্যত ৫ উইকেট হারানো)। তখন বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনার স্থায়ী ইতি ঘটে।

কিন্তু, জ্যানিলিয়া গ্লাসগো ও শেমেইন ক্যাম্পবেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তারা কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে ইনিংসে গতি আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু লেট ওভারে ক্যাম্পবেল আউট হলে আবারও ধস নেমে আসে। প্রেন্ডারগাস্ট ডেথ ওভারে দুটি উইকেট নেন। এরপর লোয়ার অর্ডারের কিছু বাউন্ডারির সাহায্যে দলটি কোনোমতে ১৪০ রান সংগ্রহ করে।

১৪১ রানের লক্ষ্যে আয়ারল্যান্ড যখন খেলতে নামে, তখন তারা শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। শানিশা হেক্টর প্রথম চার বলের মধ্যেই দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন। তখন ক্রিজে এসে পৌঁছান প্রেন্ডারগাস্ট। নিজের ২৪তম জন্মদিনে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন তিনি এবং রেবেকা স্টোকেলকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে তোলেন।

কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ নতুন করে ম্যাচে ফিরে আসে দ্রুত তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে। ফলে আয়ারল্যান্ড ৬৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। এরপরও প্রেন্ডারগাস্ট আক্রমণ অব্যাহত রাখেন। ১৪ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯৫/৫, যেখানে তার একক সংগ্রহ ছিল ৭১ রান।

শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা বাড়ে। তখন বৃষ্টি এসে হানা দেয়, এবং ডিএলএস হিসাব অনুযায়ী আয়ারল্যান্ড তিন রানে পিছিয়ে ছিল। ম্যাচের শেষদিকে আম্পায়াররা পরিস্থিতি দেখে আরও একটি বল করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই বলটি লুইস লিটলের ব্যাটের কানায় লেগে ৪ হয়। এরপর বৃষ্টি আরও বেড়ে গেলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ম্যাচ শুরু না হওয়ার কারণে আয়ারল্যান্ডকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিমানে ঘর ছেড়েছিলেন, ৩৮ বছর পর ফিরলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


অভিমানে ঘর ছেড়েছিলেন, ৩৮ বছর পর ফিরলেন

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দি গ্রামে এখন আনন্দ, কান্না এবং বিস্ময়ের পরিবেশ বিরাজমান। ৩৮ বছর আগে যে ব্যক্তি সামান্য অভিমান করে ঘর ছেড়ে ছিলেন, তার জন্য একসময় স্বজনদের চিন্তা ছিল বড্ড বেশি। ধরে নেওয়া হয়েছিল, তিনি আর হয়তো পৃথিবীতে নেই। তবে সময়ের সব হিসাব ভুল প্রমাণিত করে সোমবার (১ জুন) বিকেলবেলা সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষটি নিজের জন্মভিটায় ফিরে এসেছেন।

ফিরে আসা এই প্রবীণ ব্যক্তির নাম জবেদ আলী (৬৬)। তিনি বামন্দি গ্রামের মৃত তোফাজ্জল মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে জানা যায়, সোমবার বিকেলে গ্রামের রাস্তার ধারে এক বৃদ্ধকে ধীরে ধীরে হেঁটে আসতে দেখা যায়। তার বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর এবং মুখে সময়ের গভীর চিহ্ন ছিল। প্রথমে কেউ তাকে চিনতে পারেনি, কিন্তু বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতেই ঘটে এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার। দীর্ঘদিনের অপেক্ষায় ক্লান্ত স্ত্রী রুশিয়া খাতুন প্রথমে হতভম্ব হয়ে যান। কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকার পর তিনি চিনতে পারেন সেই চেনা মুখটিকে। এরপর তিনি চিৎকার করে ওঠেন, ‘ওই তো আমার মানুষ!’

তার সেই চিৎকার শুনে ছুটে আসেন পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা। মুহূর্তের মধ্যেই কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির আঙিনা। কেউ তার হাত ধরে কাঁদছেন, আবার কেউ বুকে জড়িয়ে ধরে হারিয়ে যাওয়া সেই দীর্ঘ সময়কে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে পারিবারিক কলহের কারণে অভিমান করে জবেদ আলী চার বছরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং স্ত্রী রুশিয়া খাতুনকে রেখে হঠাৎ বাড়ি ছাড়েন। এরপর বছরাত্তর ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় তার খোঁজ করতে গিয়ে স্বজনরা কোনো সন্ধান পাননি। কখনো দেশের অন্য জায়গায় থাকার খবর পাওয়া গেছে, আবার কখনো তার মৃত্যুর গুজব এসেছে স্বজনদের কাছে। প্রতিটি খবরের পেছনে ছুটে বেড়িয়েছেন তারা, কিন্তু প্রতিবারই তারা ফিরে পেয়েছেন হতাশাই।

