বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:৫৫ পি.এম
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে আরও একটি বড় বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা দিয়েছে কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনো একটি বিশাল প্রাকৃতিক বাধা আটকে রয়েছে। এর ফলে যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের মতো পানির ঢল নেমে আসতে পারে।
হিমালয় অঞ্চলের ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও আফগানিস্তান—এই আটটি দেশ নিয়ে কাজ করে ইসিমোড। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি হিমালয় অঞ্চলের পার্বত্য পরিবেশ, হিমবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করে থাকে।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোতে কোশি অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে পানির স্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করলে বিপুল পরিমাণ পানি, পলি ও পাথর ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গালছিতে ত্রিশুলি নদীর পানির স্তর ৯ মিটার এবং মালেকুতে প্রায় ৭ মিটার বেড়ে যায়।
অল্প সময়ে পানির এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি উজান থেকে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ভাটির দিকের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকাও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ইসিমোডের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং জানান, গত বছরের বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রাসুয়ার একই এলাকা আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। লেন্দে খোলায় একটি বরফধসকে বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে একটি বড় বাধা এখনো আটকে থাকায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে জিলং বন্দর এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের ক্রায়োস্ফিয়ার—অর্থাৎ হিমবাহ ও তুষারক্ষেত্র থেকে সৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে স্যাটেলাইট, ভূকম্পন ও পানিবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে উজানে আটকে থাকা সন্দেহভাজন বাধাটির স্থিতিশীলতা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।
তবে ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের জন্য বিপদ এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করেছে ইসিমোড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা এবার বড় পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে দেশটির তরুণ প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহকে। মাত্র পাঁচ মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর শাহ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর আধিপত্য ভেঙে ক্ষমতায় এসেছিলেন। এখন তাঁকেই মোকাবিলা করতে হচ্ছে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা।
৩৬ বছর বয়সী বালেন শাহ মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি জাতীয় রাজনীতিতে শুদ্ধি আনার পাশাপাশি নেপালের তরুণদের জন্য সুযোগের অভাব এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অভিযোগ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নেপালের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের বড় ভূমিকা রয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে শাহ জানান, রাসুয়া এলাকার ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি লেখেন, "এই অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে অনেক মানুষ ও শিশু গভীর কষ্টের মধ্যে পড়েছে।" ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, "এই অসহনীয় সময়ে পুরো নেপাল সরকার ও দেশের মানুষ তাঁদের পাশে রয়েছে।" বন্যায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাগরিকদের দ্রুত সুস্থতাও কামনা করেন তিনি।
ভয়াবহ এই বন্যা মোকাবিলায় শাহকে এখন নেপালের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারত ও চীনের সঙ্গে সমন্বয় করতে হতে পারে। উত্তরে চীন এবং দক্ষিণে ভারতের সঙ্গেও বন্যার প্রভাব পড়েছে।
তবে দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে শাহকে এবার কূটনৈতিকভাবে সতর্ক অবস্থান নিতে হতে পারে। এর আগে ভারত ও চীনকে ঘিরে তাঁর জাতীয়তাবাদী ও কঠোর অবস্থান বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
২০২৩ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালে চীনে তাঁর একটি নির্ধারিত সফর বাতিল করেছিলেন শাহ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই সময় চীন নেপালের ২০২০ সালের সংশোধিত রাজনৈতিক মানচিত্রকে স্বীকৃতি না দিয়ে একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। নেপালের ওই সংশোধিত মানচিত্রে হিমালয়ের কিছু বিতর্কিত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাজনীতির প্রচলিত ধারা ভেঙে তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উঠে আসা বালেন শাহের জন্য এই বন্যা তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা-উল-হুসনার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মানিক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শওকত আকবর, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, সার ডিলার লিটন সাহা, পলক চন্দ্র সাহা, আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন এবং প্রেস ক্লাব বকশীগঞ্জের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, কৃষকদের স্বার্থে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দাম নেওয়া কিংবা সার-বীজ মজুত করে রাখার সুযোগ দেওয়া যাবে না। কৃষকরা যাতে প্রয়োজনের সময় সহজে ও ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ পান, সে বিষয়ে ডিলারদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
তারা আরও বলেন, সার ও বীজের বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল মন্তব্য করেছেন যে, হিমালয়ের পরিবেশগত সংকট শুধুমাত্র নেপালের জন্য নয়, বরং ভারত, চীন এবং ভুটানের জন্যও একটি সাধারণ হুমকি। তিনি উল্লেখ করেন, হিমালয়ে বরফ গলানোর ফলে যে প্রভাব সৃষ্টি হয়, তা শেষ পর্যন্ত সমুদ্রপৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায়।
কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড আনভিক্ষা সামিটে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ভারত-নেপাল সম্পর্ককে শুধুমাত্র ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনের ভিত্তিতে নয়, বরং পরিবেশগত সহযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে খানাল জানান, এই বন্যার পানি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি। তবে অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চীন, নেপাল, ভারত এবং ভুটান হিমালয়ের একই পরিবেশব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও চারটি দেশকে হিমালয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে একত্রে কাজ করতে হবে।
খানাল সতর্ক করে বলেন, হিমালয়ের পরিবেশগত পরিবর্তন ভবিষ্যতে পানির সংকট সৃষ্টি করতে পারে, যা এই অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতাকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি এটিকে একটি ‘সভ্যতাগত হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: এনডিটিভি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের গোলচত্বর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দী গ্রামের রাতুল (১৭) এবং নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ফুকুরহাটি গ্রামের খোকন মাতুব্বরের ছেলে রাজু (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাতুল ও রাজু একটি মোটরসাইকেলে করে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকা থেকে ফরিদপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে দুজনই গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই দুজনের মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল খাঁন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। ঘাতক বাসটি পালিয়ে গেছে। এঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