ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইরানি টিভিতে পরমাণু হামলার জন্য ৫টি জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ


ইরানি টিভিতে পরমাণু হামলার জন্য ৫টি জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ

আমেরিকার সাথে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নাগরিকদের জন্য পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচার করছে। এই নির্দেশনায় বিস্ফোরণের পর উন্মুক্ত ত্বক ধোয়া, বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার ব্যবহার করা এবং ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও তাড়াহুড়ো করে ঘরের বাইরে না যাওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

পারমাণবিক হামলার বেঁচে থাকার নির্দেশিকায় যে ৫টি বিষয় রয়েছে:

১. বিস্ফোরণের ঝলকানি দেখা থেকে বিরত থাকুন এবং অবিলম্বে আশ্রয় নিন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘থিওডোর রুজভেল্ট’

পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকাতে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঢেউ অতিক্রম না করা পর্যন্ত অবিলম্বে কোনো শক্ত বাধার আড়ালে আশ্রয় নেওয়ার, উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ার এবং মাথা ও মুখ ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২. বিস্ফোরণের পর নিকটস্থ বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করুন।

বিস্ফোরণের ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর লোকজনকে নিকটস্থ কোনো ভবনে চলে যাওয়ার এবং জানালা ও বাইরের দেওয়াল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাইরে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরণের পরিণতি দেখা বা ছবি তোলার বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, গাড়িগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার না করার কথা বলা হয়েছে।

৩. তেজস্ক্রীয় কণা দূর করতে উন্মুক্ত ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ, চাক শুমারের চাপে বৃদ্ধি

যাঁরা তেজস্ক্রীয় ধূলিকণার সংস্পর্শে আসতে পারেন, তাঁদের সাবান ও কুসুম গরম পানি দিয়ে উন্মুক্ত ত্বক ধোয়া উচিত এবং কন্ডিশনার ছাড়াই সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যদি গোসল করা সম্ভব না হয়, তবে পানি বা ভেজা টিস্যু দিয়ে মুখ, হাত ও অন্যান্য উন্মুক্ত অংশ পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৪. অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে বা আশ্রয়ে থাকুন।

পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে বা আশ্রয়ে অবস্থান করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই সময়ে নাগরিকদের বোতলজাত পানি এবং প্যাকেটজাত খাবার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৫. নিরাপদে সরে যাওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন।

আরও পড়ুন: মুসলিমবান্ধব পর্যটনের গন্তব্য হতে চায় মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্য

মাত্র ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেই চারপাশ নিরাপদ হয়ে গেছে—এমন ধারণা না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। নিরাপদ প্রস্থান বা সরিয়ে নেওয়ার পথ সম্পর্কে জানতে নাগরিকদের অবশ্যই সরকারি ঘোষণা এবং জরুরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে হবে। যদি কোনো ভবনের ভেতরে আগুন ধরে যায় বা ভবন ধসে পড়ার শঙ্কা থাকে, তবে দ্রুত অন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হবে।

ইরানি টেলিভিশনে প্রচারিত এই নির্দেশিকায় পারমাণবিক হামলার সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে অবিলম্বে সতর্কতা অবলম্বন করা, উপযুক্ত আশ্রয় খুঁজে পাওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এলাকা ত্যাগ করা নিরাপদ—এমন নিশ্চিত বার্তা পাওয়ার আগে নাগরিকদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৌলতদিয়ায় ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ, যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ পি.এম


দৌলতদিয়ায় ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ, যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে ঘাট সংকটের ফলে দূরপাল্লার যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে পদ্মা নদীতে নাব্য সংকটের কারণে ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান থাকায় এই ঘাটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নৌরুটে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ফেরিঘাট ব্যবহার করে পারাপার কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে আসা দূরপাল্লার বেশির ভাগ যাত্রী ও চালকরা জানান, প্রতি বছর নাব্য সংকটের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তারা জানান, নৌরুটে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পরিকল্পিত ও নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

