ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিলাসী জীবন থেকে কারাগারে বন্দি মডেল শ্রদ্ধা দুবে


বিলাসী জীবন থেকে কারাগারে বন্দি মডেল শ্রদ্ধা দুবে

বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভ্যাসে অভ্যস্ত মডেল শ্রদ্ধা দুবের বর্তমান ঠিকানা হলো কারাগার। ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি ভারতের লক্ষ্ণৌয়ের গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে ৪৫ জন নারী বন্দির সঙ্গে একই কক্ষে অবস্থান করছেন তিনি। কারাগারে প্রবেশ করার পর থেকে শ্রদ্ধা ঠিকমতো খাবার গ্রহণ করছেন না। অন্য বন্দিদের সঙ্গেও তার কথোপকথন কমে গেছে।

গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্ণৌয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে মারা যান শিবা শর্মা। ওই আবাসনে শ্রদ্ধা দুবের সঙ্গে তার লিভ-ইন সম্পর্ক ছিল। শিবার মৃত্যুর ঘটনায় শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মডেলটি দাবি করেছেন, শিবা আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনার পর ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের পুলিশ নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা, তার বোন রশ্মি এবং তাদের গাড়িচালক আদিলকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে নেপালে অবস্থানকালে পুলিশের নজরে আসার পর তারা ভারতে ফিরে আসেন, গ্রেপ্তার এড়াতে। পরে নাগপুরে আশ্রয় নিলে সেখান থেকেই তাদের আটক করা হয়।

আরও পড়ুন: জয়ের বাবার সঙ্গে স্পিকারের পুরোনো ছবি, ভক্তদের মন্তব্য ‘এবার জমি নিশ্চিত’

শিবার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধাদের পালিয়ে থাকতে সহায়তা করা ব্যক্তিদের খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখের নাম সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, আমির ও তার সহযোগীরা শ্রদ্ধা, রশ্মি ও আদিলের জন্য কানপুর, নাগপুর এবং নেপালে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। আমিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

শিবার মৃত্যুর পর গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারা সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে নেওয়ার পর প্রথমে শ্রদ্ধা ও রশ্মিকে নিভৃতবাসে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের অন্য কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে দুই বোন ৪৫ নারী বন্দির সঙ্গে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পরিবারের কেউ কারাগারে আসেনি বলেও জানিয়েছে কারা সূত্র।

কারাগারের জেলার ঋত্বিক প্রিয়দর্শী জানিয়েছেন, দুই বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে। তবে তাদের আচরণে উদ্বেগের ছাপ রয়েছে। বেশির ভাগ সময় তারা চুপচাপ বসে থাকছেন। মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে কথা বললেও অন্য বন্দিদের সঙ্গে তেমন মিশছেন না।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

কারাগারে প্রথম রাতেও স্বাভাবিক ছিলেন না শ্রদ্ধা। রাতে তাকে রুটি, ডাল, আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হলেও তিনি খেতে চাননি। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন, ঘুমও হয়নি ঠিকমতো। ভোর ৬টার দিকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাকেও ঘুম থেকে উঠতে হয়। বিলাসবহুল জীবন থেকে কারাগারের কঠোর রুটিনে এসে এই মডেলের দিন কাটছে এভাবেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন চট্টগ্রামের দ্বি বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন চট্টগ্রামের দ্বি বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

সভাপতি -মো:মোশাররফ হোসেন,
সাধারণ সম্পাদক - লায়ন আমজাদ হোসেন

 

সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন চট্টগ্রামের দ্বি বার্ষিক নির্বাচন শনিবার ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর পিসি রোড ইডেন প্যালেস কমিনিউটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন শেষে রাত ৯ টা ফলাফল ঘোষণা করে ৩ সদস্যর নির্বাচন কমিশনার এতে ২৪ টি পদে মোট ৬৬ জন প্রার্থী প্রতিন্ধনীতা করে। নির্বাচন মোট ভোটার ছিল ১৮৯৬ জন, তাদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়েগ করে ১১৫৭ জন, সভাপতি পদে ৩ জন প্রার্থী তাদের মধ্যে মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভোট অপর দুই প্রার্থী মোশারফ হোসেন দিদার ভোট, মোঃ আবুল কাশেম পান -
সহ সভাপতি পদে অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান অধ্যাপক শামসুল কবির খান ভোট, তসলিমুল আলম, দিদারুল আলম, ক্বারী দিদারুল মাওলা, মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, শেখ মুহাম্মদ মারুফ, সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ আমজাদ হোসেন পান ভোট, লায়ন মোঃ নাছির উদ্দীন, আ স ম শওকত আকবর তালুকদার পান,
যুগ্ন সম্পাদক কামরুল ইসলাম টিটু ভোট, ওবায়দু্ল্লাহ তরিক ভোট, আনিস ইফতেখার পান ভোট, অর্থ সম্পাদক পদে মোঃ সফিকুর রহমান পান, অপর প্রার্থী মোঃ মামশাদ ভোট, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোঃ আলাউদ্দিন ভোট, আবদুল্লাহ আল ইসলাম সজীব ভোট, প্রচার সম্পাদক পদে আশিকুল আলম ভোট, মঞ্জুর হোসাইন ভোট, মহিদুল মাওলা মুকুট, রাহাত রিজভী অথই ভোট পান, দপ্তর সম্পাদক ডাক্তার আব্দুল কাদের ভোট, মোঃ মিলাদুর রহমান ভোট, মহিলা সম্পাদিকা পদে মমতাজুন্নেছা সোমা ভোট, শাহীন সুলতানা ভোট, সাহিত্য ও ক্রিড়া সম্পাদক এডভোকেট আলী হায়দার ভোট, নুরুল ইসলাম, ফেরদৌস আহমেদ কৌশিক, মুসলিম উদ্দিন পিন্টু, রহীম উল্ল্যাহ, সৈয়দ শাহাজাহান হোসাইন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক, ইঞ্জিনিয়ার আবু ইউছুপ, কামরুল হাসান, জহির উদ্দিন বাবর, মিলাদ হোসাইন, নির্বাহী সদস্য হাফেজ সোহরাব উদ্দিন, সেলিম উদ্দিন মাহমুদ, হুমায়ুন কবির, এন এম শিহাব উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, শওকত আলী, রেজাউল করিম, মোবারক হোসেন ভূইয়া,, মঞ্জুর কাদের, নজরুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন, দাউদ খালেদ চৌধুরী, জাহিদ, জহির উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, এস এম কামরুল হাসান, মোঃ ইব্রাহিম, আলমগীর হোসেন আলীম, আরিফ মহিউদ্দিন, আমির হোসেন জুয়েল, আব্দুল হালিম নাছির, আবদুল মোতালেব আনন্দ, আজহারুল ইসলাম ফয়সাল, আকতার হোসেন, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৈনিক মানবকণ্ঠের সিনিয়র সহ-সম্পাদক এসএম মুন্না মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


দৈনিক মানবকণ্ঠের সিনিয়র সহ-সম্পাদক এসএম মুন্না মারা গেছেন

দৈনিক মানবকণ্ঠের সিনিয়র সহ-সম্পাদক এবং ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের (ডিএসইসি) সিনিয়র সদস্য এসএম মুন্না মিয়া মারা গেছেন।

তিনি শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

আজ বাদ জোহর বনশ্রীর মেরাদিয়া ভুইয়াপাড়া বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মেরাদিয়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

কর্মজীবনে তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠ ছাড়াও দৈনিক সমকাল, আমার দেশ, জাগরণ ও নয়া শতাব্দীসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই অকালমৃত্যু সাংবাদিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উৎপাদন ও মুনাফা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিতে জোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উৎপাদন ও মুনাফা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিতে জোর

ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন নিজস্ব উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি ক্রয়নীতি, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে এ খাতে ব্যবসা ও মুনাফা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিজনেস টুডে ও ডেলয়েটের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২৬টি কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা ২০২০-২১ অর্থবছরের ৭ হাজার ৫০৭ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৩ হাজার ১১১ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ বছরে মুনাফা বেড়েছে ২০৮ শতাংশ।

তবে এই প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে শুধু উৎপাদন বাড়ানো যথেষ্ট হবে না। ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি, জটিল সামরিক ব্যবস্থা নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

মুনাফায় বড় উল্লম্ফন

ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের কয়েকটি কোম্পানির মুনাফা গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এসিই ইকুইটির তথ্য অনুযায়ী, জেন টেকনোলজিসের নিট মুনাফা ২০২০-২১ অর্থবছরের ২ কোটি ৮০ লাখ রুপি থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২১৭ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে। প্রবৃদ্ধির হার ৭ হাজার ৭৫৭ শতাংশ।

