ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি পড়ে যাচ্ছে, ছাতা মাথায় পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা


ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি পড়ে যাচ্ছে, ছাতা মাথায় পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

এক হাতে ছাতা এবং অন্য হাতে কলম। সামনে পরীক্ষার খাতা এবং মাথার ওপর দিয়ে টপটপ করে ঝরছে বৃষ্টির পানি। এমন অস্বাভাবিক ও দুর্ভোগের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের।

সোমবার (১৩ জুলাই) এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়ে।

সম্প্রতি চিকনিকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে টানা বৃষ্টির মধ্যে শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় পরীক্ষা দেন। কেউ এক হাতে ছাতা ধরে অন্য হাতে লিখছেন, আবার কারও বেঞ্চ ও পরীক্ষার খাতা বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাচ্ছে। এমন দৃশ্য দেখে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর-প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর

সূত্র জানায়, চিকনিকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসাটি ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হলেও কাজটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি প্রায় ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

ভবনের ছাদে অসংখ্য ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে সেখান দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তরা খসে পড়ছে, দরজা-জানালাও নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল শেখ মুগ্ধ বলেন, 'প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আমাদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে বেঞ্চ ও পরীক্ষার খাতা ভিজে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে মাথার ওপর ছাতা ধরে পরীক্ষা দিচ্ছি।'

আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, 'ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে স্বাভাবিক সময়েও ক্লাস করা কঠিন। বৃষ্টির সময় পানি পড়ে এবং মাঝে মাঝে পলেস্তরাও খসে পড়ে। সব সময়ই দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে ক্লাস করতে হয়।'

আরও পড়ুন: মণ্ডপে ঢাকের শোভা, উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে

মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মো. ইয়াহিয়া খান বলেন, 'এই প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অথচ তাদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষা-বান্ধব পরিবেশ নেই। টানা বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে পাঠদান এবং পরীক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।'

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজির আহমেদ বলেন, 'আমরা অত্যন্ত বিব্রতকর ও অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে হস্তান্তর করা হলে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।'

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি নতুন বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ধীরগতিতে কাজ চলায় কবে নাগাদ ভবনটি ব্যবহার উপযোগী হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

তবে এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, 'বিষয়টি আজই আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরও পড়ুন: রংপুরের গ্রিন ফিল্ড কারখানা জিতল ২০২৬ সালের রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলিয়ারচরে প্রকাশ্য দিবালোকে জুয়েল হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল লক্ষ্মীপুর! ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, সড়ক অবরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩০ পি.এম


কুলিয়ারচরে প্রকাশ্য দিবালোকে জুয়েল হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল লক্ষ্মীপুর! ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, সড়ক অবরোধ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় নির্মমভাবে নিহত অটোরিকশা চালকের পুত্র জুয়েল মিয়া (২০) হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও জুয়েল হত্যার সাথে জড়িত কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচারহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আগরপুর-পোড়াদিয়া হাইওয়ে রাস্তার লক্ষ্মীপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের ওপর ‘ঐক্যবদ্ধ লক্ষ্মীপুরের জনগণ’ ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে লক্ষ্মীপুর ও আশেপাশের এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তার ওপর বাঁশ বেঁধে ও শুয়ে এবং টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে বিকেল সোয়া ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভকারীরা জানান, খুনিরা ধরা না পড়লে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আবারও রাস্তা বন্ধ করে আরও কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে।

মানববন্ধনে উপস্থিত নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একটি প্রভাবশালী মহল পুরো বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

"কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মামলা রুজু ও তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত করা যাবে না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যদি সকল খুনিকে আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে কুলিয়ারচরে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"

এর আগে গত ১১ জুলাই শনিবার জুয়েল মিয়ার জানাজা শেষে লাশ দাফনের আগে খাটিয়া কাঁধে নিয়ে শত শত মানুষ লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বুধাইবাড়ি পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। দফায় দফায় বিক্ষোভ সত্ত্বেও কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই শুক্রবার বিকেলে জুয়েল মিয়া তার এক বন্ধুর ডিমের গাড়িতে চড়ে আগরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে আসছিলেন। গাড়িটি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের ১০০ গজ পশ্চিমে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত সেটির গতি রোধ করে। তারা জুয়েলকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় এলোপাতাড়ি মারধর করে চলে যায়। এসময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে নিহত জুয়েল সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ওই বিরোধের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানান, "হত্যার কারণ উদঘাটন এবং প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠিকাদারি কাজের জন্য ব্যবসায়ীকে হুমকি, যুবদল নেতাকে শোকজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩১ পি.এম


ঠিকাদারি কাজের জন্য ব্যবসায়ীকে হুমকি, যুবদল নেতাকে শোকজ

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ। 

ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ব্যবসায়ীর প্রতি অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রদান করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।

সোমবার (১৩ জুলাই) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়।

চিঠির মধ্যে উল্লেখ করা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদল যখন বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তা, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত, তখন সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির এ ধরনের আচরণ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। আদমজী ইপিজেড এলাকার এক ব্যবসায়ীকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার ঘটনার বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে এসেছে। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

এভাবে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে, কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না সে বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির কাছে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘সংগঠনের দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এই ধরনের ব্যবহার কাম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এগুলো ভাইরাল হলে সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তাই সংগঠন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আমার জানা নেই, তবে তাকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে কারণ দর্শানোর জন্য।’

প্রসঙ্গত, আদমজী ইপিজেডে একটি ঠিকাদারি কাজের জন্য সানজিদা গ্রুপের প্রতিনিধি ফরহাদের সঙ্গে সাহেদ আহমেদের হোয়াটসঅ্যাপ কলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায়। এর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় যুবদল তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলডিসির মসৃণ উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ পি.এম


এলডিসির মসৃণ উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান

সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইকোসক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবিটি তোলা হয়েছে বাসস থেকে।

 স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন এলডিসি গ্রুপ। এ ক্ষেত্রে তারা স্বল্পসুদে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, জলবায়ু অর্থায়ন সহজপ্রাপ্য করা, বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এলডিসি গ্রুপের মত অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ ছাড়া ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা আসবে।

আজ সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের মধ্যে তিনি টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা এবং দোহা কর্মসূচির প্রতি এলডিসি গ্রুপের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, এই দুটি বৈশ্বিক কাঠামো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল উন্নয়ন এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় সুষ্ঠু উত্তরণের গন্তব্য নির্ধারণ করে।

ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, যতই ২০৩০ সালের সময়সীমা কাছে আসছে, এসডিজি অর্জনের অগ্রগতি ততই নির্দিষ্ট পথে থেকে সরে যাচ্ছে। বিশেষ করে এলডিসিগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা কাঠামোগত দুর্বলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঋণের বেড়ে ওঠা बोঝা, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, বিদেশি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) এর সংকোচন, ডিজিটাল বৈষম্যের বৃদ্ধি এবং অর্থায়নের সীমিত সুযোগ তাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও বলেন, এসব সংকট কেবল ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নকে ব্যাহত করছে না, বরং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা-২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসিকে টেকসই ও অপরিবর্তনীয়ভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের লক্ষ্যকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং এ দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। নজিরবিহীন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং বহিরাগত অভিঘাতের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্ব ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

ড. তিতুমীর বলেন, দেশে ও বৈশ্বিক জটিল পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে থাকা দেশের জন্য অতিরিক্ত সময়টি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, 'স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি' (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি কৌশলগত প্রয়োজন।

তিনি বলেছেন, এই বাস্তবতার মধ্যে দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে এলডিসিগুলোর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠেয় দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে নতুনভাবে শক্তিশালী করার এবং গৃহীত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যেন এই পর্যালোচনা বাস্তবসম্মত, রূপান্তরমুখী ও কার্যকর ফলাফল দিতে পারে।

এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে তিনি জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রথমত, ক্রমবর্ধমান ঋণঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত, পূর্বানুমেয় এবং সহজ শর্তে উন্নয়ন অর্থায়নের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদন সক্ষমতা, সহনশীল অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা এবং মৌলিক সেবায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, এলডিসিগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার জরুরি। এজন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ, টেকসই ঋণ সমাধান এবং আরও ন্যায্য বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তৃতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়ন সহজপ্রাপ্য, পূর্বানুমেয় এবং ঝুঁকির মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অভিযোজন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, জ্বালানি রূপান্তর এবং 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ' তহবিলের জন্য অতিরিক্ত, পর্যাপ্ত ও দ্রুত প্রাপ্তিযোগ্য সহায়তা নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সহনশীল অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন।

চতুর্থত, সুরক্ষাবাদী প্রবণতা থেকে সরে এসে এলডিসিগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে স্বচ্ছ, সহজ এবং উন্নয়নবান্ধব 'রুলস অব অরিজিন' নিশ্চিত করা আবশ্যক।

পঞ্চমত, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত বৈষম্য হ্রাসের জন্য আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে এলডিসিগুলো উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে পারবে।

বক্তব্যের শেষাংশে ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসিগুলোর সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সংহতি এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার একটি বড় পরীক্ষা। তিনি বলেন, দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে এমন একটি মোড় পরিবর্তনের সুযোগে পরিণত করতে হবে, যা টেকসই উন্নয়নের গতি পুনরুদ্ধার করবে, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন করবে এবং কাউকে পেছনে না রেখে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নতুন গতি সৃষ্টি করবে।

তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে এলডিসি গ্রুপ সকল অংশীদারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল যাওয়ার পথে মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে ইট নিক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪২ পি.এম


বরিশাল যাওয়ার পথে মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে ইট নিক্ষেপ

আজ সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বরিশাল যাওয়ার সময় মাদারীপুরের সাধুর ব্রিজ নামক স্থান অতিক্রমকালে তাঁর গাড়ি-বহরকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকাল ৮:৩৬ মিনিটে।এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটি অক্ষত থাকলেও নিক্ষেপকৃত ইটটি গিয়ে পড়ে তাঁর নিরাপত্তায় থাকা এসএসএফের একটি গাড়ির উপরে। পরবর্তীতে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী গাড়ি বহর সেখান থেকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এ ঘটনায় ইট নিক্ষেপকারীকে খুঁজছে প্রশাসন। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%