দীর্ঘ এই অপেক্ষায় পথচেয়ে থাকতে থাকতে একসময় জবেদ আলীর মা ও দাদি পৃথিবী ত্যাগ করে চলে যান। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জবেদ আলীর স্ত্রী রুশিয়া খাতুন বলেন, ‘প্রথম কয়েক বছর প্রতিদিন মনে হতো, আজ হয়তো ফিরে আসবে। মানুষ বলতে শুরু করেছিল যে, সে আর বেঁচে নেই, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নি। আজ যখন সামনে দেখলাম, মনে হলো আল্লাহ আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, চার বছরের সেই শিশু ছেলে জাহাঙ্গীর এখন প্রবাসী। বাবার ফিরে আসার খবর পেয়েই সে বিদেশ থেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছে এবং দ্রুত দেশে ফিরে বাবাকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় রয়েছে।

গ্রামের প্রবীণরা জানান, জবেদ আলী যুবক বয়সে শুধুমাত্র একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন না, তিনি এলাকায় লাঠিখেলায় অসাধারণ সুনাম অর্জন করেছিলেন। এছাড়া যাত্রাপালার মঞ্চে তার অভিনয় দেখতে দারুণ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত।

জবেদ আলীর চাচাতো ভাই বক্কার আলী জানান, ‘জবেদ ভাইয়ের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমাদের গ্রামের ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিল। নতুন প্রজন্ম শুধুমাত্র তার গল্প শুনেছে। আজ সেই গল্পের মানুষটিকে বাস্তবে দেখে সবাই বিস্মিত।’

নিজের জীবনের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং ভবঘুরে জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চোখের জল থামাতে পারেননি জবেদ আলীও। তিনি বলেন, ‘অভিমান করেই চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু যতদূরেই গেছি, পরিবারের কথা আমার ভুলে যায়নি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুর এবং শ্রমিকের কাজ করেছি। মানুষের ভিড়ে থেকেও আমি ভীষণ একা ছিলাম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি, সংসারের ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। তাই শেষ বয়সে সমস্ত অভিমান মুছে নিজের মানুষের কাছে ফিরে এলাম।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্তানদের ‘বিষ মেশানো’ শরবত খাওয়ালেন বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


সন্তানদের ‘বিষ মেশানো’ শরবত খাওয়ালেন বাবা

পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী এলাকায় একটি অভিযানের মধ্যে নিজ ছেলে এবং মেয়েকে শরবতের সাথে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১৪ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন ও ৭ বছর বয়সী মেয়ে ছামিয়াকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে।

অভিযুক্ত বাবার নাম সিরাজুল শিকদার (৪০)। তিনি জেলার জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের লাহুড়ী গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। শ্বশুরবাড়ি কুমারখালী এলাকায় অবস্থানকালে তিনি নিজ সন্তানদের ওপর এই বিষপ্রয়োগের ঘটনা ঘটান বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী ছেলে ইয়াসিন জানায়, "বাবা আমাকে বাজার থেকে চিনি কিনে আনতে বলেন। চিনি এনে দেওয়ার পর তিনি নিজ হাতে শরবত তৈরি করে আমাকে ও আমার বোনকে খাওয়ান। শরবত খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের প্রচণ্ড খারাপ লাগতে শুরু করে এবং আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি।"

একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট বোন ছামিয়া (৭) বলেছে, "শরবত খাওয়ার পরপরই আমার মাথা ঘুরে যায় এবং আমি মাটিতে পড়ে যাই। শরবতের স্বাদ স্বাভাবিক ছিল না এবং তাতে কিছু মেশানো ছিল বলে আমার ধারণা।"

চিৎকার শুনে প্রথমে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী মো. কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, "বাড়ির উঠান থেকে বাচ্চাদের গোঙানি ও চিৎকার শুনে আমি দ্রুত সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি দুই ভাই-বোন তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে। এরপর প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।"

শিশুদের নানা আব্দুল করিম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার নাতি-নাতনিকে তাদের আপন বাবা বিষাক্ত শরবত খাইয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। তবে কী কারণে একজন বাবা নিজের সন্তানদের সাথে এমন শত্রুতা করল, তা আমাদের মাথায় আসছে না।"

এই নিষ্ঠুর ঘটনার পর অভিযুক্ত সিরাজুল শিকদার পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাজিব পাইক জানান, শিশুদের শারীরিক অবস্থা ও প্রাথমিক উপসর্গগুলো দেখে বিষক্রিয়ার স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে। তবে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, "ঘটনাটি আমরা জেনেছি এবং পুলিশের একটি দল বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা: মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ পি.এম


নোয়াখালীতে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা: মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার ১

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার ৩ নম্বর আসামি সাইফুল ইসলামকে (২৬) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার সাইফুল একই গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।  

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান।  এর আগে, গতকাল সোমবার ১ জুন সকালে নিহতের মা যোবেদা খাতুন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে, শনিবার রাত ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা রাকিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

নিহত রাকিব খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাকিবের চাচার বাড়িতে নির্মাণাধীন একটি পাকা ভবনের কাজ চলছিল। এ সময় আসামিরা ওই কাজে চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাকিব ও তার ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা রাকিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে এবং তার ছোট ভাইকে আহত করে। ঘটনার পরদিন রোববার সকাল ১১টার দিকে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে বসতঘর ও রান্নাঘরসহ আটটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে রাকিব হত্যার বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকেলে পুলিশের উপস্থিতিতে রাকিবের মরদেহ দাফন করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

ওসি মো. শামসুজ্জামান আরও বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে।

তিনি আরও জানান, বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%