একই সময়ে জয়কে এন্টারপ্রাইজেসের মুনাফা বেড়েছে ৭২৭ শতাংশ, অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ প্রোডাক্টসের ৫৬৯ শতাংশ এবং সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ ইন্ডিয়ার ৫০৩ শতাংশ।

বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যেও মুনাফা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকসের নিট মুনাফা ৯ হাজার ১১৫ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় ১৮১ শতাংশ বেশি। ভারত ইলেকট্রনিকসের মুনাফা বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ২৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্সের মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪২১ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে।

এই প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধি এবং দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সরকারি নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দেশীয় কোম্পানিকে অগ্রাধিকার

গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি রুপি মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এর ৯৮ শতাংশ ভারতীয় কোম্পানির কাছ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত এ ধরনের অনুমোদিত প্রস্তাবের মোট মূল্য প্রায় ১৩ লাখ কোটি রুপি।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর জন্য এটি একটি বড় বাজার তৈরি করছে। সরকার দেশীয়ভাবে নকশা করা, উন্নয়ন করা ও উৎপাদিত সরঞ্জাম কেনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি রুপি এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে প্রায় ২৪ শতাংশ হয়েছে।

গত ১০ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বছরে গড়ে ১৩ শতাংশ এবং রপ্তানি ৪০ শতাংশ হারে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাজেট ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি রুপি থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি হয়েছে।

চালকবিহীন বিমান, রাডার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ

আধুনিক যুদ্ধে চালকবিহীন বিমান, সেগুলো প্রতিরোধের ব্যবস্থা, উন্নত রাডার, কৃত্রিম উপগ্রহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান অপারেশন সিঁদুরেও এসব প্রযুক্তির গুরুত্ব আলোচনায় এসেছে।

সরকারের প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন কর্মসূচি এবং উন্নত প্রযুক্তি উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, গবেষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্ত করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় ৬৭৬টি নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবক যুক্ত হয়েছিল। এ সময় পর্যন্ত নকশা ও উন্নয়নসংক্রান্ত ৫৫১টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য উন্নত পরীক্ষার অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ বাড়িয়েছে। এর ফলে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা এবং উৎপাদনের আগে পণ্যের সক্ষমতা যাচাই করা সহজ হতে পারে।

অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ভি. রেড্ডির মতে, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে শুধু যন্ত্রাংশ তৈরি থেকে জটিল উপব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির দিকে এগোচ্ছে। এতে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার ও পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ কৃত্রিম উপগ্রহ, রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যবহৃত উচ্চ কম্পাঙ্কের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গভিত্তিক প্রযুক্তির সরঞ্জাম তৈরি করে। কোম্পানিটি সম্প্রতি হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকসের উত্তম পর্যায়ক্রমিক ইলেকট্রনিকভাবে চালিত রাডার কর্মসূচির জন্য ২ হাজার ২০৫ কোটি রুপি মূল্যের ক্রয়াদেশ পেয়েছে।

বড় ক্রয়াদেশ, তবে সরবরাহে চ্যালেঞ্জ

ভারতের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর হাতে বড় অঙ্কের ক্রয়াদেশ জমা হচ্ছে। হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকসের ক্রয়াদেশের মোট মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি। ভারত ইলেকট্রনিকসের ক্ষেত্রে তা ৭২ হাজার ২৫৮ কোটি রুপি। অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভের নিজস্ব ক্রয়াদেশের মোট মূল্য ২ হাজার ১৫৬ কোটি রুপি।

বড় ক্রয়াদেশ ভবিষ্যৎ ব্যবসার সম্ভাবনা বাড়ালেও তাৎক্ষণিক আয় বা মুনাফার নিশ্চয়তা দেয় না। যুদ্ধবিমান, ডুবোজাহাজ ও জটিল সামরিক ব্যবস্থা তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে। উৎপাদনক্ষমতা, যন্ত্রাংশের সরবরাহ, পরীক্ষা এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য হস্তান্তরের ওপর কোম্পানিগুলোর আয় নির্ভর করে।

এরপরও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিজনেস টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে গঠিত নিফটি ইন্ডিয়া ডিফেন্স সূচক প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে নিফটি সূচক প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে।

তবে শেয়ারের দাম বাড়লেই কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি একই হারে শক্তিশালী হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ক্রয়াদেশ বাস্তবায়নের সময়, উৎপাদন ব্যয়, মুনাফার হার এবং নগদ অর্থের প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ।

