বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৯ পি.এম
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগে নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে একজন কর্মকর্তার পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা একটি আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এই আদেশের আওতায়, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর ইমরান হত্যা মামলার মূল হোতা সহ পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারের সময় আসামিদের হেফাজত থেকে একটি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি, তিনটি চাইনিজ কুড়াল, ছয়টি ককটেল, দুইটি চাপাতি, দুইটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল এবং ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ (৩১), মো. কামরুল হাসান (২৫), মো. সাইফুল হোসেন (২০), মো. জামিল মিয়া দোলন (৩৫) এবং মিঠু ওরফে ডোবার মিঠু (৩৫)।
পুলিশ জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর বাদল সর্দার গলির শরিফের গ্যারেজে বসে থাকা ইমরান ও সাদ্দামকে লক্ষ্য করে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি করে।
এ সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে ঘটনাস্থলেই ইমরান নিহত হন এবং সাদ্দাম গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইমরানের স্ত্রী বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ পরে ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গতকাল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পাড় গেন্ডারিয়া খেজুরবাগ এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজকে গ্রেফতার করে।
রিয়াজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে ডেমরা থানার পাড়াডগাইর এলাকা থেকে মো. কামরুল হাসান ও মো. সাইফুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুকে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে।
এছাড়া আজ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. জামিল মিয়া দোলনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, ইমরান হত্যা মামলায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিভাগের কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী উল্লেখ করেছেন, ডিলারদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি যে তারা যেন কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে পারে। এজন্য প্রতিটি ইউনিয়ন এবং ডিলারের দোকানে সার আসার সময় এবং বিক্রির সুনির্দিষ্ট রেকর্ড রাখতে হবে। এছাড়া, ক্যাশ মেমো ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করাও আবশ্যক। এর ফলে কৃষকরা সারের জন্য ঘুরতে বাধ্য হবেন না।
তিনি আরও বলেন, সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু এলাকায় গুজবের কারণে কৃষকরা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত সার কেনার চেষ্টা করছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিভাগীয় কমিশনার জানান, বগুড়ায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। অহেতুক বিভ্রান্তি এবং কৃত্রিম সংকট রোধে মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেকোনো ধরনের বিতর্ক বা দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কেবল স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ নয়। বাসাবাড়ি, ছাদ, ফুলের টব এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমা পানি পরিষ্কার রাখা নিশ্চিত করতে হবে। সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভা এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন ওষুধ সঠিক মাত্রায় স্প্রে করার পাশাপাশি অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।
জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
সভায় স্মার্ট কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ডের জরিপকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ডের তৃতীয় ধাপের উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে বগুড়ার কাহালু, সদর, দুপচাঁচিয়া এবং মোকামতলা অঞ্চলের প্রস্তুতি নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়েছে।
এছাড়া, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রায় দেশীয় প্রজাতির ফলজ এবং শোভাবর্ধনকারী গাছ রোপণ এবং শহরের যানজট নিরসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার তিন সহযোগীকে ৪৫ হাজার ডলার করে নগদ উপহার প্রদান করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি আর্থিক নথির উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।
উপহার পাওয়া তিনজন হলেন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী সহকারী ন্যাটালি হার্প, যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন এবং চেম্বারলেইন হ্যারিস। এই তিনজনই হোয়াইট হাউসে কর্মরত।
ন্যাটালি হার্প ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় সব সময় তার পাশে ছিলেন। তিনি কখনো কখনো প্রেসিডেন্টের হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেছেন এবং তথ্য প্রিন্ট করে দিয়েছেন।
এই ভূমিকার জন্য তাকে ‘মানব প্রিন্টার’ উপাধি দেওয়া হয়েছে।
এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিক নথিতে এই অর্থকে ‘ছুটির দিনের নগদ উপহার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রত্যেক তিনজন ৪৫ হাজার ডলার করে পেয়েছেন। এছাড়া, ট্রাম্পের আরেক সহযোগী ওয়াল্ট নাউটাও ২০ হাজার ডলার নগদ উপহার পেয়েছেন বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী তিনি তার সহযোগীদের ছুটির সময় উপহার দিয়ে থাকেন। ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। কংগ্রেসে জমা দেওয়া একটি বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী এবং নির্বাহী সহকারী হিসেবে তিনি বছরে দেড় লাখ ডলার আয় করেন।
হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র উপহারগুলোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তার ঘনিষ্ঠজনদের, এমনকি মাঝে মাঝে কর্মচারী ও সহযোগীদেরও বড়দিনের উপহার দিয়ে আসছেন। তারা আরও জানান, এসব উপহার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।
এ কারণে প্রচলিত আইন ও নৈতিক বিধিমালা অনুযায়ী উপহারগুলো সম্পূর্ণ বৈধ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন সিঙ্গাপুরের এক তরুণ। ২৪৫ মিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন চুরি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন ২২ বছর বয়সী ম্যালোন লাম।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তার।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, ম্যালোন লাম তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে প্রায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিটকয়েন চুরি করেন এবং পরে বিভিন্ন উপায়ে সেই অর্থ পাচার করেন।
