ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০২:০১ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে ধানখেতে ইঁদুর মারার জন্য দেওয়া বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শেখ খাজা মাইনুদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের ঘোরকাটা গ্রামে একটি ধান ক্ষেতের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ঘোরকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শেখ খাজা মাইনুদ্দিন দক্ষিণ ঘোরকাটা গ্রামের মৃত শেখ শফিকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির পশ্চিম পাশের জমি থেকে গরুর জন্য ঘাস আনতে যান মাইনুদ্দিন। এ সময় পাশের গ্রামের জমির মালিক জাকির হোসেন (৩০) ধানখেতে ইঁদুর মারার জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়ে রাখেন। ঘাস কেটে বাড়ির ফেরার পথে ওই বৈদ্যুতিক সংযোগে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান মাইনুদ্দিন। শুক্রবার সকালে মাইনুদ্দিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গা ঢাকা দেন জমির মালিক জাকির। খবর পেয়ে সেনবাগ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হযরত আলী মিলন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাকির পলাতক রয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেলজিয়ামে সরকারের বাজেট ও ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিচালনা করছে খ্রিষ্টান ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ইউনিয়ন। একই সঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) সরকারি খাতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুক্রবার স্থানীয় গণপরিবহন ও ব্রাসেলস বিমানবন্দরে এবং সোমবার রেল পরিষেবা, সরকারি দপ্তর ও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
দেশটির খ্রিষ্টান শ্রমিক ইউনিয়ন এসিভি (ACV) এবং সমাজতান্ত্রিক ইউনিয়ন এবিভিভি (ABVV) সরকারের নীতির বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি পালন করছে। ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগের বোঝা সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং কাজের চাপের মধ্যেও কর্মীদের আরও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হবে।
এবিভিভি ব্রাসেলসের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন থেকে দক্ষিণ স্টেশন পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করবে। ‘আমাদের পকেটে হাত দেবেন না’ স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় সূচক, ক্রয়ক্ষমতা ও মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) মতো বিষয়গুলোতে সরকারের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করা হবে। অন্যদিকে, এসিভি সরকারের বিভিন্ন শরিক দলের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে। ইউনিয়নটি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেরও অনুরোধ জানিয়েছে।
ইউনিয়ন দুটি বিকল্প বাজেট পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরতে চায়। তাদের দাবি, কঠোর ব্যয় সংকোচন না করেও বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২১ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব। তবে স্বতন্ত্র ইউনিয়ন সিনোভা (Synova) অন্য ইউনিয়নগুলোর উদ্বেগের সঙ্গে একমত হলেও শুক্রবারের রাস্তায় নামার কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না।
শুক্রবার ব্রাসেলসের গণপরিবহন সংস্থা এমআইভিবি (MIVB) জানিয়েছে, শহর ও আশপাশের এলাকায় বাস, ট্রাম ও মেট্রো চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। সংস্থাটি ন্যূনতম পরিষেবা চালু রাখার পরিকল্পনা করেনি। ধর্মঘটের প্রভাব কতটা হবে, তা পুরোপুরি জানা যাবে শুক্রবার সকালে।
ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলের গণপরিবহন সংস্থা দে লাইন (De Lijn) জানিয়েছে, শুক্রবার তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ বাস ও ট্রাম চলাচল করতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ যানবাহন পরিষেবার বাইরে থাকতে পারে। প্রদেশভেদে পরিষেবা চালু থাকার সম্ভাব্য হার অ্যান্টওয়ার্পে ৫৮ শতাংশ, লিমবার্গে ৬১ শতাংশ, পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সে ৭১ শতাংশ, ফ্লেমিশ ব্রাবান্টে ৫৪ শতাংশ এবং পশ্চিম ফ্ল্যান্ডার্সে ৬৫ শতাংশ। অ্যান্টওয়ার্প শহরে বাস ও ট্রামের ৪৬ শতাংশ এবং উপকূলীয় ট্রামের ৬২ শতাংশ চলাচল করতে পারে।
