বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৭ পি.এম
প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে প্রথমবার যাওয়ার জন্য কি পাঁচ কোটি টাকা নিয়েছিলেন ক্রিকেটার বিরাট কোহলি? সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে এমন খবর ভাইরাল হয়ে পড়ার পর, এ তারকা দম্পতি এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, কোনো আর্থিক লেনদেনের বিষয় নেই; বরং গভীর বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থেকেই তারা প্রেমানন্দের আশ্রমে গিয়েছিলেন।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমের শিষ্য রসিক দুলারীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর। তার মৃত্যুর পর ফলাহারী মহারাজ দীনেশ শর্মা দাবি করেছেন যে, ২০২৩ সালে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে বিরাটের প্রথমবার যাওয়ার জন্য বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছিল।
দীনেশ শর্মা দাবি করেন, বিরাট কোহলিকে আশ্রমে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছিল। তবে বিরাটের মুখপাত্র এ দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিরাট কোহলিকে নিয়ে ফলাহারী মহারাজ দীনেশ শর্মার করা সব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও তথ্যগত ভুল।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, 'বিরাট কোহলি সম্পূর্ণ নিজের গভীর বিশ্বাস এবং মহারাজের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে যান।' সেইসঙ্গে যাচাই না করে কোনো বক্তব্য না ছড়ানোর অনুরোধও করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, রসিক দুলারীর মৃত্যুর পর আশ্রম ঘিরে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। দীনেশ শর্মার অভিযোগ, নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী এবং জমি-কারবারের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তি প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমের নাম ব্যবহার করে প্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি আশ্রমকে কেন্দ্র করে তোলাবাজির কারবার চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে লেখা একটি চিঠিতে দীনেশ শর্মা দাবি করেন, রাজস্থানের একটি বেসরকারি সংস্থা এবং নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী বিরাটের প্রথম সফরের জন্য ৫ কোটি টাকা খরচ করেছিল। তার অভিযোগ, এর উদ্দেশ্য ছিল আশ্রমের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করা। তবে এই অভিযোগের কোনো সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি, অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবনে যান ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি। সেখানেই প্রথমবার প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নেন তারা। এরপর থেকে একাধিকবার মহারাজের আশ্রমে গেছেন বিরাট ও আনুশকা শর্মা। তাদের সেসব ভিডিও প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদসহ দেশের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ফলে তিনজন নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের হুতিরা দাবি করেছে, তারা উভয় বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এটি জানানো হয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা পূর্বে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি রয়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন করার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আভা বিমানবন্দরে একজন মিশরীয় ও একজন আলজেরীয় নাগরিক এবং রিয়াদ বিমানবন্দরে একজন সুদানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, তারা রিয়াদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মটি ধ্বংস করেছে।
এই জোট ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনীকে সমর্থন করছে।
একটি পরবর্তী বিবৃতিতে জোটটি হামলার জন্য সরাসরি হুতিদের দায়ী করে এবং জানায়, এর জবাব দেওয়া হবে।
জোটের দাবি, তারা পাল্টা হামলায় হুতিদের ৮২টি ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ ধ্বংস করেছে।
এসব লক্ষ্যবস্তুতে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং হুতিদের সমাবেশস্থল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
জুলাইয়ে গৃহযুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার পর তারা উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে।
জাতিসংঘ বুধবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ফলে ইয়েমেনের ভেতরে ২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ সপ্তাহে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।
তারা দাবি করেছে, লোহিত সাগরের কৌশলগত কিছু এলাকা ও বন্দরনগরী মোচা থেকে হুতিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে হুতিরা বলছে, তারা তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা ধরে রেখেছে।
দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং সাংবাদিকদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতার কারণে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
তার দাবি, হামলাটি লক্ষ্যভেদ করেছে এবং বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।
হুতিরা ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের কাছে একটি সামরিক সরবরাহ বহর লক্ষ্যবস্তু করারও দাবি করেছে।
ইয়েমেনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, এডেন বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে।
পরিবহন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সাবা জানায়, নির্ধারিত একটি কায়রো-এডেন ফ্লাইট অবতরণের কয়েক মিনিট আগে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রানওয়ের কাছে আঘাত হানে। ফলে ফ্লাইটটিকে সৌদি আরবের জেদ্দায় ঘুরিয়ে নিতে হয়।
হুতিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
এই সপ্তাহে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার দাবি দ্বিতীয়বারের মতো এসেছে।
সৌদি আরব ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে তারা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সর্বশেষ পাল্টা অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে।
চার বছরের যুদ্ধবিরতির পর জুলাইয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্র হয়ে ওঠে।
গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগর বরাবর ইয়েমেনের পুরো পশ্চিম উপকূল দখল করেছে বলে জানা যায়।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
সামরিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, বুধবার ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষে অন্তত ৬২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৭ জন হুতি যোদ্ধা।
সাবা আরও জানিয়েছে, হুতিরা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত তাইজ শহরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
তাইজের বাসিন্দা আল-ফাতেহ আল-ঈসাই বলেন, আহতদের দেখতে তারা রাস্তায় বেরিয়ে তরুণ বেসামরিক লোকজনকে আহত অবস্থায় দেখতে পান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের নিক্ষেপ করা গোলাটি বেসামরিক লোকজনের ভিড় থাকা একটি রাস্তায় আঘাত করে।
ইয়েমেনের সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত সব এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। এসব এলাকায় দেশটির অধিকাংশ জনসংখ্যা বসবাস করে এবং অনেক অঞ্চল এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকটে ইয়েমেনের অধিকাংশ মানুষ এখন মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
মোচা থেকে এডেনে পালিয়ে যাওয়া ৩৩ বছর বয়সী দাতব্যকর্মী মোহাম্মদ মঙ্গলবার জানান, ‘সেখানকার মানুষ আতঙ্কিত।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’ যৌথভাবে বিশ্বের সেরা গবেষকদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে ১৬ জন গবেষক। গত বছর এই তালিকায় বাকৃবির ১২ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে এই তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪৭ জন গবেষক এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
গতবছরের মতো এবারও বাকৃবি দেশের শীর্ষ তিনে অবস্থান করছে। গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, কনসিস্টেন্সি এবং সহ-লেখকদের প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।
তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা হলেন- ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো শাহজাহান, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আব্দুল হান্নান, একোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো ফজলে রোহানী, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম লুৎফুল কবির, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম গোলাম দস্তগীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তাহজিব-উল-আরিফ, একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আক্তারুজ্জামান খান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. টুম্পা রানী সরকার, কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান এবং প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশের শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ঢাবির ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ, যেখানে ২০ জন গবেষক এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাকৃবি, যেখানে ১৬ জন গবেষক এ বছরের তালিকায় রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : তৃতীয় কোনো আফ্রিকান দেশে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের নির্বাসনের নীতি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ নীতি মানবিক দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসন ঠেকানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে।
লিব্রেভিল থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থা জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে পুনরায় ফিরে আসার পর তার প্রশাসন ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশের সঙ্গে চুক্তি করে। এই চুক্তির আওতায়, যেসব বিদেশিদের নিজ দেশে আইনগতভাবে বহিষ্কার করা সম্ভব নয়, সেসব ব্যক্তিদের গ্রহণে দেশগুলো সম্মত হয়।
এইচআরডব্লিউ-এর উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) থেকে জানা যায়, এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৫০০ জনেরও বেশি অভিবাসীকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নির্বাসনে পাঠিয়েছে।
‘ফরবিডেন স্টোরিজ’ কনসোর্টিয়ামের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, এ নীতি ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে এবং মানবিক দুর্ভোগকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
মানবাধিকার সংস্থাটি একটি মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যও তুলে ধরেছে। নাম প্রকাশ না করা ওই কর্মকর্তা এক সিনেট শুনানিতে বলেন, ‘পালাউ বা ইসওয়াতিনির মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, প্রশাসন মানুষকে হুমকি দিতে পারে যে তাদের আক্ষরিক অর্থেই কোথাও মাঝখানে ফেলে দেওয়া হবে। মানুষকে ভয় দেখানোই উদ্দেশ্য।’
এইচআরডব্লিউ জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার ছয়টি দেশে পাঠানো ২৪ জন তৃতীয় দেশের নাগরিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। দেশগুলো হলো—ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নিরক্ষীয় গিনি, ইসওয়াতিনি ও দক্ষিণ সুদান।
তারা জানায়, ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এমন ফ্লাইটে তাদের শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছিল। কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
২০২৬ সালের শুরুতে এএফপির এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, আফ্রিকার দেশগুলোকে বহিষ্কৃতদের গ্রহণে রাজি করাতে ওয়াশিংটন চাপ প্রয়োগ করেছে। এর মধ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি, ভিসা প্রদান স্থগিত করা এবং সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের হুমকিও ছিল।
বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ বুরুন্ডি চলতি মাসের শুরুতে জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃতদের গ্রহণে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি এমন চুক্তি করা ১৫তম আফ্রিকান রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