ফেরিঘাট সূত্র জানায়, নদীর তলদেশে অতিরিক্ত পলি জমে যাওয়ায় ফেরি চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ড্রেজিং কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীরা সাময়িকভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন। যাত্রীদের দাবি, এখানে সরকারের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

আরিচা ড্রেজিং বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখে সম্পাদিত হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট ড্রেজিং কাজের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫ লাখ ঘনমিটার। তবে পরবর্তীতে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ফেরিঘাটে পলি জমে যাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৮ লাখ ঘনমিটার ধরা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ড্রেজিংয়ের কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাটটি বন্ধ রয়েছে। ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান আছে। ড্রেজিং কার্যক্রম শেষ হলে ফেরিঘাটটি আবার সচল করা হবে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা ড্রেজিং ডিভিশন ও ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ব) হাছান আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, গত ৬ অক্টোবর থেকে আমরা ড্রেজিং বিভাগ এ কাজটি শুরু করেছি। চারটি ড্রেজারের মধ্যে তিনটি ড্রেজিং মেশিন কাজের জন্য চলমান আছে, বাকি একটি মেশিন রাখা আছে। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ড্রেজিং কাজ সমাপ্ত করতে পারব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গের ১৩ জেলায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ও প্রার্থনাসভায় বাধার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৯ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গের ১৩ জেলায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ও প্রার্থনাসভায় বাধার অভিযোগ

ধর্মান্তকরণের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলা, প্রার্থনাসভায় বাধা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। রাজ্যে গত মে মাসে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পাঁশকুড়া, চন্দ্রকোনা, বারুইপুর, উলুবেড়িয়া এবং মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের মতো স্থানে এ ধরনের অভিযোগ দেখা যাচ্ছে।

ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১৩টি জেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৬০টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫২টি ঘটনায় প্রার্থনাসভা, ব্যক্তিগত বাড়ি, গির্জা এবং ধর্মীয় জমায়েতে হামলা বা বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাকি আটটি ঘটনায় শারীরিক নির্যাতন ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের স্থানীয় খ্রিস্টান পরিবারগুলো বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেখানকার বাসিন্দা শুভেন্দু বিশ্বাস জানান, "আমাদের মালদহ জেলায় আগে কখনো বাঙালি খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। আমরা আতঙ্কিত। নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করতেও এখন ভয় হচ্ছে।"

সম্প্রতি অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তকরণের চেষ্টার অভিযোগের কারণে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা এ অভিযোগ তুললেও স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন।

মালদহের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রার্থনাসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার পশ্চিম অর্জুনদাত গ্রামে প্রার্থনাসভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা অসীম মাইতি ও হলধর পাণ্ডার বক্তব্যে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁদের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় এক খ্রিস্টান নারীকে মারধর এবং শুদ্ধিকরণের নামে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।

বঙ্গ খ্রিস্টান কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা হেরড মল্লিক অভিযোগ করেছেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং ধর্মান্তকরণের অভিযোগের বিষয়গুলো আইনি পথে মোকাবিলা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে ভূমিহীনদের খাসজমির অধিকার আদায়ের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৯ পি.এম


রংপুরে ভূমিহীনদের খাসজমির অধিকার আদায়ের দাবি

মঙ্গলবার রংপুরে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ভূমিহীনদের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘আগে পুনর্বাসন পরে উন্নয়ন, খাসজমির অধিকার ভূমিহীন জনতার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বক্তারা সমাবেশে ভূমিহীনদের অধিকার আদায়, রাষ্ট্র সংস্কার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "লুটপাট ও পাচারের ব্যবস্থার নামে কোনোভাবেই উন্নয়ন হতে পারে না। জনগণের কর্মসংস্থান এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিই হলো প্রকৃত উন্নয়ন।" তিনি আরও বলেন, "যারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, অবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তাদের বিচার করতে হবে এবং পাচারকৃত সম্পদ ফেরত আনতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "স্বাধীন বাংলাদেশে কেউ শাসক বা শোষক নয়, এ দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ।"

