বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৭ পি.এম
১৯৯৬ সালে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিহারের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম
এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত ২৮ আগস্ট জনতা দলের (ইউনাইটেড) সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝাকে লিখিত চিঠিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরে, অর্থাৎ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, সঞ্জয় ঝা ভারত সরকারের কাছে চুক্তিটি নবায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি বিহারের ওপর ‘নেতিবাচক প্রভাব’ ফেলছে।
চিঠিতে জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, "গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আপনার উদ্বেগ আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারছি।" জল শক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এই আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক পরিসরে মতবিনিময়ের জন্য আলোচনা হয়েছে।
এছাড়াও, তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট ও ৩০ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বিহার সরকারের একজন অনুমোদিত প্রতিনিধিও অংশগ্রহণ করেছিলেন। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’
চিঠির জবাবে সঞ্জয় ঝা আশা প্রকাশ করেন যে, চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারত সরকার বিহারের স্বার্থকে পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায্যভাবে বিবেচনা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিহার কারো করুণা চাইছে না। "আমাদের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে যা প্রমাণিত হয়েছে, আমরা শুধু তার ভিত্তিতেই দাবি জানাচ্ছি, যেন আগামী ৩০ বছরের জন্য রাজ্যের ১৩ কোটি মানুষকে খাবার পানি, সেচ এবং শিল্পকারখানার পানি সংকটে পড়তে না হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সত্য অনুসন্ধান, জনস্বার্থের সংবাদ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল *তালাশ বিডি*। আগামী নভেম্বর মাসে দুই বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে সংবাদমাধ্যমটি। এরই মধ্যে পাঠকদের ভালোবাসা, আস্থা ও আগ্রহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালাশ বিডির **ফলোয়ার সংখ্যা ৩৫ লাখের মাইলফলক পেরিয়ে আরও এগিয়ে গেছে। এই অর্জনের সব কৃতিত্ব তালাশ বিডির অগণিত পাঠকের।
পথচলার শুরু থেকেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে তালাশ বিডি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ, আলোচিত ও জনসম্পৃক্ত ঘটনাগুলোও পাঠকের সামনে তুলে ধরছে প্রতিষ্ঠানটি।
তালাশ বিডির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ কখনোই সহজ নয়। বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের বাধা-বিপত্তি, চাপ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হলেও জনস্বার্থের প্রশ্নে আপস না করার নীতিতে এগিয়ে যেতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
তালাশ বিডির অবস্থান—*আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অপশক্তির কাছে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে ভয় বা নতিস্বীকার নয়।* তবে একই সঙ্গে প্রতিটি অভিযোগ যথাসম্ভব যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাত্র দুই বছরের পথচলায় *৩৫ লাখেরও বেশি ফলোয়ারের মাইলফলক* তালাশ বিডির জন্য নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তবে প্রতিষ্ঠানটির কাছে এই সংখ্যা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; বরং এটি পাঠকের ভালোবাসা, আস্থা ও নিয়মিত সম্পৃক্ততার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এই অর্জন আরও দায়িত্বশীল, নির্ভুল ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একঝাঁক তরুণ ও সাহসী সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে** কাজ করছে তালাশ বিডি। স্থানীয় পর্যায়ের সংবাদ থেকে শুরু করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, জনদুর্ভোগ, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।
বরিশাল অঞ্চলে তালাশ বিডির সাংবাদিকতা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন *সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম*। স্থানীয় জনস্বার্থের বিষয়, অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ এবং প্রতিবেদন তৈরিতে তিনি কাজ করছেন।
তালাশ বিডির সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, *৩৫ লাখের বেশি ফলোয়ার অর্জন একটি বড় প্রাপ্তি হলেও একটি সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি ফলোয়ারের সংখ্যা নয়—পাঠকের বিশ্বাস ও আস্থা।* সেই আস্থা ধরে রাখতে আগামী দিনে আরও তথ্যনির্ভর অনুসন্ধান, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় রয়েছে।
বাধা আসবে, প্রতিকূলতা আসবে—তবুও সত্য, তথ্য ও জনস্বার্থের প্রশ্নে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পথ থেকে পিছিয়ে না গিয়ে এগিয়ে যেতে চায় তালাশ বিডি।**
৩৫ লাখেরও বেশি পাঠক-ফলোয়ারের ভালোবাসা ও আস্থাকে সঙ্গে নিয়ে তালাশ বিডির পথচলা হোক আরও দীর্ঘ, আরও সাহসী এবং আরও জনমুখী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে এসেছেন। তারা বিভিন্ন কাজের প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) থাই এয়ারওয়েজের TG-321 ফ্লাইটে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর ঘটনা ঘটে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
গত জুন মাসে কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসার পর, দেশটির সরকার ১ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানা ছাড়া অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়। এই ৩৮ জন বাংলাদেশি সেই সুযোগে দেশে ফেরেন। এভাবে আরও প্রায় এক হাজার ৮০০ বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফেরত আসা কর্মীরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে তাদের আটকে রেখে প্রতারণামূলক সাইবার স্ক্যাম কার্যক্রমে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয়েছিল। ফেরত আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি মানবপাচারকারী দেশে ফেরার পথে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাপ প্রয়োগ এবং দেশে ফেরত না যাওয়ার জন্য নানা ধরনের চেষ্টা করেছেন।
শরিফুল হাসান আরও বলেন, সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের অন্যতম ভয়াবহ রূপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে। নির্ধারিত টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রকে শনাক্ত করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন।
দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন যে, সেখানে এখনও হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি না পেয়ে কিংবা প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অধিকাংশকেই উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।
গত জুন মাসে প্রথম ধাপে দেশে ফিরে আসা ৫৮৩ জনের অনেকের কাছে বিএমইটির ছাড়পত্র ছিল। এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।
ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। ফলে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ব্র্যাক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) পাইলট গ্রুপ ক্যাপ্টেন অভিনন্দন বর্তমান, যিনি ২০১৯ সালের বালাকোট হামলায় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের একটি বহরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি সম্প্রতি বাহিনী থেকে অকাল অবসর গ্রহণ করে গোয়াভিত্তিক বেসরকারি এয়ারলাইনস ফ্লাই৯১-এ পাইলট হিসেবে যোগদান করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানী বিমান হটিয়ে ফিরে আসার সময় হামলায় তার যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। পরে তাকে আটক করে পাকিস্তানি সেনারা। সেই ঘটনার তিনদিন পর মুক্তি পাওয়া পাইলট অভিনন্দন, ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে আগাম অবসর নিয়ে নতুন করে বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে বিমান চলাচল ক্যারিয়ার শুরু করেছেন।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও বীর চক্র পদকপ্রাপ্ত অভিনন্দন বর্তমান বিমানবাহিনীতে ২২ বছর দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক এয়ারলাইনস ফ্লাই৯১-এ পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিনন্দন গত আগস্ট মাসে বেসরকারি এই এয়ারলাইনসে যোগ দেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিনন্দন বর্তমান কোনও বক্তব্য দেননি। ফ্লাই৯১-এর একজন মুখপাত্রও কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তিনি বলেন, "এটি ব্যক্তিগত বিষয়।"
২০২৪ সালের মার্চে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা ফ্লাই৯১ বর্তমানে ছয়টি এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এয়ারলাইনসটির দুটি ঘাঁটি হলো গোয়া ও হায়দরাবাদ।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৪২ জন জওয়ান নিহত হন। ভারত এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনকে দায়ী করে।
পুলওয়ামা হামলার জবাব দিতে পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলায় অন্তত ৩০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান জানায়, হামলায় কিছু গাছের ক্ষতি ছাড়া কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মূলত পুলওয়ামায় হামলার ১২ দিনের মাথায় মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে আকাশপথে পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। এরপর আকাশপথে ভারতকে আক্রমণ করে পাকিস্তান। ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করে পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমান সেটি গুলি করে ভূপাতিত করে এবং ভারতীয় বিমানটির পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে বন্দি করে।
ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করার জন্য দুই পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার নোমান আলী খান এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান। এর মধ্যে উইং কমান্ডার নোমান আলী খানকে সিতারা-ই-জুরাত (বীরত্বের তারকা) এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান ও স্কয়ার লেডার হাসান মাহমুদ সিদ্দিকীকে তমঘা-ই-জুরাত (বীরত্বের পদক) প্রদান করা হয়েছিল।
মূলত ভারতের ‘বালাকোট স্ট্রাইক’-এর জবাবে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাল্টা হামলা পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল। ভারতীয় সামরিক বিমান পাকিস্তানশাসিত আজাদ কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদ সেক্টরের কাছে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) লঙ্ঘন করার পরই এই সংঘাত হয়েছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের সবচেয়ে আলোচিত মুখ হয়ে ওঠেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের হামলায় তার মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় এবং তাকে পাকিস্তান আটক করে। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সামরিক সংকট তৈরি হয়।
এনডিটিভির দাবি, ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিনন্দনের যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ‘ভূপাতিত’ করেছিলেন। সে সময় উইং কমান্ডার পদমর্যাদায় থাকা অভিনন্দনকে তিন দিন পাকিস্তানে আটক রাখা হয়। পরে ১ মার্চ রাতে তাকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান।
ওই বছরের শেষ দিকে মোদি সরকার তাকে বীর চক্র পদকে ভূষিত করে। পুরস্কারের বিবরণে বলা হয়, আকাশযুদ্ধে ‘অসাধারণ দায়িত্ববোধের’ পরিচয় দেয়ার জন্য তাকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বীরত্বের পদকটি দেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘স্বপ্নকুঁড়ি’ মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ নাজির হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম কুদরত-এ-খুদা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ সফিকুল ইসলাম এবং উলিপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (রসায়ন) ড. মোঃ সফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কুড়িগ্রাম জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ রাকিবুল হাসান নিশাত।
কর্মশালায় খাদ্য নিরাপত্তা, ভেজাল ও দূষিত খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে শিক্ষকসমাজকে সচেতন ও দক্ষ করে তোলা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও গ্রহণ—প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