আইজি ডিফেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বোধিসত্ত্ব সংঘপ্রিয়ার মতে, দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া, প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন কর্মসূচি, দেশেই নকশা ও উৎপাদিত সরঞ্জাম কেনার নীতি এবং জরুরি ক্রয়ের ক্ষমতা ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

দেশের বাইরে তৈরি যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা কমানোর নীতিও সেই কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিয়েছে, যারা আগে থেকেই দেশীয় সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করেছে। আইজি ডিফেন্সের দাবি, তারা আমদানি করা যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর পরিবর্তে নিজস্ব নকশা ও সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে।

রপ্তানি হতে পারে প্রবৃদ্ধির পরবর্তী চালক

ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অবদান প্রায় অর্ধেক। অথচ দেশের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনে তাদের অংশ প্রায় ২৪ শতাংশ। এ ব্যবধান দেখায়, বেসরকারি কোম্পানিগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ভি. রেড্ডির মতে, আগামী দশকে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, আরও জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ হবে শিল্পটির প্রধান লক্ষ্য।

এ ক্ষেত্রে সরকারি রপ্তানি সহায়তা, প্রতিরক্ষা ঋণসুবিধা এবং বিদেশে ভারতীয় সরঞ্জামের প্রচার নতুন বাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানির অনুমোদন ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাও প্রয়োজন।

ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে প্রথমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পর্যাপ্ত উৎপাদনক্ষমতা তৈরি করতে হবে। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে এবং প্রয়োজনীয় মান বজায় রেখে পণ্য সরবরাহ করতে হবে।

সামনে কী

ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রবৃদ্ধি এখন সরকারি ব্যয় ও ক্রয়াদেশের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করছে। দেশীয় কোম্পানিগুলো যদি সময়মতো ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ করতে পারে, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য তৈরি করে, তাহলে এ খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সুযোগ রয়েছে।

তবে বড় অঙ্কের ক্রয়াদেশ ও অতীতের মুনাফা বৃদ্ধি ভবিষ্যতের সাফল্য নিশ্চিত করে না। উৎপাদন ব্যয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা কোম্পানিগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের পরবর্তী পর্যায়ের সাফল্য নির্ভর করবে আমদানি প্রতিস্থাপনের বাইরে গিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জনের ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে এমদাদুলের গ্রেপ্তার, পুলিশ জানাল নিরপরাধদের হয়রানি হবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে এমদাদুলের গ্রেপ্তার, পুলিশ জানাল নিরপরাধদের হয়রানি হবে না

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইয়ের মামলায় এক গার্মেন্টস কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমদাদুল হক নামের ওই গার্মেন্ট কর্মীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। অপরদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করবে না।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। মিলনের বাড়ি থেকেই গার্মেন্ট কর্মী এমদাদুল হককেও গ্রেপ্তার করা হয়। এমদাদুলের পরিবার দাবি করেছে, তিনি বোনের বিয়ের দাওয়াত দিতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।

গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে পুলিশের হাতে আটক হন রিয়াজুল আলম শাহীন। শাহীন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা বলে জানা গেছে এবং তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে শাহীনকে ছাড়িয়ে নেয়।

পরদিন এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে, যেখানে ২৭ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মিলন মিয়া ওই মামলার পাঁচ নম্বর আসামি এবং সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আরো ৩০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমদাদুল হককে পুলিশ অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এমদাদুলের মা মনোয়ারা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, "আমি নিজে আমার ছেলেকে নিয়ে মিলনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই পুলিশ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল।"

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমদাদুল ঢাকার একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। তিনি বোনের বিয়ের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী মিলনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে যান এমদাদুল। সেখান থেকে মিলনের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের মামলায় অজ্ঞাত আসামি করায় সরিষা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামগুলোতে গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

সোহাগী গ্রামের ৭০ বছর বয়সী আবু সিদ্দিক বলেন, এই মামলায় নিরীহ অনেক মানুষকে আসামি করা হয়েছে। গণগ্রেপ্তারের আতঙ্কে বর্তমানে সোহাগিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে কোনো যুবকের দেখা মিলছে না।

নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘জাল ফেললে তো অন্য কিছু আসবেই।’ তবে তিনি জানান, যাতে নিরীহ মানুষ অভিযুক্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%