আমলাতন্ত্র ও ঔপনিবেশিক যেসব আইন জনস্বার্থবিরোধী, তা বাতিল করে গণবিরোধী রাষ্ট্রের সংস্কারের মাধ্যমে একে জনমানুষের রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। প্রধান আলোচক হিসেবে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন ঢাকা শহরসহ সারা দেশের ভূমিহীনদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও চলমান সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ভূমিহীনদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।"

তিনি আরও দাবি করেন, "প্রত্যেককে ‘ভূমিহীন কার্ড’ প্রদান করতে হবে। আমরা অবিলম্বে জাতীয় সংসদে ভূমিহীনদের জন্য সংরক্ষিত আসন এবং একটি স্বাধীন ‘ভূমি-কৃষি সংস্কার কমিশন’ গঠনের জোর দাবি জানাচ্ছি।" সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক কনক রহমান। তিনি রংপুরের স্থানীয় সংকট তুলে ধরে বলেন, "রংপুর বিভাগ ও জেলার সব ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ পুনর্বাসন করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "রংপুর জেলায় শিল্প-কলকারখানা গড়ে তুলে এবং কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।" সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা আমিন উদ্দিন বিএসসি, সংগঠনের লালমনিরহাট জেলার আহ্বায়ক মো. আব্দুল হামিদ, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান টিপু, গাইবান্ধা জেলার আহ্বায়ক মোছা. শাহীনুর বেগম এবং কুড়িগ্রাম জেলার কৃষক আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম জুয়েল।

নেতারা জানান, খাসজমি বণ্টন কমিটিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ভূমিহীনদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভূমিদস্যুদের কবল থেকে খাসজমি উদ্ধার করে তা প্রকৃত ভূমিহীন ও কৃষকদের মাঝে বন্দোবস্ত দিতে হবে। তারা বৈষম্যমুক্ত উন্নয়নের স্বার্থে উপজেলাভিত্তিক সংসদীয় আসন নির্ধারণ, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ বন্ধ করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন রংপুর বিভাগের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রায়হান কবীরের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেএসডি রংপুর মহানগর সভাপতি এবিএম মশিউর রহমান, রংপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল আলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসেম মুন্সি, সদস্য সচিব মোছা. ফাতেমা আখতার, যুগ্ম সদস্য সচিব মুশলেমুদ্দিন, মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মোছা. সামছুন্নাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক লিলি বেগম, সদস্য সচিব সেলিম মিয়া এবং যুগ্ম সদস্য সচিব আয়শা বেগম।

সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা রংপুর শহর প্রদক্ষিণ করে এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফারিহার স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ালো মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১০ পি.এম


ফারিহার স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ালো মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

দারিদ্র্য এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ফুটবলে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে ছোট্ট জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিহা। ‘নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এ সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছে। এবার তার ফুটবলার হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা।

ফারিহার বিকাশের জন্য সংস্থাটি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে এক বছরের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া, ফুটবল সরঞ্জাম, জার্সি, বুট ও ট্র্যাকস্যুটের পাশাপাশি তার উন্নত চিকিৎসার সকল ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছে তারা।

বাকপ্রতিবন্ধী বাবার ও দিনমজুর মায়ের সন্তান ফারিহা। সীমিত সামর্থ্য এবং বিভিন্ন বাধার মধ্যেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা এবং প্রতিভার স্বাক্ষর রয়েছে। তার এই প্রতিভা যেন আর্থিক সংকটের কারণে থেমে না যায়, ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ যেন নিশ্চিত হয়- সেই লক্ষ্যেই মহিলা ক্রীড়া সংস্থা পাশে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার ধানমন্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফারিহার জন্য এই সহায়তার ঘোষণা দেন সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। এ সময় সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার রত্নাসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মহিলা ক্রীড়া সংস্থার এই উদ্যোগে ফারিহা উচ্ছ্বসিত। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম পাওয়ার আশ্বাস তার ফুটবলে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। ভবিষ্যতে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে চায় এই ক্ষুদে ফুটবলার।

সংস্থাটির প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং পরিচর্যা পেলে একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ফারিহা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%