চুরি করা অর্থ দিয়ে লাম ও তার সহযোগীরা অত্যন্ত বিলাসী জীবনযাপন করতেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, তারা রাতের ক্লাবে এক সন্ধ্যায় ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ করতেন।
এছাড়া ১ লাখ থেকে ৩৮ লাখ ডলার মূল্যের বিলাসবহুল ও বিরল মডেলের গাড়ির একটি বহরও কিনেছিলেন তারা।
সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে
লাম দোষ স্বীকার করলেও তার সাজা ঘোষণার দিনক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করেননি মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ কোলিন কোলার-কোটেলি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনিন পিরো বলেন, “আপনি যদি সাইবার অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, আমরা আপনাকে খুঁজে বের করব, আপনার অপরাধচক্র ধ্বংস করব এবং আইনের আওতায় আনব।”
তিনি বলেন, এই আসামি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যারা প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের লক্ষ্যবস্তু বানাত, তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করত এবং শত শত মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করত।
১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে
তদন্তকারীদের কাছে লাম জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে তিনি ১৪ বছর বয়সে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে দেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরের বছরের জানুয়ারিতে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অপরাধী চক্রটির কার্যক্রম অন্তত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত চলেছে।
এই চক্রের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কয়েকটি দেশের বাসিন্দা ছিলেন। তাদের পরিচয় হয়েছিল অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।
অনলাইন প্রতারণা থেকে বাড়িতে চুরি
ডিওজে জানিয়েছে, ম্যালোন লামই ছিলেন এই অপরাধী চক্রের মূল হোতা। তিনি বিভিন্ন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করতেন এবং চক্রের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিতেন।
লাম বিভিন্ন সময়ে ‘অ্যান হ্যাথাওয়ে’, এবং ‘কিং গ্রেভি’ নামেও পরিচিত ছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
চক্রের সদস্যরা প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে গোপন ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করত। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের ঘটনাও ঘটেছে।
এসব তথ্য ব্যবহার করে তারা ভুক্তভোগীদের ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।
বিলাসবহুল গাড়ি, ঘড়ি ও ব্যক্তিগত জেট
চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সির অর্থ দিয়ে লাম ও তার সহযোগীরা বিলাসী জীবনযাপনের এক নজিরবিহীন আয়োজন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
তাদের কেনাকাটার তালিকায় ছিল লাখ লাখ ডলার মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি, দামি ঘড়ি, পোশাক এবং বিভিন্ন বিলাসপণ্য।
ডিওজের তথ্যানুযায়ী, তারা হেরমেসের বিখ্যাত বারকিন হ্যান্ডব্যাগও কিনেছিলেন, যার প্রতিটির মূল্য ছিল কয়েক লাখ ডলার। এসব ব্যাগ তারা নাইটক্লাবের পার্টিতে উপস্থিত মানুষের ভিড়ের মধ্যে ছুড়ে দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চুরি করা অর্থে তারা ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত মূল্যের বিলাসবহুল ঘড়ি কিনেছিলেন। এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেস, হ্যাম্পটনস ও মায়ামিতে ব্যয়বহুল বাড়ি ভাড়া নেন তারা।
ব্যক্তিগত জেট ভাড়া করে ভ্রমণ এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত দেহরক্ষী দলও নিয়োগ করেছিলেন এই অপরাধচক্রের সদস্যরা।
নাইটক্লাবের জগতে ‘কুখ্যাত’ লাম
তার আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপনের কারণে লস অ্যাঞ্জেলেস ও মায়ামির নাইটক্লাব অঙ্গনে ম্যালোন লাম ব্যাপক পরিচিত ও কুখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে তার বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়ে ওঠা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোরও নজর কেড়েছিল।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এফবিআইয়ের এজেন্টরা লাম এবং তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করলে অপরাধচক্রটির পতন শুরু হয়।
লামকে প্রথমবার আদালতে হাজির করার সময় মার্কিন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক অ্যালিসিয়া ভ্যালে তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ১৯৮৬ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ফেরিস বুয়েলারস ডে অফ’-এর একটি নেতিবাচক সংস্করণের তুলনা করেন।
তিনি বলেন, মামলার প্রমাণ শুনতে গিয়ে তার মনে হচ্ছিল, এটি যেন ‘বিপথে যাওয়া ফেরিস বুয়েলার’-এর গল্প।
বিচারক বলেন, লাম বিপুল অর্থ হাতে পাওয়ার পর বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন নাইটক্লাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এবং ৩০টিরও বেশি উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি কেনেন।
বিচারকের ভাষায়, ২৩ কোটি ডলারের বেশি অর্থ হাতে আসার পর যে মাত্রার ব্যয়বহুল ও উন্মত্ত জীবনযাপন শুরু হয়েছিল, তা ছিল অবিশ্বাস্য।
সহযোগীর ৭০ মাসের কারাদণ্ড
এই অপরাধচক্রের অন্যতম সদস্য ইভান ট্যাঙ্গেম্যানকে চলতি বছরের এপ্রিলে ৭০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি অপরাধচক্রের চুরি করা অর্থ পাচারে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়।
ম্যালোন লাম গ্রেফতার হওয়ার পর ট্যাঙ্গেম্যান প্রমাণ নষ্ট করারও চেষ্টা করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, আদালত তার এই কর্মকাণ্ডকে নিজের অপরাধ সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
ক্রিপ্টো অপরাধে নতুন সতর্কবার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল যে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিপুল সম্পদ ও ডিজিটাল ওয়ালেট নিরাপত্তা এখন আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত অপরাধীদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন, সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং অর্থ পাচারের সমন্বয়ে এই চক্রটি পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
ম্যালোন লামের দোষ স্বীকারের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত এই বিশাল ক্রিপ্টো চুরির মামলায় নতুন মোড় এসেছে। এখন আদালতের রায়ে তার ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
দোষ স্বীকার করায় তার সাজা কমানোর সুযোগ থাকলেও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় লাম দীর্ঘ কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