মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৪ পি.এম
রাঙামাটির সাজেকে বাবা শান্তি লাল চাকমাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে সোহেল চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই ঘটনায় নিহতের ভাতিজা আলোময় চাকমাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার অথবা আদালতে আত্মসমর্পণের পর মৃত্যুদণ্ড রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, কারাগারে আটক আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এমন পশুবৃত্তসুলভ ও নির্মম হত্যাকান্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি।
আসামি পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মো. রাশেদ ইকবাল মন্তব্য করেন, মূল আসামি ভাতিজা আলোময় চাকমা বিজ্ঞ আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরবর্তীতে পলাতক রয়েছেন। এই হত্যাকান্ডে নিহত শান্তি লাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমার সরাসরি কোনও সম্পৃক্ততা নেই। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত শান্তি লাল চাকমার হত্যাকাণ্ডে দুইজনকে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছে। আমরা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শান্তি লাল চাকমাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার নয় দিন পর কাচালং নদী থেকে শান্তি লাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওজন কমানোর লক্ষ্যে চীনের তরুণদের মধ্যে একটি নতুন খাদ্যাভ্যাস দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তারা কম ক্যালরির খাবার খাওয়ার পরিবর্তে এমন খাবার বেছে নিচ্ছেন, যেগুলো শক্ত এবং খেতে দীর্ঘ সময় ধরে চিবাতে হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের খাবারের ছবি ও নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন অনেক তরুণ। তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শুকনো গরুর মাংস, হিমায়িত রুটি এবং এমনকি শিশুদের দাঁত ওঠার সময় খাওয়ানো হয় এমন বিস্কুটও।
এসব খাবারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো সহজে চিবানো যায় না। খেতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে চিবাতে হয়। খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের ধারণা, দীর্ঘ সময় চিবানোর ফলে মুখ ব্যস্ত থাকে এবং মস্তিষ্কে পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি হয়। ফলে বেশি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যেতে পারে। তাই তাদের কাছে খাবারের স্বাদ বা ক্যালরির পরিমাণের চেয়ে খাবার কতটা শক্ত এবং কতক্ষণ চিবাতে হয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকের বিশ্বাস, খাবার যত শক্ত হবে এবং যত বেশি সময় চিবাতে হবে, তত বেশি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।
চীনের গুয়াংসি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ৩৭ বছর বয়সী এক নারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ইগেশিয়াংমুজিংলি’ নামে পরিচিত। তিনি ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ডাংশেন নামের এক ধরনের শিকড় চিবিয়ে খান। চীনা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ডাংশেনকে প্লীহা ও ফুসফুসের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। ওই নারী সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানিয়েছেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করলেও খাবারের ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা তার জন্য কঠিন। তাই তিনি এমন খাবার খোঁজেন, যা দীর্ঘ সময় ধরে চিবিয়ে খাওয়া যায়। এতে কাজের সময় মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, ডাংশেনের স্বাদ হালকা মিষ্টি। মাংসের স্বাদের প্রচলিত খাবারের তুলনায় এই স্বাদ তার বেশি পছন্দ। মাঝে মাঝে তিনি কোনো বাড়তি উপাদান ছাড়া শুকনো গরুর মাংস এবং চিনি ছাড়া চুইংগামও খান।
চিবিয়ে খাওয়ার এই নতুন প্রবণতার কারণে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শক্ত খাবার নিয়েও তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝৌশান শহরের তৈরি একটি শক্ত কেক সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন। খাবারটি এতটাই শক্ত যে এটি ‘ইটের মতো শক্ত’ বলে পরিচিত। সূর্যের আলোতে শুকানো আঠালো চাল দিয়ে এই কেক তৈরি করা হয়। প্রাচীনকালে দীর্ঘদিন খাবার সংরক্ষণের জন্য এটি ব্যবহার করা হতো। সামরিক অভিযান কিংবা সমুদ্রে মাছ ধরার সময় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়- এমন খাবার হিসেবে এটি রাখা হতো। এখন নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই খাবার আবার জনপ্রিয় হচ্ছে। চিবিয়ে খাওয়ার জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে রয়েছে গুয়াংডংয়ের ভাজা চালের বিস্কুট এবং শানডংয়ের প্যানকেক।
ওজন কমানোর চেষ্টা করা এসব তরুণের কাছে খাবারে কত ক্যালরি আছে, সেটি আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং অল্প পরিমাণ খাবার দীর্ঘ সময় ধরে চিবিয়ে খাওয়ার বিষয়টিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেউ কেউ এতটাই দীর্ঘ সময় চিবাতে চান যে মানুষের খাবার নয়, কুকুরের জন্য তৈরি চিবানোর কাঠির প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, পরীক্ষার সময় উদ্বেগ কমাতে তিনি কুকুরের জন্য তৈরি চিবানোর কাঠি ব্যবহার করেন। তার দাবি, একটি কাঠি চিবাতেই কখনো কখনো দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। তিনি আরো দাবি করেছেন, এটি মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
চীনের তরুণদের মধ্যে চিবিয়ে খাওয়ার খাবার বেছে নেওয়া ওজন কমানোর একমাত্র কৌশল নয়। অনেকে সাধারণ খাবারের মধ্যেও কম গ্লাইসেমিক সূচকের খাবার বেছে নিচ্ছেন। এসব খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক ধীরে বাড়ে। কেউ কেউ ‘মানুষের খাবার’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতিও অনুসরণ করছেন। এতে মূলত মাংস ও সবজি ছোট ছোট টুকরো করে হিমায়িত করে রাখা হয়। চরমভাবে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার কঠোর ডায়েটের তুলনায় এসব পদ্ধতিকে অনেকে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছেন। তবে কোনো একটি খাবার বেশি সময় ধরে চিবালেই যে ওজন কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মোট খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়েও বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, খাবার ভালোভাবে চিবালে মানসিক চাপ কমতে পারে। চীনা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতিতেও খাবার ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে খাবার হজমে কিছুটা সুবিধা হতে পারে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়াতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের কতদিন অবস্থান করার অনুমতি থাকবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বিধি কার্যকর করার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। নতুন এই নিয়মে নির্দিষ্ট সময় পর অবস্থান বাড়ানোর জন্য আলাদা করে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হওয়ার কথা ছিল।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেইলর এই স্থগিতাদেশ জারি করেন। দেশটির কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন এবং উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংগঠনের জোটের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় প্রদান করা হয়। আদালত নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে তা আটকে দেন।
ডিএইচএস জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং ভিসা ব্যবস্থায় প্রতারণা ঠেকানোর যুক্তিতে নতুন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তবে বিচারক মন্তব্য করেন, নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পাশাপাশি, কম কঠোর বিকল্প ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার আইনি দায়িত্বও সংস্থাটি পালন করেনি।
ভিসার মেয়াদে কী পরিবর্তন আনার কথা ছিল?
বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় দেওয়া জে ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের পরিবর্তে ‘স্ট্যাটাস বজায় রাখা পর্যন্ত’ যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ রয়েছে। নতুন নিয়মে এফ ও জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন করার কথা ছিল। বর্তমানে এই ভিসার মাধ্যমে সাংবাদিকরা তুলনামূলক দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন।
বিচারক সেইলর বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা ব্যবস্থাকে বদলে নতুন নিয়ম চালু করতে চেয়েছিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, অধ্যাপক এবং সাংবাদিকদের সামগ্রিক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ এফ ভিসা এবং আরও প্রায় ৫ লাখ মানুষ জে ভিসার আওতায় রয়েছেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) এবং হার্ভার্ডের মতো গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে, উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
বিচারক বলেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় কয়েক শ কোটি ডলার বাড়তে পারে এবং শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমে যেতে পারে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মামলাকারী সংগঠন প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের প্রধান মিরিয়াম ফেল্ডব্লাম আদালতের রায়টি বিদেশি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে মন্তব্য করেন। মামলাটি চলমান থাকলেও এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা আপাতত বহাল থাকছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আকর্ষণ, শিক্ষা দেওয়া এবং ধরে রাখার সুযোগ দেবে।
তবে ডিএইচএসের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল আদালতের রায়ের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো কঠিন হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে, আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে, জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের মধ্যে বিতরণের জন্য ঐতিহাসিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। উল্লেখ্য, ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান ব্যতীত বাকি পাঁচ শীর্ষ নেতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ বা সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের পরিবারকে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের প্রতিক্রিয়া ও স্বস্তিরায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। তবে এই প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনাল আসামিদের ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দিলেন। সেই সম্পত্তি জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো সরকারি বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে বণ্টন করা হবে।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘জুলাই আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ নিরীহ মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। আজকের এই রায়ের মাধ্যমে ওই শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর প্রতি পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো বলে আমরা মনে করি। এটি একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও প্রত্যাশিত রায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে একজন অ্যাডিশনাল আইজিপির নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সের দক্ষ সদস্যদের কাজে লাগিয়ে এই ইউনিট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিট ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। যদিও এসব কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে অ্যাডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, তবে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত আছেন। তাঁদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একজন অ্যাডিশনাল আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।
পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বৃদ্ধি করতে সরকার জোর দিচ্ছে। মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকরভাবে দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে সাইবার স্পেসসহ যেকোনো অপরাধ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত থাকতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় পুলিশ স্টাফ কলেজের ভূমি ব্যবহারে এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশের জন্য অর্থ বরাদ্দ, কলেজের অধীনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, আন্তর্জাতিক পুলিশ একাডেমিগুলোর সংগঠন INTERPA-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন ও বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স ও মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কোর্স চালুর বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