জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৪:৪৬ পি.এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সম্যাসীনগর বাজার মহাশ্মশান প্রাঙ্গণে একটি রেইনট্রি গাছের ডাল থেকে পুলিশ আকাশ বাড়ুই (৩৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহত আকাশ বাড়ুই হলো উপজেলার জঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিশ্বপদ বাড়ুই ও মায়া রানীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতের আনুমানিক ৮টার দিকে আকাশ বাড়ুই স্ত্রীর কাছে সমাধীনগর মহাশ্মশানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে স্থানীয়রা মহাশ্মশান প্রাঙ্গণের পশ্চিম পাশের একটি রেইনট্রি গাছের ডালের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় আকাশ বাড়ুইকে ঝুলতে দেখে বালিয়াকান্দি থানার পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের সাংসারিক দারিদ্র্য ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।
বালিয়াকান্দি থানার এসআই আকবর আলী ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন।
বালিয়াকান্দি থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রব তালুকদার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১২ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের (১২) শরীর থেকে এখনো গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ইথানের বাবা ইউনুস মিয়া বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৬ জনসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ শ্রাবণ নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।
গুলিবিদ্ধ ইথান কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা ইউনুস মিয়া নগরীর সিটি শিশুপার্কের একটি রাইডে কর্মরত।
ইউনুস মিয়া জানালেন, ঘটনার পর প্রথমে ইথানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা গুলি বের করতে না পারায় রাতেই তাকে ঢামেকে পাঠানো হয়। একবার অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের ভাষ্য, গুলিটি ফুসফুসের কাছাকাছি অবস্থান করায় ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞ সার্জন এসে অস্ত্রোপচার করবেন। তিনি ছেলের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
ইথানের মা সোনিয়া বেগম বলেন, "আমার একমাত্র ছেলে মানববন্ধনে অংশ নেয়নি। স্কুলের বিরতির সময় বাসায় খাবার খেতে আসার পথে গুলিবিদ্ধ হয়। যারা এই নিরীহ শিশুকে গুলি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান বলেন, গুলিটি ফুসফুসের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সেখানে অস্ত্রোপচার করা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি ইথানের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় গত বুধবার রাত থেকে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অপু ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাঁটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী মানববন্ধন করেন। এ সময় অস্ত্রধারী একদল দুর্বৃত্ত মানববন্ধনে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইথান গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া আরো ৭ থেকে ৮ জন আহত হন।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দায়ের হওয়া মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গুমের সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
আজ শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিষয়গুলি উল্লেখ করেন। এ সময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালু করা হবে। বিষয়টি চলতি বাজেটেই অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সকল লড়াই-সংগ্রামে সরকার আপনাদের পাশে থাকবে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উল্লেখ করেন, এখন কান্নার সময় নয়, বর্তমান সময় অধিকার আদায় ও ন্যায়বিচার পাওয়ার। তিনি মানবাধিকার কমিশনকে আরো শক্তিশালী করার এবং গুম-সংক্রান্ত একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংলাপে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিবৃন্দ এবং বিগত শাসনামলগুলোতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ আয়োজনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ালে এবং সেই বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করলেই পুলিশ ঐ ব্যক্তিকে আটক করবে।
আজ শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বিষয়ক আলোচনা করতে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এই সভার আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, "এর আগে আমরা ছাড় দিয়েছি। এবার কিন্তু ছাড় দেব না। যে বা যারাই প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করবেন, তাকেই পুলিশ আটকাবে।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "কারণ তাকে তো আগে পুলিশ কাস্টডিতে নিতে হবে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হবে, তাকে তথ্য দিতেই হবে।"
এহছানুল হক মিলন জানালেন, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। তিনি বলেন, "আগামী দিনে কমন সাবজেক্টে (একই বিষয়) মাদরাসা ও কারিগরিতেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র করা হবে।"
মন্ত্রী জানান, "এটাকে আমরা একই ধারায় আনতে চাই। সবার যোগ্যতা একই করে গওড়ে তুলতে হবে।"
সভায় শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কলেজের ফলাফল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের মতামত শোনেন। দাখিল ও আলিমে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করা একটি মাদরাসার অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা যেখানে ১২০০ নম্বরের পরীক্ষা দেন, সেখানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ১৭০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সুযোগ পেতে মাদরাসায় বাংলা-ইংরেজিতে ২০০ নম্বর করা হয়েছে বলেও জানান এবং এটি কমিয়ে আগের মতো ১০০ নম্বরের করার দাবি জানান।
শিক্ষামন্ত্রী এই দাবির বিষয়ে জানান যে, এটি সম্ভব নয়। মন্ত্রী বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী যাবেন, তখন তাকে ওখানে সবার সঙ্গে একই ধারায় যেতে হবে। সেজন্য বাংলা ও ইংরেজিতে ২০০ নম্বরের করার দরকার আছে। এটা থাকবে।"
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী একা মাদক নির্মূলের কাজটি সফলভাবে করতে পারবে না। এটি বাস্তবায়নের জন্য সমাজে কার্যকরীভাবে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।
শুক্রবার (২৬ জুন) পিরোজপুরে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় এই মন্তব্য করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রত্যেক অভিভাবককে তাদের সন্তানের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। তারা কোন বন্ধুদের সাথে মিশছে এবং কোথায় সময় পার করছে—এ বিষয়ে খতিয়ান রাখতে হবে।’
জেলা প্রশাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সকালে পিরোজপুর সদর উপজেলা চত্বর থেকে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের হয়ে টাউন ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালির পর সেখানে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণও করা হয়।
অনুষ্ঠানে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ও পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পান্না লাল রায় প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