ব্রাসেলস বিমানবন্দরে শুক্রবার প্রায় ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা আলিজিয়া (Alyzia) ধর্মঘটের কারণে সীমিত কর্মী নিয়ে কাজ করবে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইটের সময়সূচি সমন্বয় করছে এবং যাত্রীদের নিজ নিজ ফ্লাইটের অবস্থা ও বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হবে। তবে অ্যাভিয়াপার্টনার (Aviapartner) পরিচালিত ফ্লাইটে আপাতত বড় ধরনের প্রভাবের আশঙ্কা নেই। চারলেরোয়া ব্রাসেলস সাউথ বিমানবন্দরে স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট চলার কথা রয়েছে।
রেল পরিষেবায় শুক্রবার কোনো বিঘ্নের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা এনএমবিএস (NMBS)। তবে সোমবার সরকারি খাতের ধর্মঘটে রেলকর্মীরা অংশ নেবেন। এতে ট্রেন চলাচলে কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দুই দিন বিঘ্ন ঘটতে পারে। সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা ইউনিয়ন এসিওডি ওন্ডারভেইস (ACOD Onderwijs) শুক্রবারের জাতীয় কর্মসূচি এবং সোমবারের সরকারি পরিষেবা ধর্মঘটে অংশ নেবে। ফলে কিছু স্কুলে পাঠদান ব্যাহত হতে পারে। সরকারি পরিচালিত জিও! (GO!) শিক্ষা নেটওয়ার্কে এই ইউনিয়নের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন টালিউডের ‘ফাটাকেষ্ট’ খ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি প্রয়াত অভিনেতার পরিবার, বন্ধু এবং অসংখ্য ভক্তের প্রতি সমবেদনা জানান।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে মারা যান নানা পাটেকর। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বন্ধুর মৃত্যুর ঘটনায় আবেগঘন বার্তা দিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘আজ আমার যে কী খারাপ লাগছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। আমরা জীবনের অনেকটা সময় একসঙ্গে কাটিয়েছি। আমার ক্লোজেস্ট ফ্রেন্ড ছিলেন নানা পাটেকর। আমার সঙ্গে ওর বন্ধুত্বটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’
অভিনেতা আরও বলেন, আমরা একসঙ্গে থাকা মানেই শুধু মজা করা, কৌতুক করা। পুরো পরিবেশটাই বদলে যেত নানা থাকলে। সারাদিন নানা বিষয়ে গল্প করতাম আমরা। মন খুলে কথা বলার মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়। নানা ছিলেন আমার তেমন বন্ধু, যার সঙ্গে কথা বলার আগে ভাবতে হতো না।
এ বর্ষীয়ান অভিনেতা বলেন, অভিনেতা হিসেবে নানা পাটেকর কেমন, সেটি আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের যে কজন ভালো অভিনেতা রয়েছেন, তাদের মধ্যে নানার নাম উপরের দিকেই আসবে। আমি অনেক কিছু শিখেছি ওর কাছ থেকে। এত স্মৃতি আজ মনে পড়ছে যে, কোনটা বলব আর কোনটা বলব না— বুঝতে পারছি না।
মিঠুন চক্রবর্তীর ভাষ্য, ‘নানা মানুষের জন্য, কৃষকদের জন্য যা করেছেন, তা অনেকেই জানেন না। কারণ নানা জানাতে চাননি কখনো। কত যে সাহায্য করেছেন কৃষকদের! নিজের ঘরের টাকা দিয়ে মানুষের উপকার কজন করতে পারেন? নানার মতো মানুষ হয় না।’
অভিনেতা বলেন, ‘এত কাছের বন্ধু হঠাৎ চলে গেলে মনটা ভার হয়ে থাকে। আমি বুঝতেই পারছি না শোকটা সামলাব কী করে। ভীষণ খারাপ দিন। খবরটা যখন পেয়েছি, বিশ্বাস করতে পারিনি। এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। অনেক দিন সময় লাগবে বিষয়টি মেনে নিতে। বন্ধু হারানোর শোক তো ভোলার নয়।’
উল্লেখ্য, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী ও নানা পাটেকর ‘সাগর-সঙ্গম’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কর্মক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের জন্য শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সনদ বা ডিগ্রি অর্জন যথেষ্ট নয়। বাস্তবমুখী শিক্ষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা প্রয়োজন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে তরুণদের এসব দক্ষতায় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টেসলবিডি ও ইউল্যাব সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে।
ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে তরুণদের দক্ষ, কর্মক্ষম এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে পারদর্শী হওয়া অপরিহার্য।
প্রতিমন্ত্রী দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ইংরেজি শিক্ষা ও চর্চায় এখনো নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগ ও যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাগত জ্ঞানের একটি বড় অংশ ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। ভাষাগত দুর্বলতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরতে ব্যর্থ হন। তবে ইংরেজি শেখার পাশাপাশি বাংলায় জ্ঞানচর্চা এবং প্রযুক্তিগত পরিভাষা সহজলভ্য করার উদ্যোগও প্রয়োজন।
ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলি ইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক এবং সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